মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়
মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়, আপনি কি কিভাবে মাথা খুব দূর করবেন তার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ? তাহলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আর্টিকেলটি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়লে মাথার খুকসি দূর করার সকল ঘরোয়া ও সহজ উপায় গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।
আজকাল প্রায় এ সমস্যাটা সবার ক্ষেত্রেই হয়েই থাকে। এমন কেউ নাই যে তার মাথায় কখনো খুশকি দেখা যায়নি। এটি শুধু মেয়েদের নয় বরং ছেলেদেরও মাথায় খুশকি হয়ে থাকে। তাই আসুন কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে খুশকি দূর করা যায় তা সম্পর্কে জেনে নিন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়
মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়
মেয়েদের চুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয় বরং এটি আত্মবিশ্বাসের একটি বড় অংশ।
তবে মাথায় খুশকি দেখা দিলে সেই সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময়
চুলের উপরের ভাগের দিকে খুব সে ভাসমান দেখা যায়। এতে মাথার চুল অতিরিক্ত
বিচ্ছিরি লাগে দেখতে। আবার অন্যদিকে কোন পোশাক পরে যেমন কালো কালার বা অন্য যে
কোন কালার এর পোশাক পরে বের হলে পরে ঘাড়ের কাছে সাদা সাদা গুড়োর মতো খুশকি মাথা
থেকে ঝরে পড়ে। আবার খুশকির কারণে মাথায় চুলকানি হয় এবং অনেক সময় অতিরিক্ত
গন্ধ তৈরি করে। ফলে কোন সামাজিক পরিবেশেও অস্বস্তি বোধ হয়। খুশকি মূলত সাধারণ
সমস্যা হলেও এটি অবহেলা করা একেবারে উচিত নয়। কারণ এটি অবহেলা করলে এটি বড় আকার
ধারণ করতে পারে। দীর্ঘদিন খুশকি থাকলে চুল পড়া বেড়ে যায়,
স্ক্যাল্প দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের
খুশকির ক্ষেত্রে শুরু থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।
এই খুশকি দূর করার বর্তমানে নানা উপকরণ দেখা যায়। তবে সবগুলি উপকরণ খুশকি দূর
করার জন্য উপযুক্ত বা কার্যকর হয় না। তাই অনেকেই চায় যে ঘরের উপকরণ দিয়ে
কিভাবে চুলের খুশকি দূর করা যায় তা সম্পর্কে জানতে চায়। ঘরোয়া উপায়ে খুশকি
দূর করা একেবারে সহজ ও কার্যকর উপায় হয়ে থাকে। এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে
মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার বিভিন্ন কার্যকর ও ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে
আলোচনা করা হয়েছে। মাথায় খুশকি দূর করার জন্য সকল ঘরোয়া উপায় গুলোর সম্পর্কে
জেনে নিন। সকল বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে আর্টিকেলটির সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে
পড়ুন।
খুশকি কি এবং এর কারণ
খুশকি হলো মাথার ত্বকের উপরের স্থানের মৃত কোষ অস্বাভাবিকভাবে ঝরে পড়া কে খুশকি
বলা হয়। আমাদের ত্বকের কোষ স্বাভাবিকভাবে নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিবর্তিত হয়ে
থাকে। তবে যখন এই কোষ পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া দ্রুত হয় এবং তখন অতিরিক্ত মৃত
কোষ জমে সাদা বা হলদে গুড়োর মত আকারে ঝরে পড়ে। অনেক সময় এটি শুধু শুষ্ক ও
গুঁড়ো আকার দেখা যায়, আবার কখনো তৈলাক্ত ও চিটচিটে ধরনের ও হতে পারে। খুশকি
সাধারণত মাথার মাঝখানে কানের পাশের অংশে এবং ঘাড়ের কাছে বেশি দেখা যায়। খুশকির
সঙ্গে প্রায় চুলকানি হালকা জ্বালাপোড়া বা টানটান ভাব অনুভূতি হয়ে থাকে। তবে
শীতকালে খুশকি বেশি বেড়ে যায়, কারণ তখন স্ক্যাল্প বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে। আবার
গরম কালে অতিরিক্ত ঘাম ও তেল জমার কারণেও খুশকি বেড়ে যায়। তাই এটি শুধু একটি
ঋতুবীতে সমস্যা নাই বরং সারাবছরাই এই সমস্যাটি হয়ে থাকে।
খুশকির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো স্ক্যাল্পে থাকা এক ধরনের প্রাকৃতিক ফাঙ্গাস
রয়েছে। এই ফাঙ্গার সাধারণত সবার মাথায় অল্প পরিমাণে থাকে এবং সেক্ষেত্রে মাথার
কোন ক্ষতি করে না। কিন্তু যখন স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত তেল জমে যায়, তখন এই ফাঙ্গাস
দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ত্বকের কোষ দ্রুত ঝরে পড়তে শুরু করে, ফলে খুশকি দেখা
যায়। অর্থাৎ তেলযুক্ত স্ক্যাল্পে খুশকি বেশি হওয়ার একটি বড় কারণ হলো এই
ফাঙ্গাসে সংক্রীয়তা। মাথায় খুশকি জমার আরেকটি বড় কারণ হলো, শুষ্ক স্ক্যাল্প।
অনেকেই মনে করেন যে শুধু খুশকি মানে মাথা তৈলাক্ত হওয়া। কিন্তু আসলে শুষ্ক
ত্বক থেকেও খুশকি হতে পারে। শুষ্ক স্ক্যাল্পে;ত্বক ফেটে যায় ও খোসার মত হয়ে
উঠতে থাকে। বিশেষ করে শীতকালে ঠান্ডা বাতাস ও কম আদ্রতার কারণে এই সমস্যা বেড়ে
যায়। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মাথা ধোয়া স্ক্যাল্পেশুষ্ক করে তোলে। অন্যদিকে
খুশকি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো হরমোনের পরিবর্তন। কিশোরী বয়সে ,গর্ভবস্থায় বা
হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সময় স্ক্যাল্পে তেলের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে ফাংগাল
সংক্রমণ বাড়ে এবং খুশকি দেখা যায়। অনেক সময় পলিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা
থাইরয়েড সমস্যার কারণেও ত্বকের পরিবর্তন ঘটে এবং মাথার খুশকি বেড়ে যেতে পারে।
মাথার খুশকি হওয়ার আরেকটি প্রধান কারণ হলো অপরিষ্কার চুল ও নিয়মিত শ্যাম্পু।
অনেকেই বাস্তবতার কারণে সপ্তাহের পর সপ্তাহ চুল ধয়না। এতে স্ক্যাল্পে ধুলাবালি
ঘাম ও তেল জমে যায়। এই জমে থাকা ময়লা ফাঙ্গাসের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ
তৈরি করে এবং খুশকি দ্রুত বেড়ে যায় ও চুলকানি শুরু হয়। অতিরিক্ত কেমিক্যাল
যুক্ত পণ্য ব্যবহার করাও খুশি কারণ হতে পারে। ঘন ঘন হেয়ার স্প্রে জেল কালার বা
রিবডিং করলে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। অনেক সময় শ্যাম্পু করার
পর শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ভালোভাবে না ধুলে তার অবশিষ্ট অংশ স্ক্যাল্পে থেকে যায়,
যা জ্বালাপোড়া ও খুশকি সৃষ্টি করে। পুষ্টির অভাবেও খুশকির পিছনে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখে। শরীরে ভিটামিন বি জিংক ওমেগা থ্রি ফ্যাট এসিডের ঘাটতি থাকলে
স্ক্যাল্প দুর্বল হয়ে পড়ে যার ফলে ত্বকের স্বাভাবিক কোষ পরিবর্তনের
প্রতিক্রিয়া ব্যবহৃত হয় এবং খুশকি বাড়ে। তাই শুধু বাহিক চিকিৎসা নয় বরং ভিতর
থেকেও শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকা জরুরি।
মানসিক চাপ ও স্ট্রেস ও খুশকি বৃদ্ধি একটি বড় কারণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে
শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং ত্বকের সমস্যাগুলো
বেড়ে যায়। তাই বলা যায় খুশকি একটি বহু কারণ নির্ভর সমস্যা। এটি শুধু মাথা না
ধোয়া কারণে হয় না, আবার শুধু তেল বা শুষ্কতার কারণও নয়। ফাঙ্গার হরমোন পুষ্টি
মানুষের চাপ আবহাওয়া একটি সঠিক অভাব সবকিছু মিলেই পুরস্কৃত তৈরি হয়। তাই খুশকি
দূর করতে হলে এর প্রকৃত কারণ বুঝে সঠিক পদ্ধতিতে নিয়মিত যত্ন নেওয়ায় সবচেয়ে
কার্যকর উপায়।
মেথি দানা, লেবুর রস ও নিমপাতা
মেথিদা না খুশকি দূর করার জন্য খুবই একটি পরিচিত ঘরোয়া উপায়। এতে রয়েছে
প্রাকৃতিক অ্যান্টি ফাঙ্গাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রোটিন উপাদান যা
স্ক্যাল্পকে কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে মেথির সাথে লেবুর রস ও নিম পাতা
মিশিয়ে ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই তিনটি উপাদান
একসাথে স্ক্যাল্পের গভীরে কাজ করে খুশকি কমাতে সহায়তা করে। লেবুর রসে প্রাকৃতিক
অ্যাসিড থাকে, যা স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেল কমায় এবং ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি
নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে নিমপাতা শক্তিশালী জীবন নষ্ট ও আন্টি ফাংগাল উপাদানের
ভরপুর। যখন মেথি লেবু ও নিম একসাথে ব্যবহার করা হয় তখন এটি স্ক্যাল্প পরিষ্কার
করে চুলকানি কমায় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। ফলে খুশকি দূরত্ব নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রথমে একমুঠো মেথি দানা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবং সকালে সেই মেথি বেটি
মিশ্রণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর ৮ থেকে ১০ টি নিম পাতা বেটে সেই পেস্টের সাথে
মিশিয়ে নিন। সবশেষে ১ টেবিল চা চামচ তাজা লেবুর রস যোগ করুন। এই মিশ্রণটি তৈরি
করে মাথার স্ক্যাল্পে ভালোভাবে লাগান এবং হালকা হাতে মাসাজ করুন। প্রায় ৪৫ থেকে
৫০ মিনিট রেখে দিন যাতে উপাদানগুলো স্ক্যাল্পে কাজ করতে পারে। এরপর হালকা
শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করলে কয়েক
সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে। স্ক্যাল্প থাকবে পরিষ্কার এবং
চুলকানি কমাবে ও খুশকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
এই মিশ্রণস্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে ফলে চুল দ্রুত তৈলাক্ত হয় না।
নিম পাতা স্ক্যাল্পে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে যা খুশকির পূর্ণবৃত্তি
কমায়। লেবুর রস চুলে পাকেতে উজ্জলতা এনে দেয়। মেথির প্রোটিন চুলকে শক্ত ঘন করতে
সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল মসৃণ ঝলমলেও স্বাস্থ্যজ্জ্বল হয়। এছাড়া
স্ক্যাল্পের জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ কমে। তবে যাদের স্ক্যাল্প খুব বেশি সংবেদনশীল
তারা প্রথমে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করে পরীক্ষা করে নেবেন। লেবুর রস বেশি দিলে
স্ক্যাল্প শুষ্ক হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণ ব্যবহার করাই ভালো। মাথার খুশকি দূর
করার জন্য মেথিদানা লেবুর রস ও নিমপাতা মিশ্রণ এপিস শক্তিশালী ঘরোয়া উপায়।
আদার রস এবং অ্যালোভেরা জেল
মাথার খুশকি দূর করতে ঘরোয়া উপায় এর মধ্যে আদার রস ও এলোভেরা জেল খুবই কার্যকরী
ঘরোয়া উপায়। এ দুটি উপাদান প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টি ফাঙ্গাল,অ্যান্টি
ব্যাকটেরিয়াল এবং প্রদানশক গুনে সমৃদ্ধ। ফলে স্ক্যাল্পের গভীরে জমে থাকা জীবাণু
ও ফাঙ্গাস কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আদার রস এ রয়েছে জিঙ্গারল ও
ভিটামিন প্রাকৃতিক উপাদান, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং স্ক্যাল্পের সংক্রমণ
কমায়। অন্যদিকে এলোভেরা জেল স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখে। খুশকির কারণে যে
চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হয় অ্যালোভেরা তা দ্রুত প্রশমিত করে। তাই বলা যায়, এ
দুটো উপাদান একসাথে ব্যবহার করলে দ্বিগুণ উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে যাদের
খুশির সাথে চুল পড়া ও স্ক্যাল্পে লালচে ভাব রয়েছে তাদের জন্য এই মিশ্রণ বেশ
উপকারী। এটি স্ক্যাল্পের প্রদাহ কমিয়ে চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।
ব্যবহারের জন্য প্রথমে একটি তাজা আদা ভালো ভাবে ধুয়ে কুচি করে চাইলে ব্লেন্ড
করেও রস বের করে নিতে পারেন। প্রায় ২ টেবিল চা চামচ আদার রস নিন এবং এরপর আদার
সাথে এলোভেরা জেল ৩ চা চামচ যোগ করুন এবং দুটি উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই
মিশ্রণটি সরাসরি স্ক্যাল্পে লাগিয়ে হালকা হাতে ১০-১৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এতে
রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং উপাদানগুলো স্কেল্পের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে। এরপর
এভাবে করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে দিন। তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল
ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খুশকি
কমতে শুরু করবে।
আরো পড়ুনঃ তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়
আদার রস স্ক্যাল্পে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে। ফলে ফাঙ্গাসের
বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং খুশী কমে। এটি চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগায় এবং নতুন
চুল গজাতে সহায়তা করে। অ্যালোভেরা জেল স্ক্যাল্পের শুষ্কতা দূর করে এবং ত্বকের
কোষ পূর্ণ গঠন প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে। ফলে মৃত কোষ অতিরিক্ত ঝরে পড়ে না।
এটি স্কেল্পে একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে যা খুশকির পুরনাবৃত্তি কমায়।
এই মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহার করলে মাথার খুশির সহ চুল হবে নরম মসৃণ ও উজ্জ্বল।
চুলকানি কমে যাবে এবং স্ক্যাল্পে সতেজ অনুভব হবে। পাশাপাশি চুল পড়াও অনেকটাই
নিয়ন্ত্রণে আসবে। অবশ্যই যাদের স্ক্যাল্পে খুব বেশি সংবেদনশীল তারা প্রথমে হাতের
ত্বকের সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেবেন। আদার রস বেশি দিলে জ্বালাপোড়া হতে
পারে তাই পরিমিত পরিমাণ ব্যবহার করা উচিত। আদার রস ও অ্যালোভেরার জেল একটি
শক্তিশালী ও প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায়।
টক দই এবং লেবুর ও নিম পাতা
দই লেবুর রস এবং নিমপাতা এ তিনটি উপাদান একসাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে একটি
শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টি- ড্যানড্রাফ হেয়ারমাক্স হিসেবে কাজ করে। প্রতিটি
উপাদানের আলাদা আলাদা গুণ রয়েছে কিন্তু একসাথে ব্যবহার করলে এগুলো পরস্পরের
কার্যকারিতা আরো বাড়িয়ে দেয় ফলে খুশকি দ্রুত কমে যায় এবং স্কেল্প সুস্থ থাকে।
দইয়ে থাকা লেকটিস এসিড স্কেল্পের মৃতকোষ দূর করে এবং ত্বক নরম রাখে। লেবুর রস
স্কেল্পের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি কমায়। আর আমরা জানি
নিম পাতা প্রাকৃতিক এন্টিফাঙ্গাল ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে ভরপুর যা সংক্রমণ
প্রতিরোধ করে। তাই খুশির মূল কারণের ওপর কাজ করে। বিশেষ করে যাদের মাথায় চুলকানি
লালচে ভাব বা তৈলাক্ত খুশকি আছে তাদের জন্য এই মিশ্রণটি খুবই কার্যকর। এটি শুধু
উপরের খুশকি সরায় না বরং স্ক্যাল্পের গভীরে কাজ করে সমস্যার পূর্ণ বৃত্তি কমায়।
ব্যবহারের জন্য প্রথমে ৮-১০ টি নিমপাতা ভালোভাবে ধুয়ে বেটে পেস্ট তৈরি করুন,
এরপর আধা কাপ টক দইয়ের সাথে নিম পাতার পেস্ট মিশিয়ে নিন, এরপ ১ টেবিল চা চামচ
তাজা লেবুর রস যোগ করে ভালোভাবে নারুন। মিশ্রণটি মাথার স্ক্যাম্পে ভালোভাবে লাগান
এবং হালকা হাতে ৫ থেকে ৭ মিনিট মেসেজ করুন। প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রেখে দিন
যাতে উপাদান গুলো গভীরে কাজ করতে পারে। এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ফেলুন। সপ্তাহে
দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা
যায়।
এই মিশ্রণ স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেল দূর করে ফলে ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি কমে
যায়। খুশকির সাদা গুঁড়া ধীরে ধীরে কমে এবং চুলকানি হ্রাস পায়।
নিমপাতা স্ক্যাল্পের জীবাণু ধ্বংস করে ফলে সংক্রমনের ঝুঁকি কম থাকে।
দই স্ক্যাল্পে প্রাকৃতিক আদ্রতা বজায় রাখে তাই লেবুর রস ব্যবহারের
ফলেও স্ক্যাল্প অতিরিক্ত শুষ্ক হয় না। ফলে এটি শুষ্ক ও তৈলাক্ত দুই ধরনের
খুশকির ক্ষেত্রে কার্যকর। নিয়মিত ব্যবহার করলে মাথার খুশকি দূর হওয়ার সাথে সাথে
চুল হবে নরম মসৃণ ও ঝলমলে। স্ক্যাল্প সতেজ থাকবে এবং খুশকির
পুনরাবৃত্তি অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি চুলের গোড়া মজবুত হবে এবং চুল পড়া
কমবে। তবে এই ক্ষেত্রেও মাথায় রাখতে হবে যে যাদের স্ক্যাল্প খুব সংবেদনশীল
তারা প্রথমে পরীক্ষা করে নেবেন এবং লেবুর রস বেশি ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প
শুষ্ক হতে পারে তাই পরিমিত পরিমাণ ব্যবহার করায় উচিত।
দই ও ডিম
দুই ও ডিমের হেয়ার মাক্স বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক চুলের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এবং কার্যকর একটি ঘরোয়া উপায়। বিশেষ করে যাদের খুশকি, চুল পড়া, রুখ্য চুল বা
প্রাণহীন চুলের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই মাছ অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত
ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুলে
প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। দুই মূলত স্ক্যাল্প পরিষ্কার করার
কাজ করে আর ডিম চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়। এই দুটি উপাদান একসাথে ব্যবহার
করলে স্ক্যাল্পের মৃত কোর্স দূর হয়, অতিরিক্ত তেল কমে এবং চুলের গঠন
শক্তিশালী হয়। ফলে খুশকি ধীরে ধীরে কমে যায় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। দই
এর ল্যাটট্রিক এসিড থাকে, যা স্ক্যাল্পের জমে থাকা মৃত কোষ ও ময়লা দূর করতে
সাহায্য করে। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। খুশকি মূলত
মৃত কোষের অতিরিক্ত ঝরে পড়ার কারণে হয়, তাই দই সেই সমস্যার মূল কারণের ওপর কাজ
করে।
দই স্ক্যাল্পে আদ্রতা বজায় রাখে। যাদের শুষ্ক স্ক্যাল্প তাদের
ক্ষেত্রে ত্বক ফেটে গিয়ে খুশকি তৈরি হয়। দই সেই শুষ্কতা দূর করে এবং
স্ক্যাল্পকে নরম রাখে, ফলে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমে। এছাড়া হয়ে থাকা
প্রবায়োটিক উপাদান স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য
করে। এটি ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি কমায় এবং স্ক্যাল্পকে সুস্থ রাখে। ডিম
প্রোটিনের একটি সমৃদ্ধ উৎস। আমাদের চুল মূলত কেরাটির নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
তাই ডিম ব্যবহার করলে চুলের প্রোটিন ঘাটি পূরণ হয় এবং চুল শক্ত ও মজবুত হয়।
ডিমে বায়োটিন ভিটামিন এ ডি এবং ই থাকে। যা চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে।
এটি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমায়। যাদের খুশকির কারণে চুল দুর্বল
হয়ে গেছে তাদের জন্য ডিম ওই কার্যকর। ডিম চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ
করে। এটি চুলকে নরম মসৃণ ও ঝলমলে করে তোলে, তাই নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের
রুক্ষতা কমে যায়।
ব্যবহার করার জন্য একটি ডিম একটি বাটিতে ভেঙ্গে ভালো হবে ফেটিয়ে নিন, এর সাথে
আধা কাপ টক দই মিশিয়ে নিন এবং ভালোভাবে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ পেস্ট তৈরি করুন।
আপনি চাইলেন এর সাথে অতিরিক্ত উপকার পাওয়ার জন্য এক চা চামচ লেবুর রস অথবা এক
টেবিল চামচ মেথি পেস্ট বা অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। এই মিশ্রণটির মাথার
স্ক্যাল্প ও চুলের গোড়ায় ভালোভাবে লাগান। হালকা হাতে ৫-১০ মিনিট মাসাজ করুন।
এরপর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা বা হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে
ধুয়ে ফেলুন। খুব গরম পানির ব্যবহার করবেন না এতে ডিম শক্ত হয়ে যেতে পারে এরপর
হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
অনেকের ডিমে এলার্জি থাকে, তাদের জন্য এটি ব্যবহার করা উচিত হবে না। তবে আপনি
চাইলে উপরের ডিম ছাড়া অন্য সব উপকরণ দিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
তা বলা যায় দুই ও ডিমের হেয়ার মাছ একটি কার্যকর নিরাপদ সহজ ঘরোয়া উপায় হিসেবে
কাজ করে। নিয়মিত সঠিকভাবে ব্যবহার করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আপনি পার্থক্য
অনুভব করবেন।
পেঁয়াজের রসের কার্যকারিতা
পেঁয়াজের রস প্রাচীন কাল থেকে চলে যত্নের ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি শুধু ঘরোয়া
উপায়ে সহজলভ্য নয় এবং খুশকি কমানো চুলের গোড়া শক্ত করা এবং চুল পড়া কমাতে
অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। পেঁয়াজে থাকা প্রাকৃতিক সালফার উপাদান চুলের স্বাস্থ্য
রক্ষণ ও বৃদ্ধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খুশকি মূলত
স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত মৃত কোষ ও ফাঙ্গাস বৃদ্ধির কারণে হয়। এই ফাঙ্গাস
নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। নিয়মিত ব্যবহার কলেজ ওখানে কমে যায় এবং স্ক্যাল্পে জমে
থাকা সাদা বা হলদে খুশকি দূর হয়। এছাড়া পেঁয়াজ স্ক্যাল্পের প্রদাহ কমায় যা
খুশকি সঙ্গে জড়িত চুলকানি ও জ্বালাপোড়া প্রশমিত করে।পেঁয়াজের রস চুলের
প্রাকৃতিক শক্তি ফিরিয়ে আনে। ব্যবহারের জন্য একটি পেঁয়াজ ভালোভাবে ধুয়ে কুচি
করে নিন, এরপর ব্লেন্ডারে কুচি করে পেঁয়াজের রস বের করুন। এরপর এই রসটি সরাসরি
স্ক্যান লাগিয়ে হালকা মেসেজ করুন। প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে হালকা শ্যাম্পু
দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
এটি মূলত সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খুশকি কমতে
শুরু করবে। আপনি চাইলে পেঁয়াজের রসকে লেবু দই বা অ্যালোভেরা জেলের সাথে মিশিয়ে
ব্যবহার করতে পারেন, এতে উপকারীতা দ্বিগুণ বেশি পাওয়া যাবে। পেঁয়াজের রস একটি
শক্তিশালী প্রাকৃতিক উপায় যা নিয়মিত সঠিকভাবে ব্যবহার করলে খুশকি দূর করে চুল
পড়া কমায় এবং চুলকে স্বাস্থ্যজ্জল ও ঝলমেলে করে রাখে।
নারকেল তেল লেবুর মেথি
নারকেল তেল ও লেবুর রস খুশকি দূর করার জন্য খুবই পরিচিত একটি ঘরোয়া উপায়। তবে
এর সাথে যদি মেয়েটি পেস্ট যোগ করা হয় তাহলে এর কার্যকারিতা আরো অনেক গুণ বেড়ে
যায়। এই তিনটি উপাদান একসাথে স্ক্যাল্পের শুষ্কতা অতিরিক্ত তেল ও ফাংগাল সংক্রমণ
সবকিছুর উপর একসাথে কাজ করে। নারকেল তেল স্ক্যাল্পে গভীরভাবে পুষ্টি যোগায় এবং
শুষ্কতা কমায়। লেবুর রস স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেল ও ফাঙ্গাস নিয়ন্ত্রণ করে। আর
মেথি দানা স্ক্যাল্পেকে শক্তিশালী করে তোলে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে ফলে খুশকি
কমার পাশাপাশি চুল পড়াও কমে।
আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস কমানোর ১২টি কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি
এটি ব্যবহার করার জন্য ২ টেবিল চা চামচ নারকেল তেল নিন, এরপর এক টেবিল চামচ তাজা
লেবুর রস নিন, এরপর ভেজানো মেথি দানা, আমরা উপরে আলোচনা করেছি যে মেথিদা না
ব্যবহারের আগে রাতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে এরপর সকালে বেটে উপকরণ লাগাতে হবে। সে
ক্ষেত্রে রাতের ভেজানো মেথি দানা বেটে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ পেস্ট মিশিয়ে
নিন। সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এরপর
প্রায় ১০-১৫ মিনিট হালকা হাতে মেসেজ করুন। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত রেখে
এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই উপকরণটি সপ্তাহের ৪ - ৫ বার ব্যবহার
করলে আপনার দৃশ্যমান ফল পাবেন। অবশ্যই এখানে লেবুর রস বেশি ব্যবহার করবেন না এতে
স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে নারকেল তেল এবং লেবুর রস ও মেথি
পেস্ট একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ ঘরোয়া উপায়।
সঠিক খাদ্য ভাস ও মানসিক চাপ
খুশকি শুধু বাহিক সমস্যা নয়, বরং অভ্যন্তরীণ অর্থাৎ ভেতরের কারণেও হতে পারে।
পুষ্টির অভাব হলে স্ক্যাল্প দুর্বল হয়ে পড়ে। এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি
পান করতে হবে। সবুজ শাকসবজি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। এবং ভিটামিন বি ও জিংক
সমৃদ্ধ খাবার খেলে স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে খুশকি কমে। অন্যদিকে অতিরিক্ত মানসিক চাপ
হরমনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এতে খুশকি বাড়তে পারে তাই প্রতিদিন কিছু সময়
নিজের জন্য রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়াম করুন এবং ধ্যান ও প্রার্থনা
মনকে শান্ত রাখে এবং শরীর সুস্থ রাখে। তাই আমাদের শরীরের জন্য এবং মাথার চুলের
খুশকি দূর করার ক্ষেত্রেও সঠিক খাদ্যভাস ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত
জরুরী ও প্রয়োজনীয়।
শেষ কথা
বর্তমানে মেয়েদের মাথা খুশকি একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে অবহেলা
করলে এই সমস্যাটি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে সুখ হবে হলো যে সঠিক নিয়মে যত্ন
নিলে এবং ধৈর্য ধরে ঘরোয়া উপায় গুলো অনুসরণ করলে খুশকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে
আনা সম্ভব হবে। দই ডিম, লেবুর রস নিম পাতা মেথি এলোভেরা আদার রস পেঁয়াজের রস
কিনবা নারকেল তেল এই প্রাকৃতিক উপাদান গুলো শুধু খুকশি কমায় না বরং চুলের
সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। তবে মনে রাখতে হবে খুব একদিনে দূর হয় না। আমাদের
নিয়মিত পরিচর্যা সঠিক খাদ্যাভ্যাস পর্যাপ্ত পানি মানসিক চাপ কমানো এবং
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ফলে খুশকি দূর করা সম্ভব হয়। শুধুমাত্র একটি
উপায়ে একবার ব্যবহার করলে স্থায়ী সমাধান আশা করা যাবে না বরং ধৈর্য নিয়মিত
যত্ন সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি । প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেয়া শুধু নিরাপদ নয়
বরং দীর্ঘমেয়াদি বেশি উপকার।
আশা করি উপরে আর্টিকেল পড়ে উপকৃত হবেন। কোন বিষয়ে উপকৃত হলেন তা আপনার বন্ধুদের
কাছে শেয়ার করুন। যদি কোন বিষয় বুঝতে না পারেন বা আরো জানতে চান তাহলে আমার
যোগাযোগ নম্বরে যোগাযোগ করুন। আর নতুন নতুন তথ্য জানার জন্য আমার ওয়েবসাইটটি
ভিজিট করুন। এতক্ষণ আর্টিকেলটা মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য
ধন্যবাদ।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url