অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় জানুন

অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়, আপনি কি অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আপনি এই আর্টিকেল থেকে চুল পড়া বন্ধ করার বেশ কয়েকটি কার্যকারী ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

অতিরিক্ত-চুল-পড়া-বন্ধ-করার-ঘরোয়া-উপায়-জানুন

চুল পড়া আজকাল সবার মাঝে একটা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। সাধারণত এই অতিরিক্ত চুল পড়া কোন এক দিনে শুরু হয় না, আবার একদিনেও বন্ধ হয় না। এটি ধীরে ধীরে হওয়া একটি প্রতিক্রিয়া যাওয়ার সমাধান ধৈর্য ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে সম্ভব। আসুন নিচে আর্টিকেল থেকে অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার জন্য ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো জেনে নিই।

পোস্ট সূচিপত্রঃ অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় জানুন

অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়

বর্তমান সময়ে চুল পড়া নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা ও চিন্তার বিষয় দাঁড়িয়েছে। অনেকের অল্প বয়সেই মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের উপরে বা মাথার মাঝখানে ফাঁকা দেখা দেওয়াই অনেকের আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। অনেকেই শহরে জীবন যাপন, অনিয়মিত খাদ্যভাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, হরমোন জনিত সমস্যা এবং ভুল চুলের যত্ন কারণে মূলত এই সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায়। অনেককেই এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য বিভিন্ন কেমিক্যাল যুক্ত শ্যাম্পু, সিরাম বা ওষুধ ব্যবহার করে থাকে। তবে সাধারণভাবে এসব পণ্য সাময়িক উপকার করলেও দীর্ঘমেয়াদে চুলের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে ফেলে এবং চুল পড়ার সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
অথচ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেক প্রাকৃতিক উপাদানই রয়েছে, যা দিয়েই আমরা নিরাপদ ও কার্যকর ভাবে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এমন অনেক প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে যেগুলো নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে নিরাপদ ভাবে চুল পড়া কমানো সম্ভব। আমরা এই আর্টিকেল থেকে বিস্তারিতভাবে জানব, অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে। এবং চুল পড়ার প্রকৃত কারণ, সঠিক খাদ্যভাস, দৈনন্দিন চুলের যত্নের নিয়ম এবং প্রাকৃতিক সমাধান অনুসরণ করলে চুল হবে ঘন ও মজবুত এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হয়েছে। আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

অতিরিক্ত চুল পড়ার প্রধান কারণ

অতিরিক্ত চুল পড়ার প্রধান কারণ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরে পুষ্টির অভাব। চুল মূলত কেরাটিন নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি, তাই খাদ্যতে প্রোটিনের অভাব হলে চুল দুর্বল হয়ে যায়। শুধু প্রোটিনই না বরং আইরন, জিংক, বায়োটিন, ভিটামিন বি -কমপ্লেস, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন এ এর ঘাটতি এবং মানসিক চাপ চুল পড়ার জন্য সাধারণত দায়ী হয়ে থাকে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে আইরনের ঘাটটির কারণে খুব দ্রুত চুল পড়া শুরু হয়। যারা অপরিচিত ভুগছেন তাদের চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরনো চুল ঝরে পড়ে নতুন চুল গজাতে দেরি হয়। যেহেতু শরীর নিজে থেকে কেরাটিন প্রোটিন তৈরি করতে পারেনা। তাই আমাদের পুষ্টিকর খাবার থেকেই এই প্রোটিনটি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।

মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বর্তমানে চুল পড়ার একটি বড় কারণ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্টেসে থাকলে শরীরে কোটিসল নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রকে ব্যবহৃত করে। সাধারণত এর ফলে চুল দ্রুত বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ঝরে পড়ে। পড়াশোনা, চাকরি, পারিবারিক সমস্যা সব ধরনের মানসিক চাপ হয়ে চোর পড়ার সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে হরমোন জনিত পরিবর্তন অতিরিক্ত চুল পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যেমন থাইরয়েড সমস্যা, গর্ভাবস্থায, সন্তান জন্মের প, মনপোজ কিংবা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির ব্যবহারের ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।

যার প্রভাব সরাসরি চুলের গোড়ার ওপর গিয়ে পড়ে এবং চুল পড়া বেড়ে যায়। অনেক সময় হরমোন জনিত সমস্যার কারণে চুল পড়া দীর্ঘমেয়াদি হয়ে ওঠে। এবং ভুল চুলের যত্ন ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস চুল পড়ার সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার শক্ত কেমিকেল যুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ভেজা চুল আঁচড়ানো চুল শক্ত করে বাধা এবং নিয়মিত স্টাইল চুলের দুর্বল করে দেয়।

চুল পড়া বন্ধ করতে সঠিক পুষ্টি সম্মত খাবার

নিজের চুলকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে হলে খাদ্যবাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরী বিষয়। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন সম্মিলিত খাবার থাকতে হবে। যেমন; ডিম, মাছ, মুরগী, দুধ, ডাল, বাদাম,ছোলা ইত্যাদি চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সাধারণত এসব খাবার চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়। উপরের খাবার গুলোর মধ্যে যেমন বাদামঃ আপনি চাইলে প্রতিদিন সকালের নাকতার সাথে কিছু বাদাম খেতে পারেন।
যেমন; কাঠবাদাম, চিনা বাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তা বাদাম, বলনাট। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। বিশেষ করে এগুলোতে ওমেগা ফ্যাট রয়েছে। যা চুলকে সতেজ রাখতে ও লম্বা করতে সাহায্য করে। এই ওমেগাসিট ফ্যাট আমাদের শরীর নিজে থেকে তৈরি করে না বরং বিভিন্ন খাবার থেকে নিতে হয়। সাধারণত শরীরে এটার অভাবে মাথার চুল পড়ে যায় এবং মাথার চুলের রং হালকা হয়ে যায়। তাই আমাদের প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় কিছু অল্প করে বাদাম খেতে হবে। তাহলে চুলের গোড়া সতেজ ও চুলের রং সুন্দর থাকবে।

আমাদের মাথার চুলকে সুন্দর ও সতেজ রাখতে মাছ খাওয়া প্রয়োজন। সাধারণত অনেক মাঝে ধারণা আছে যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটের জন্য সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে। যেমন; টুনা, সেলমন। তবে আমাদের দেশী মাছ যেমন; ইলিশ, মলা, চাপিলা, কই, এগুলোতেও ওমেগা 3 ফ্যাট রয়েছে। সাধারণত এই মাছগুলো মাথার চুল ঘন ও কালো করে। অনেকের মাথার চুল পাতলা ও চুলের কালার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাই এর উপকার হিসেবে টুনা সেলমন মাছ কেনার সমর্থ্য বা কেনা হয়ে থাকে না। তাই আপনি চাইলে দেশীয় উপকার উল্লেখযোগ্য মাছগুলো খেতে পারেন। আবার অন্যদিকে এই মাছগুলো শরীরে প্রোটিনেরও কাজ করে থাকে। তাই বলা যায় চুলকে ঘন ও কালো করার জন্য মাছ খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে।

ডিমঃ আপনার সুন্দর চুলের জন্য ডিম আপনার বন্ধু। আমাদের চুল শর্করা বা ফ্যাটের তৈরি না চুল সাধারণত প্রোটিনে তৈরি। এই প্রোটিনের অভাবে মাথার চুল পড়ে। আমরা জানি এই প্রোটিন সাধারণত খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। অনেকেই প্রোটিন যুক্ত খাবার খেয়ে থাকে না কারণ অনেকে ভাত বেশি খায়। তাই আমাদের প্রতিদিন ভাতের সাথে ডিম রাখা প্রয়োজন। ডিমে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রোটিন রয়েছে। তাই বলা যায়, চুলকে সুন্দর ঘন কালো রাখতে ডিম সাহায্য করে।
ডালঃ আমাদের সুন্দর চুলের জন্য ডাল খুবই উপকারী। সাধারণত ডালে প্রোটিন ও আইরন আছে। সাধারণত আয়রন আমাদের মাথার তালুতে রক্ত সরবরাহ করে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। অনেকেই জানে যে আয়রনের কম হলে আমাদের চুল পরে। ডালে আরো বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি রয়েছে। তবে আপনি যদি ডান ঘন করে রান্না করে খান তবে আপনি ডাল থেকে অনেক উপকার পাবেন। অবশ্যই আপনি ডাল ঘন করে রান্না করবেন। ডাল পাতলা করে রান্না হলে এসব উপকার পাওয়া যায় না।

বিভিন্ন ধরনের বীজঃ যেমন; চিয়া সিড, মিষ্টি কুমড়ার বিচি, সূর্যমুখী ফুলের বিচি এবং টিসির বীজ এগুলোতে সুন্দর জুনের জন্য অনেকগুলো চমৎকার উপাদান রয়েছে। যেমন; চিয়া সিড এ আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাট। মিষ্টি কুমড়া বিচিতে আছে জিংক, সূর্যমুখী ফুলের বিচিতে রয়েছে বায়োডিন এবং তৃষির ভিজে আছে সেলিনিয়াম। সাধারণত এগুলো অভাবের মাথার চুল পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। আপনি চিয়াসের বিচি ভাত খাবারের সময় কিছু তরকারির মধ্যে অল্প পরিমাণ ছিটিয়ে দিয়ে খেতে পারেন বা রাতে টক দই কিংবা অল্প দুধের সাথে মিশিয়ে রেখে সকালে খেতে পারেন। ছোলাঃকিছু দিন পর পর খাবারে ছোলা রাখতে পারেন।ছোলাতে প্রচুর পরিমানে আইরন থাকে। তাই বলা জাই চুলের জন্য আইরনের প্রয়োজন হয় জা ছোলাই রয়েছে।

হলুদ সবজি ও ফলমূল; চুলের জন্য ভিটামিন এ এর প্রয়োজন হয়। অসাধারণ তো ভিটামিন এ যেসব ফল বা সবজির মধ্যে থাকে যেমন; গাজর, আম, পাকা পেঁপে, মিষ্টি আলু,আপেল ও কমলা লেবু ইত্যাদি। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। এই হলুদ ফলগুলো ও কমলা কালারের সবজি সাধারণত এগুলাই ভিটামিন এ এর উৎস। সবজি যেমন; পালং শাক, ব্রকলি, লাউ এগুলোতে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের ক্ষতি রোধ করই। এবং নিয়মিত এসব খাবার খেলে চুল পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে অনেকটাই কমে যায়। পানি চুলের আদ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীরে পানি ঘাটতে হলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করলে চুলের স্বাস্থ্য ঠিক থাকে।

নারকেল তেল ও কদুর তেল ব্যবহার করে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

নারকেল তেল চুলের জল নিয়ে একটি প্রাচীন ও কার্যকর উপাদান। এতে থাকা লরিক এসিড চুলের গভীরভাবে প্রবেশ করে চুলকে শক্তিশালী করে তোলে। সপ্তাহে সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন হালকা গরম নারকেল তেল দিয়ে মাথার ত্বক মেসেজ করা উচিত। নারকেল তেল ব্যবহারে মাথার ত্বক আর্দ্র থাকে এবং খুশকি কমে যায়। খুশকি কমলেন চুলের গোড়া সুস্থ থাকে ফলে চুল পড়া ধীরে ধীরে কমে আসে। রাতে তেল মালিশ করে সকালে ধুয়ে ফেললে এর উপকার বেশি পাওয়া যায়। নারকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস বা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন এতে চুলের বৃদ্ধি আরো ভালো হয়। কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে কদুর তেল; কুদুর তেল চলে যত্নে খুব কার্যকর একটি প্রাকৃতিক তেল। এটি বহু বছর ধরে চুল পড়া কমানো ও চুল ঘন করা এবং চুলের গোড়া মজবুত করার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। কদুর তেলে প্রচুর পরিমানে রিকিনলেইট অ্যাসিড রয়েছে, যা মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং চুলের গোড়া পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় ও চুল পরা ধীরে ধীরে কমে আসে। নিয়মিত কুদুর তেল ব্যবহার করলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। যাদের মাথায় চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে বা ফাকা দেখা যাচ্ছে তাদের জন্য কদুর তেল খুবই উপকারী। এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। অনেক সময় এই তেল ব্যবহারের পর কয়েক সপ্তার মধ্যে ছোট ছোট চুল উঠতে দেখা যায়। আবার কদুর তেলে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও আন্টি ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে। যা মাথার ত্বকের খুব শীত চুলকানি ও শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। ফলে মাথার ত্বক সুস্থ থাকে এবং চুল পড়ার ঝুঁকি কমে যায়।

অন্যদিকে কুদুর তেল চুলের বৃদ্ধির গতি ভারতের সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন ই ওমেগা ফাইটি এসিড চুলকে পুষ্ট করে এবং চুল ঘন ও লম্বা করে তোলে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের ভাঙ্গন কমে আসে। এইটেল চুলের শিকড় গভীরভাবে পোস্ট করে এবং নিয়মিত মাথায় কুদুর তেল মেসেজ করলে চুল ভাঙ্গা ও দুমুখো চুলের সমস্যা কমে যায়। আর চুল আরো শক্ত ও চকচকে হয়। কদুর তেল কিভাবে ব্যবহার করবেন ? সপ্তাহে দুই দিন কদুর তেল ব্যবহার করুন এবং হালকা গরম করে মাথার ত্বকে মেসেজ করুন। এরপর ৩০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা রেখে দিন পরে হালকার শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে কদু তেলের সাথে নারকেল তেল বা অলিভ ওয়েল এর সাথে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।

আরেকটি কথা কদুর তেল অনেক ঘন হয়ে থাকে তাই সরাসরি বেশি পরিমাণ ব্যবহার করবেন না। প্রথমবার ব্যবহারের আগে অল্প তেল দিয়ে প্যাচ টেস্ট করুন এবং নিয়মিত ব্যবহার করুন তবে একদিনে ভালো ফল আশা করবেন না। এটি ধীরে ধীরে কাজ করা শুরু করে। তাই বলা যায় চুল পড়া কমানো ও নতুন চুল গজানো এবং চুল ঘন করতে কদুর তেলের গুরুত্ব অনেক। এবং প্রাকৃতিক ও নিরাপদ এই তেল নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে ভালো হয়ে ওঠে।

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জেনে নিই

পেঁয়াজের রসের উপকারিতাঃ পেঁয়াজের রস অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি। এতে প্রচুর পরিমাণে সালফার হয়েছে যা চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুলের ফলিকল কে সক্রিয় করে। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললেন ভালো ফল পাওয়া যায়। পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকের জীবাণু ধ্বংস করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে পেঁয়াজের রস চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এবং সপ্তাহে দুই দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাই বলা যায়, চুলের গোড়া শক্ত ও চুল পড়া প্রতিরোধ করতে পেঁয়াজের গুরুত্ব অনেক।

অ্যালোভেরা দিয়ে চুলের যত্নঃ অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবে চুলের জন্য একটি শক্তিশালী উপাদান। এতে থাকা ভিটামিন এ, সি ও ই চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমায়। তাজা অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে চুল নরম ও উজ্জ্বল হয়। এটি প্রত্যেক সপ্তাহে অন্তত দুইবার ব্যবহার করা যেতে পারে। এলোভেরা মাথা ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি দূর করে। ফলে চুলের গোড়ার সুস্থ থাকে এবং চুল পড়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই বলা যায় চুলের যত্নে প্রাকৃতিকভাবে অ্যালোভেরা খুবই উপকারী পদ্ধতি।

মেথি ব্যবহার করে চুল পড়া কমানোর উপায়ঃ মেথি চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এতে প্রোটিন ও নিকটনিক এসিড রয়েছে যা চুলের বৃদ্ধি বারা এবং চুল পড়া কমায়। রাতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে ভালোভাবে বেটে মাথার ত্বকে লাগাতে হবে এবং ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত মেথি ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে যায় এবং নতুন চুল গজাতে শুরু করে এটি চুলকে ঘন ও শক্তি শালী করে তোলে। তাই বলা যায় চুল পড়া কমাতে মেথি অত্যন্ত কার্যকারী উপাদান।

আমলকি ও শিকাকাই এর উপায়

আমলকি চুলের জন্য একটি অমূল্য প্রাকৃতিক উপাদান। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে, যা চুলের গোড়া শক্ত করে এবং অসময়ে চুলপাকা প্রতিরোধ করে। শিকাকায় প্রাকৃতিক শ্যাম্পু হিসেবে পরিচিত। এটি চুল পরিষ্কার করার পাশাপাশি চুলের প্রাকৃতিক তেল বজায় রাখে এবং চুল পড়া কমায়। আমলকি ও শিকাকায় একসঙ্গে ব্যবহার করলে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং চুলের উজ্জ্বলতা ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, চুলের উজ্জ্বলতা ও বৃদ্ধি জন্য আমলকি ও শিকাকায় এর উপকারিতা অনেক।

ডিম ও দই দিয়ে চুলের প্যাকঃ ডিমে থাকা প্রোটিন ও বায়োটিন চুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চুলায় গড়া শক্ত করে এবং ভাঙ্গন কমায়। ডিম ও ২ একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগালে চুল পড়া কমে এবং চুল নরম ও মসৃণ হয়। অন্ততপক্ষে সপ্তাহে একবার এই প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং চুলের স্বাস্থ্য ও দীর্ঘদিন ভালো থাকে। তাই বলা যায় চুলের উজ্জ্বল বৃদ্ধি ও চুলের স্বাস্থ্য দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ডিম ও দই এর পেস্ট করে ব্যবহার করা উত্তম।

চুল ধোয়ার সঠিক নিয়ম

চুল হওয়ার সময় খুব বেশি শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়। সাধারণত সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চুল ধোয়ায় যথেষ্ট। কেমিকাল যুক্ত বা হারবাল শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি কম হয়। তবে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া এড়িয়ে চলতে হবে। আমাদের অবশ্যই শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা প্রয়োজন। কারণ চুলে শ্যাম্পু করার পর চুল হালকা পরিমাণ করা হয়ে যায়। এর ফলে চুল ভেঙ্গে ভেঙ্গে যায়। তাই প্রতিবার চুলে শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার দিতে হবে। কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল নরম থাকে। এতে চুল ভাঙ্গার সম্ভাবনা কম থাকে। তাই আমাদের উচিত শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা এতে চুল ভাঙ্গা থেকে বাঁচা যায়।

চুল আচড়ানো ও স্টাইলিংয়েইয়ে নিয়মঃ ভেজা চুল কখনো আজরানো উচিত নয়, এতে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ছিড়ে যায়। চুল স্টাইল করার সময় অতিরিক্ত হিট ব্যবহার থেকে দূরে থাকাই উচিত। হেয়ার ড্রায়ার ও স্ট্রেইটনার যত কম ব্যবহার করা যায় ততই চুলের জন্য ভালো। চুল যত পারবেন প্রাকৃতিক বাতাসে শুকানোর চেষ্টা করবেন। এতে চুল সতেজ ও সুন্দর থাকে। আর অবশ্যই চুল আঁচড়ানোর সময় চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা উচিত। এতে চুলের ক্ষতি কম হয় এবং চুল পরেও কম। খেয়াল করবেন অতিরিক্ত প্রয়োজন ছাড়া হেয়ার ড্রয়ার ব্যবহার করে চুল না শুকানো। এতে চুলের পর্যাপ্ত ক্ষতি হয়।

মানসিক চাপ কমানোর উপায়

মানসিক চাপ কমানোর চুল পড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানসিক চাপ কমানোর জন্য নিয়মিত নামাজ বা মেডিটেশন মানসিক শান্তি প্রদান করে। পর্যাপ্ত ঘুম চুলের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘন্টা গভীর ঘুমানো উচিত। স্ট্রেস কমলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে। এবং চুল পড়ার সমস্যা স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসে। মানসিক চাপ অতিরিক্ত চুল পড়া একটি নীরব কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী কারণ। দীর্ঘদিন যারা টেনশন ও দুশ্চিন্তা এবং মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন তাদের শরীরে কোটিসল হরমোন এর মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন সরাসরি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রে বাধা সৃষ্টি করে ফলে চুল দ্রুত ঝরে পড়ে এবং নতুন চুল গজাতে দেরি হয়। চুলের যত্নের পাশাপাশি মানসিক যত্ন নেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাই প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য বের করে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে মন শান্ত হয় এবং মানসিক ভারসাম্য ফিরে আসে। এ ছাড়া পছন্দের কাজ করা বই পড়া বা হালকা গান সোনা মনকে স্বস্তি দেয় এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত মানসিক চাপ কমানোর অন্যতম প্রধান উপায়। প্রতিদিন যদি সাত থেকে আট ঘন্টা গভীর ঘুম হলে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটোই বিশ্রাম পায়। অনিন্দ্রা থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় যার চুল পড়া আরো বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ঘুমের সঠিক সময় ঠিক রাখা রাত জাগা এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার কমালে মানসিক চাপ কমে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

নিয়মিত চুলের যত্নের পূর্ণাঙ্গ রুটিন

উপরের সকল বিষয় আলোতে সংক্ষেপে একটি নিয়মিত চুলের যত্নের রুটিন উপস্থাপন করা হলোঃ

  • প্রথমত চুল সুস্থ রাখতে হলে একটি নিয়মিত যত্নের রুটিন অনুসরণ করা জরুরী। সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন তেল দেওয়া, প্যাক ব্যবহার ও চুল পরিষ্কার করতে হবে।
  • প্রাকৃতিক উপায়ে চলে যত্ন নিলে ধীরে ধীরে কিন্তু স্থায়ী ফল পাওয়া যায়। তাই আমাদের ধৈর্য ধরে নিয়মিত যত্ন নেওয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
  • এর সকল ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললে অতিরিক্ত চুল পড়া ধীরে ধীরে বন্ধ হবে এবং চুল হবে ঘন শক্ত ও স্বাস্থ্যকর।
অতিরিক্ত-চুল-পড়া-বন্ধ-করার-ঘরোয়া-উপায়-জানুন

অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় জানুন এবং সেগুলো নিয়মিত অনুসরণ করুন। সঠিক খাদ্য ভাস মানসিক শান্তি ও প্রাকৃতিক যত্নই হতে পারে আপনার চুলের প্রকৃত সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে পারে।

লেখকের শেষ কথা

কেমিক্যাল এর ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক নিয়মে ধারাবাহিকভাবে যত্ন নিলে চুলের প্রকৃত সৌন্দর্য ধীরে ধীরে ফিরে আসে। তাই আপনি আজও ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করতে পারেন, সঠিক খাবার খান, মনকে শান্ত রাখুন এবং নিয়মিত প্রাকৃতিক যত্ন নিন। ইনশাআল্লাহ, সময়ের সাথে সাথে আপনার অতিরিক্ত চুল পড়া কমবে এবং চুল ঘন ও মজবুত এবং স্বাস্থ্যকর হবে। আপনি চাইলে উপরের সমস্ত বিষয় অনুসরণ করে চুলের যত্ন নিতে পারেন। এতে অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন। আর আপনি যদি উপরের সকল বিষয় অনুসরণ করে চুলের যত্ন নেন তবে অবশ্যই আপনার চুলের পরিবর্তন আসবে। কারণ এগুলো সব কিছুই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি।

আশা করি উপরের আর্টিকেল থেকে আপনি উপকৃত হবেন। আপনি কোন বিষয়ে উপকৃত হলেন তা সম্পর্কে আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন। এবং এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst. Rubi Khatun
Mst. Rubi Khatun
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট গেনের বারি ওয়েবসাইটের এডমিন । তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।