ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার ০৮ টি সেরা উপায়
ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার ০৮ টি সেরা উপায় , আপনি কি ইউটিউব থেকে কিভাবে ইনকাম করবেন তা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আপনি এই আর্টিকেল থেকে ইউটিউব থেকে টাকা ইনকামের ০৮ টি সেরা উপায় সম্পর্কে জানতে পারবেন।
বর্তমানে ইউটিউব থেকে অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। বলতে গেলে মাসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করার সবচেয়ে বর প্লাটফরম হল ইউটিউব। ইউটিউবের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। আসুন নিচের আর্টিকেল থেকে ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার০৮ টি সেরা উপায় সম্পর্কে জেনে নিই।
পোস্ট সূচীপত্রঃইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার ০৮ টি সেরা উপায়
- ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার ০৮ টি সেরা উপায়
- ইউটিউবে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম
- ইউটিউব ইনকামের উপায় সুপার চ্যাট ও সুপার থ্যাংকস
- ইউটিউবে কোর্স বিক্রির মাধ্যমে ইনকাম
- ফ্রিল্যান্সিং ক্লায়েন্ট আনা থেকে ইউটিউব ইনকাম
- বিদেশি অডিয়েন্স টার্গেট করে ইউটিউব থেকে ইনকাম
- ইউটিউব চ্যানেল মেম্বারসিপ করে ইনকাম
- ইউটিউব শর্টস থেকে ইনকাম
ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার ০৮ টি সেরা উপায়
ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার ০৮ টি সেরা উপায়, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হল ইউটিউব।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের লাখো মানুষ ইউটিউব পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। অনেকের
মনে প্রশ্ন ঘোরে, ইউটিউব থেকে মাসে কত টাকা ইনকাম করা যায় এবং কিভাবে ইনকাম
শুরু করা সম্ভব এই সম্পর্কে জানার জন্য। আপনার কনটেন্ট, ভিউ সাবস্ক্রাইবার,
দর্শকের দেশ এবং মনিটাইজেশন, স্ট্রাটেজির উপর নির্ভর করে ইউটিউব। কেউ মাসে
৫০০০ টাকা আয় করছে, আবার কেউ মাসে ৫ লক্ষ টাকারও বেশি আয় করছে। সঠিক
পরিকল্পনা থাকলে আপনি এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ভালো টাকা আয় করতে সক্ষম
হবেন। বর্তমানে অনেক বড় বড় ইউটিউবার এখন বাংলাদেশেই রয়েছে।
একজন নতুন ইউটিউবার শুরুতে মাসে এক থেকে দুই হাজার টাকা আয় করতে পারে এবং
মাঝারি লেভেল এ ইউটিউবার ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারে, আর বড় বড়
ইউটিউবাররা নিয়মিত মাসে এক থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে।
সাধারণভাবে বাংলাদেশের প্রতি এক হাজার ভিউতে ২০ থেকে ৮০ টাকা পাওয়া যায়। তবে
বেশি দর্শক থাকলে আয় আরো বৃদ্ধি পায়। ইউটিউবে শুধু বিজ্ঞাপন নয় বরং
স্পন্সরশিপ এফিলেন্ট মার্কেটিং এবং নিজের প্রোডাক্ট বা কোর্স ব্যক্তির মাধ্যমে
আয় করা যায়। তাই ধৈর্য ধরে ও নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করলে ইউটিউব
আপনার জন্য একটি শক্তিশালী দীর্ঘমেয়াদি ইনকামের মাধ্যম হতে পারে। ইউটিউবের
একটা সুবিধা হল আপনার একটি ভিডিও আপলোড হলে সেটি থেকে দীর্ঘমেয়াদি ইনকাম
করা যায়। সাধারণত এই কারণেই ইউটিউবকে অন্য সকল আয়ের প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা
করে। আমরা এই আর্টিকেল থেকে ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার ০৮ টি সেরা উপায়
সম্পর্কে জানব।
ইউটিউবে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম
গুগল এডসেন্স হলো ইউটিউব ইনকামের সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি উপায়। এটি মূলত
একটি বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম যেখানে বিজ্ঞাপন দাতারা তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানোর
জন্য টাকা দেয়, আর সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউটিউবাররা আয় করে
থাকে। যখন আপনার চ্যালেন ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হয় তখন আপনার
ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় এবং দর্শক যখন বিজ্ঞাপন দেখে বা ক্লিক করে তখন আপনার
একাউন্টে টাকা জমা হয়। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের যোগ দেওয়ার জন্য কিছু শর্ত
পূরণ করতে হয় যেমন আপনার চ্যানেলে কমপক্ষে 1000 সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। এবং গত
বারো মাসে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম পূরণ করতে হবে। আপনার চ্যানেলকে মনিটাইজেশন
করার অনুমতি দিবে, তখন আপনি এডসেন্স এর মাধ্যমে আয় শুরু করতে পারবেন।
গুগল এডসেন্সের ইনকাম নির্ভর করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর এর ওপর। এর মধ্যে
ফ্যাক্টর গুলো যেমন; CPM অর্থাৎ Cost Per Mille, প্রতি১০০০ভিউ
এর জন্য আপনি বাংলাদেশের সাধারণত ২০ থেকে ৮০ টাকা পাবেন। আর আপনার যদি বিদেশী
দর্শক থাকলে তা অনেক বেশি হতে পারে। অন্য ফ্যাক্টরটি হলোঃRPM অর্থাৎRevenue Per
Mille, যা আসল আয় হিসাব করে এবং যেখানে ভিডিও ভিউ, ক্লিক এবং বিজ্ঞাপনের সব
ধরনের হিসাব মিলিয়ে রাখা হয়। ভিডিও দৈর্ঘ্য ও সংখ্যঃ লম্বা ভিডিওতে
একাধিক বিজ্ঞাপন দেখানো যায়, তাই এতে আয় ও বেশি হয়। এবং দর্শকের দেশ ও
আগ্রহ যেখানে দর্শক থাকবেন বিজ্ঞাপনের দাম সেই দেশের বাজার অনুযায়ী
পরিবর্তন হয়। এডসেন্স ইনকামের আরেকটি সুবিধা হল এটি প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করে।
আপনি একবার ভালো ভিডিও বানালে সেটি বছরের পর বছর ভিউ পেতে থাকে এবং প্রতিটি ভিউ
থেকে আয় হয়।
তাই নতুন ইউটিউবারদের জন্য এডসেন্সের একটি শক্তিশালী এবং স্থায়ী ইনকামের মাধ্যম
হতে পারে। তবে মাথায় রাখতে হবে, শুরুতে আয় অনেক কম মনে হতে পারে। নতুন চ্যানেল
গুলো প্রথম মাসে কয়েকশত টাকা বা ১০০০ টাকার বেশি আই নাও করতে পারে। তবে নিয়মিত
ভালো কনটেন্ট বানালে এবং ভিউ ও সাবস্ক্রাইবার বাড়ালে এডসেন্স ইনকাম ধীরে ধীরে
বড় হতে থাকে। তাই বলা যায়, গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে ইউটিউব ইনকাম হলো একটি সহজ
ও নির্ভরযোগ্য উপায়, যা নতুন ইউটিউবারদের জন্য মাসিক আয় এর ভিত্তি তৈরি করে এবং
অভিজ্ঞ ইউটিউবারদের জন্য তা দীর্ঘমেয়াদি আয়ের বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়।
ইউটিউব ইনকামের উপায় সুপার চ্যাট ও সুপার থ্যাংকস
সুপার চ্যাট ও সুপার থ্যাংকস ইউটিউব ইনকামের জন্য একটি শক্তিশালী উপায়। ইউটিউবে
শুধু ভিডিও আপলোড করে এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করায় শেষ নয় বরং ইউটিউবের আরো কিছু
ভবিষ্যৎ আছে যা ক্রিয়েটরদের জন্য মাসিক ইনকাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো সুপার চ্যাট
ও সুপার থাঙ্কস। সুপার চ্যাট মূলত লাইভ স্ট্রিমিং এর জন্য তৈরি করা হয়েছে।
যখন আপনি লাইভ ভিডিও করেন তখন দর্শকরা চাইলে সুপার চ্যাটের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে
পারে। সুপার চ্যাটের মাধ্যমে পাঠানো মেসেজগুলো লাইভ চ্যাটে হাইলাইট হয়ে
প্রদর্শিত হয়। অর্থাৎ যারা টাকা পাঠাবে তাদের মেসেজ অন্যদের চেয়ে আলাদাভাবে
দেখা করে। এর ফলে দর্শকেরা আরও বেশি মনোযোগী হয় এবং ক্রিয়েটরদের সাথে সরাসরি
সংযুক্ত বোধ করে। এটি শুধু দর্শকের মন জয় করে না বরং ইউটিউবারদেরকে সরাসরি
অর্থের সুবিধা দেয়।
সুপার চ্যাট এটি মূলত ভিডিওর জন্য একটি নতুন ভবিষ্যৎ। এটি শুধুমাত্র লাইভ নয়
যেখানে আপলোড করা ভিডিওতে ব্যবহার করা যায়। দর্শকেরা ভিডিও দেখতে চাইলে কিছু
অর্থ দিয়ে ভিডিও ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ জানাতে পারে। এটি একটি মাধ্যম ছোট তবে
একটি শক্তিশালী উপায়। যেখানে দর্শক সরাসরি আপনার কন্টেন্টকে সাপোর্ট করবে।
ছোট বা মাঝারি চ্যানেল গুলো এই পদ্ধতি ব্যবহার করে মাসে কয়েকশো থেকে কয়েক হাজার
টাকা আয় করতে সক্ষম হচ্ছে। সুপার চ্যাট ও সুপার থ্যাংকস এর সবচেয়ে বড় সুবিধা
হল এটি ডাইরেক্ট ইনকাম। এখানে কোন তৃতীয় পক্ষের বিজ্ঞাপন নেই এবং আপনার
একাউন্টে চলে আসে। এটি একটি ধীর কিন্তু স্থায়ী ইনকামের সুযোগ। বিশেষ করে
যারা গেমিং, ইসলামিক শিক্ষা, লাইভ টিউটোরিয়াল, মিউজিক পারফরম্যান্স বা লাইভ
Q A করে। তাদের জন্য এই ভবিষ্যৎ মাধ্যমটি খুব কার্যকর। আরেকটি বিষয় হলো
সুপার চ্যাট ও সুপার থ্যাংকস ব্যবহার করে দর্শকের সাথে সম্পর্ক আরো শক্ত
হয়।
আরো পড়ুনঃকিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায় ঘরে বসেই
দর্শক মনে করে, আমি এই ক্রিয়েটরদের কাজকে সরাসরি সাপোর্ট করছি। এবং তারা
নিয়মিতভাবে টাকা পাঠাতে শুরু করে। এই ধরনের ইনকাম এডসেন্স এর সাথে মিলিয়ে
ব্যবহার করলে একজন ইউটিউবার এর মোট আয় মাসে অনেক বাড়তে পারে। সুপার চ্যাট ও
সুপার থ্যাংকস হল এমন একটি ইনকামের মাধ্যমে যার শুধু অর্থ আয় করেনা বরং
দর্শকের সাথে ক্রিয়েটরদের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করে। এটি বিশেষভাবে নতুন এবং মাঝারি
চ্যানেল গুলোকে দ্রুত ভিউ এবং ইনকাম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে।
ইউটিউবে কোর্স বিক্রির মাধ্যমে ইনকাম
ইউটিউব শুধু ভিডিও আপলোড করার পারফর্ম নয় এটি একটি শক্তিশালী মার্কেটিং ও আয়ের
মাধ্যম। অনলাইন কোর্স বিক্রি করা হলো ইউটিউব থেকে আয় করার অন্যতম জনপ্রিয়
লাভজনক উপায় গুলোর মধ্যে একটি। বিশেষ করে যারা কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্ট
তারা ইউটিউবের মাধ্যমে নিজের জ্ঞানকে আয়ে পরিণত করতে পারে। অনলাইন কোর্স
বিক্রি লাভজনক। কারণ অনলাইন কোর্স বিক্রি করার সুবিধা হল একবার কোন কোর্স
বানালে সেটি বহুবার বিক্রি করা যায়। এটি হল প্যাসিভ ইনকামের চাবিকাঠি। আপনি
ভিডিও PDF, ওয়ার্কসিট বা লাইভ সেকশন বানিয়ে কোর্স তৈরি করলে সেটি মানুষের কাছে
পৌঁছাতে ইউটিউব একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম। ইউটিউবে মাধ্যমে প্রচারণা করলে
দর্শকরা আপনার কোড সম্পর্কে জানতে পারে এবং আগ্রহী হলে কিনতে পারে। যেমন আপনি
ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং ও ফটোগ্রাফি বা ইংরেজি শেখানোর কোর্স
বানিয়েছেন। সেখানে আপনি ইউটিউবে ছোট ছোট টিপস টিউটোরিয়াল ভিডিও আপলোড করবেন। এই
ভিডিওগুলো দর্শকের ভ্যালু দিবে এবং তাদের মনে আস্থা তৈরি করবে। পরে ভিডিওর
শেষে বা ডিসক্রিপশনে আপনার কোর্স লিংক দিতে পারেন। যেখানে খুব সহজে দর্শকেরা
আপনার কোর্স কিনতে আগ্রহী হন।
অনলাইন কোর্স বিক্রির ইনকাম সরাসরি আপনার কাছে আসে। এখানে কোন এডসেন্স বা ফি নেই।
একবার কোর্স বিক্রি হলে পুরো অর্থ আপনার। এছাড়া আপনি চাইলে অ্যাফিলিয়েন্ট
মার্কেটিং যুক্ত করতে পারেন যেখানে অন্য ইউটিউবাররা আপনার কোর্স প্রমোট করে কমিশন
পাবে এবং আপনার বিক্রি আরো বাড়বে। মাসিক আইনির্ভর করে আপনার কোর্সের দাম এবং
বিক্রির সংখ্যা যেমন উদাহরণস্বরূপ দেখানো হলোঃ
- যদি কোর্সের দাম ৫০০০ টাকা এবং মাসে ২০ জন কিনে, তাহলে ইনকাম = ৫০০০ * ২০ =১ লাখ টাকা।
- যদি কোর্সের দাম১০০০ টাকা এবং মাসে ১০০ জন কিনে, তাহলে ইনকাম = ১০০০ * ১০০ =১ লাখ টাকা।
তাহলে আপনি এভাবে ইউটিউবের মাধ্যমে কোর্স প্রমোশন করে ছোট এবং মাঝারি
চালানো মাসিক হাজার থেকে লাখ টাকা আয় করতে পারেন। সফল অনলাইন কোর্স বিক্রিত
টিপস হলঃ কোর্সের একটি অংশ ফ্রী টিউটোরিয়াল হিসেবে দেখান এবং দর্শক যদি দেখার
মান অনুভব করে, তাহলে তারা সহজে পুরো কোর্স কিনবে। কোর্স এমন বিষয় নিয়ে হোক
যেটাতে আপনার দক্ষতা বেশি এবং মানুষ আগ্রহী হবে। ভিডিওর ডেসক্রিপশন
ব্যবহার করুন যেখানে আপনার কোর্স লিংক, বেনিফিট, রিভিউ এবং সাপোর্টের
তথ্যস্পষ্টভাবে দিন। এবং সোশ্যাল প্রমাণ দেখান যেমন; আগের শিক্ষার্থীদের
ফিডব্যাক সার্টিফিকেট বা রিভিউ দেখালে নতুন শিক্ষার্থীরা সহজে বিশ্বাস করবে।
এবং রেগুলার আপডেট করুন যেমন; করছে নতুন তথ্য বা ভিডিও আপডেট করলে কোর্স
প্রিমিয়াম থাকে এবং বেশি বিক্রি হয়। তাই বলা যায়, অনলাইন কোর্স বিক্রি
ইউটিউব ইনকামের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ও লাভজনক মাধ্যম। এটি শুধু আপনার অর্থ
আয় করতে সাহায্য করে না বরং আপনার নাম ও ব্র্যান্ড তৈরি করে। ধৈর্য মানসম্মত
কনটেন্ট এবং সঠিক মার্কেটিং কৌশল থাকলে একজন ইউটিউবার মাসে লাখ টাকার বেশি
ইনকাম করতে সক্ষম হয়।
ফ্রিল্যান্সিং ক্লায়েন্ট আনা থেকে ইউটিউব ইনকাম
ইউটিউব কেবল ভিডিও আপলোড করার প্লাটফর্ম নয়, এটি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের
জন্য একটি শক্তিশালী সরঞ্জাম। অনেক ইউটিউবার তাদের দক্ষতা যেমন; গ্রাফিক্স
ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং বা প্রোগ্রাম পেয়ে থাকেন। এটি নতুন
ইউটিউবারদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকামের একটি নির্ভরযোগ্য উপায় তৈরি করে।
অনেক মানুষ এখন কাজ খুঁজতে google বা ফিনান্সিং প্ল্যাটফর্মে পরবর্তীতে
ইউটিউব এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার খোঁজে। কারন ভিডিও দেখে তারা দক্ষতা সরাসরি
দেখার সুযোগ পান। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি ভিডিও এডিটর হন এবং আপনার চ্যানেলে
ভিডিও এডিটিং ভিডিও টিউটোরিয়াল ভিডিও বা কেস স্টাডি ভিডিও আপলোড করেন, তাহলে
সম্ভবও ক্লায়েন্টরা সহজে আপনার কাজের মান দেখে তাদের পরিকল্পের জন্য আপনাকে
নির্বাচন করবে। ইউটিউব এর মাধ্যমে ক্লায়েন্ট আনার আরেকটি সুবিধা হল
বিশ্বস্ততা তৈরি করা। ভিডিওতে আপনার কাজের দ্বারা সময় ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষতা
দেখানো যায়। মানুষ শুধুমাত্র প্রোফাইল দেখে নয় বরং ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত
নেয় যা নতুন ফিন্যান্স তাদের জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
ফ্রিল্যান্সিং ক্লাইন্ট আনার অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। যেমন; প্রথমত নিজ নির্ধারণ
করুন, এরপর আপনি কোন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস দিতে চান তা নিশ্চিত করুন। যেমন
ভিডিও এডিটিং, ডিজাইন কনটেন্ট, রাইটিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
ইত্যাদি। দ্বিতীয়তঃ কনটেন্ট তৈরি করুন, আপনার দক্ষতা প্রদর্শনকারী ভিডিও
বানান। যেমন টিউটোরিয়াল ভিডিও, রিভিউ আগে এবং পরের কাজের উদাহরণ ইত্যাদি। আপনার
ডিসক্রিপশনে লিংক দিন, ভিডিওর নিচে আপনার ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইল
বাদ যোগাযোগের লিংক দিন। এটি ক্লায়েন্টদের সরাসরি আপনার সাথে যোগাযোগ করতে
সাহায্য করে। অন্যটি হলো লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, যারা আপনার কাজের সম্ভাব্য
ক্লাইন্ট হতে পারে তাদের টার্গেট করুন। এবং ভিডিওর শিরোনাম, ত্যাগ এবং কনটেন্ট সে
অনুযায়ী তৈরি করুন।
ইউটিউবে ফ্রিল্যান্সিং ক্লাইন্ট আনার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে যেমন;
নিয়মিত ইনকামঃ ইউটিউবের ভিডিও দেখে ক্লাইন্টরা সরাসরি প্রকল্প দেয় যা মাসিক আয়
নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
বিশ্বব্যাপী সুযোগঃ আপনি শুধু বাংলাদেশ সীমাবদ্ধ থাকেন না বরং বিশ্বের যেকোনো
প্রান্ত থেকে ক্লাইন্ট পেতে পারেন।
কম খরচে মার্কেটিংঃ ইউটিউবে আপনাকে প্রচারণার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রয়োজন
নেই। আপনার ভালো ভিডিও আপনার নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে। তাই বলা যায়, আপনি একজন
ফ্রিল্যান্সিং ভিডিও এডিটর। আপনি ইউটিউবে এক মাসের জন্য পাঁচটি ভিডিও টিউটোরিয়াল
আপলোড করেছেন। এই ভিডিও গুলোতে আপনি বিভিন্ন এডিটিং টিপস কেস স্টাডি এবং আগে পরে
ভিডিও দেখাচ্ছেন। এর মাধ্যমে দর্শকেরা দেখে তা বিশ্বাস করে যে আপনি তাদের
প্রকল্পের জন্য পারফেক্ট ফিলাম স্যার। এরপর মাত্র এক মাসে আপনি দুই থেকে
তিনজন ক্লায়েন্ট পেয়ে যেতে পারেন যারা আপনাকে মাসিক ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা
প্রজেক্ট ফি দিতে পারে।
বিদেশি অডিয়েন্স টার্গেট করে ইউটিউব থেকে ইনকাম
ইউটিউব থেকে বেশি টাকা ইনকাম করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি গুলোর মধ্যে একটি হল
বিদেশি অডিয়েন্স টার্গেট করা। কারণ বিদেশী দেশগুলোতে বিজ্ঞাপনের বাজেট বেশি
থাকে, ফলে ইউটিউব প্রতি 1000 ভিউয়ে যে টাকা দেয় তা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক
বেশি হলেও শুধুমাত্র দর্শকের দেশের কারণে আপনার ইনকাম 5 থেকে 10 গুণ পর্যন্ত
বেড়ে যেতে পারে। বিদেশি অডিয়েন্স বলতে সাধারণত, USA,
UK,Canada,Australia,Germany,UAE,Saudi Arabia সহ আরো উন্নত দেশগুলোর
দর্শককে বোঝায়। এসব দেশে দশকেরা ইউটিউবে বেশি সময় কাটায় এবং বিজ্ঞাপন দাতারা
তাদের কাছে পৌঁছাতে বেশি টাকা খরচ করে। তাই ইউটিউব এই দেশগুলোর জন্য ইউটিউব
ক্রিয়েটারদের বেশি অর্থ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে বাংলাদেশী ভিউতে ১০০০ ভিউয়ে
২০ থেকে ৮০ টাকা পাওয়া যায, সেখানে USA বা UK ভিউতে ১০০০ ভিউয়ে ৩০০ থেকে ১০০০
টাকা বা তারও বেশি পাওয়া যায়।
বিদেশি অডিয়েন্স টার্গেট করলে কেন ইনকাম হয় ? এটা অনেকের মনেই প্রশ্ন
জাগতে পারে। বিদেশী দেশগুলোতে অনলাইন শপিং, ডিজিটাল সার্ভিস এবং সাবস্ক্রিপশন
কালচার অনেক বেশি। তাই বড় বড় কোম্পানি ইউটিউবের বিজ্ঞাপন দিতে বিশাল অংকের টাকা
ব্যয় করে। এই বিজ্ঞাপন গুলো যখন
আপনার ভিডিওতে দেখানো হয় তখন ইউটিউব সেই বিজ্ঞাপন আয়ের একটি বড় অংশ আপনাকে
দিয়ে থাকে। এছাড়া বিদেশি দর্শকেরা সাধারণত লং ভিডিও বেশি
দেখে, বিজ্ঞাপন স্কিপ কম থাকে এবং প্রোডাক্ট কেনার প্রবণতা বেশি থাকে, ফলে RPM
এবং মোট ইনকাম দুটোই বেড়ে যায়। আবার আপনি ভাবতে পারেন কোন ধরনের কনটেন্ট দিলে
বিদেশি অডিয়েন্স সহজে পাওয়া যেতে পারে। যেমন বিদেশি অডিয়েন্স পাওয়ার জন্য
কন্টেন অবশ্যই ইউনিভার্সাল বা ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালু সম্পূর্ণ হতে হবে। যেমন;
- টেক রিভিউ ও টিউটোরিয়াল
- অনলাইন টুল ব্যবহার শেখানো
- মোটিভেশনাল ভিডিও
- ট্রাভেল ভিডিও
- ফ্যাক্টোস ও ইনফরমেশন ভিডিও
- অ্যানিমেশন ও স্টোরি টাইপ কনটেন্ট ইত্যাদি
সাধারণত এ ধরনের কন্টেন্ট ভাষা ছাড়াও ভিজুয়াল এবং তথ্যের মাধ্যমে বোঝানো
যায়। তাই বিদেশীরা খুব সহজেই বুঝতে পারে। টার্গেট করার জন্য সবচেয়ে ভালো
ভাষা হল ইংরেজি। তবে আপনি চাইলে ভয়েস ছাড়াও ভিডিও বানাতে পারেন। এতে
ভাষার সমস্যা থাকে না এবং গ্লোবাল অডিয়েন্স পাওয়া সহজ হয়। আরেকটি ভালো
কৌশল হলো ইংলিশ সাবটাইটেল ব্যবহার করা। আপনি বাংলায় কথা বললেও সাবটাইটেল
দিলে বিদেশি দর্শক ভিডিও বুঝতে পারে। আবার পেতে হলে ভিডিওর টাইটেল,
ডেসক্রিপশন এবং ট্যাগ ইংরেজিতে দিতে হবে। টাইটেল হতে হবে পরিষ্কার সমস্যা
ভিত্তিক এবং সার্চ ফ্রেন্ডলি। বিদেশি অডিয়ান টার্গেট করে সম্ভবত মাসে এক লাখ
ভিউ অডিয়েন্স থাকলে আপনার ঘরে ৫০০ টাকা ইনকাম হতে পারে। তাহলে
আনুমানিকভাবে বলা যায় প্রতি মাসে ৫০০০০ টাকা শুধু এডসেল থেকেই পাবেন। এবং এর
সাথে যদি এফিলেন্ট মার্কেটিং বা স্পন্সর যোগ হয় তাহলে ইনকাম ৭০ থেকে ১ লাখ
টাকা হতে পারে। বিদেশি অডিয়াম টার্গেট করে ইউটিউব ইনকাম করা হলো
স্মার্ট কার্ড একই পরিশ্রমে আপনি অনেক বেশি আয় করতে পারেন। তবে আপনি যদি
ধৈর্য ধরে সঠিক নিস, ভাষা ও SEO ব্যবহার করেন তাহলে ইউটিউব থেকে
মাসে হাজার ৯ লাখ টাকা ইনকামও সম্ভব।
ইউটিউব চ্যানেল মেম্বারসিপ করে ইনকাম
ইউটিউব চ্যানেল মেম্বারশিপ হলো এমন একটি ফিচার যার মাধ্যমে আপনার নিয়মিত ও
পছন্দের দর্শকেরা মাসিক নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে আপনার চ্যানেলের সদস্য হতে পারে।
সহজ ভাবে বললে এটি ইউটিউব এর ভেতরে একটি সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম। দর্শকেরা
আপনাকে সাপোর্ট করার জন্য প্রতিমাসে টাকা দেয় আর আপনি তাদের বিশেষ সুবিধা দেন।
এই ইনকাম টি এডসেন্সের মতো ভিউয়ের উপর নির্ভর নয় বরং ভিউ কম হলেও যদি আপনার
কিছু লয়াল দর্শক থেকে থাকে, তাহলে চ্যানেল মেম্বারশিপ থেকে নিয়মিত মাসিক আয়
করা সম্ভব। ইউটিউব চ্যানেল মেম্বারসিপ কিভাবে কাজ করে থাকে? অনেকের মাথায় এই
প্রশ্নটা জাগতে পারে। যখন আপনার চ্যানেলে মেম্বারশিপ চালু হয় তখন, ভিডিওর নিচে
একটি জয়েন বাটন দেখা যায়। আর দর্শক সেই বাটনে ক্লিক করে বিভিন্ন মেম্বারশিপ
প্ল্যান দেখতে পায়। প্রতিটি প্লেনে মাসিক নির্দিষ্ট ফি দেওয়া থাকে। যেমন;
- ১ ম লেভেল; ৯৯ টাকা/মাস
- ২ য় লেভেল; ১৯৯ টাকা/মাস
- ৩ য় লেভেল;৪৯৯ তাকা/মাস
আর এখানে উপরের লেভেলগুলোর মধ্যে দর্শক যেটা চাইবে সেটাতে জয়েন করবে। যতদিন সে
মেম্বার থাকবে ততদিন প্রতি মাসে আপনার ইনকাম চলতে থাকবে। আপনার ইউটিউব চ্যানেলে
মেম্বারশিপ চালু করার কিছু শর্ত রয়েছে। সে শর্তগুলো পূরণ করতে হয় যেমন;
- আপনার চ্যালেন অবশ্যই মনিটাইজ হতে হবে
- সাধারণত ১০০০ বা তার বেশি সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে
- চ্যানেলটি ইউটিউবের সকল নীতিমালা মেনে চলতে হবে
- ইউটিউব চ্যানেল চালানোর জন্য আপনার বয়স ১৮ প্লাস হতে হবে ইত্যাদি
সাধারণত এই শর্তগুলো পূরণ হলেই ইউটিউব স্টুডিও থেকে সহজে মেম্বারশিপ অন করা সম্ভব
হয়। আপনার মেম্বারদের কি কি সুবিধা দেওয়া যায় যেমন চ্যালেন মেম্বারশিপ
সফল করতে হলে মেম্বারদের কিছু এক্সকলুসিভ সুবিধা দিতে হয়। শুধুমাত্র
মেম্বারদের জন্য স্পেশাল ভিডিও, আগেই ভিডিও দেখার সুযোগ,
এক্সকলুসিভ স্ট্রিম, মেম্বার ব্যাচ ও কাস্টম ইমোজি এবং সরাসরি প্রশ্ন করার
সুযোগ ইত্যাদি। এই সুবিধাগুলো কারণে দর্শকরা মনে করে আমি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছি
এবং তারা মেম্বার হতে আগ্রহী হয়। চ্যালেন মেম্বারশিপে ইনকাম পুরোপুরি নির্ভর করে
আপনার মেম্বারের সংখ্যা ও প্লেনের দামের উপর। সব চ্যানেলে মেম্বারশিপ সমান কাজ
করে না। যেসব চ্যানেলে কমিউনিটির শক্ত সেখানে মেম্বারশিপ খুব ভালো ফল দেয়। যেমন;
ইসলামিক আলোচনা ও ওয়াজ, মোটিভেশনাল লাইফ কোচিং চ্যানেল, গেমিং চ্যানেল,
এডুকেশনাল ও স্ক্রিল শেখানো চ্যানেল এবং লাইভ আলোচনা বা কেউ এন্ড এ চ্যালেঞ্জ
ইত্যাদি। ধরনের চ্যানেলে দর্শকেরা পিরিয়ডের সাথে মানসিকভাবে যুক্ত থাকে তাই তারা
সাপোর্ট করতে চায়।
আরো পড়ুনঃদিনে ৫০০ টাকা ইনকাম apps ২০২৬
মেম্বারশিপ সফল করার কৌশল হিসেবে ভিডিওতে সরাসরি মেম্বারদের সাথে কথা বলুন,
মেম্বারদের নাম ধরে ধন্যবাদ দি, শ্রী দর্শক আর মেম্বার এর মধ্যে পার্থক্য তৈরি
করুন এবং নিয়মিত মেম্বার অনলি কন্টেন্ট দিন ও কমিউনিটি ট্যাব ব্যবহার করে
মেম্বারদের অ্যাক্টিভ রাখুন। এই কৌশল গুলো ব্যবহার করলে মেম্বার সংখ্যা ধীরে ধীরে
বাড়তে থাকে। তাই বলা যায় ইউটিউব চ্যানেল মেম্বারশিপ হলো এমন একটি ইনকাম সিস্টেম
যা আপনাকে ভিউ ছাড়াও মাসিক স্থায়ী আয় দেয়। যদি আপনার দর্শকদের সাথে ভালো
সম্পর্ক থাকে এবং আপনিও তো ভ্যালু দিতে পারেন তাহলে এই একটি মাধ্যম যা আপনার
ফিচার দিয়েই মাসে হাজার থেকে লাখ টাকা ইনকাম করা সম্ভব হবে।
ইউটিউব শর্টস থেকে ইনকাম
ইউটিউব শর্টস হলো ইউটিউবের একটি শর্ট ভিডিও ফিচার, যেখানে 15 থেকে ৬০
সেকেন্ডের ছোটো ভিডিও আপলোড করা যায়। টিক টক বা ফেসবুক এর মত হলেও ইউটিউব শর্টস
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি খুব দ্রুত ভাইরাল হয় এবং নতুন চ্যানেলকে অল্প
সময়ে লাখ লাখ ভিউ এনে দিতে পারে। বর্তমানে ইনকামের একটি বড় সুযোগ হল ইউটিউব
শর্টস। অনেকেই মনে করে শর্টস থেকে ইনকাম করা যায় না, কিন্তু বাস্তবতা হলো সঠিক
কৌশল ব্যবহার করলে শর্টস থেকেও নিয়মিত আয় করা সম্ভব। বিশেষ করে নতুন
ইউটিউবারদের জন্য শর্টস একটি সহজ স্ট্যাটিং পয়েন্ট। বর্তমানে ইউটিউব
শর্টস থেকে ইনকাম হওয়ার প্রধান তিনটি উপায় রয়েছে। যেমন; শর্টস বিজ্ঞাপন,
চ্যালেন গ্রো করে অন্য ইনকাম সোর্স তৈরি করা এবং ব্র্যান্ড ও এফিলিয়ান্ট
মার্কেটিং।
ইউটিউব এখন শর্টস ভিডিওর মাঝখানে বিজ্ঞাপন দেখায় এবং সেই বিজ্ঞাপনের আয়ের
একটি অংশ ক্রিয়াটরদের দেয়। অর্থাৎ আপনার শর্টস যত বেশি ভিউ পাবে তত বেশি ইনকাম
হওয়ার সুযোগ থাকবে। ইউটিউব শর্টস থেকে সরাসরি ইনকাম করতে হলে কিছু শর্ত পূরণ
করতে হয়। যেমন;
- আপনার চ্যানেলে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে
- শেষ ৯০ দিনে ১০ মিলিয়ন শর্টস ভিউ হতে হবে
- ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যোগ দিতে হবে
- কমিউনিটি গাইডলাইন মেনে চলতে হবে ইত্যাদি
সাধারণত এই শর্তগুলো পূরণ হলে আপনার শর্টস ভিডিও থেকেও এডসেন্সের মাধ্যমে আয়
শুরু হবে।শর্টস ইনকাম সাধারণ ভিডিওর মত বেশি হয় না, কিন্তু ভিউ অনেক বেশি
হওয়ায় মোট ইনকাম ভালো হয়। ইউটিউব শর্টস সবচেয়ে ভালো কাজ করেন যেমন;
মোটিভেশনাল লাইন, ফ্যাক্টস ও অজানা তথ্য, ইসলামিক ছোট নসিহ, লাইফ হ্যাকস, স ai
voice video এবং ফানি বার রিলেটেবল স্কিপ ইত্যাদি। এই কনটেন্ট গুলো কম সময়ে
মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে।
শর্টস ভিডিও বানানোর সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস অনুসরণ করুন। যেমন
- প্রথম দুই সেকেন্ডে হুক রাখুন
- ভিডিও ৭ থেকে ৩০ সেকেন্ড হলে ভালো
- সাবটাইটেল ব্যবহার করুন
- ট্রেন্ডিং মিউজিক বা সাউন্ড ব্যবহার করুন
- প্রতিদিন অন্ততপক্ষে এক থেকে দুটি শর্টস ভিডিও আপলোড করুন
নিয়মিত শর্টস দিলে ইউটিউব অ্যালগরিদম আপনাকে বেশি পুশ করবে। যারা নিয়মিত শর্টস
দেয় এবং একই সাথে লং ভিডিও বানায় তারা খুব দ্রুত সফল হয়। কারণ শর্টস দর্শককে
চ্যালেনে আনে আর লং ভিডিও থেকে বড় ইনকাম তৈরি হয়। অনেক সফল ইউটিউবার শুরু করেছে
শুধুমাত্র শর্টস ভিডিও থেকে শুরু করেছে। ইউটিউব শর্টস থেকে ইনকাম করা
সম্ভব, তবে এটিকে স্মার্ট ভাবে ব্যবহার করতে হয়। শর্টস সরাসরি বড় টাকা না
দিলেও এটি চ্যালেন গ্রো, সাবস্ক্রাইবার বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের বড় ইনকামের
দরজা খুলে দেয়। নিয়মিত, ধৈর্য আর সঠিক কৌশল থাকলে ইউটিউব শর্টস আপনার
ইউটিউব যাত্রার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হতে পারে।
ইউটিউবে ব্র্যান্ড ডিল থেকে ইনকাম
ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার ০৮ টি সেরা উপায়, এর মধ্যে ব্র্যান্ড ডিল হলো ইউটিউব ইনকামের এমন একটি উপায়, যেখানে কোনো কোম্পানি বা
ব্র্যান্ড আপনাকে টাকা দেয় তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস প্রোমোট করার জন্য। এটি
অ্যাডসেন্সের মতো ভিউ-নির্ভর নয়, বরং ডাইরেক্ট পেমেন্ট ইনকাম। এজন্যই অনেক
ইউটিউবারের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস হলো ব্র্যান্ড ডিল। সহজভাবে বললে, আপনার
চ্যানেলে যদি নির্দিষ্ট অডিয়েন্স থাকে এবং মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করে, তাহলে
ব্র্যান্ডগুলো আপনার কাছে আসে। আপনি ভিডিওতে তাদের প্রোডাক্টের কথা বলেন, দেখান
বা রিভিউ দেন এর বিনিময়ে তারা আপনাকে টাকা দেয়। এডসেন্সে যেখানে এক লাখ ভিউ এ হয়তো তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যায় যেখানে একটি ব্র্যান্ড ডিল থেকেই দশ হাজার পঞ্চাশ হাজার এমনকি ১ লাখ টাকাও পাওয়া সম্ভব ভিউ কম হলেও। কারন ব্র্যান্ডগুলো ভিউ নয় । বরং আপনার অডিয়েন্স কারা, আপনার নিস কি, মানুষ আপনার কথা বিশ্বাস করে কিনা। বিশেষ করে টেক, বিউটি, ফ্যাশন, ফুড, ফিটনেস, এডুকেশন ও ইসলামিক চ্যানেলে ব্র্যান্ড ডিলের সুযোগ অনেক বেশি থাকে।
অনেকেই মনে করেন যে ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার না হলে ব্র্যান্ড টিল পাওয়া যায় না, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আনুমানিকভাবে হিসাব করলে,
- ৫ - ১০ হাজার সাবস্ক্রাইবার - ছোট ব্র্যান্ড ডিল
- ২০ - ৫০ হাজার সাবস্ক্রাইবার - নিয়মিত ব্র্যান্ড ডিল
- ১ লাখ + সাবস্ক্রাইবার - বড় ব্রান্ড ও লং - টার্ম ডিল
তোমার সাবস্ক্রাইবার এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভিউ এবং অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট। ইউটিউবে সাধারণত কয়েক ধরনের ব্যান্ড ডিল দেখা যায়। যেমন; ভিডিও স্পন্সর সিপ - পুরো ভিডিও বা ভিডিওর এক অংশে প্রোডাক্ট প্রমোট, শর্টস ব্র্যান্ড ডিল - ১৫ -৩০ সেকেন্ডের শর্ট ভিডিও, ডেসক্রিপশন লিংক ডিল - ভিডিওটা না বলে শুধু লিংক দেওয়া, রিভিউ ডিল - প্রডাক্ট ব্যবহার করে রিভিউ দেওয়া, লং টার্ম ব্যান্ড ডিল - মাসিক বা ৩-৬ মাসের চুক্তি। তবে লং টার্ম ব্যান্ড ডিল সব থেকে নিরাপদ এবং লাভজনক। আপনার ইনকাম নির্ভর করে চ্যানেলের ক্যাটাগরি ও রিচের ওপর। বর্তমানে অনেক ইউটিউবার মাসে দুই থেকে পাঁচটি ব্র্যান্ড ডিল করে মাসে এক থেকে তিন লাখ টাকা ইনকাম করে থাকে। শুধু টাকা দেয় না বরং আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ায়। একবার যদি বড় ব্যান্ডের সাথে কাজ করেন, তাহলে অন্য ব্র্যান্ড ও আগ্রহ দেখায়।
একইভাবে ইউটিউব ধীরে ধীরে আপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসা হয়ে উঠবে। ব্যান্ডডিল হলো youtube ইনকাম এর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুত আই এর মাধ্যম। হলেও যদি আপনার অডিয়েন্স বিশ্বাস করে তাহলে ব্র্যান্ড ডিল থেকেই মাসে হাজার ৯ লাখ টাকা ইনকাম করা সম্ভব। ধৈর্য এবং সততা আর মানসম্মত কনটেন্ট থাকলে ব্র্যান্ড নিজেরাই আপনার কাছে আসবে।
লেখক এর শেষ কথা
ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার ০৮ টি সেরা উপায়, গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা কোন রাতারাতি ধনী হওয়ার পথ নয় বরং এটি একটি ধৈর্য পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতার বিষয়। সঠিক নিয়ম মেনে চ্যানেল মনিটাইজ করা কপিরাইট মুক্ত ও দর্শক বান্ধব কন্টেন তৈরি করা এবং নিয়মিত ভিডিও আপলোড করলে ধীরে ধীরে ইনকাম বাড়তে থাকে। শুরুতে ইনকাম কম হলেও অভিজ্ঞতা ও ভিউ এবং সাবস্ক্রাইবার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুগল এডসেন্স থেকে ভালো অংকের টাকা আয় করা সম্ভব হয়। আপনি চাইলে আরও বিভিন্ন উপায়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারেন। তাই যারা দীর্ঘমেয়াদি অনলাইনে হালাল ও স্থায়ী ইনকামের পথ খুঁজছেন তাদের জন্য ইউটিউব ও গুগল এডসেন্সের একটি বিশ্বস্ত ও কার্যক্রম হতে পারে।
আশা করি আপনি উপরে আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। আপনি উপরে কোন বিষয় থেকে উপকৃত হলেন তা সম্পর্কে আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন। এমন আরো জানা-অজানা তথ্য জানার জন্য আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। আর আর্টিকেলটি এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url