৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া - লাভজনক ও কার্যকারী
৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া - লাভজনক ও কার্যকারী, আপনি কিভাবে অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করবেন তার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ? এমন অনেক ব্যবসা রয়েছে যেগুলো অল্প পুজিতে বা ৫০ হাজার টাকার মধ্যে করা সম্ভব এমন সকল ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে এই আর্টিকেলে বলা হয়েছে।
বর্তমানে অনেকেই বেকার বা স্টুডেন্ট অনেকের কাছে বেশি টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা একটু কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই অনেকেই চাই কিভাবে স্বল্প পুঁজিতে বা ৫০০০০ টাকার মধ্যে কোন ব্যবস্থা করা যায় কিনা। আসুন কিভাবে আপনি অল্প পুঁজি পান পুঁজি ছাড়াই ইনকাম করতে পারবেন তা সম্পর্কে আর্টিকেল থেকে জেনে নিন। সকল বিষয় জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া - লাভজনক ও কার্যকারী
- ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
- জামা-কাপড়ের ব্যবসা
- চা ও স্ন্যাকস স্টল ব্যবসা
- হোমমেড খাবারের ব্যবসা
- পুকুরে মাছ চাষ
- কাপড় সেলাই এর ব্যবসা
- বয়লার মুরগির ব্যবসা
- ফাওমি মুরগি ব্যবসা
- কবিতার পালনের ব্যবসা
- পাখি পালন ব্যবসা
- ফল ও সবজি ব্যবসা
- বাইক বা সাইকেলের সার্ভিসিং ও মেরামতের ব্যবসা
- বেকারি বা হোম বেকিং ব্যবসা
- বীজ এবং চারা বিক্রির ব্যবসা
- মধু ও মৌচাষ ব্যবসা
- বুটিক বা হ্যান্ডিক্রাইভ আইটেম বিক্রি
- মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ বিক্রির ব্যবসা
- ফলের জুস ও শরবত বিক্রির ব্যবসা
- কসমেটিক্স ও বিউটি প্রোডাক্ট বিক্রির ব্যবসা
- ইভেন সাজসজ্জা ও ডেকোরেশন ব্যবসা
- অনলাইন রিসেলিং বা ড্রপ শিপিং ব্যবসা
- অনলাইন ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রির ব্যবসা
- লোকাল সার্ভিস ভিত্তিক অনলাইন বুকিং ব্যবসা
- অনলাইন টিউশন ও কোচিং সার্ভিস ব্যবসা
- নার্সারি ও টপ গাছ বিক্রির ব্যবসা
- কুরিয়ার প্যাকেজিং ও ছোট ডেলিভারি সার্ভিস
- শেষ কথা
৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
৫০ হাজার টাকায় ৩০ টি ব্যবসার আইডিয়া,বর্তমান বিশ্বে সময় আর্থিক
স্বাধীনতা অর্জন করার একটি স্বপ্ন নয় বরং এটি একটা বাস্তব প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
প্রতিনিয়ত চাকরির অনিশ্চয়তা দ্রব্যমূলের উদ্ধগতি এবং জীবনের অনেক দায়িত্ব
আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। কিভাবে স্বল্প মূলধনের উৎস তৈরি করা যায়।
অনেকেই মনে করেন ব্যবসা শুরু করতে হলে হয়তো বড় অংকের টাকার প্রয়োজন, কিন্তু
বাস্তবতা ও পরিকল্পনা আপনার যদি সঠিক হয় তবে ধৈর্য ও পরিশ্রম দিয়ে মাত্র ৫০
হাজার টাকায় সফল ও লাভজনক ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন
অসংখ্য ব্যবসা রয়েছে যেগুলো অল্প পুজিতে শুরু করা যায় এবং যা ধীরে ধীরে বড়
আকারে রূপ দেওয়া যায়। অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা থেকে শুরু করে ঘরোয়া উদ্যোগ সেবা
প্রধানমূলক কাজ থেকে শুরু করে কৃষিভিত্তিক ছোট ব্যবসা সবখানে রয়েছে সম্ভাবনা।
শুধু আপনার প্রয়োজন দিকনির্দেশনা ও বাস্তব ভিত্তিক আইডিয়া।
এই লেখায় আমরা এমন ২৫টি কার্যকর ও লাভজনক ব্যবসা আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করেছি
যেগুলো শুরু করতে প্রয়োজন মাত্র ৫০ হাজার টাকা বা তারও কম। প্রতিটি ব্যবসার
ক্ষেত্রে কিভাবে শুরু করবেন কোথায় খরচ করতে হবে কিভাবে লাভ আসবে এবং কার জন্য
কোন ব্যবস্থাটি সবচেয়ে উপযোগী হবে সাধারণত এই সকল বিষয় বিস্তারিতভাবে এই
আর্টিকেলে তুলে ধরা হয়েছে। আপনি এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে নিজে
উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হন, একজন
গৃহিনী হন বা বেকারত্ব ভাবে জীবন যাপন করছেন, আবার অনেকেই চাকরির পাশাপাশি
অতিরিক্ত আয় করতে চান অথবা সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার স্বপ্ন দেখেন
তাহলে এই ব্যবসার আইডিয়াগুলো আপনার জন্য একদম দারুন সহায়ক হতে পারে। আপনি এই
কনটেন্টটি থেকে শুধু আইডিয়া তালিকা সম্পর্কে নয় বরং এটি একটি বাস্তব গাইডলাইন
যা আপনাকে আত্মনির্ভর পথে একধাপ এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। আসন, কিভাবে ছোট পুঁজি
দিয়ে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করি এবং কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত পরে আমরা ভবিষ্যৎ বদলে
যেতে পারে।
জামা-কাপড়ের ব্যবসা
আমাদের যে কোন ব্যবসা করার আগে প্রথমেই লক্ষ্য রাখতে হবে কোন জিনিসের চাহিদা বেশি
তা সম্পর্কে জানতে হবে। বর্তমানে কাপড় মানুষের মৌলিক চাহিদা একটি গুরুত্বপূর্ণ
অংশ হয়ে উঠেছে। সময় পরিস্থিতি বা অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও কাপড়ের
চাহিদা কখনো কম হয় হয় না। আর সাধারণত এই কারণে কাপড়ের ব্যবসা সবসময় একটি
নিরাপদ ও লাভজনক ব্যবসা হয়ে থাকে। অনেকেই মনে করেন কাপড়ের ব্যবসা করতে হলে
প্রথমে আমাদের অনেক টাকা প্রয়োজন হয় বা লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে বড়
স্টক প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে সঠিক পরিকল্পনা ও বুদ্ধিমত্তা থাকলে মাত্র ৫০
হাজার টাকায় কাপড়ের ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। আপনার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকায়
কাপড়ের ব্যবসা একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারণ কাপড়ের চাহিদা সব সময় থাকে,
অনলাইন বা অফলাইন দুভাবেই বিক্রি করা যায়। এর ব্যবসাটি অল্প পুঁজিতে শুরু
করা যায়, যা ধীরে ধীরে বড় করা যায় এবং নারী-পুরুষ সবার জন্য এই ব্যবসাটি
উপযোগী। বিশেষ করে যারা ঘরে বসে কাজ করতে চান, তাদের জন্য এই ব্যবসাটি খুবই
কার্যকর হবে। আপনি ৫০০০০ টাকায় কোন ধরনের কাপড়ের ব্যবসা শুরু করবেন।
অল্প পুঁজিতে শুরু করার জন্য শুরুতেই সব ধরনের কাপড় না রেখে একটি নির্দিষ্ট
ক্যাটাগরি বেছে নেওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। কিছু কিছু জিনিস রাখতে পারেন
যেমন; থ্রি পিচ, কুর্তি, শাড়ি যেমন কটন শাড়ি বা পিন্ট শাড়ি, বাচ্চাদের কাপড়,
হিজাব ওড়না, পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি বা টি শার্ট ইত্যাদি। আপনি যদি শুরুতে কোন
ক্যাটাগরিতে প্রকাশ করেন তাহলে এর ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি
থাকে। আপনি যদি আপনার বাজেটের মধ্যে প্ল্যান করতে পারেন। তাহলে ব্যবসার অগ্রগতি
ঠিক থাকবে। একটি বাস্তব বাজেট উদাহরণ যেমন; কাপড় কেনা (২০ - ৩০ ) পিচ যা গড়ে ৩৫
হাজার টাকা। প্যাকেজিং যেমন পলি ব্যাগ, ব্যাগ, ট্যাগ তিন হাজার টাকা। ফেসবুক
পেজ সেটাপ ও প্রমোশন ৫ হাজার টাকা, ডেলিভারির ও আনসিক খরচ ৪ হাজার টাকা
এবং জরুরী রিজাভ ৩০০০ টাকা সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা। বাংলাদেশে প্রায়
অনেক পাইকারি কাপড় কেনার জন্য নির্ভরযোগ্য জায়গা রয়েছে। যেমন ঢাকা নিউমার্কেট,
ইসলামপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ইত্যাদি। আপনি প্রথমবার কিনতে গেলেও
সংখ্যায় কিনুন এবং ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নিন। আপনি চাইলে অফলাইনেও ছোটখাটো
দোকান দিয়ে কাপড় বিক্রি করতে পারেন।
তবে আপনি বাসায় বসে থেকেও অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা করতে পারেন। এতে আপনার দোকান
ভাড়া নিতে হবে না, এবং কম খরচে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। ফেসবুক পেজ
গ্রুপ বা whatsapp ও instagram ব্যবহার করে সহজেই আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে
পারেন। তবে অফলাইন কাপড়ের ব্যবসা স্থানীয় ক্রেতাদের বেশি আস্থা থাকে এবং ক্যাশ
লেনদেন, ও নিয়মিত বিক্রি হয়। আপনি চাইলে প্রথমে অনলাইনে শুরু করে পরে অফলাইনে
করতে পারেন। বা অনলাইন থেকে অফলাইন আস্তে আস্তে দুটো মাধ্যমেই ব্যবসা
করতে পারেন। অনলাইনে কাপড় বিক্রি করতে হলে আপনাকে সুন্দর ও পরিষ্কারভাবে
কাপড়ের ছবি তুলতে হবে, কাপড়ের বিস্তারিত বর্ণনা এবং দাম স্পষ্টভাবে লিখতে হব,
দ্রুত ইনবক্স কল রিপ্লাই করতে হবে এবং কাস্টমারের সাথে ভদ্র ব্যবহার করতে হবে।
এবং ক্যাশ অন ডেলিভারির সুযোগ সুবিধা দিতে হবে, এতে কাস্টমার সন্তুষ্ট হলে নিজেই
আপনার ব্যবসার প্রচার করবে। আপনি যদি একটি থ্রি পিস কিনেন বারোশো টাকা এবং বিক্রি
করেন ১৭০০ টাকা তাহলে আপনার কাছে লাভ হয় ৫০০ টাকা থাকে।
তাহলে আপনি যদি ২০ পিচ বিক্রি করেন তাহলে ১০০০০ টাকা লাভ হবে। এবং ৩০ পিচ
বিক্রি করলে ১৫০০০ টাকা লাভ। মাসে দুই থেকে তিনবার স্টক ঘুরালে আয়
আরো বাড়বে। তাই বলা যায় পঞ্চাশ হাজার টাকা ছোট মনে হলো সঠিক পরিকল্পনা
একটি বড় ব্যবসার ভিত্তি হতে পারে। কাপড়ের ব্যবসা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে ধৈর্য
সত্যতা ও নিয়মিত পরিশ্রম থাকলে সফলতা আসবে আসবে। আজ হয়তো ২০ থেকে ৩০ পিচ কাপড়
দিয়ে শুরু করবেন কিন্তু আগামী দিনের সেটাই বড় একটি ব্র্যান্ডে রুপান্তরিত হবে।
আপনি যদি এখনই শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে সেটাই হবে আপনার জীবনের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
চা ও স্ন্যাকস স্টল ব্যবসা
চা ও স্ন্যাকস স্টল এমন একটি ব্যবসা যা অল্প পুঁজি কম ঝুঁকি এবং দ্রুত আয়ের
সুযোগ তৈরি করে দেয়। বিশেষ করে যারা নতুন ভাবে ব্যবসা শুরু করতে চান তাদের জন্য
এটি একটি নিরাপদ বাস্তব সম্মত উদ্যোগ হতে পারে। মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার
মধ্যে এটি ছোট চাই স্টল চালু করা যায়। তবে আপনাকে ব্যবসা শুরু করার আগে
ভালো জায়গা নির্বাচন করতে হবে। সেখানে চায়ের স্টল দিলে সেটি চলবে কিনা বা
সেখানে জনসমোগান কেমন। যেখানে জনসম্মগণ বেশি সেখানে চা ও স্নাক্স স্টল বেশি
চলবে। তাই সবসময় চেষ্টা করবেন যেখানে বেশি মানুষ যাতায়াত করে সেই জায়গাগুলোর
আশেপাশে চা ও স্ন্যাপ স্টল দেওয়ার। চাই স্টল দেওয়ার জন্য আপনার প্রয়োজন
যেমন চুলা, কেটলী, কা, চা পাতা এবং দুধ ও বিস্কুট, চানাচুর, সিঙ্গারা ও সমুচার
মতো স্ন্যাকস রাখতে হবে। বাংলাদেশর অপেক্ষা বটে যা হল এমন একটি পণ্য যা সকাল থেকে
রাত পর্যন্ত সব বয়সী মানুষ পান করে থাকে ফলে এর চাহিদা কখনো কমে না। বাস
স্ট্যান্ড বাজার রেলস্টেশন অফিস এলাকায় স্কুল কলেজে আশপাশ ভাব ব্যস্ত মরে যদি
স্টলটি স্থাপন করা যায় তাহলে ক্রেতার অভাব হয় না
একটি কাপ চা তৈরি করতে খরচ পড়ে খুব কম, কিন্তু বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাকা পেয়ে
লাভ থাকে আর দিনে যদি ২০০ থেকে ৩০০ কাপ চা বিক্রি হয় তাহলে দৈনিক ৮০০ থেকে ১৫০০
টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। যা মাস শেষে ভালো অংকের আয়ের একটি বড় রূপ নেয়। এর
সাথে সিঙ্গারা বিস্কুট বা হালকা খাবার যোগ করলে আয় আরো বৃদ্ধি পায়। এই ব্যবসা
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে বড় কোন দক্ষতা প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার পরিবারের
সাহায্য নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন এবং চাইলে আপনি নিজেই ইস্টল পরিচালনা করতে
পারেন। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ভালো মানের চা পরিবেশন করা এবং
ক্রেতার সাথে ভদ্র ব্যবহার করলে অল্প সময়ের মধ্যে একটি কাস্টমার বেস্ট তৈরি হয়
যা ছোট চা স্ন্যাকস ইনস্টল কে ধীরে ধীরে একটি আয়ের উৎসে পরিণত করতে
পারে।
হোমমেড খাবারের ব্যবসা
হোমমেড খাবারের ব্যবসা বর্তমান সময়ে অল্প পুজিতে আয়ের একটি অত্যন্ত কার্যকর ও
লাভজনক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা ঘরে বসে কাজ করতে চান বা গৃহিণী
শিক্ষার্থী ও পার্ট টাইম আয়ের খোজে থাকা মানুষদের জন্য একটি একটি দারুন সুযোগ।
বর্তমানে বাহিরে তৈরি খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের
কারণে মানুষ ঘরে তৈরি খাবারের প্রতিবেশী আগ্রহী হচ্ছে আর এই জায়গাকে কাজে
লাগিয়ে খুব সহজে হোমমেড খাবারের ব্যবসা শুরু করা যায়। মাত্র ৩০ থেকে ৫০
হাজার টাকার মধ্যে রান্নার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল গ্যাস প্যাকেট কন্টেইনার ও
অনলাইন প্রচারের ব্যবস্থা করে এই ব্যবসা চালু করা সম্ভব। এই ব্যবসায় পিঠা, কেক,
বিরিয়ানি, খিচুড়ি ভুনা, খিচুড়ি আচার ফ্রোজেন খাবার দেশি রান্না ও অফিস লাঞ্চ
বক্স এমন নানা ধরনের খাবার বিক্রি করা যায় যা নির্ভর করে আপনার উদ্যোক্তার
রান্নার দক্ষতা ও এলাকার চাহিদার উপর। ফেসবুক পেজ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কিংবা
পরিচিত মানুষের মাধ্যমে শুরুতে অর্ডার পাওয়া যায়। আর একবার খাবারের স্বাদ
ভালো হলে কাস্টমার নিজে থেকেই রিপিট অর্ডার দেয় যা এই ব্যবসা সবচেয়ে বড়
শক্তি হয়ে ওঠে। প্রতিটি খাবারের ক্ষেত্রে কাঁচামালের খরচ তোলার কম হলে বিক্রয়
মূল্য ভালো রাখা যায়। ফলের প্রতি অর্ডারে লাভ থাকে এবং নিয়মিত অর্ডার পেলে মাসে
২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হয়।
এই ব্যবসা আর একটি বড় সুবিধা অনুযায়ী কাজ করা যায় এবং পরিবারের সদস্যরাও
প্রয়োজনের সহযোগিতা করতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার খাবারের মান ও
সাদা আপস না করা এবং সময় মত ডেলিভার নিশ্চিত করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই
হোমমেড খাবারের ব্যবসায় একটি স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য ইনকামের উৎসে পরিণত হতে
পারে যা আপনার ভবিষ্যতে বড় ফুড ব্র্যান্ডে রূপ নেওয়া সম্ভব না তৈরি করে। তাই
বলা যায়, অল্প খরচে হোমমেড খাবারের ব্যবসা সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য
এবং লাভজনক ব্যবসা। আপনার এই ব্যবসায় আপনার ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। তাই বাসায় বসে
না থেকে হোমমেড খাবার এর ব্যবসা আজি শুরু করুন।
পুকুরে মাছ চাষ
পুকুরে মাছ চাষ করে ইনকাম করা একটি বড় কার্যকরী ও লাভজনক ব্যবসা। পুকুরে মাছ চাষ
করে ইনকাম করা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত লাভজনক দীর্ঘমেয়াদি
আয়ের উৎস বিশেষ করে যাদের লিজ বা নিজস্ব নেওয়া ছোট কুকুর রয়েছে তাদের জন্য এটি
একটি নিরাপদ ব্যবসা। মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে পুকুর প্রস্তুত করা এবং
মাছ ক্রয় করা খাদ্য ও প্রাথমিক যত্নের ব্যবস্থা করে মাছ চাষ শুরু করা সম্ভব আর
সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিচর্যা থাকলে এই বিনিয়োগ থেকে ভালো মুনাফা পাওয়া
সম্ভব। সাধারণ; রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস বা সিং জাতের মাছ চাষ করা
হয় পরিষ্কার করা চুন প্রয়োগ পানি প্রস্তুত করা এবং মানসম্মত পোনা নির্বাচন করা
মাছ চাষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একখান থেকে সচেতন থাকলে মাছ দ্রুত বড়
হয় এবং মৃত্যুহার কম থাকে। সাধারণত ৫ থেকে ৮ মাসের মধ্যে এই মাছ বিক্রির জন্য
উপযোগী হয়ে যায় এবং বাজারে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় ফলে এক চক্রেই
বিনিয়োগের টাকা উঠে আসার পাশাপাশি থাকে।
একটি মাঝারি আকারের পুকুরে সঠিকভাবে মাছ চাষ করলে এক মৌসুমের ৬০ থেকে ১ লাখ টাকা
তারও বেশি আয় করা সম্ভব। এই ব্যবসা সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে শ্রম তুলনামূলক
কম লাগে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় কাজ করা যায় এবং একবার অভিজ্ঞতা হয়ে গেলে
পরবর্তী মৌসুমগুলোতে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। নিয়মিত যত্ন সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা
ও বাজারদরের দিকে নজর রাখলে পুকুরের মাছ চাষ খুব সহজেই একটি স্থায়ী ও
নির্ভরযোগ্য ইনকামে উৎসে পরিণত হতে পারে যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার
পাশাপাশি উদ্যোক্তার আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করবে। নিয়মিত ধৈর্য যত্ন এবং
অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে পুকুরের মাছ চাষ গ্রাম ভিত্তিক মানুষের জন্য একটি
স্থায়ী সম্মানজনক ও নির্ভরযোগ নামে উৎসে পরিণত হতে পারে। গ্রামের অর্থনীতিতে
ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বলা যায় স্বল্প খরচে মাসে অধিক আয়ের সবচেয়ে বড়
নিরাপদ মাধ্যম হলো মাছ চাষ।
কাপড় সেলাই এর ব্যবসা
সেলাইয়ের ব্যবসা করে ইনকাম করা অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন একটি অত্যন্ত
নিরাপদ লাভজনক ও দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ করে গৃহিণী গ্রাম বা মুকম্বল এলাকার নারী এবং
যারা ঘরে বসে সাবলম্বী হতে চান তাদের জন্য এটি একটি খুবই কার্যকরী ব্যবসা। মাত্র
৩০ থেকে ৫০০০০ টাকার মধ্যে এটি ভালো মানের সেলাই মেশিন সুতা কাচি ফিতা এবং
প্রয়োজনীয় আনসিক জিনিস কিনে এই ব্যবসা শুরু করা যায়। আর এর জন্য আলাদা দোকান
না থাকলেও হয় কারণ এই ব্যবসা নিজের ঘর থেকেই কাজ চালানো যায়। বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে ব্লাউজ, থ্রি পিচ, সালোয়ার কামিজ, পায়জামা, পর্দা বাচ্চাদের জামা
কিংবা সাধারণ কাপড়ের সেলাই চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। বিশেষ করে ঈদ পূজা
খ্রিস্টান দের বড়দিন দিয়ে উৎসবের কাজের চাপ আরো বেড়ে যায়। শুরুতে প্রতিবেশী
আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের মাধ্যমে কাজ পাওয়া যায়, এবং একবার সেলাইয়ের কাজ
ভালো হলে মুখে মুখেই নতুন কাস্টমার বাড়তে থাকে যা এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রতিটি পোশাক সেলাইয়ের খরচ তুলনামূলক কম হলে পারিশ্রমিক ভালো পাওয়া যায়।
ফলে নিয়মিত কাজ পেলে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বা তারও বেশি আয় করা সম্ভব। এই
ব্যবসার আরেকটি বড় সুবিধা হল নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করা যায়। পরিবারের
দায়িত্ব সামনে কাজ করা সম্ভব এবং ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে ডিজাইন ও
কাজের মান উন্নত করে চার্জ বাড়ানো যায় নিয়মিত পরিশ্রম কাজের নিখুঁত মান সময়
মত ডেলিভারি এবং কাস্টমারের সাথে ভালো আচরণ বজায় রাখলে সেলাই এর ব্যবহার খুব
সহজে একটি স্থায়ী সম্মানজনক নির্ভরযোগ্য ইনকামে হচ্ছে পরিণত হতে পারে। যার
মাধ্যমে আপনি ভবিষ্যতে বড় টেলারি সব বা নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে
পারবেন। এই কাজে দক্ষতা ও একটু পরিশ্রম দিলেই খুব সহজেই সফলতা আনা যায়।
বয়লার মুরগির ব্যবসা
বয়লার মুরগি পালন করে ইনকাম করা বাংলাদেশের গ্রাম ও মফস্বল এলাকার মানুষের জন্য
একটি দ্রুত লাভজনক বাস্তবসম্মত ও তুলনামূলক কম সময়ে ফল পাওয়া যায় এমন একটি
ব্যবসা। কারণ এই ব্যবসায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না এবং বাজার চাহিদা
সবসময় থাকে। মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ছোট পরিসরে বয়লার মুরগির খামার
শুরু করা সম্ভব যেখানে বাস বা তিন দিয়ে তৈরি একটি সাধারণ ঘর বাচ্চা মুরগি, খাবার
পানিপাত্র লাইট ও প্রাথমিক ওষুধের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সাধারণত একদিনের
বয়লারের বাচ্চা কিনে ৩০ দিন থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে সেগুলো বিক্রির জন্য উপযোগী
হয়ে যায়। যা এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা কারণ খুব অল্প সময়ে বিনিয়োগের
টাকা গুলো ঘুরে আসে। বয়লার মুরগির ক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক
তাপমাত্রা ও সময়মতো খাবার বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে। কারণ সামান্য অবহেলায় লোক ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিকর সম্ভাবনা থাকে। তবে নিয়ম
মেনে মুরগি পালন করলে মৃত্যুহার খুবই কম হয় এবং প্রতিটি মুরগির নির্দিষ্ট ওজনে
পৌঁছাতে ভালো দামে বিক্রি করা যায়।
সাধারণত একটি ছোট খামারে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৫০ টি বয়লার মুরগি পালন করলে এক
ব্যাচে কয়েক হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব, আর বছরে একাধিক ব্যাচ পালন করলে আই এর
পরিমাণ আরো বাড়ে। এই ব্যবসার আরেকটি বড় সুবিধা হল এখানে অতিরিক্ত পড়ালেখা বা
বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না পরিবারের সদস্যরাও এ কাজে আপনাকে সাহায্য
সহযোগিতা করতে পারে। এবং বয়লার মুরগি পালনের সাথে সাথে আপনি অন্য পেশা বা কৃষি
কাজও চালিয়ে খামার পরিচালনা করতে পারেন। বয়লার মুরগি পালনের জন্য আলাদা দোকান
কেনার বা ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। আপনি এটি বাড়িতেই করতে পারেন। যেমন
আপনার বাসার ছাদে মুরগির খামার করা সম্ভব বা বাড়ির সামনে কোন জায়গা থাকলে
সেখানেও সম্ভব। মুরগি পালনে সঠিক পরিকল্পনা নিয়মিত যত্ন অভিজ্ঞতা ও ধৈর্য থাকলে
বয়লার মুরগি পালন খুব সহজে একটি স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য ইনকামের উৎসে পরিণত হতে
পারে। যা অল্প পুজিতে আপনাকে স্বাবলম্বিন করতে সাহায্য করে।
ফাওমি মুরগি ব্যবসা
ফাওমি মুরগি ব্যবসা ৫০ হাজার টাকা দিয়ে খুবই লাভজনক ব্যবসা হতে পারে।
ফাওমি মুরগির পালনের জন্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ফাওমি মুরগি জায়গা খাবার
এবং বাচ্চা কেনা সম্ভব। ফাওমি মুরগি কেনার পর সঠিক যত্ন নিয়ে পালন করলে দ্রুত
বাচ্চা বড় হয় এবং ডিম দিতে শুরু করে। আপনি ফাওমি মুরগির ডিম থেকেই মাসে হাজার
হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন কারণ আপনার যদি ২০০টা ফাওমি মুরগি থাকে তাহলে
প্রতিদিন যদি আনুমানিক ১০০ টা করেও ডিম পাওয়া যায়। কারণ ফাওমি মুরগি সাধারণত
প্রতিদিন ডিম দিয়ে থাকে। এবং প্রতিটি ডিমের মূল্য সাধারণত ২০ টাকা করে। ঠিক দেশি
মুরগির মত। তবে দেশি মুরগি ডিম প্রতিদিন দেয় না। যদি ফাউমি মুরগি প্রতিদিন ১০০টা
করে ডিম দেয় তাহলে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা আসে। হিসাব করলে প্রতি মাসে ৬০ হাজার
টাকা অধিক ইনকাম সম্ভব এই ফাওমি মুরগি থেকে।
কবিতার পালনের ব্যবসা
কবিতার পালন করে ব্যবসা করা অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন একটি সহজ ও
ঝুঁকিমুক্ত লাভজনক উদ্যোগ যা বিশেষ করে গ্রাম ও মোহব্বল এলাকার মানুষের জন্য খুবই
উপযোগী। কারণ এই ব্যবসায়ী জায়গা কম লাগে এবং যত্ন তুলনামূলক সহজ। মাত্র ২০ থেকে
৫০ হাজার টাকার মধ্যে কয়েক জোড়া ভালো জাতের কবুতর ব্যবস্থা খাবার ও প্রাথমিক
চিকিৎসার সরঞ্জাম কিনে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। কবুতরের সবচেয়ে বড় সুবিধা
হল এরা দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং একজোড়া কবুতর থেকে বছরে একাধিক বাচ্চা পাওয়া
যায় ফলে অল্প সময়ে মধ্যে সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়।
বাজারে কবুতরের বাচ্চার চাহিদা ব্যাপক রয়েছে। অনেকেই কবুতরের বাচ্চা
খাওয়ার জন্য কেনে, এবং কবুতরের বাচ্চার দাম সর্বস্তরে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা জোড়া।
সাধারণত দেশি কবুতর, সিরাজ, কি, লাহোরী বা গিরিবাদ জাতের কবুতরের বাজার চাহিদা
বেশি থাকেন এবং এগুলো বাচ্চা অবস্থাতেই ভালো দামে বিক্রি করা যায়। কবুতর পালনে
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সময়মতো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকলে রোগ
বালাই খুব কম হয় এবং আলাদা কোনো জটিল পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।
গ্রামের হাট বাজার শখের পালক বা কবুতর প্রেমীদের কাছে সহজেই কবুতর বিক্রি করা
যায়। এমনকি অনেক সময় অগ্রিম অর্ডার ও পাওয়া যায়। কবুতর থেকে বাচ্চা বিক্রি
করে নিয়মিত আয় করা সম্ভব এবং ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়লে মাসে কয়েক হাজার থেকে
শুরু করে ভালো অংকের টাকা ইনকাম করা যায়। এই ব্যবসাটির আরেকটি বড় সুবিধা হল
পরিবারের সবাই এতে অংশ নিতে পারে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে এবং বাড়ির ছাদ
বা উঠানে পালন করা যায় আর পাশাপাশি অন্য কাজ বা বেশি কাজও চালিয়ে এ ব্যবসা করা
যায়। সঠিক যত্ন ধৈর্য ও অভিজ্ঞতা থাকলে কবুতর পালন করে খুব সহজে একটি স্থায়ী ও
নির্ভরযোগ্য ইনকামের উচ্ছে পরিণত করা যায়। যা অল্প পুজিতে স্বাবলম্বিন হওয়ার
জন্য একটি সুন্দর সুযোগ তৈরি করে।
পাখি পালন ব্যবসা
পাখি পালন করে ইনকাম যা অল্প পুজিতে শুরু করা যায় এটি অল্পতেই লাভজনক ও ধীরে
ধীরে এ ব্যবসাকে বড় করা যায়। সাধারণত গ্রাম ও শহর দুই জায়গাতেই সহজে পাখি পালন
করা যায় এবং বিশেষ করে যারা ঘরে বসে আয়ের পথ খুঁজছেন তাদের জন্য এটি একটি ভালো
সুযোগ। মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট লাভজনক পাখি পালন করা
যায়। যেমন; কোয়েল পাখি বাজরিকা ককাটেল লাভ বার্ড ইত্যাদি দিয়ে ব্যবসা শুরু করা
যায় যেখানে খাঁচা বা ঘর তৈরি পাখি কেনা খাবার ও প্রাথমিক পরিচর্যা ৩০ থেকে ৫০
হাজার এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। কোয়েল পাখি খুব অল্প সময়ে ডিম দেয় এবং এর
ডিম ও মাংস বাজারে ভালো দামে বিক্রি হয়। বাজারে এর চাহিদা ব্যপুল হারে রয়েছে।
অন্যদিকে বাজরিকা ককাটেল ও লাভ বার্ড এর মত শখের পাখিরও চাহিদা শহরে
সবচেয়ে বেশি। যেগুলো ক্রেতাদের কাছে জোড়া বা বাচ্চা ভালো দামে বিক্রি হয়।
পাখি পালনের ক্ষেত্রে পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব ঠিক থাকলে রোগ বালাই কম হয় এবং মৃত্যু হল কম থাকে।
এসব ব্যবসার জন্য বরং সুবিধা হল এখানে জায়গা কম লাগে পরিবারের সদস্যরাও
সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে এবং অন্য কাজের পাশাপাশি পাখি পালন করা যায়। একবার
অভিজ্ঞতা হয়ে গেলে পাখির সংখ্যা বাড়ানোর সহজ হয় এবং মাসে নিয়মিত বিক্রি হলে
কয়েক হাজার থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ভালো অংকের টাকা আয় করা সম্ভব হয়।
নির্বাচন ধৈর্য ও নিয়মিত যত্ন থাকলে পাখি পালন খুব সহজে একটি স্থায়ী ও
সম্মানজনক বা নির্ভরযোগ্য ইনকামের উৎসে পরিণত হতে পারে।
ফল ও সবজি ব্যবসা
ফল ও সবজি ব্যবসা করা বাংলাদেশের গ্রাম এবং শহর অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি
অত্যন্ত লাভজনক ও টেকসই এবং স্বল্প পুঁজির ব্যবসা। মানুষের দৈনিক জীবনের চাহিদার
অংশ হিসেবে এই পণ্যগুলো সব সময় বিক্রি হয় এবং এর বাজার চাহিদা কখনো কমে না।
মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করা যায় যেখানে
প্রাথমিকভাবে খুচরা বা পাইকারি মূল্য ফল ও সবজি কেনা সেগুলো সংরক্ষণ করার জন্য
হালকা ঝুড়ি বা পলিথিন ব্যাগ একটি ছোট স্টল বা দোকান ভাড়া এবং প্যাকেজিং সামগ্রী
অন্তর্ভুক্ত থাকে। ব্যবসায় আপনি স্থানীয় হাট বাজার সড়কের ধারে বা অফিস স্কুল
এবং কলেজের আশেপাশে স্টল স্থাপন করতে পারেন যা সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছায়।
ফলের মৌসুম এবং স্থায়ী চাহিদা অনুযায়ী আপেল, কলা,কমলা, আম, লিচু, ডালিম,
শসা, কাকরী, লাউ, টমেটো, মরিচ, পটল, বাঁধাকপি এবং অন্যান্য মৌসুমী সবজি রাখা যায়
যা ক্রেতাদের জন্য সবসময় আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। শুরুতে আপনি ছোট পরিসরে কেনা বেচা
করবেন কিন্তু কে তাদের সন্তুষ্টি ও ধারাবাহিকতা সরবরাহ নিশ্চিত করলেন ধীরে ধীরে
স্টক এবং ব্যবসা উভয় বাড়ানো সম্ভব।
আরো পড়ুনঃকিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায় ঘরে বসেই
প্রতিদিন বিক্রি থেকে ছোট লাভ হলেও মাস শেষে এটি একটি পরিণত হয়। বিশেষ করে যদি
আপনি পাইকারি মূল্যে কিনে খুচরা বিক্রি করেন তাহলে এর উন্নতি তাড়াতাড়ি করা
সম্ভব। এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে বিশেষ কোন দক্ষতার প্রয়োজন নেই,
পরিবারের সদস্যরাও সাহায্য করতে পারে এবং অন্যান্য কাজের পাশাপাশি সহজে এটি
চালানো যায়। নিয়মিত সতর্কতা পণ্য সতেজ রাখা সঠিক দাম রাখা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে
ভালো ব্যবহার বজায় রাখা ফলে ফল ও সবজি ব্যবসা খুব সহজে একটি স্থায়ী ও
নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্মত আয়ের হচ্ছে পরিণত হতে পারেন হওয়ার জন্য একদম উপযুক্ত
ব্যবসা।
বাইক বা সাইকেলের সার্ভিসিং ও মেরামতের ব্যবসা
বাইক বা সাইকেল বর্তমান দেশের গ্রাম ও শহরের মানুষের জন্য দুইদিন জীবনে চলাফেরার
প্রধান মাধ্যম। তাই তাদের মেরামতের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। মাত্র ৩০ থেকে ৫০
হাজার টাকার মধ্যে একটি ছোট সার্ভিসিং ও মেরামতের দোকান খোলা সম্ভব যেখানে
প্রাথমিকভাবে কিছু টুলস স্প্যানার স্ক্রু ড্রাইভার চেইন ও টায়ারের
মেরামতের সরঞ্জাম ও অন্যান্য ছোট যন্ত্রপাতি নিয়ে শুরু করা যায়।
গ্রামের বা শহরের ব্যস্ত রাখার ধারে একটি ছোট স্থান থাকলে দোকান চালানো সম্ভব।
যারা নতুন উদ্যোক্তা তাদের জন্য এটি খুবই কার্যকর কারণ এখানে বড় কোন অভিজ্ঞতা না
থাকলেও প্রথমে অনলাইনে বা পরিচিতদের মাঝে ছোটখাটো কাজ করে দক্ষতা অর্জন করে নিতে
হবে। কারণ এখানে বিশেষ পড়াশোনার না জানলেও হবে তবে কিছু দক্ষতা না থাকলে এই
ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। এই ব্যবসার জন্য কিছু দক্ষতা প্রয়োজন। বাইক বা
সাইকেলের নিয়মিত চেইন ব্রেক লুব্রিকেশন টাওয়ার ফিটিং বা সামান্য মেকানিক্যাল
সমস্যা সমাধান করার মাধ্যমে দিনে কয়েকটি কাজ করলে অল্প সময়ে প্রতিদিন কয়েকশো
থেকে কয়েক হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। যেহেতু যানবাহন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন
দিন বেড়েই চলেছে তাই নিয়মিত ক্রেতা তৈরি করা সহজ এবং ধীরে ধীরে দোকানটি বড়
করাও সম্ভব।
বেকারি বা হোম বেকিং ব্যবসা
বেকারি পণ্য যেমন কেক পাউরুটি বিস্কুট প্রেস্টি ও পিঠা দেশের শহর ও গ্রাম দুই
জায়গাতেই মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের অংশ। মাত্র তিরিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার
টাকার মধ্যে একটি ছোট হোম ব্রেকিং স্টল শুরু করা সম্ভব। যেখানে আপনার প্রাথমিক
ওভেন কিছু ব্রেকিং সরঞ্জাম আটা, চিনি, ডিম ও অন্যান্য কাঁচামাল প্যাকেজিং সামগ্রী
অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বাড়ির ছোট ঘর বা রান্নাঘর থেকে এই ব্যবসা শুরু করা
সম্ভব। এবং অফিস স্কুল কলেজ বা গ্রাহকের কাছে সরাসরি বিক্রি করা যায়। কে বা
পাউরুটি বানানোর সময় খরচ কম কিন্তু বিক্রয় মূল্য লাভ তুলনামূলক বেশি তাই
প্রতিটি পণ্য থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। এ ব্যবসাটি ধীরে ধীরে সামাজিক
মিডিয়ার প্রচার পরিচালনা করলে নতুন গ্রাহক পাওয়া যায় এবং নির্ভরযোগ্য গ্রাহক
তৈরি হলে আইন নিয়মিত হয়। সময় ও পরিশ্রম অনুযায়ী কাজ করলে
পরিবারের সাহায্য সহযোগিতায় ছোট আকারের ব্যবসা বড় আকার রূপ ধারণ করতে
পারে।
বীজ এবং চারা বিক্রির ব্যবসা
বাংলাদেশের কৃষি প্রধান অঞ্চলে বীজ ও চারা বিক্রির ব্যবসা অত্যন্ত কার্যক্রম ও
লাভজনক পদ্ধতি। কারণ ধান সবজি ফলমূল বা ফুল চাষ করতে কৃষকের প্রতিনিয়ত ভালো
মানের বীজ এবং চারা প্রয়োজন হয়। মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে একটি ছোট
বীজ ও চারা বিক্রির দোকান বাই স্টল খোলা যায়। যেখানে বিভিন্ন সবজি ফলমূল বা
ফুলের চারা প্যাকেট বীজ ও খামারি সরঞ্জাম রাখা যায়। গ্রামের বা শহরে
বাজার রাস্তার ধারে বা কৃষক সমাগমের কাছে দোকান রাখা যায়। ব্যবসা শুরুতে পরিচিত
কৃষক বা স্থানীয় বাজারে সরাসরি বিক্রি করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। চারা ও বীজ
বিক্রি করলে লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে চারা উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ি
আয়কে শক্তিশালী ও বৃদ্ধি করা যায়।
মধু ও মৌচাষ ব্যবসা
মৌচাষ বা মধু উৎপাদনের ব্যবসা অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায়। এবং এটি দীর্ঘমেয়াদী
অত্যন্ত লাভজনক হয়ে থাকে। মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে মৌচাকের জন্য
কয়েকটি মৌ চাষের খাঁচা বা বীজ মৌমাছি কিনে শুরু করা সম্ভব। যেখানে প্রাথমিক
সরঞ্জাম হেভি গ্লাভস মুখোশ ও মধু সংগ্রহের সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকে। মৌমাছি থেকে
প্রাপ্ত মধু স্থানীয় বাজারে অনলাইনে বা দোকানের মাধ্যমে বিক্রি করা যায় যা
গ্রাহকের কাছে খুবই জনপ্রিয়। মৌচাশের সুবিধা হল এটি পরিবেশবান্ধব এবং
দীর্ঘমেয়াদী আয়ের উৎস। নিয়মিত মৌমাছি থেকে মধু সংগ্রহ করা এবং সঠিকভাবে
প্যাকেজিং করার মাধ্যমে এ এক মৌসুমে ভালো লাভ সম্ভব হয়।
বুটিক বা হ্যান্ডিক্রাইভ আইটেম বিক্রি
হস্ত্র শিল্প হ্যান্ডিক্রাইফট বা বুটিকস আইটেম বিক্রির ব্যবসা অল্প পুঁজিতে শুরু
করা যায় এবং শহর ও গ্রামের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। মাত্র ত্রিশ থেকে
পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন হেন্ডিক্রাইফট সামগ্রী যেমন; হ্যান্ড মেড
ব্যাগ, জুতা গহনা বস্ত্র কারুকার্যসহ ছোট হোম ডেকর আইটেম সংগ্রহ করে শুরু
করা যায়। এগুলো সাধারণত অনলাইন প্লাটফর্ম বা স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করা
যায়। প্রতিটি আইটেম প্রয়োজনীয় খরচ তুলনামূলক কম হলেও বিক্রয় মূল্য লাভ বেশি
তাই ছোট আকারে ব্যবসা থেকে নিয়মিত আই নিশ্চিত সম্ভব। কেতার চাহিদা অনুযায়ী
আইটেম সংগ্রহ করে ও বিক্রয় করলে ধীরে ধীরে এ ব্যবসা বড় আকার রূপ
ধারণ করে।
মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ বিক্রির ব্যবসা
বর্তমান বিশ্বে প্রায় সব মানুষের হাতে স্মার্টফোন রয়েছে। এবং মোবাইল
অ্যাক্সেসরিজ যেমন চার্জার, হেডফোন, ইয়ারফোন, কাভার, স্ক্রিন প্রজেক্টর, ডাটা
কেবল, পাওয়ার ব্যাংক ইত্যাদি চাহিদা সব সময়ই থাকে। মাত্র ৩০ থেকে ৫০০০০
টাকার মধ্যে পাইকারি বাজার থেকে বিভিন্ন মানের মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ সংগ্রহ করে
একটি ছোট দোকান বা অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বর্তমান বিশ্ব ডিজিটাল যুগ এই
ডিজিটাল যুগে এসে আপনার দোকান না থাকলেও বাসা থেকে ফেসবুক পেজ বা হোয়াটসঅ্যাপের
মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে বিক্রি করতে পারেন। প্রতিটি পণ্যের লাভের মার্জিন তুলনামূলক
ভালো হওয়ায় অল্প বিকৃতিতে প্রতিদিন নিয়মিত আয় করা যায় মোবাইল ব্যবহারকারীর
সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে এই ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও অনেক বেশি এবং ধীরে
ধীরে পণ্যের পরিমাণ দিতে পারে।
ফলের জুস ও শরবত বিক্রির ব্যবসা
শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতে তাজা ফলের জুস ও শরবতের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে,
বিশেষ করে গরমের দিনে এ ব্যবসা খুবই লাভজনক হয়। গরমে সবাই ক্লান্তির জন্য ঠান্ডা
ঠান্ডা ফলের জুস বা শরবত খেতে চায়। ৫০ হাজার টাকার মধ্যে খুব লাভজনক একটি
ব্যবসা। মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে একটি জুস মেশিন, গ্লাস, স্ট্র ,
টেবিল, সামনে ও কিছু মৌসুমী ফল কিনে রাস্তার পাশে বাবা বাজারের কাছাকাছি একটি ছোট
জুস বসাতে পারেন। কম খরচে জুস তৈরি করে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব ফলে প্রতিদিন
অল্প ভিত্তিতে লাভ থাকে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাধের দিকে নজর দিলে ব্যবসার খুব
দ্রুত নিয়মিত ক্রেতা তৈরি হয়। এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল নগদ বিক্রি এবং
প্রতিদিনের আয় প্রতিদিন হাতে পাওয়া যায়। অল্প খরচে সবচেয়ে আয়ের মাধ্যম হলো
ফলের যুগ ও শরবত বিক্রি করা।
কসমেটিক্স ও বিউটি প্রোডাক্ট বিক্রির ব্যবসা
বর্তমানে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও বিউটি ও স্কিন কেয়ার পণ্যের প্রতি আগ্রহী
হওয়ায় কসমেটিক্স ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে। কসমেটিক্স ও বিউটি
প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। আগে যেমন মেয়েরা শুধু স্কিন
কেয়ার বা বিউটি প্রোডাক্টগুলো বাজার বা দোকান ও অনলাইন থেকে নিতো। তাই এর পণ্যের
লাভ কম ছিল। তবে বর্তমানে ছেলে-মেয়ে উভয় এর প্রতি বেশি আকর্ষিত হওয়ায় এর লাভ
বর্তমানে সবচাইতে বেশি। মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে এ ব্যবসা শুরু করা
যায়। যেমন ফেসওয়াশ, লিপস্টিক, ক্রিম, পারফিউ্ হেয়ার অয়েল এবং শ্যাম্পু বিউটি
টুলস ইত্যাদি সংগ্রহ করে একটি ছোট দোকান বা অনলাইন স্টোর চালু করতে পারেন।
বর্তমানে ডিজিটাল যুগে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে লাইভ বিক্রি বা পোস্ট করে খুব সহজে
অর্ডার নেওয়া যায়। ব্র্যান্ডেড ও লোকাল দুই ধরনের পণ্য রাখলে সব ধরনের ক্রেতাকে
আকর্ষণ করা যায়। পণ্যের লাভের মাঝে ভালো হয় অল্প পুজিতে মাস শেষে ভালো লাভ করা
সম্ভব হয়।
ইভেন সাজসজ্জা ও ডেকোরেশন ব্যবসা
জন্মদিন, আকিকা, বিবাহ, গায়ে হলুদ বা ছোট পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য ইভেন্ট
ডেকোরেশনের চাহিদা এখন অনেক বেশি। মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে বেলুন
ব্যানার লাইট ফুল পর্দা ও ডেকোরেশন সামগ্রী কিনে এই ব্যবসা শুরু করা যায়।
প্রথমদিকে ছোট অনুষ্ঠান দিয়ে কাজ শুরু করে এবং কাজের ছবি ও ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে নতুন অর্ডার পাওয়া সম্ভব হয়। এক একটি ইভেন্টে খরচ
তুলনামূলক কম হলেও চার্জ নেওয়া যায় ভালো ফলে অল্প কাজে লাভ বেশি হয়। অভিজ্ঞতা
বাড়লে ধরা যায় এবং ব্যবসা দ্রুত বড় করা যায়। প্রথমে ৩০-৪০ হাজার টাকার মধ্যে
ছোটখাটো প্রোগ্রামগুলো সুন্দরভাবে পরিচালনা করলে এতে প্রফিট আপনার বাড়বে এবং
প্রফিট এর টাকাগুলো ৫০ হাজার টাকার মধ্যে যোগ করে বড় বড় ইভেন্টগুলো করতে পারেন।
আকর্ষণীয় করার জন্য দামি দামি বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে প্রোগ্রামগুলো সুন্দরভাবে
পরিচালনা করতে পারেন। এতে আপনারও উন্নতি হবে এবং আপনার ব্যবসাটাও দ্রুত অগ্রগতিতে
চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। এতে আপনার ব্যবসা অনেক বড় হয়ে উঠবে।
অনলাইন রিসেলিং বা ড্রপ শিপিং ব্যবসা
অনলাইন রিসেলিং হল এমন একটি ব্যবসা যেখানে নিজের কাছে পণ্য না রেখেও অন্যের
পণ্য বিক্রি করে কমিশন পাওয়া বা লাভ করা যায়। মাত্র ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা
থাকলে ফেসবুক পেজ খুলে কাপড় জুতা ঘড়ি ব্যাক কিচেন আইটেম বা
গ্যারেজ রিসেলিং শুরু করা যায়। রিসেলিং থেকে কিভাবে ইনকাম বা লাভ করা যায়
? সাধারণত সরবরাহকারীর কাছ থেকে ছবি ও দাম নিয়ে নিজের লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে
বিক্রি করা হয়। অর্ডার পেলে সরবরাহকারী সরাসরি পণ্য পাঠিয়ে দেয় ফলে বড় স্টক
রাখার ঝামেলা নেই। কম ঝুঁকি ও কম বুঝি এবং ঘরে বসে পরিচালনা করা যায় বলে নতুন
উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি দারুন সুযোগ। বর্তমানে অনলাইনে কাপড়ের
চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েই চলেছে। এবং ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ফেসবুক পেজ খুলে
অনলাইন কাপড় রিসেলিং ব্যবসা শুরু করা যায়। অর্ডার আসলে এর কাছে পণ্য এনে
গ্রাহকের কাছে কুরিয়ার পাঠানো হয়। সাধারণত শুরুতে মেয়েদের থ্রি পিস, বোরখা
শাড়ি বা শিশুদের পোশাক নিয়ে কাজ করলে অর্ডার বেশি আসে। পেজে নিয়মিত পোস্ট লাইভ
সেল ও কাস্টমারের রিভিউ দিলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে এবং ধীরে ধীরে মাসে ২০ থেকে ৪০
হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হয়।
অনলাইন ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রির ব্যবসা
এমন একটি ব্যবসা যেখানে একবার পণ্য তৈরি করলে বারবার বিক্রি করা যায় এবং এতে
অতিরিক্ত স্টক বা ডেলিভারি ঝামেলা নেই। ৫০ হাজার টাকার মধ্যে একটি ভালো
স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে
ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরি করা যায়। যেমন ই-বুক নোটিশ পিডিএফ গাইড ডিজাইন টেমপ্লেট
সোশ্যাল মিডিয়া টেমপ্লেট রেঞ্জম ডিজাইন বা অনলাইন কোর্স। এই পণ্যগুলো
ফেসবুক পেজ টেলিগ্রাম চ্যালেনিজ ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে বিক্রি করা যায়। একবার
ভালো মানের কন্টেন্ট তৈরি হলে প্রতিদিন আসতেই পারে এবং এতে প্রায় কোন অতিরিক্ত
খরচ না থাকায় লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হয় ধীরে ধীরে ব্র্যান্ড তৈরি হলে এই
ব্যবসার পুরোপুরি অনলাইন প্যাসিভ ইনকামের রূপ নিতে পারে।
লোকাল সার্ভিস ভিত্তিক অনলাইন বুকিং ব্যবসা
নিজে কাজ না করেও অন্যদের কাজের মাধ্যমে ইনকাম করা যায়। যেখানে অনলাইনে মাধ্যমে
লোকাল সার্ভিসের অর্ডার সংগ্রহ করে কমিশন নেওয়া হয়। ৫০ হাজার টাকার মধ্যে একটি
ফেসবুক পেজ গুগল বিজনেস প্রোফাইল ও whatsapp নম্বর সেটআপ করে প্লাম্বার
ইলেকট্রিশিয়ান ইসি সার্ভিস বাসা পরিষ্কার পেইন্টিং বার রাজমিস্ত্রির মত
লোকাল সার্ভিসের বুকিং নেওয়া যায়। গ্রাহক অর্ডার দিলে সেই কাজ এলাকার দক্ষ
লোকদের কাছে পাঠানো হয় এবং কাজ শেষ করে নির্দিষ্ট কমিশন নেওয়া হয়। এতে বড়
পুঁজি বা নিজস্ব টিম দরকার হয় না শুধু সঠিক ম্যানেজমেন্ট ও অনলাইন প্রচার জানলেই
চলে নিয়মিত অর্ডার পেলে এটি একটি স্থায়ী ও লাভজনক অনলাইন অফলাইন ব্যবসায়ের রূপ
নিতে পারে।
অনলাইন টিউশন ও কোচিং সার্ভিস ব্যবসা
শিক্ষা খাতে অনলাইন টিউশন এখন একটি শক্তিশালী ইনকামের মাধ্যম এবং পঞ্চাশ হাজার
টাকার মধ্যে এটি শুরু করা যায়। এই টাকায় একটি ভাল স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ
ইন্টারনেট সংযোগ হেডফোন ও অনলাইন মিটিং অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাস নেওয়া
যায়। নিজে যদি পড়াতে পারো তাহলে সরাসরি ক্লাস নিতে তৈরি করে কমিশনের ভিত্তিতে
কাজ করানো যায়। ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের মাধ্যমে ছাত্র সংগ্রহ করা যায় এবং
মাসিক ভিত্তিতে ইনকাম করা সম্ভব। একবার ভালো রেজাল্ট ও বিশ্বাসযোগ্য তৈরি হলে
ছাত্র সংখ্যা বাড়ে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি অনলাইন ব্যবসার রূপ নেয়।
নার্সারি ও টপ গাছ বিক্রির ব্যবসা
শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতে এখন মানুষ বাসা ছাদ ও অফিস সাজাতে টপ গার্ড কিনতে
আগ্রহী হচ্ছে, ফলে নার্সারি ও টপ গাছের ব্যবসায়ী খুব দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।
মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ ফলের গাছ ইনডোর
প্যান্ট টপ মাটি ও সার কিনে এই ব্যবসা শুরু করা যায়। বাড়ির আগিনা বা ছাদ থেকে
গাছ বড় করে বিক্রি করা সম্ভব এবং ফেসবুক পেজ বা লোকাল বাজারের মাধ্যমে অর্ডার
নিয়ে বিক্রি করা যায়। প্রতিটি গাছের লাভের পরিমাণ ভালো হওয়ায় অল্প সংখ্যক
বিক্রিতে ভালো ইনকাম করা সম্ভব। নিয়মিত পরিচর্যা ও সুন্দর উপস্থাপনা করলে ক্রেতা
দ্রুত বাড়ে এবং ধীরে ধীরে এটি একটি স্থায়ী ও লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়
কুরিয়ার প্যাকেজিং ও ছোট ডেলিভারি সার্ভিস
বর্তমানে অনলাইন ব্যবসা বাড়ার কারণে কুরিয়ার প্যাকেজিং ও লোকাল ডেলিভারি
সার্ভিসের চাহিদা অনেক বেড়েছে এবং মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে এই ব্যবসা
শুরু করা সম্ভব। এই টাকায় প্যাকেট কার্টুন টেপ স্টিকার ওজন মাপার যন্ত্র এবং
একটি মোবাইল নম্বর ও whatsapp বিজনেস সেটআপ করা যায়। ফেসবুক পেজ বা লোকাল অনলাইন
গ্রুপের মাধ্যমে অনলাইন সেলারদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে তাদের পণ্য সুন্দরভাবে
প্যাকেজ করে কুরিয়ার পাঠিয়ে দেওয়া যায় এলাকায় নিজে ডেলিভারি করা যায়।
প্রতিটি প্যাকেজ থেকে নির্দিষ্ট চার্জ নেওয়া হলে প্রতিদিন নিয়মিত আয় করা
সম্ভব। বর্তমানে অনলাইনে চাহিদা ব্যাকুল হারে বাড়ছে। তাই বলা যায়, এই ব্যবসায়
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল নিয়মিত কাজ পাওয়া যায় এবং অনলাইন ব্যবসা যত বাড়বে এই
সার্ভিসে চাহিদা তত বাড়বে।
শেষ কথা
৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া, উপরে যে সকল ব্যবসার আইডিগুলো দেওয়া
হয়েছে, আপনি যদি সে সকল আইডিয়ার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা শুরু করে, তাহলে অবশ্যই
আপনার সফলতা আসবেই আসবে। আপনি উপরের যে কোন একটি ব্যবসা অল্প দিয়ে শুরু করতে
পারেন এতে আপনার আই উন্নতি বৃদ্ধি পাবে। উপরে যে সব ব্যবসার আইডিয়াগুলো দেওয়া
হয়েছে সাধারণত সকল ব্যবসার আইডিয়াগুলো খুব সহজ এবং পরিশ্রমও কম লাগবে। ৫০
হাজার টাকার মতো অল্প পুজিতে সঠিক পরিকল্পনা পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে অনলাইন ও
অফলাইন লাভজনক ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। নিজের আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যবসা
বেছে নিয়ে ছোট করে শুরু করলে এর ঝুঁকি কম থাকে এবং অভিজ্ঞতার সাথে সাথে আরেক
বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত শেখা সময়ের মূল্য দেওয়া এবং সততার সাথে কাজ করায় সফলতার
মূল চাবিকাঠি। আজই ছোট একটি সিদ্ধান্ত আপনার ভবিষ্যৎ কে বড় সফলতার পথ খুলে
দিতে পারে।
আশা করি উপরের আর্টিকেল পড়ে আপনি উপকৃত হবেন। কোন বিষয়ে উপকৃত হলেন তা সম্পর্কে
আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন। এতক্ষণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url