ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম - সেরা ১৫ টি সহজ উপায়

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম, করা যায় কিনা তার উপায় সম্পর্কে আপনি কি জানতে আগ্রহী ? ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য কি কি সেরা সহজ উপায় রয়েছে তা সম্পর্কে আপনি কি জানতে চান ? তাহলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

ভিডিও-না-বানিয়ে-ইউটিউব-থেকে-ইনকাম

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ইউটিউব বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। এর জনপ্রিয়তা উন্নত দেশের পাশাপাশি এখন বাংলাদেশেও এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখন বর্তমানে বড় বড় ইউটিউবার বাংলাদেশেই আছে। চলুন ইউটিউবে কিভাবে ভিডিও না বানিয়ে ইনকাম করা যায় তার সহজ উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম - সেরা ১৫ সহজ উপায়

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায় কিনা এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। ঠিক আপনিও ভাবছেন যে কিভাবে ইউটিউবের ভিডিও না বানিয়ে ইনকাম করা যায়। বর্তমানে ইউটিউব শুধু ক্রিয়েটরদের প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম। এই প্লাটফর্মে ভিডিও না বানিয়েও অসংখ্য মানুষ নিয়মিত আয় করছে। অনেকে ক্যামেরার সামনে আসতে চান না, কেউ নিজের কন্ঠ ব্যবহার করতে অস্বস্তি বোধ করেন, আবার কেউ সময় বা সরঞ্জামের অভাবে ভিডিও তৈরি করতে পারেন না। তাদের জন্য ইউটিউব একটি বড় সুযোগ। এটি সাধারণত বেকারত্ব ও শিক্ষার্থীদের জন্য ইনকাম করা খুব সহজ মাধ্যম হলো ইউটিউব। ঘরে বসেই ইউটিউব থেকে খুব সহজে অনেকেই মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ইনকাম করতে সক্ষম হচ্ছে।
ভিডিও-না-বানিয়ে-ইউটিউব-থেকে-ইনকাম

এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো ভিডিও না বানিয়ে কিভাবে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায়, বা আদৌ সম্ভব কি ? এই আর্টিকেলে আমরা জানব ইউটিউব এ ভিডিও না বানিয়ে কিভাবে ইনকাম করা যায় তা ১৫ সেরা কার্যকর উপায় সম্পর্কে। যেগুলো বাস্তবে কাজ করে এবং দীর্ঘমেয়াদী আয় করার সুযোগ তৈরি করে। চলুন নিচে বিস্তারিত সেরা সহজ উপায় গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ইউটিউব থেকে ইনকাম Creative commons ভিডিও করে

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার সহজ মাধ্যম হলো Creative commons ভিডিও ব্যবহার করে ইনকাম। এটি এমন একটি লাইসেন্স ব্যবস্থা যেখানে কনটেন্ট নির্মাতারা অন্যদের বা তার নিজের ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকেন। ইউটিউবে হাজার হাজার ভিডিও রয়েছে যেগুলো Creative commons লাইসেন্স প্রকাশিত। এই পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য প্রথমে আপনাকে Creative commons ভিডিও খুজে নিতে হবে। এই ধরনের ভিডিও ব্যবহার করে আপনি নতুন ভিডিও তৈরি করতে পারেন। তবে সরাসরি কপি করে আপলোড না করায় আপনার জন্য ভালো হবে। কারণ সরাসরি কপি করা যায় না নইলে আপনার ইউটিউব চ্যানেল অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তাই সরাসরি ভিডিও গুলো কপি না করে অবশ্যই আপনাকে ট্রান্সফর্ম করতে হবে। যেমন কিছু কিছু ভিডিও কাটছাট, নতুন কোন টেক্সট যোগ করা, নতুন টাইটেল ব্যবহার করা, নতুন নতুন বর্ণনা দেওয়া, নতুন ভয়েস বা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যুক্ত করা ইত্যাদি।
এসব ভিডিও এডিট কাটছাট ও নতুন উপস্থাপনার মাধ্যমে আপলোড করলে ইউটিউবে মনিটাইজেশন অন করা সম্ভব হয়। Creative commons লাইসেন্স দুই ধরনের হয়ে থাকে। youtube এ যখন কেউ ভিডিও আপলোড করে তখন সে সাধারণত দুই ধরনের লাইসেন্স দিতে পারে যেমনঃ
  • Standard Youtub License অর্থাৎ এটা থাকলে; ব্যবহার করা যাবে না
  • Creative commons License অর্থাৎ এটা থাকলে; ব্যবহার করা যাবে

আরো পড়ুনঃদিনে ৫০০ টাকা ইনকাম apps ২০২৬

Creative commons ভিডিও ব্যবহার করলে কপিরাইটের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এর জন্যই সাধারণত ভাবে, youtube এ ভিডিও না বানিয়ে ইনকামের ক্ষেত্রে Creative commons একটি গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চিত উপায়। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই ঘরে বসে কোনরকম ভিডিও না বানিয়ে ইনকাম করতে পারেন। এই পদ্ধতি বিশেষ করে ইসলামিক ইতিহাস, মোটিভেশনাল, শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক চ্যানেলের জন্য কার্যকরী পদ্ধতি।

ইউটিউব থেকে অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং করে ইনকাম

ইউটিউবে ভিডিও না বানিয়েও অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং করে আপনি ঘরে বসেই খুব সহজেই ইনকাম করতে পারেন। আপনার ভিডিওতে নিজের মুখ না দেখিয়েও অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং করা যায়। ইউটিউব হল টাকা ইনকামের একটি বড় প্ল্যাটফরম। যা আমরা নিজেরা টাকা ইনকামের বড় সুযোগ বলে থাকি। এক্সিলেন্ট মার্কেটিং কি ? এ প্রশ্নটা আবার অনেকের মধ্যে আসতে পারে। কারণ অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং কি সেটা অনেকেই জানি আবার অনেকেই জানিনা। অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং হল কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট নিজের সেল করাকে অ্যাফিলিয়েন্টমার্কেটিং বলা হয়। কোম্পানির প্রোডাক্ট আপনার কাছ থেকে যত বেশি সেল হবে, কোম্পানি আপনাকে তত বেশি কমিশন দিবে। সাধারণত অনেক কোম্পানি কমিশন ২০% করে দিয়ে থাকে। অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে্ন মাসে ৪০থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হয়।

ইউটিউবে বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ভিডিওর ডেসক্রিপশনে পণ্যের লিংক দিয়ে বিক্রির কমিশন নেওয়া যায়। এটি হলো প্যাসিভ ইনকামের একটি কার্যকর উপায়। এ পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী আয়ের সুযোগ দিয়ে থাকে। তাই বলা যায়, ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং করে ঘরে বসে আপনি খুব সহজে ইনকাম করতে পারেন।

ইউটিউব থেকে ইনকাম ফ্রি স্টোক ব্যবহার করে ইনকাম

বর্তমান অনলাইন দুনিয়ায় ফ্রি স্টোক কন্টেন্ট ব্যবহার করে ইনকাম করা একটি জনপ্রিয় ও বৈধ পদ্ধতি। বিশেষ করে যারা নিজে ভিডিও বা ছবি তৈরি করতে পারেন না তাদের জন্য ফ্রি স্টক এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার একটি বড় সুযোগ। ফ্রি স্টোক হল ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি গুলোর মধ্যে একটি। এখানে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখানে রয়েলিটি ফ্রি ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যায়। এই ক্লিপগুলো একত্র করে, কাটছাট করে এবং টেক্সট বা অডিও যোগ করে সম্পূর্ণ নতুন ভিডিও তৈরি করা যায়। এতে কপিরাইট এর ঝুঁকি কম থাকে এবং মনিটাইজেশন পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ফ্রি স্টোক বলতে মূলত এমন ছবি ভিডিও ও অডিও কে বোঝায় যেগুলো নির্দিষ্ট লাইসেন্স এর অধীনে বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।
আপনি ফ্রি স্টোক ব্যবহার করে ক্লাইন্টের কাজ করেও ইনকাম করতে পারেন। অনেক ক্লায়েন্ট ভিডিও বা ডিজাইন বানাতে ফ্রি স্টোক ব্যবহার করতে বলে। আবার বিভিন্ন উপায়ে ফ্রি স্টোক ব্যবহার করে ইনকাম করা যায় যেমনঃ
  • ভিডিও এডিটিং
  • থাম্বনেইল ডিজাইন
  • সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইত্যাদি।
এসব তৈরি করে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারেন। ফ্রি স্টোক ব্যবহার করে আপনি যদি ইনকাম করতে চান তাহলে এর কপিরাইট তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ফ্রি স্টোক ব্যবহার করার জন্য কিছু নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে যেমনঃ
  • Pixabay
  • Pexels
  • Mixkit
  • Unsplash
  • Coverr
উপরের সকল ওয়েবসাইট গুলো নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয়। এসব ওয়েবসাইট ছাড়াও আপনি চাইলে ইউটিউবে কপিরাইট ফ্রি ভিডিও সার্চ দিলে অনেক ভিডিও পাবেন। এই ভিডিওগুলো থেকে আপনি আপনার পছন্দমত যে কোন ভিডিও ডাউনলোড করে এরপর এর সাথে কপিরাইট ফ্রেমে যুগযুক্ত করে বানিয়ে নিতে পারেন নতুন একটি ভিডিও। ফ্রি স্টোক ব্যবহার করে ইনকাম করা সম্পূর্ণ বৈধ ও বাস্তবসম্মত। তবে মনে রাখতে হবে শুধু ফ্রি স্টোক কনটেন্ট কপি করলে ইনকাম হবে না নিজের মতো করে নতুন ভ্যালু যোগ করে কন্টেন্ট তৈরি করলে দীর্ঘমেয়াদি সফল হওয়া সম্ভব হবে।

ইউটিউব থেকে স্ক্রিপ্ট রাইটিং করে ইনকাম

ইউটিউবে স্ক্রিপ্ট রাইটিং বলতে বোঝায় ইউটিউব এ ভিডিওর জন্য আগে থেকে লেখা পূর্ণাঙ্গ কথা বক্তব্য তৈরি করা যেটা দেখি ইউটিউবার ভিডিও বানান। অনেক ইউটিউবার আছে যারা ভিডিও এডিট বা শুটিং করতে পারে, কিন্তু সুন্দরভাবে কথা সাজিয়ে বলতে পারেনা। আবার অনেক বড় চ্যানেল প্রতিদিন ভিডিও আপলোড করে নিজেরা স্ক্রিপ্ট লেখার সময় পায় না। এমন সময়ে ইউটিউব স্ক্রিপ্ট রাইটারের প্রয়োজন হয়। এখানে ভিডিও বানানোর দরকার নেই বা ক্যামেরার সামনে আসারও প্রয়োজন নেই শুধু লিখতে পারলে স্ক্রিপ্ট রাইটিং করে ইউটিউবে ইনকাম করা যায়। ইউটিউব স্কিপ্ট রাইটিং থেকে ইনকাম হয় মূলত সার্ভিস ভিত্তিতে। আপনি ইউটিউবারদের যত স্ক্রিপ্ট লিখে দিবেন, তারা আপনাকে তত পারিশ্রমিক দিবে। স্ক্রিপ্ট হতে পারে যেমনঃ তথ্যভিত্তিক, গল্পধর্মীয় ইসলামিক, মোটিভেশনাল, ইতিহাস প্রযুক্তি বা স্বাস্থ্য বিষয়ক। ভালো স্ক্রিপ্ট মানেই ভিডিও বেশি সময় ধরে দেখা হয়, এজন্য ইউটিউবাররা ভালো স্ক্রিপ্ট রাইটারের জন্য টাকা দিতে রাজি থাকে। ইউটিউব স্ক্রিপ্ট রাইটিং শুরু করতে প্রথমে আপনাকে বেশি বেশি ইউটিউব ভিডিও লক্ষ্য করতে হবে।

বিশেষ করে জনপ্রিয় চেলেন গুলোর ভিডিও শুনে বোঝার চেষ্টা করতে হবে তারা কিভাবে কথা শুরু করেছে এবং কিভাবে গল্প বা তথ্য সাজাচ্ছে। এরপর ছোট ছোট বিষয় নিয়ে নিজে নিজে স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু করুন। শুরুতেই ৫০০ থেকে ৮০০ শব্দে স্ক্রিপ্ট লিখলেই যথেষ্ট। এরপর আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে বা সোশ্যাল মিডিয়া ইউটিউব স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ খুঁজতে পারেন। অনেক ইউটিউবার রয়েছে যারা সরাসরি স্ক্রিপ্ট রাইটার খুঁজে। এতে আপনার অভিজ্ঞতা বাড়লে প্রতিটি স্ক্রিপ্টের জন্য ভালো পারিশ্রমিক পেতে পারেন। ইউটিউব স্ক্রিপ্ট রাইটিং নতুনদের জন্য খুব ভালো একটি ইনকামের মাধ্যম কারণ এখানে কোন বিনিয়োগ লাগেনা। শুধু একটি মোবাইল বা কম্পিউটার আর লেখার দক্ষতা থাকলেই শুরু করা যায়। এছাড়া এই স্ক্রিল একবার শিখে ফেলে দীর্ঘ মেয়াদী কাজ পাওয়া যায় কারণ ইউটিউব কখনো বন্ধ হচ্ছে না বরং দিন দিন কন্টেন্টের চাহিদা বাড়ছে। এটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আপনার নিজের চ্যালেন থাকুক বা না থাকুক ইউটিউব স্ক্রিপ্ট লিখে নিয়মিত ইনকাম করতে পারেন। ধৈর্য ধরে প্যাকটিস করলে এটি ফ্রিল্যান্সিং বা ফুল টাইম আয়ের শক্তিশালী উৎস হয়ে উঠতে পারে।

ইউটিউব থেকে টেক্সট টু ভিডিও থেকে ইনকাম

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার আরেকটি সহজ মাধ্যম হলো টেক্সট টু ভিডিও। কন্টেন্ট বলতে সাধারণত বোঝায়, লেখা বা তথ্য কে ভিডিও আকারে উপস্থাপন করা যেখানে নিজের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করার কোন প্রয়োজন হয় না। এখানে মূল কন্টেন্ট হয় লেখা আর সেই লেখাকে স্ক্রিনে দেখানো হয় ছবি ভিডিও ক্লিপ প ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা ভয়েসের মাধ্যমে। সব ভাষায় বলতে গেলে আপনি যেটা আর্টিকেল বা পোস্ট আকারে লিখতে পারেন সেটাকে ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করা হলো টেক্সট টু ভিডিও কনটেন্ট। এর মাধ্যমটি এতো জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো এতে ক্যামেরা লাইট মাইক বা নিজের মুখ দেখানোর কোন দরকার হয় না। যারা কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন বা ভিডিও বানাতে পারেন না তাদের জন্য এটি সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ ইনকামের মাধ্যম।

বিশেষ করে ইসলামিক তথ্য ও দোয়া, নামাজ শিক্ষা, মোটিভেশনাল কথা, ইতিহাস, স্বাস্থ্য ও শিক্ষামূলক বিষয়গুলো টেক্সট টু ভিডিও ফরম্যাটে ইউটিউবে খুব ভালো পারফর্ম করে। আপনি যদি নিজের লেখা ব্যবহার করেন এবং ফ্রি লাইসেন্স ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করেন তাহলে youtube স্ট্রাইক বা কপিরাইট এর সম্ভাবনা কম থাকে। এই স্কিল শেখার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আপনি শুধু ইউটিউব নয় বরং ফেসবুক short reals এমনকি ক্লায়েন্টের কাজেও এটি ব্যবহার করে ইনকাম করতে পারেন। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়লে টেক্সট টু ভিডিও কনটেন্ট আপনার জন্য স্থায়ী আয়ের একটি শক্তি ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

ইউটিউব থেকে ছবি স্লাইডোসো ভিডিও তৈরি করে ইনকাম

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার আরেকটি সহজ মাধ্যম হলো ছবি স্লাইডোসো ভিডিও তৈরি করে ইনকাম। ছবি দিয়ে ভিডিও তৈরি করা ইউটিউবে অন্যতম পুরনো একটি কার্যকর কৌশল। এখানে একাধিক ছবি নির্দিষ্ট কমে সাজিয়ে ভিডিও বানানো হয়। আপনি চাইলে নিজের তোলা ছবি ব্যবহার করতে পারেন অথবা ফ্রী স্টক ইমেজ ওয়েবসাইট থেকে ছবি সংগ্রহ করতে পারেন। ছবির সাথে টেক্স বা ব্যাখ্যা যুক্ত করলে ভিউয়ার ভ্যালু অনেক বেড়ে যায়। এই পদ্ধতি ট্রাভেলস, প্রকৃতি, ইসলামিক, ইতিহাস কন্ট্যান্ট এর জন্য কার্যকরী মাধ্যম। আপনি চাইলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের মুখ না দেখিয়ে বা নিজের ছবি না দিয়েও ফ্রিসাইড গুলো থেকে ছবি নিয়ে একাধিক ভাবে দিয়ে কিছু টেক্সট যুক্ত করে রিংসের মত করে আপলোড দিতে পারেন youtube এ। শুধু লক্ষ্য রাখবেন যেন কারো সাথে আপনার কপিরাইট না আসে। টেক্সটগুলো বা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সবকিছুই যেন অন্যদের চাইতে ভিন্ন হয়। এবং এমন ভাবে ভিডিওগুলো বানাবেন যেন ইউটিউব ব্যবহারকারীদের দেখার আগ্রহ থাকে ।

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায় (৭ - ১১ টি)

আরো বিভিন্ন উপায়ে ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায়। ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায় এখন আর এটা কল্পনা নয় বরং বাস্তব এবং পরীক্ষিত। যারা ক্যামেরার সামনে আসতে চান না তাদের জন্য ইউটিউব আজ ইনকামের বিশাল বড় সুযোগ। সেই পদ্ধতি গুলো র মধ্যে আরও কিছু সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি গুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো।

ইউটিউব শর্টস রিইউজ করে ইনকাম

 ইউটিউব শর্টস বর্তমানে দ্রুত গ্লো করার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। শর্টস ভিডিও কম সময়ে বেশি ভিউ পাওয়া যায় এবং নতুন চ্যানেল দ্রুত সাবস্ক্রাইব পায়। ইউটিউব ব্যবহারকারীরা অনেকেই আছেন যারা শর্টস ভিডিও ব্যবহার করে থাকে। বিভিন্ন বিনোদনমূলক ভিডিও ও কোন শিক্ষানীয় কিছু দেখার জন্য ছোট করে shorts video দেখে থাকে। তাই এতে অল্প সময়ে ভিউয়ার্স এর সংখ্যাও বেশি বৃদ্ধি পায়। ভিডিও না বানিয়েও অন্য প্ল্যাটফর্মের ভাইরাল কনটেন্ট রিমিক্স করে শর্টস ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করা যায়। তবে অবশ্যই শর্ট ভিডিওর মধ্যে এডিটিং কাটছাপ এবং নতুন প্রেজেন্টেশন থাকতে হবে। তবে অন্য কারো কাছ থেকে কপিরাইট আসবে না। এবং এটি সঠিকভাবে করলে শর্ট থেকেও মনিটাইজেশন ও ব্র্যান্ড ডিল করা সম্ভব হবে।

ইউটিউব চ্যানেল ম্যানেজমেন্ট করে ইনকাম

অনেক ইউটিউবার ভিডিও বানাতে পারলো চ্যানেল পরিচালনা করতে পারে না। তারা SEO, কিওয়ার্ড, টাইটেল, ডেসক্রিপশন ও এনালাইটিস নিয়ে সমস্যায় পড়েন। তাই তাদের ইউটিউব চ্যানেল ম্যানেজমেন্ট এর প্রয়োজন হয়। আর আপনি যদি ইউটিউবের এলগরিদম বোঝেন, তাহলে অন্য চ্যানেল ম্যানেজ করে মাসিক আয় করতে পারেন খুব সহজে। এই কাজে ভিডিও বানানোর কোন প্রয়োজন নেই। আপনার এই স্কেল গুলো জানা থাকলে আপনি খুব সহজে ঘরে বসেই ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারেন।

ইউটিউব থাম্বনেইল ডিজাইন করে ইনকাম

থাম্বনেইল ডিজাইন ইউটিউবে ভিডিওর ক্লিক পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভালো থাম্বনেল না হলে ভালো ভিডিও ভিউ পায় না। অনেক বড় বরং ইউটিউবাররা আলাদা আলাদা থাম্বেনেইল ডিজাইন রাখে। থাম্বেইনাল ডিজাইন হল গ্রাফিক্স ডিজাইন। আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ জেনে থাকেন তাহলে থাম্বেনাইল ডিজাইন করে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারেন। আপনি এই সার্ভিস দিয়ে নিয়মিত মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

ইউটিউবে SEO অপটিমাইজেশন করে ইনকাম

ইউটিউব একটি সার্চ ইঞ্জিল। এখানে youtube ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয় সার্চ করে থাকে। ইউটিউব হল তথ্যবহন প্ল্যাটফর্ম। এখানে সঠিক SEO না করলে ভিডিও রান করানো সম্ভব হয় না। তাই আমাদের প্রথম SEO অপটিমাইজেশন করা শিখতে হবে। এই স্কিল দিয়েও আমরা ইউটিউবে আয় করতে পারি। যেমন আপনি যদি কিওয়ার্ড রিসার্চ টাইটেল অফ টিমেগেশন ও ডিসক্রিপশন লেখায় দক্ষ হন, তাহলে অন্য চ্যালেঞ্জ অপটিমাইজেশন করে প্রতিনিয়ত ইনকাম করতে পারেন। অনেক ইউটিউবার আছে যারা এসিও অপটিমাইজেশন করতে দক্ষ না বা পারে না। তাই SEO দক্ষর প্রয়োজন হয়। তাই বলা যায় আপনি যদি SEO অপটিমাইজেশনে এক্সপার্ট হয়ে থাকেন তাহলে এই স্কিল দিয়েও আপনি মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন।

ইউটিউব ভিডিও এডিটিং সার্ভিস দিয়ে ইনকাম

ভিডিও শুট না করেও শুধু এডিটিং করে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা সম্ভব। অনেক কন্টেন্ট কি ওটা আছে যারা ভিডিও বানাতে পারে তবে ভালোভাবে এডিটিং করতে পারে না। আর যে কোন ভিডিও এডিটিং ভালো না হলে সেই ভিডিও দেখতেও খুব একটা ভালো দেখায় না। তাই সবার প্রথমে যে কোন ভিডিও একটু এডিটিং করলে ভিডিও সুন্দর হয় এবং দেখতে আগ্রহ জাগে। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে ভিডিও বানানোর ভিডিও এডিটিং করে পোস্ট করা তবেই ভিউ বেশি হবে। অনেক ক্রিয়েটরা ফুটেজ দেই, আপনি সেটাকে প্রফেশনালি এডিট করে দেন। এই কাজ করাটাকেই সাধারণত বলা হয়, ইউটিউব ভিডিও এডিটিং সার্ভিস। এই সার্ভিস দিয়ে ইউটিউবে ও ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে খুব জনপ্রিয় ও দীর্ঘমেয়াদি ভাবে আয় করা যায়।

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম উপায় (১২ - ১৫ টি)

অডিও কনটেন্ট ব্যবহার করে ইনকাম

অনেকেই জানেন না যে ইউটিউব মূলত ভিডিও প্ল্যাটফর্ম হলেও অডিও কনটেন্ট কেউ ভিডিও হিসেবে গ্রহণ করে। একটি স্থির ছবি রেখে শুধু অডিও চালালেও সেটি ইউটিউবে ভিডিও হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের বয়ান, গল্প, কবিতা, মোটিভেশনাল, বক্তব্য বা তথ্যভিত্তিক অডিও ব্যবহার করা যাই, নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। আপনি চাইলে বিভিন্ন ফ্রি লাইসেন্স অডিও এখানে ব্যবহার করতে পারেন। ছবিটি আপনার না হলেও হবে ফ্রি সাইট গুলো থেকে যেগুলো লাইসেন্স ফ্রি সেই ছবিগুলো নিয়ে এরকম ভিডিও বানাতে পারেন। এবং সেখান থেকে ইনকাম করতে পারেন।

ইউটিউব অটোমেশন চ্যালেন তৈরি করে ইনকাম ঃ

ইউটিউব অটোমেশন মানে হলো নিজে ভিডিও না বানিয়ে পুরো প্রক্রিয়া আউটসোর্স করা। আপনার কাজ হবে কনটেন্ট আইডিয়া প্ল্যানিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল করা। অনেক কন্টেন্ট কিউটর আছে যারা কন্টেন্টের আইডিয়া প্ল্যানিং ও কোয়ালিটি কেমন হবে তা সম্পর্কে বুঝতে পারে না বা খেয়াল রাখার সময় পান না। তাই তারা কোন ইউটিউব অটোম্যাশনাল দক্ষকে নিয়োগ করে থাকেন। সে যেন তাদের কন্টেন্টের আইডিয়া প্ল্যানিং ও কোয়ালিটি সম্পর্কে কন্ট্রোল করতে পারেন। তাই বলা যায়, আপনি সঠিকভাবে করলে এটি প্যাসিভ ইনকামের বড় মাধ্যম ।

ইউটিউব সাবটাইটেল ও ক্যাপশন তৈরি করে আয়

অনেক চ্যানেল আন্তর্জাতিক দর্শকের জন্য সাবটাইটেল ব্যবহার করে। কিন্তু অনেক কনটেন্ট কিউটরা বা সবাই নিজেরা সাবটাইটেল তৈরি করতে পারে না। আপনি ভিডিওর জন্য সাবটাইটেল ক্লোজড, ক্যাপশন ও টাইমিং ঠিক করে দিয়ে আয় করতে পারেন। আর এই কাজের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে বিক্রি করে ইনকাম

অনেক মানুষ তৈরি ও মনিটাইজেশন ইউটিউব চ্যানেল কিনতে আগ্রহী। এমন অনেক উদ্যোক্তায় আছে যারা, চায় শূন্য থেকে না শুরু করে যেগুলোর মনিটাইজেশন আছে বা ভিউয়ার্স কিছুটা আছে সেগুলো কেনার চেষ্টা করে। আপনি একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে নির্দিষ্ট পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে সেটি বিক্রি করতে পারেন। এভাবে আপনি বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে youtube এ মনিটাইজেশন অন করে একটু এগিয়ে নিয়ে গিয়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি বেশি বেশি অংকের টাকা ইনকাম করতে পারেন।
ভিডিও-না-বানিয়ে-ইউটিউব-থেকে-ইনকাম

আপনি চাইলে আরও বিভিন্ন ভাবে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারেন যেমনঃ আপনার নিজের ছবি না দেখিয়ে বিভিন্ন ট্রাভেলস এর ভিডিও আপলোড ও রান্নাবান্না বা বাচ্চারপড়াশোনার ভিডিও ইত্যাদি আপলোড দিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারেন। এরকম আরো বিভিন্ন উপায় অনুসরণ করলে ইউটিউবে ভিডিও না বানিয়ে ইনকাম করা যায়। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে উপরের দিকনির্দেশনা গুলো, যেখানে বারবার বলা হয়েছে, আমাদের সব সময় কপি রাইট মুক্ত করে ভিডিও তৈরি করতে হবে।

শেষ কথাঃ ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম

ভিডিওনা বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম সেরা ১৫ টি সহজ উপায় সম্পর্কে ধারণা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। আপনি যদি উপরের দিকনির্দেশনা গুলো অনুসরণ করে উপরের দেওয়া মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে youtube থেকে ইনকাম করতে পারেন। আপনার সুবিধার্থে কিছু নির্ভরযোগ্য ও কপিরাইট ফ্রি ওয়েবসাইটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি চাইলে সেগুলো ব্যবহার করেও কপিরাইট ফ্রি ভিডিও করতে পারেন, অথবা কপিরাইট ফ্রি বলে গুগলে সার্চ করলে, বিভিন্ন ওয়েবসাইট আসবে। আপনার যে ওয়েবসাইট পছন্দ হবে সেই ওয়েবসাইট থেকে ভিডিও করতে পারেন।

আশা করি উপরের বিষয় থেকে আপনি উপকৃত হবেন। উপরের আর্টিকেল থেকে আপনি কোন বিষয়ে উপকৃত হলেন তা সম্পর্কে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করবেন। এবং এতক্ষণ আর্টিকেলটি সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst. Rubi Khatun
Mst. Rubi Khatun
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট গেনের বারি ওয়েবসাইটের এডমিন । তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।