শবে কদর ২০২৬ সালের কত তারিখে বাংলাদেশ - এবং ঈদের সম্ভবতও তারিখ জানুন
শবে কদর ২০২৬ সালের কত তারিখে বাংলাদেশ, আপনি কি শবে কদর কত তারিখে এবং ঈদের সম্ভবত তারিখ ও ছুটির তারিখ গুলো সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। রমজান মাস ও মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাযাতে এক অন্যান্য উপহার।
আর এই পবিত্র মাসের শেষ ভাগে রয়েছে এমন এক মহী মাত্র রাত যার মর্যাদা হাজার
মাসের ইবাদত এর চেয়েও উত্তম আর সেই রাত হলো লাইলাতুল কদর এর রাত। শবে কদর
২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখ ও রমজানের প্রথম রোজা ও ঈদুল ফিতরের সম্পর্ক দিন জানতে
চাইলে এই আর্টিকেলটি সম্পন্ন আপনার জন্য।
পোস্ট সূচিপত্রঃ শবে কদর ২০২৬ সালের কত তারিখে বাংলাদেশ
- শবে কদর ২০২৬ সালের বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ
- শবে কদর কেন গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্য
- শবে কদরের উৎপত্তি ও ইতিহাস
- পবিত্র শবে কদরের হাদিস ও আয়াত সম্পর্কে
- পবিত্র শবে কদরের রাতের জন্য বিশেষ দোয়া ও আমল
- পবিত্র শবে কদরের রাতের আচরণ ও প্রস্তুতি
- পবিত্র শবে কদরের ইবাদত ও আমল কিভাবে করা উচিত
- রমজান ও পবিত্র শবে কদরের সম্পর্ক এবং রমজানের শেষ ১০ রাতের গুরুত্ব
- ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ
- সকল পবিত্র দিনগুলোর তারিখ সংক্ষেপে
- শেষ কথা
শবে কদর ২০২৬ সালের বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ
২০২৬ সালের বাংলাদেশের শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের সম্ভবত তারিখ হল সোমবার ১৬ই
মার্চ ২০২৬। এই তারিখ একটু পরিবর্তিত হতে পারে। ইসলামের ঐতিহ্য অনুসারে এই রাত্রি
রমজানের শেষ ১০ দিনের মধ্যে, মূলত ২৭ তম রমজান রাতের সাথে যুক্ত থাকে যদিও
নির্দিষ্ট তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। ২৭ তম রাতেই শবে
কদর হিসেবে অধিকাংশ সময় পালিত হয় এবং এই রাতটিতে বিশেষ ইবাদত, দোয়া ও কোরআন
তেলোয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভের চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশের সাধারণত সরকার
ও ইসলামিক সংগঠনগুলো চাঁদ দেখার শেষে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে চূড়ান্ত হবে শবে
কদর ও ঈদের তারিখ। এই কারণে ১৬ই মার্চ সম্ভাব্য হলেও অনেকে ১৭ই মার্চ শবে কদর
হিসেবে পালন করতে পারেন। যদি রমজান শেষ দশ রাতে দেখা যায় বা হিসাবের কারণে
তারিখের সামান্য পরিবর্তন আসে, এতে করে শবে কদরের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রাতগুলোতে
বেশি এবাদত করার প্রচলন রয়েছে।
শবে কদর সাধারণত সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয় না কিন্তু অনেক মসজিদ ও
ইসলামিক কেন্দ্র পরিবারগুলোতে বিস্তারিত প্রোগ্রাম প্রচলিত হয়। বাংলাদেশের শবে
কদরের রাতে মুসলিমদের ঘন ঘন দেখা যায় যে, তারা সাধারণত নফল নামাজ পড়ে, কোরআন
তেলোয়াত করে, আল্লাহ কাছে দোয়া ও মাগফিরাতের জন্য অবস্থান করে থাকে। এই
পবিত্র শবে কদর এর রাতে আল্লাহতালা মানবজাতির জন্য পথ নির্দেশ হিসেবে
মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন শরীফ নাজিল করেছিলেন। তাই এ রাতের গুরুত্ব আমাদের মুসলমান
জাতির জন্য অপরিহার্য।
শবে কদর কেন গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্য
শবে কদর ইসলামী মতবাদে মহান একটি রাত। পবিত্র কুরআন শরীফে এই রাতের গুরুত্ব
সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন; শবে কদর ও তা কি তা তুমি জানো না। তবে শবে
কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই আয়াত নিজেই এই রাতের গুরুত্ব কে প্রমাণ করে যে,
এটিতে করা এবাদত ও নেক আমল হাজার মাসের এবাদত এর সমান বা তার চেয়েও বেশি
ফলপ্রসৃ। এই রাতে এমন একটি সময় যখন স্বর্গদূত্রা পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়, এবং
আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত বর্ষিত হয়। মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, এই রাতে মহান
আল্লাহ তায়ালা গুনাহ কারীদের দোয়াগুলিকে গ্রহণ করেন এবং তাদের মাগফিরাতুর
রহমতের বরকত দেন। এজন্য ধর্মীয় অনুসরণকারীরা সাধারণত সারারাত নফল নামাজ ও কোরআন
পাঠ এবং দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।
শবে কদরের এই পবিত্র রাতটি ইসলামী ইতিহাসে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করা
হয়েছে। কারণ এই রাতে প্রথম যে অংশ অংশে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল,
তা মানবজাতিকে আলোকিত করার উদ্দেশ্যে। এই কারণে অনেক মুসলমান পন্ডিত ও আলিম শবে
কদরের রাতে বিশেষ ইবাদতের নির্দেশ দেন যাতে বিশ্বস্ত উম্মাহরা আল্লাহর অশেষ রহমত
লাভ করতে পারে। যেহেতু রমজানের শেষের ২১ থেকে ৩০ রমজান এর প্রতিটি রাতের গুরুত্ব
অনেক, তাই অনেক মুসলিমরা সাধারণত বিজোড় রোজার রাতগুলো পালন করে থাকে। যেমন; ২১,
২৩,২৫, ২৭ এবং ২৯।
শবে কদরের উৎপত্তি ও ইতিহাস
শবে কদরের উৎপত্তি ইসলাম ধর্মের সূচনা থেকেই প্রচলিত হয়েছে। ইসলামী বিশ্বাস
অনুযায়ী, কোরআনের প্রথম আয়াত এই রাতে নাযিল হয়েছিল যা পরে পুরো কোরআন
শরীফ হিসেবে মানবজাতিকে প্রদান করা হয়েছে। এটি প্রথম ওহি অর্থাৎ,আল্লাহ
তাআলার পক্ষ থেকে নবী রাসুলগণের ওপর সরাসরি বার্তা বা নির্দেশ নাযিল হওয়াকে আমরা
সাধারণত নাযিল হওয়া বলি। আর এই প্রথম ওহী ছিল, আত্মাধিক শিক্ষা, নেয় ও মানবিক
দায়িত্বের মূল ভিত্তি। এই রাতে স্বর্গদূত জায়গা গিয়াব ফারিশ্তা গৃহ বা
দৃশ্যমান পৃথিবীতে অবতীর্ণ হত, এর মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ, রহমত ও দোয়ার
সুযোগ সর্বস্তরের মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ইসলামের উত্থান ও মানব সমাজের নৈতিক উন্নতির সূচনা হিসেবে
বিবেচিত করা হয়। প্রাচীন মুসলিম বর্ণনা গুলোতে দেখা যায় যে, মহান মুহাদ্দিস ও
বর্ণনা-বাদীরা পবিত্র শবে কদরের রাতে বিশেষ ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং
সম্প্রদায়ীদের মধ্যে এই রাতের মাহাত্ম্য অপরিসীম মহত্বের সাথে প্রচলিত হয়। এই
ঐতিহাসিক মহিমার ফলে, মুসলিম উম্মাহ পবিত্র শবে কদরকে সেই রাতে আল্লাহর রহমত ও
মাগফিরাত লাভের জন্য সর্বাধিক প্রস্তুত হয়।
পবিত্র শবে কদরের হাদিস ও আয়াত সম্পর্কে
পবিত্র কুরআন শরিফে ৯৭ নং সূরায় শবে কদর সম্পর্কে আয়াত রয়েছে। যেখানে বলা
হয়েছে, এই রাতটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই আয়াত শবে কদরের গুরুত্বকে
সর্বজনিতভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বৈশিষ্ট্য আবিষ্কৃত করা থেকে আর্থিক উন্নতি অনেক
কর্মের উদ্দীপনা যোগিয়েছে। এবং হাদিসে বলা হয়েছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শবে কদরের সন্ধানে শেষ দশ রাতে বিশেষ ইবাদত
বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন; শেষ দশ রাতে বিশেষ ইবাদত কর এবং
দিনাও রাতে পুনরায় আরো বাড়াও। এই নির্দেশ মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপকভাবে পালিত
হয় এবং তারা এই রাতগুলোতে বেশি সময় ব্যয় করে দোয়া ও আমল করে থাকে।
প্রখ্যাত হাদিসের সমর্থনে বলা হয়েছে যে, এই রাতে ইবাদত ও দোয়া করলে
নেক আমলের হিসাব অন্যরাতের ইবাদতের তুলনায় অনেক গুণ বেড়ে যায়। এই হাদিসের
ভিত্তিতে মুসলমানরা শবে কদরের পূর্বের ওপরে রাতগুলোতেও বিশেষ দোয়া ও
ক্রিয়াকলাপ করেন, যেন তারা নিশ্চিতভাবে মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত লাভ
করতে পারেন।
পবিত্র শবে কদরের রাতের জন্য বিশেষ দোয়া ও আমল
পবিত্র শবে কদরের রাতে দোয়া ও আমল করা ইসলামিক আয়েশা দ্বারা অত্যন্ত উৎসাহিত।
প্রচলিত দোয়া গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেখানো
দোয়া। এই দোয়ার ফজিলত অপরিসীম। দোয়াটি হল;
- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তহিব্বুল আফুয়া ফাঅফু আন্নি;
অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো; অতএব আমাকে
তুমি ক্ষমা করে দাও।
এই দোয়াটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয়, এবং ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনার জন্য
খুবই উপযোগী। এই দোয়া আমাদের মহানবী সাঃ এই বিশেষ রাতগুলোতে বেশি বেশি পাঠ করতে
বলেছেন। এই দোয়াটি শুধু শবে কদরের রাত নয় বরং শেষের 21 থেকে ৩০ রমজান এর রাতে
আমল করতে বলা হয়েছে।
এই রাতে আরো একটি কাজ হল পবিত্র কোরআন শরীর তেলাওয়াত করা। মুসলিমরা রাত জাগা
অবস্থায় বিভিন্ন সূরা ও আয়াত পাঠ করেন, বিশেষত সূরা ফাতেহা, সূরা আল ইমরান ও
সূরা বাকারাহ। পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠ ব্যক্তি এর হৃদয়ে পবিত্রতার দিকে প্রচলিত
করে এবং আল্লাহর রহমতে আকাঙ্ক্ষা বাড়ায়।
অবশ্যই এই পবিত্র শবে কদরের রাতর শেষ পর্যন্ত, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ও দোয়া
ইস্তেগফার করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই পবিত্র রাতে, মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ
করতে কান্নার সাথে নিজের ভুল ও গুনাহের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা উচিত। সকল
মুসলমানকে উৎসাহিত করা হয় যাতে তারা এই রাতে সর্বোচ্চ ইবাদত অন্তরে দোয়া
করতে পারে। এবং এই রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতে হবে।
পবিত্র শবে কদরের রাতের আচরণ ও প্রস্তুতি
পবিত্র শবে কদরের রাতের প্রস্তুতি মানে শুধু রাত জাগা নয়, বরং মনোযোগী দিয়ে
দোয়া, আত্মবিশ্লেষণ ও নেট পরিকল্পনা গ্রহণ করা ইত্যাদি। মুসলিমরা সাধারণত
এই রাতে ঘরের পরিবেশকে শান্ত করেন, টেলিভিশন ও মোবাইল ইত্যাদি বিকৃত মনোযোগ কে
কমিয়ে দেন এবং আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। এই পবিত্র রাতে ইবাদতের উদ্দেশ্যে
প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দিনের মধ্যে বেশি বেশি নফল নামাজ কোরআন পাঠ ও দোয়া
ইস্তেগফার শুরু করা উচিত। এই রাতে মানুষ বেশি বেশি নফল নামাজ ও তাহাজ্জত নামাজ,
দোয়া এবং কোরআন পাঠের মাধ্যমে এই রাতের আমল বাড়াতে পারেন।
পবিত্র শবে কদরের রাতে পরিবার ও কে একত্রে ইবাদতে অংশ নিতে উৎসাহিত দিতে
হবে। পরিবারের ছোট বড় সবাই কে একত্রে নিয়ে দোয়া ও আমল করলে স্বভাবগতভাবে
পরিবারের শান্তি ঐক্য ও আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই সকল
মুসলিমগণকে বিভিন্ন ধরনের অসৎ ও অশৃংখল পরিবেশ পরিত্যাগ করতে হবে।
পবিত্র শবে কদরের ইবাদত ও আমল কিভাবে করা উচিত
সকল মুসলিমদের মাথায় প্রশ্ন আসে পবিত্র শবে কদরের এবাদত ও আমল কিভাবে করতে হয়
বা করব এমন কিছু। পবিত্র শবে কদরের রাতে এবাদত বা আমল সবচেয়েবড় গুরুত্ব পায়। এ
রাতে মুসলিমরা সাধারণত রাতে তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত ও আমল করে থাকে। সাধারণত এই
পবিত্র শবে কদরের রাতে তাহাজ্জত নামাজ এবং বেশি বেশি নফল নামাজ সবচেয়ে বেশি
পছন্দনীয় কাজ। তাহাজ্জুদ নামাজ রাতে আলাদা সময়ে পড়া হয়, যা হৃদয়কে আল্লাহর
নৈকট্য এবং প্রশান্তিতে নিয়ে আসে। দ্বিতীয়তঃ এই পবিত্র শবে কদরের রাতে পবিত্র
কুরআন শরীফের তেলাওয়াত বেশি বেশি করা উচিত। পবিত্র কোরআন শরীফে প্রতিটি আয়াত
পাঠ করলে আল্লাহর নিকট নেক আমলের হিসাব বৃদ্ধি পায় এবং পাঠকারীকে আধ্যাত্মিক
শক্তি প্রদান করে। এটি এক ধরনের আলোকিত ইবাদত যা মনকে পবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়
এবং ব্যক্তি নিজের সম্পর্ক আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করে।
তৃতীয়তঃ দোয়া ও ইস্তেগফার অর্থাৎ গুনাহ মুক্ত হওয়ার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা
এই রাতের বড় ফলপ্রসৃ। মুসলমানরা এই পবিত্র রাতে আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য
ক্ষমা চায় এবং পরিবার ও সমাজের শান্তি, বিশ্বব্যাপী শান্তি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে
দোয়া করে থাকেন। বিশেষ করে এই পবিত্র রাতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর শেখানো দোয়া বেশি বেশ পাঠ করতে পারেন যেমন;
- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তহিব্বুল আফুয়া ফাঅফু আন্নি;
রমজান ও পবিত্র শবে কদরের সম্পর্ক এবং রমজানের শেষ ১০ রাতের গুরুত্ব
রমজান মাস ইসলামের সর্বাধিক পবিত্র মাস হিসেবে পরিচিত। এই মাসের শেষ দশ রাতে
বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এমন একটি রাত যাকে হাজার মাসের নেট কার্যকেজ হারিয়ে
ভালোবাসা ও সম্প্রসারণের রাত বলা হয়েছে--এই হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। রমজান
মাসের শেষ দশ রাত শুরু হয় সাধারণত রমজান মাসে ২১তম রাত থেকে ৩০ তম রাত পর্যন্ত।
ইসলামিক ঐতিহ্যে বলা হয়েছে যে, পবিত্র শবে কদর এই শেষ দশ তারিখের কোন এক রাতে
অবতীর্ণ হয়েছে। তবে সবচেয়ে প্রচলিত হল ২৭ তম রাত। অনেকেই এই ভিত্তিতে
রমজানের ২১ থেকে ৩০ তম রমজান পর্যন্ত বিজর রাতগুলো জেগে আমল করে থাকে। তবে ২৭ তম
রাত বেশি প্রচলিত।
এই রাত্রিতে ফজিলতপূর্ণ ইবাদত ও দোয়া করার মাধ্যমে মানুষের নেক আমল অন্যান্য
রাত্রির নেক আমলে থেকে গুনে গুনে অনেক বেশি ফলদায়ক হয়। রমজানের শেষ দশ রাতে
প্রতিটি রাতে ইবাদত বাড়ানো উচিত, বিশেষ করে তাহাজ্জত নামাজের অর্থাৎ রাতের নামাজ
এবং পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠ, দোয়া ও ইস্তেগফার। এই রাতগুলোতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা চাইতে হবে,নেক কর্ম ও সচ্চরিত্র হওয়ার
প্রচেষ্টা বাড়াতে মুসলিমরা দোয়া ও আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ
২০২৬ সালের রমজান মাস সাধারণত অনুমান অনুযায়ী ফেব্রুয়ারী ১৮ তারিখ থেকে শুরু
হবে, বা চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখের হতে পারে। যার ফলে
ঈদুল ফিতর ২০২৬ বাংলাদেশের সম্ভাব্য হলে ২০ শে মার্চ তারিখ বা ২১ শে মার্চ
তারিখ উদযাপিত হবে। ঈদুল ফিতর ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুসারে রমজান মাসের শেষে
শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে উদযাপিত হয়। রমজান মাসের শেষের
চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ায় সাথে সাথে ঈদের তারিখ নিশ্চিত হয় এবং সাধারণত সেই
দিনই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। অনেক সময় রমজান এর রোজাগুলো ২৯ রোজাতে শেষ হয়
সেক্ষেত্রে ২০ শে মার্চ ঈদ উদযাপিত হবে, আর যদি ৩০ দিন রোজা হয়, সে
ক্ষেত্রে ২১শে মার্চ উদযাপিত হবে।
আরো পড়ুনঃ ফজরের নামাজের শেষ সময়সুচী রাজশাহী ২০২৬
বাংলাদেশের সরকার সাধারণত আগের রাতের চাঁদ দেখা বা ইসলামিক কমিটির রিপোর্ট
পাওয়ার পর ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। তাই শেষ পর্যন্ত তারিখ চূড়ান্ত
হবে চাঁদ দেখা অনুযায়ী তবে আগাম অনুমান গুলো ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬ এ করা যায়।
সকল পবিত্র দিনগুলোর তারিখ সংক্ষেপে
পবিত্র সকল ইবাদত ও উৎসবের দিন ও তারিখ গুলো সংক্ষেপে নিচে উপস্থাপন করা হলো। যা
দেখে খুব সহজে ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক তারিখগুলো সম্পর্কে জানতে
পারবেনঃ
- ২০২৬ সালে শবে মেরাজ হল, ১৬ই জানুয়ারি (শুক্রবার দিবাগত রাত)
- পবিত্র শবে বরাত হল, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি (বুধবার দিবাগত)
- রমজান মাস শুরু সাধারনত; ১৮ ফেব্রুয়ারি ও ১৯ ফেব্রুয়ারি (যা চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)
- জামাতুল বিদা; সাধারণত ১৩ই মার্চ (শুক্রবার)
- শবে কদর; ১৬ই মার্চ (সোমবার)
- ঈদুল ফিতর; ২০শে মার্চ অথবা ২১শে মার্চ (চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)
শেষ কথা
আমাদের প্রত্যেক মুসলমানদের উপরের পবিত্র শবে কদরের রাত সম্পর্কে জেনে সেটা
পালন করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে আল্লাহ তায়ালার ছায়া ও নৈকট্য অর্জন করা
যাবে। এবং এই দিনে বা রাত্রে আমলের মাধ্যমে আপনার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা লাভ
করবেন। আপনি যদি উপরের আলোচনা গুলো অনুসরণ করে এই রাতগুলো পালন করে থাকেন তাহলে
আপনার পূর্বের গুনা আশা করি মওকুফ হবে এবং আল্লাহতালা নিজেই মওকুফ করবেন।
উক্ত উপরে বিষয় থেকে আপনি শবে কদর কত তারিখ ২০২৬ সালের এবং ঈদের সম্ভবত তারিখ ও
শবে কদরের সমস্ত আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
আশা করি আপনি এই আর্টিকেল থেকে উপকৃত হয়েছেন। আপনি এই আর্টিকেল থেকে কোন কোন
বিষয়ে উপকৃত হলেন তার সম্পর্কে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করুন এবং একটি কমেন্ট
করে যাবেন। এরকম আরো শিক্ষনীয় আর্টিকেল পাওয়ার জন্য আমার ওয়েবসাইটটি
ভিজিট করুন। এতক্ষন মনোযোগ দিয়ে আর্টিকেলটি সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য
ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url