২০২৬ সালের শবে বরাত কত তারিখ - সঠিক তারিখ জানুন
২০২৬ সালের শবে বরাত কত তারিখ তা সম্পর্কে অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে বা থাকে। প্রায়
অধিকাংশ লোককেই। আর মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন বা তারিখ গুলোর মধ্যে
শবে বরাত একটি। পবিত্র শবে বরাত কে লাইলাতুল বরাত বলা হয়।
এই অ্যাপটি হলো কুত্তার মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই পবিত্র রাত্রি কবে বা কত তারিখে তা সম্পর্কে অনেকের মাঝে প্রশ্ন রয়েছে। চলুন এই আর্টিকেল থেকে পবিত্র শবে বরাত রাত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
পোস্ট সূচীপত্রঃ২০২৬ সালের শবে বরাত কত তারিখ - সঠিক তারিখ জানুন
২০২৬ সালের শবে বরাত কত তারিখ
২০২৬ সালের শবে বরাত কত তারিখ, তা সম্পর্কে আমাদের ইসলাম ধর্মীয় মুসলমানদের মনে
জানার বিশেষ আগ্রহ থাকে। পবিত্র শবে বরাত আমাদের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত
ফজিলতপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ রাত। পবিত্র শবে বরাত কে আরবি ভাষায় " লাইলাতুল বরাত"
বলা হয়। সাধারণত ২০২৬ সালের শবে বরাত ও রমজান মাস শীতকালের মধ্যে পড়েছে। শবে
বরাত সাধারণত আরবি সপ্তম মাস অর্থাৎ সাবান মাসে পালিত হয়। সাবান মাসের ১৪ ও
১৫ তারিখ রাতে শবে বরাত পালন করা হয়। আমাদের মহানবী সাঃ এই রাতকে অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ বলে ঘোষণা করেছেন। হিজরী ১৪৪৭ সালের ১৫ সাবান মূলত
ঈদের আগে সর্বোচ্চ সম্পূর্ণ রাত গুলোর মধ্যে একটি।
২০২৬ সালের বাংলাদেশ আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শবে বরাত আরবি ১৪৪৭ সালের শাবান
মাসের ৩রা ফেব্রুয়ারি,রোজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।
মঙ্গলবারে সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু করে পরদিন বুধবার ভোর পর্যন্ত রা এবাদতের
মাধ্যমে এ রাত্রি অতিবাহিত করবে। এই রাতে বেশি বেশি এবাদত করতে হবে।
শবে বরাত এর অর্থ কি
আরবি ভাষা ও ফারসি ভাষার সমন্বয়ে গঠিত ইসলামিক পরিভাষায় মূলত শবে বরাত। এই
শব্দটি মুসলিম সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র রাতকে নির্দেশ করে। মুসলমানদের
কাছে ক্ষমা, রহমত ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে শবে বরাত পরিচিত।শবে শব্দের অর্থ হলো
রাত, আর বরাত শব্দের অর্থ হলো মুক্তি। ইসলামে পরিভাষায় বরাত বলতে গুনাহ থেকে
মুক্তি বা আল্লাহর নিকট ক্ষম প্রার্থনা করে ক্ষমা লাভ করাকে বরাত বলা হয়। এক
কথায় বলা যায় শবে বরাত শব্দের অর্থ হচ্ছে মুক্তির রাত।
আবার হাদিস ও ইসলামী পরিভাষায় শবে বরাত কে লাইলাতুল নিসফি মিন শাবান বলা হয়।
লাইলাতুল নিসফি মিন সাবান এর অর্থ হল মাসের মধ্যবর্তী রাত। অর্থাৎ ১৫ সাবানের
আগের রাতকে লাইলাতুল নিসফি মিন শাবান অর্থাৎ শবে বরাত বলা হয়।
শবে বরাতের গুরুত্ব
শবে বরাত ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত পূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহ
তাআলার রহমত ও মাগফিরাত নাজাত লাভের বিশেষ সুযোগ হিসেবে গণ্য করা হয়। যুগ যুগ
ধরে মুসলিম উম্মতরা এই রাতকে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করে
আসছে। শবে বরাতের গুরুত্ব শুধু একটি রাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি মানুষের
পুরো জীবন সংশোধনের একটি উপলকএর। প্রথমত মাগফিরাতের রাত হিসেবে শবে বরাতের
গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে যে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার অসংখ্য
বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে এবং গুনাহ ত্যাগ করার দৃঢ়
প্রতিজ্ঞা করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাদের জন্য এই রাত বিশেষ রহমত
বয়ে আনে। এজন্য শবে বরাতের গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ বলা
হয়।
আল্লাহর রহমত নাযিল হওয়ার রাত হিসেবেও এই রাতের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এই রাতে
আল্লাহ তাআলার রহমত ও দোয়া আসমান থেকে দুনিয়ার দিকে নেমে আসে। বান্দারা যখন চোখ
ভেজা কান্না অবস্থায় দোয়া করে, তখন আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করেন। এই শবে বরাত
মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ করার এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার সুযোগ। শবে বরাত
তকদির ও ফয়সালার রাত হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ইসলামে
বর্ণনা অনুযায়ী এই রাতে মানুষের জীবন-মৃত্যু, রিজিক ভালো-মন্দ সহ বিভিন্ন
বিষয়ের ফয়সালার কার্যকর হয়। যদিও চূড়ান্ত তকদির আল্লাহর কাছে নির্ধারিত তবুও
এই রাতকে দোয়া মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করার শ্রেষ্ঠ সময়
হিসেবে গণ্য করা হয়।
শবে বরাত আত্মশুদ্ধি ও আত্ম সমালোচনার রাত হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ সারা
বছর নানা ভুল গুনাহ করে ও অবহেলার মধ্যে ডুবে থাকে। এই রাত তাকে নিজের ভুলগুলো
স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আল্লাহর কাছে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা জাগায়। শবে বরাত
মানুষকে খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করে সৎ পথে ফিরে আসার শিক্ষা দেয়। শবে বরাত পরকালের
প্রস্তুতি রাত মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ বার্তা বহন করে। এই রাত মানুষকে মৃত্যুর
কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি
করায়। শবে বরাতের দিনে কবর জিয়ারত দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানরা এই রাতে
নিজেদের পরকালের কথা গভীরভাবে চিন্তা করে। যা তাদের ভুল পথ থেকে সরিয়ে আনতে
আকৃষ্ট করে।
শবে বরাত উম্মতের জন্য দোয়ার রাত। শুধু নিজের জন্য নয় পরিবার আত্মীয়-স্বজন
সমাজ ও সমগ্র মুসলিম উম্মতের কল্যাণ কামনায় এ রাতে বিশেষ দোয়া করা হয়। বিপদ
মুসিবত থেকে মুক্তির শান্তি ও হেদায়েতের জন্য দোয়া করার বড় সুযোগ এই রাত। শবে
বরাত রাত কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী রাত নয়, বরং এটি মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার একটি
বড় সুযোগ। এই রাত মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে উৎসাহ যোগায়, গুনা থেকে বিরত
থাকতে অনুপ্রাণিত করে এবং নৈতিক ও আর্থিক উন্নতির পথ দেখায়। তাই শবে বরাতের
গুরুত্ব মুসলমানদের জীবনে অপরিসীম ও চিরকালীন।
শবে বরাতের বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আমল সমূহ
শবে বরাত এমন একটি পবিত্র রাত যাকে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য ক্ষমা, রহমত ও
নাজাত লাভের বিশেষ সুযোগ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই রাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল
রয়েছে যেগুলো কোরআন ও হাদিস ইসলামের ঐতিহ্যবাহী আলোকে বিশেষ ফজিলত পূর্ণ বলে
বিবেচনা করা হয়। এসব আমলের মূল উদ্দেশ্য হল, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, আর্তসুদ্ধি
এবং গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করা। এই পবিত্র শবে বরাত রাতে আমল সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমতঃ আমাদের বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করতে হবে। সূরা ইখলাসের সাথে তওবা করা শবেবরাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল। এ রাতে আল্লাহ তায়ালার দরবারে নিজের সব গুনাহ স্বীকার করে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া মূল উদ্দেশ্য। পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। এবং সঙ্গে সঙ্গে ত্যাগ করা দৃঢ় সংকল্প করা। এ আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় লাভ করে।
- দ্বিতীয়তঃ নফল নামাজ আদায় করা শবে বরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ফরজ নামাজের পাশাপাশি দুই রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর সামনে বিনয় ও কাকুতি প্রকাশ করা হয়। নফল নামাজের কোন নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা নেই যতটুকু সম্ভব খুশু-খুজু সহকারে নামাজ আদায় করা উত্তম।
- তৃতীয়তঃ কোরআন তেলোয়াত শবে বরাতের একটি ফজিলত পূর্ণ আমল। এই রাতে কোরআন পড়লে অন্তর আলোকিত হয় এবং আল্লাহর কালামের মাধ্যমে বান্দা হেদায়েত লাভ করে। এই রাতে কোরআন মনোযোগ সহকারে তেলাওয়াত করা অত্যন্ত উপকারী ফজিলত।
- চতুর্থতঃ যে কে ও দরুদ শরীফ পাঠ শবে বরাতের ফজিলত পূর্ণ আমল গুলোর মধ্যে অন্যতম আমল। আল্লাহর নাম স্মরণ করলে অন্তর প্রশান্ত হয় এবং দুরুদ পাঠের মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ পায়। এই রাতে বেশি বেশি দরুদ শরীফ ও জিকির পাঠ করা অত্যন্ত সোয়াবের কাজ।
-
পঞ্চমতঃ মৃত মুসলমানদের জন্য দোয়া ও ইসালে সওয়াব করা এই শবে বরাতের রাতে
একটি তাৎপর্যপূর্ণ আমল। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও সকল মৃত মুসলমানদের রুহের
মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা এই রাতে একটি বিশেষ আমল। এতে ওদের অন্তর নরম
হয় এবং আখিরাতের কথা স্মরণ হয়।
-
ষষ্ঠতঃ নিজের জীবন পর্যালোচনা ও আত্মশুদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া শবে বরাতের
গভীর অর্থবহ আমল। এই রাতে নিজের অতীত ভুলগুলো স্মরণ করে সেগুলো সংশোধনে
সংকল্প করা উচিত। নিজের গুনাহের পথ পরিহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চলার
পথ নিয়ত করায় এই রাতের মূল শিক্ষা।
২০২৬ সালের শবে বরাতের রোজা কত তারিখ
শবে বরাতের রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এটির সাধারণত আমাদের পবিত্র রমজান
মাসের রোজার প্রস্তুতি জন্য আহ্বান জানায়। শবে বরাতের রোজা রাখা নফল। আল্লাহ
তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য আমাদের সকল নফল ইবাদতগুলো করা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের সকল নফল ইবাদত গুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা
প্রার্থনা করতে পারি। এবং আল্লাহতালা আমাদের নফল ইবাদতের মাধ্যমে সকলকে ক্ষমা করে
থাকেন। তাই আমাদের মুসলমানদের নফল ইবাদতগুলো করা অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ
গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত করা হয়।
আরো পড়ুনঃফজরের নামাজের শেষ সময়সুচী রাজশাহী ২০২৬
শাবান মাসে রোজা রাখা অত্যন্ত সবের কাজ। সাবান মাসে ই আমাদের পবিত্র শবে বরাত
পালিত হয়। তাই শবে বরাতের রোজা রাখা নফল এবাদত এর মধ্যে অন্যতম একটি। আপনি যদি
শবে বরাতের রোজা রাখতে চান তাহলে নিচের তারিখগুলো অনুসরণ করে রোজা রাখতে পারেন।
শবে বরাতের প্রধান রোজা (১৫ই শাবান, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি), ২০২৬ (বুধবার)।
অনেকেই দুটো রোজা রাখেন যেমন; (১৪ ও ১৫ই শাবান), ৩রা ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) এবং
৪ঠা ফেব্রুয়ারি (বুধবার)।
আবার অনেকেই শাবান মাসে তিনটি রোজা রাখেন(১৩,১৪ ও ১৫ শাবান) সেক্ষেত্রে ২,৩ ও ৪ঠা
ফেব্রুয়ারি। এই তারিখে রোজা রাখা উত্তম।
শবে বরাতের করণীয় কি কি
শবে বরাতের রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের আমলের জন্য তাদের সকল গুনাহ
মাফ করে দেয়। মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট এই পবিত্র শবে বরাত রাতে ক্ষমাপ্রার্থনা
করলে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তার ইবাদতগুলো কবুল করে নেন।
আল্লাহ পাক এই রাতে বান্দাদেরকে ক্ষমা করার জন্য আসমানে নেমে আসেন। এই পবিত্র
রাতে মুসলমান বান্দাদের নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলো বেশি বেশি করা উচিত। নিম্নে
পবিত্র শবে বরাতের রাতে করণীয় কি কি তা উল্লেখ করা হলোঃ
- বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতে হবে।
- এই রাতে কাজা নামাজ গুলো আদায় করতে হবে।
- বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে হবে।
- আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
- আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করা।
- বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা।
- বেশি বেশি ক্ষমাপ্রার্থনা করা।
- এই পবিত্র রাতে মৃত মুসলমানদের জন্য ক্ষমা চাওয়া
- নিজের মৃত পরিবার বা মৃত আত্মীয়-স্বজনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।
- অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া।
- ভবিষ্যতে ভালো থাকার প্রার্থনা করা।
- বেশি বেশি দান-খয়রাত করা ।
- বেশি বেশি দোয়া ও জিকির করা।
- আত্মশুদ্ধির সংকল্প করা ইত্যাদি।
পবিত্র শবে বরাতের বর্জনীয় কি কি
শবে বরাত হল, আল্লাহ তায়ালার রহমত ও ক্ষমা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই
রাতের মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মশুদ্ধি তওবা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। কিন্তু অনেক
সময় অবজ্ঞা কুসংস্কারের কারণে এমন কিছু কাজ করা হয় যা এই রাতের প্রকৃত
উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।তাই শবে বরাতের রাতে কিছু কাজ বর্জন করতে হবে।
যেমন;
- শিরক ও বিদ্যাত মূলক কাজ।
- এই রাতে ফরজ বা ওয়াজিব বলে মনে করা।
- আতশবাজি, ফানুস ও আনন্দ উৎসব করা।
- অশ্লীলতা ও গুনাহ মূলক কাজ করা।
- লোক দেখানো ইবাদত করা।
- অতিরিক্ত আলো, সাজসজ্জা ও অপচয় করা।
- কভারকে কেন্দ্র করে ভুল আচরণ করা।
- শবে-বরাতের রোজাকে ফরজ বা সুন্নত বলে প্রচার করা।
- সারারাত জেগে ইবাদত করে ফরজ নামাজে অলসতা করা।
- সকল পাপ কাজ বর্জন করা ইত্যাদি।
শবে বরাতের রাতে বর্জনীয় কাজগুলো পরিহার করায় হলো এই রাতে প্রকৃত সম্মান
রক্ষা করা। আর ইবাদত হবে সুন্নাহ সম্মত, বিশ্বাস হবে বিশুদ্ধ এবং আচরণ হবে সংযত
ও শালীন। তবে শবে বরাত আমাদের জীবনের সত্যিকারের পরিবর্তন ও কল্যাণ বয়ে আনতে
পারে।
উপসংহার
উপরোক্ত বিষয়ে আলোচনা, পবিত্র শবে বরাত ইসলাম ধর্ম অনুসারে তথা মুসলিম উম্মার
জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই রাতে বিভিন্ন ইবাদত ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে
আল্লাহর কাছ থেকে রহমত ও মাগফিরাত লাভ করা যায়। আমাদের সকলের উচিত এই রাতে
আল্লাহর নিকট বেশি বেশি ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়া এবং রহমত লাভ
করা।
আশা করি উপরের পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার ভালো
লেগেছে। এবং শবে বরাত সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় জানতে পেরেছেন। এরকম আরো নতুন
নতুন তথ্য পাওয়ার জন্য আমার ওয়েবসাইটটি সাবস্ক্রাইব করে সাথে থাকুন। উপরোক্ত
বিষয়ে আপনি কোন বিষয়ে উপকৃত হয়েছেন তার সম্পর্কে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার
করুন। এবং একটি কমেন্ট করে যাবেন। এতক্ষন আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url