কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়
কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় তা সম্পর্কে আপনি কি জানতে চাচ্ছেন।
তাহলে আপনি এই আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন সাধারণত শিশুদের কোন কোন ক্ষেত্রে বা
কিসের অভাবে দাঁত উঠতে দেরি হয়। সম্পূর্ণ জানতে আর্টিকেলটি পড়ুন।
দাঁত শুধু শিশুদের ক্ষেত্রে নয় বরং বড়দের ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ
অংশ। শিশুর দাঁত কখন উঠবে বা দেরী হওয়ার এর কারণ কি, দুধ দাত ও স্থায়ী দাঁতের
মধ্যে পার্থক্য কি সাধারণত এই প্রশ্নগুলো অনেক মা-বাবা মনে ঘুরপাক খায়। তাই আসুন
এই আর্টিকেল থেকে সকল বিষয়ে জেনে নিই।
পোষ্ট সূচিপত্রঃ কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়
- কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়
- শিশুর দাঁত ওঠার সাধারণত স্বাভাবিক সময়
- শিশুর পুষ্টির অভাবে দাঁত উঠতে দেরি হয়
- হরমোনের সমস্যায় কেন শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয়
- বংশগত কারণেও শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয়
- জন্মগত কারণেও শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয়
- দাঁত উঠতে দেরি হলে কি কি লক্ষণ দেখা যায়
- দাঁত উঠতে দেরি হলে করণীয় কি কি
- শিশুর খাবারের অভাবে দাঁত উঠতে দেরি হয় কেন
- লেখক এর শেষ কথাঃকোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়
কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়
কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় ? শিশু হোক বা বড় মানুষ দাঁত
আমাদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুর দাঁত ওঠা তার শারীরিক বৃদ্ধি
ও স্বাভাবিক বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণ ছয় থেকে আট মাস হলে প্রথম
দাঁত ওঠা শুরু করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে একই বয়সের অন্য শিশুদের
দাঁত উঠে গেলেও কিছু কিছু শিশুর দাঁত দেরিতে উঠে। আর এই শিশুর দাঁত উঠতে দেরি
হওয়ায় অনেক বাবা-মার দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। এবং তারা ভাবে যে কিসের জন্য
শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হচ্ছে বা কোনটির অভাবে শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয় ? আর
এসব বিষয় জানার জন্য কৌতুহল বাড়ে। সব সময় কোন গুরুতর সমস্যার লক্ষণ নয়, তবে
কিছু নির্দিষ্ট কারণও থাকে তাই সেগুলো জানা খুবই জরুরী। অনেক সময় দাঁত উঠতে দেরি
হওয়ার পিছনে পুষ্টির অভাব থাকে, ভিটামিনের ঘাটতি ও জন্মগত, বংশগত
কারণ ইত্যাদি। আবার শারীরিক কিছু সমস্যা যার কারণে হয়ে থাকে। আমরা অনেক
সময় না জানার কারণে শরীরের অনেক কিছুই লক্ষণ অবহেলা করে থাকি। অনেক সময় সঠিক
তথ্যর অভাবে অনেক বাবা মা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, আবার ভুল সিদ্ধান্ত নেন, যা শিশুর
জন্য বড় ক্ষতিকর হতে পারে।
আমরা এই আর্টিকেল থেকে সহজ ও পরিষ্কার ভাবে আলোচনা করেছি যে শিশুর দাঁত সাধারনত
কখন ওঠে কোন কোন পুষ্টির অভাবে দাঁত উঠতে দেরি হয়, দুধ দাত ও স্থায়ী দাঁতের
পার্থক্য কি, দাঁত উঠা কি বংশগত বা জন্মগত হতে পারে কিনা এবং দাঁত ওঠা, দেরি হলে
বাবা-মায়ের করনীয় কি পুরো বিষয় ধাপে ধাপে বাস্তব উদাহরণ ব্যাখ্যা মাধ্যমে
উপস্থাপন করা হয়েছে। আপনি এই আর্টিকেল পড়লেই সহজেই সকল বিষয় বুঝতে পারবেন এবং
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তাই সকল বিষয় জানার জন্য এই আর্টিকেলটি
সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আশা করি নিচের আর্টিকেলটি পড়লে আপনার সকল বিষয়ে
সহজভাবে ধারণা লাভ করবেন।
শিশুর দাঁত ওঠার সাধারণত স্বাভাবিক সময়
কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় ? শিশুর দাঁত ওঠা তার শারীরিক ও মানসিক
বিকাশের একটি স্বাভাবিক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রতিটি শিশুর শরীরের গঠন একরকম হয়
না, তবে শরীরের গঠন একরকম না হলেও দাঁত ওঠার একটি সাধারণ সময়সীমা রয়েছে।
সেই সময়ের ভিতর বেশিরভাগ শিশুর দাঁত উঠতে শুরু করে, আবার কিছু ভাগের শিশুর
দাঁত উঠতে দেরি হয়। তাই এই সময়সীমা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে অনেক বাবা-মা
অকারণে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। সাধারণত শিশুর দাঁত ওঠার বয়স হল, শিশুর বয়স ৬
থেকে ৮ মাস হলে প্রথম দুধদাত উঠতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রেই শিশুর নিচের
চোয়ালের সামনে আগে দুইটি দাঁত দেখা যায়। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে
পাঁচ মাসে দাঁত উঠতে পারে, আবার অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ০৯ বা ১০ মাসের মধ্যে
উঠতে পারে। এটিকে আমরা সাধারণত স্বাভাবিক শিশুর দাঁত ওঠার সময় হিসেবে জেনে থাকি।
আর কয়েক মাস দেরি হওয়া মানে যে কোন সমস্যা হয়েছে এমন ভাবা যাবে না।
দাঁত ওঠার এই স্বাভাবিক সময় নির্ভর করে শিশুর পুষ্টি শরীরে বৃদ্ধি ও হরমোন
কার্যকারিতা এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর। আমরা সাধারণত জানি, গর্ব অবস্থায় মায়ের
পুষ্টি ঠিক থাকলে শিশুর দাঁতের বীজ ঠিকমতো তৈরি হয়। এরপর জন্মের পর পর্যাপ্ত দুধ
খাবার ও যত্ন পেলে নির্যাতিত সময়ের মধ্যে সাধারণত দাঁত বের হয়ে আসে। যদি কোন
শিশুর বয়স ১২ মাস পার হয়ে যায়, এবং একটুও দাঁত না ওঠে তবে বিষয়টি গুরুত্বের
সঙ্গে দেখা দরকার। সকল বিষয়ে বাবা-মার জানা থাকলে খুব সহজেই তারা বুঝতে পারেন যে
কখন তাদের অপেক্ষা করা উচিত এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। দাঁত ওঠার
ক্ষেত্রে সামান্য দেরী স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘ সময় দাঁত না উঠলে সেটিকে অবহেলা না
করে তার কারণ নিশ্চিত করে সঠিক উপায় বের করতে হবে।
শিশুর পুষ্টির অভাবে দাঁত উঠতে দেরি হয়
শিশু দাঁত ওঠার সঙ্গে তার শরীরের পুষ্টির সম্পর্ক খুবই গভীর। শরীরে পুষ্টি
যদি কম পৌঁছায়, তাহলে শরীরে আগে বাঁচার জন্য যে জরুরী শক্তি ব্যবহার করে সেখানে
ব্যয় হয় এবং দাঁত বা হাড় গঠনের জন্য পুষ্টি কমে যায়। সাধারণত এই কারণে
পুষ্টির অভাব হলে শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয়। মূলত হাড়ের মতো এটি শক্ত অংশ।
শিশুদের দাঁত গঠনের জন্য শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডি থাকা
অত্যন্ত জরুরী। এই পুষ্টি গুলোর যেকোনো একটি ঘাটতি হলে দাঁতের বীজ ঠিকভাবে
শক্ত হয় না যার কারণে দাঁত মাড়ির ভিতরে তৈরি হয়ে বাইরে বের হতে অনেক
সময় লাগে। যেমন ক্যালসিয়ামের অভাব;
ক্যালসিয়াম হল দাঁত ও হাড় তৈরির প্রধান উপাদান। শিশুর দাঁতের মূল কাঠামো
গঠনের ক্যালসিয়ামের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাই শিশুর শরীরে যদি ক্যালসিয়াম কম
থাকে তাহলে দাঁতের গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে। দাঁতের বীজ তৈরি হলেও তা যথেষ্ট শক্ত
হতে পারেনা, তাই দাঁত মাড়ির ভিতরে আটকে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে বের হতে পারে
না। তাই বলা যায়, প্রথমত এই কারণেই শিশুর দাঁত দেরিতে ওঠে।
ক্যালসিয়ামের অভাবে শুধু দাঁত নয় শিশুর হাড়ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি শিশুরা
অনেক সময় দেরিতে বসা বা দেরিতে হাটা এবং শরীরের বৃদ্ধি ধির হয়। দাঁত ওটা দেরি
হয় এই দুর্বলতা একটি বড় লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। তাই আমাদের শিশুদের শরীরে
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণের জন্য, তাদের খাবারে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ
দুধ, দুই ছানা বা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। আর সাধারণত এসব খাবার যদি
শিশুদের দেওয়া না হয় তবে তাদের বিভিন্ন সমস্যাগুলো দেখা দেয়। তাই বলা
যায় যে, শিশুদের দাঁত ওঠার জন্য ক্যালসিয়াম অত্যন্ত জরুরী। ভিটামিন ডি এর অভাব
দাঁত ওঠায় কিভাবে প্রভাব ফেলে ? অনেক বাবা মায়ের জানেন না যে শুধু
ক্যালসিয়াম থাকলে দাঁত উঠে না বরং ভিটামিন ডি না থাকলে ক্যালসিয়াম শরীরে ঠিকমতো
গ্রহণ করতে পারে না।
ভিটামিন ডি শরীরকে খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। এবং শিশুর
শরীরে ভিটামিন ডি কম থাকলে খাবারের ক্যালসিয়াম থাকলেও তার পুরো উপকার পাওয়া
যায় না এর ফলে দাঁত বা হাড় দুটোই দুর্বল হয়ে পড়ে। ভিটামিন ডি এর অভাবে অনেক
সময় শিশুর রিকেটস নামক হতে পারে যেখানে হার নরম হয়ে যায়। এই অবস্থায় দাঁত
উঠতে অনেক দেরি হয় বা শিশুর শরীরে অস্বাভাবিকভাব দেখা দেয়। শিশুকে যদি নিয়মিত
সূর্যের আলোতে না নেওয়া হয়, তাহলে শরীরে ভিটামিন ডি কমে যায়। বিশেষ করে
লক্ষ্য করা যায় শহরে ভিতরে ঘরে বেশি থাকা শিশুদের মধ্যে এই সমস্যাটি দেখা দেই।
তাই বলা যায় শিশুদের শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি কমানোর জন্য সকাল বিকাল হালকা
রোদ শিশুর দাঁত ও হাড়ের জন্য খুবই উপকারী।
শরীরে ক্যালসিয়ামের সহযোগী হিসেবে ফসফরাস হলো একটি উপাদান। সাধারণত এই দুটি
উপাদান একসাথে কাজ করে দাঁত ও হারকে শক্ত করে। শিশুর শরীরে যদি ফসফরাস কম থাকে,
তাহলে শরীরে ক্যালসিয়াম ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে দাঁতের গঠন দুর্বল হয়
এবং দাঁত ওঠার প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে কম হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে দাঁত
উঠলে, তা ভেঙ্গে যায় বা সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফসফরাসের অভাবে শিশুর শক্তি কম
থাকে এবং খাওয়ার আগ্রহ কমায়, যা শরীরেকে ঠিকমতো বাড়তে দেয় না। এসব কারণে
সাধারণত দাঁত ওঠার মত প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফসফরাসের জন্য,
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার,ডিম,মাছ,দুধ সাধারণত এগুলোই ফসফরাসের জন্য ভালো উৎস। শিশুর
খাদ্য তালিকায় এসব না থাকলে ফার্স্ট পর্যায়ের ঘাটতি শিশু শরীরে তৈরি হতে
পারে। এই তিনটি একসাথে ভারসাম্যপূর্ণ থাকলে শিশুর দাঁত স্বাভাবিক সময়ে ওঠে।
যেকোনো একটি উপাদানের অভাব পুরো প্রতিক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।
হরমোনের সমস্যায় কেন শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয়
শিশুর শরীরে বৃদ্ধি হার শক্ত হওয়া এবং দাঁত ওঠা এসব কিছুই শরীরের ভেতরের কিছু
গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের উপর নির্ভর করে থাকে। হরমোন হলো শরীরের ভেতরে তৈরি হওয়া
বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ যা শরীরকে কিভাবে বাড়তে হবে কখন কোন কাজ করতে হবে এই
নির্দেশ দিয়ে থাকে। যদি এই হরমোন গুলোর মধ্যে কোনো ঘাটতি বা সমস্যা দেখা দেয়
তাহলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির হয় এবং তারই একটি লক্ষণ হিসেবে দাঁত উঠতে দেরি
হয়। শিশুর দাঁত ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হরমোন হলো থাইরয়েড
হরমোন এবং গ্রোথ হরমোন। এই হরমোন গুলো ঠিকভাবে কাজ না করলে দাঁত হার ও শরীরের
সামগ্রী বিকাশ কম হয়ে যায়।
যেমন থাইরয়েড হরমোন, থাইরয়েড হরমোন হলো, শিশুর শরীরের বিপাক ক্রিয়া
বা কাজের গতি নিয়ন্ত্রণ করে রাখে। এই হরমোন ঠিক থাকলে শরীরের প্রতিটি
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সময়মতো বৃদ্ধি পায়। যদি শিশুর শরীরের থাইরয়েড হরমোন কম থাকে
তাহলে, শিশুর শরীরের কাজ ধীর হয়ে যায়, হার ও দাঁতের বৃদ্ধি সঠিক সময়ে হয় না,
দাঁতের বীজ তৈরি হলো তার শক্ত হতে দেরি হয়, ফলে দাঁত মাড়ির ভিতরে
আটকে থাকে। অনেক সময় শিশু জন্মগতভাবে এই সমস্যায় পরে, আবার কখনো জন্মের
পরেও ধীরে ধীরে এই সমস্যা দেখা দেয়। থাইরয়েড হরমোনের অভাবে শুধু দাঁত নয়,
শিশুর ওজন বাড়ে ন, শিশু অলস থাকে ও বেশি ঘুমায় এবং ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না।
তাই দাঁত উঠতে দেরি হলে এই লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখা জরুরী।
গ্রোথ হরমোনের অভাবে কি প্রভাব ফেলে ? গ্রোথ হরমোন হল, শিশুর উচ্চত,
ওজন এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোন কম থাকলে শরীরের
সামগ্রিক বৃদ্ধি আসতে হয়ে যায়। গ্রোথ হরমোনের অভাবে সাধারণত শিশুর ও উচ্চতা
বয়স অনুযায়ী কম থাকে, হাড় শক্ত হতে দেরি হয় ও দাঁতের গঠন আসতে আসতে হয় এবং
দাঁত উঠে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক সময় বেশি লাগে। এমন শিশুরা অনেক সময় দেরিতে
বসে এবং দেরিতে হাঁটা ও দাঁত ওঠার সময় পিছিয়ে যায়। দাঁত ওঠা দেরি হওয়া এখানে
একটি আলাদা সমস্যা না এবং শরীরের সামগ্রিক বৃদ্ধির সমস্যার একটি অংশ। হরমোন জনিত
সমস্যায় দাঁত উঠতে দেরি হলে কিভাবে বোঝা যায় ? হরমোনের কারণে দাঁত ওঠা
দেরি হলে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ একসাথে দেখা যায় যেমন ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে একটিও
দাঁত না ওঠা, শিশুর ওজন ও উচ্চতা বয়স অনুযায়ী কম থাক, শিশুর চলাফেরা ও কথা বলা
দেরিতে শুরু হওয়া, শিশুকে সবসময় দুর্বল মনে হওয়া ইত্যাদি। থাকলে শুধু দাঁতের
ডাক্তার নয় বরং শিশু বিশেষজ্ঞ বা হরমন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া জরুরী।
- হরমোন সমস্যায় দাঁত দেরিতে ওঠা হলে করণীয় কি ? হরমোন জনিত সমস্যার দাঁত ওঠা দেরি হলে আতঙ্কিত হওয়ার কোন দরকার নেই কারণ আধুনিক চিকিৎসায় এর ভালো সমাধান রয়েছে। যেমন প্রথমে রক্ত পরীক্ষা করে হরমোনের মাত্রা দেখা হয়
- থাইরয়েড বা গ্রোথ হরমোন কম থাকলে ডাক্তার ওষুধ দেন
- নিয়মিত ফলোআপে হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়
- হরমোন ঠিক হলে ধীরে ধীরে দাঁত ওঠাও শুরু হয়
সবচেয়ে ভালো দিক হলো ছোটবেলায় সমস্যা ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসায় শিশুর বৃদ্ধি
অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। শিশুর দাঁত ওঠা দেরির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো
হরমোনের সমস্যা উপেক্ষিত কারণ। অনেক বাবা-মা শুধু দাঁতের দিকেই নজর দেন, কিন্তু
শিশুর বৃদ্ধি ও হরমোনের অবস্থার দিকে তাকান না এতে শিশুর সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে
থাকে। তাই অনেক ক্ষেত্রে দাঁত উঠতে দেরি হলে হরমোন জনিত কারণগুলো কেউ গুরুত্ব
দিয়ে দেখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বংশগত কারণেও শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয়
অনেক সময় শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হওয়ার পিছনে কোন খাবারের অভাব বা শারীরিক
অসুস্থতার কারণে হয় না। বরং এই বিষয়টি পুরোপুরি বংশগত কারণেও হতে পারে। বংশগত
মানে হলো শিশু তার বাবা মা বা পরিবারের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে যে শারীরিক
বৈশিষ্ট্য পাই সেই বৈশিষ্ট্য প্রভাব তার শরীরে গঠন ও বৃদ্ধিতে পড়ে। আমাদের শরীরে
উচ্চতা গায়ের রং চোখের আকৃতি যেমন বংশগতভাবে নির্ধারিত হয় ঠিক তেমনি দাঁত ওঠার
সময় তাদের আকার ও সংখ্যা একই বিষয়গুলো ওপর প্রভাব ফেলে। তাই দেরিতে উঠলে সেটি
সব সময় রোগ বা সমস্যার লক্ষণ হিসেবে ধরা ভুল হতে পারে। পরিবারের দাঁত ওঠার
ক্ষেত্রে কেন গুরুত্বপূর্ণ কেন যদি বলা যায়, শিশুর বাবার বা মায়ের দাঁত
ছোটবেলায় দেরিতে উঠেছিল, পরিবারের অন্য ভাই বোন বা আত্মীয়দের দাঁতও দেরিতে
উঠেছে, দুধ দাগ পরে স্থায়ী দাঁত উঠতেও দেরি হয়েছে। এমন স্বাভাবিকভাবে কিছু
শিশুর ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রভাব প্রবণতা দেখা দিতে পারে। একে বলা হয় পারিবারিক
বা বংশগত বৈশিষ্ট্য। এই ক্ষেত্রে শিশুর দাঁত দেরিতে উঠলেও সাধারণত দাঁত সুস্থ ও
স্বাভাবিকভাবে ওঠে শুধু সময়টা একটু বেশি লাগে।
যদি বংশগত কারণে দাঁত উঠতে দেরি হয় তাহলে সাধারণত কিছু বিষয় লক্ষ্য করা যায়
যেমন;
শিশুর শরীরের অন্য কোন বড় সমস্যা থাকে না, উচ্চতা মোটামুটি স্বাভাবিক থাক, দাঁত
উঠতে দেরি হল দাঁতের রং ও গঠন ঠিক থাক, একবার দাঁত উঠতে শুরু করলে ধীরে ধীরে সব
দাঁতই ওঠে ইত্যাদি। সাধারণভাবে এখানে দাঁত দেরিতে ওঠা ছাড়া আলাদা কোন গুরুত্বার
লক্ষণ দেখা যায় না। এটাই বংশগত কারণে দাঁত ওঠার দেরির একটি বড় পার্থক্য।
অনেক বাবা মা এটি বংশগত দেরি না রোগজনিত দেরি এই দুই বিষয় গুলিয়ে ফেলেন কিন্তু
পার্থক্য বোঝা খুবই জরুরী। বংশগত কারণে দাঁত ওঠা দেরি হলে শিশুর সাধারণত চন্মনে ও
সংক্রিয় থাকে, খাওয়া-দাওয়া ভালো ও ঠিকঠাক থাকে, অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা করে
ইত্যাদি। তবে যদি দাঁ ত ওঠা দেরি হয় রোগ বা পুষ্টির অভাবে তাহলে সাধারণভাবে
শিশুর ওজন কম থাকে, বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ে, শরীর অনেক দুর্বল দেখায় ইত্যাদি।
এসব পার্থক্য বুঝতে পারলে বাবা-মার দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যাবে।
আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বংশগত কারণে দাঁত ওঠা দেরি হলে সাধারণভাবে আলাদা কোন
চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। শুধু নিয়মিত পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট। তবে যদি শিশু
বয়স ১৫ থেকে ১৮ মাস পার হয়ে যায় এবং একটিও দাঁত না ওঠে তবে সতর্কতার জন্য সাথে
সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো। আর অন্যদিকে, বংশগত কারণে দাঁত ওঠা দেরি
হলেও বাবা-মায়ের উচিত শিশুর খাবার ও পুষ্টির দিকে নিয়মিত খেয়াল রাখা,
অযথা ওষুধ বা ক্যালসিয়াম না দেওয়া, অন্য শিশুদের সাথে তুলনা করে চাপ না দেওয়া
নিয়মিত শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে ফলোআপে থাকা ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি
শিশু আলাদা এবং তার বেড়ে ওঠার গতিও আলাদা। তাই বংশগত কারণে শিশুর দাঁত উঠতে দেরি
হবে। আর এটি কোন রোগ নয় বরং পারিবারিক বৈশিষ্ট্য একটি অংশ বিশেষ।
জন্মগত কারণেও শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয়
শিশু দাঁত ওঠা একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া কিন্তু এটি কিছু শিশুর ক্ষেত্রে
জন্মগত কারণের কারণে দেরিতে দাঁত উঠতে পারে বা দাঁতের গঠন ভিন্ন হতে পারে।
জন্মগত সমস্যা মানে হলো শিশুর জন্মের সময় থেকেই শরীরে কোন বিশেষ সমস্যা থাকা যা
দাঁত, হাড় এবং মুখের গঠনের উপর প্রভাব ফেলে। এই ধরনের সমস্যা সাধারণত জেনেটিক্স
বা গর্ভকালীন বিকাশের ত্রুটি থেকে আসে। জন্মগত সমস্যা কারণে শিশুর দাঁত উঠতে দেরি
হওয়ার বা অস্বাভাবিক হওয়া বিভিন্নভাবে দেখা যায় এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হল,
ঠোঁট বা তালুকাটা। এই সমস্যায় শিশুর মুখের ছাতি বা ঠোঁট পুরোপুরি বন্ধ থাকে। ফলে
ঠিকঠাক গঠিত হয় না বা দাঁত ওঠার সময় বিপর্যয় ঘটতে পারে। দাঁত উঠলেও তা ঠিকঠাক
ভাবে সারিবদ্ধ ভাবে না থেকে মাঝে মাঝে অস্থির অবস্থায় থাকে। এবং এই ধরনের
শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ দন্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। আর অন্যটি হলো জেনেটিক
সিনড্রোম । এ ধরনের শিশুদের দাঁত ওঠার সময় সাধারণত শিশুর তুলনায় আসতে হয়।
দাঁতের আকার বা সংখ্যা স্বাভাবিক এর চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। নারী শক্ত না হওয়া বা
দাঁতের স্তর অসম হওয়া দেখা যায়। এবং এই কারণগুলোর জন্য ডাক্তারদের নিয়মিত
পর্যবেক্ষণের দরকার হয়।
হাড়ের বিকাশ জনিত জন্মগত সমস্যা কারণে শিশুর জন্মের সময় যদি হাড় বা মুখের গঠন
ঠিক না থাকে তাহলে দাঁতের জন্য পর্যাপ্ত স্থান না থাকা একটি বড় সমস্যা হতে পারে।
এতে দাঁত ওঠার সময় বিলম্ব হয় বা দাঁত বিবৃতভাবে উঠতে পারে। আবার কখনো কখনো দাঁত
আংশিকভাবে উঠতেও পারে বা পুরোপুরি না উঠতেও পারে। যেসব শিশুর জন্মগত সমস্যা আছে
তাদের ক্ষেত্রে দাঁতের প্রতিক্রিয়া আলাদা আলাদা হয় যেমন; এক বা একাধিক দাঁত
সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে ওঠে। দাঁতের আকার বা শাড়ি অসমান ও
বিবৃত থাকে, শিশুর মুখ বা ঠোঁটের গঠন স্বাভাবিক থাকে না। দুধ দাঁত পড়লেও
স্থায়ী দাঁতের জন্য পর্যাপ্ত স্থান থাকে না। তাই এই লক্ষণ গুলো দেখে বাবা-মা
বুঝতে পারেন যে শিশুর দাঁত ওঠার স্বাভাবিকের থেকে আলাদা হচ্ছে কিনা।
জন্মগত সমস্যায় থাকলে করনীয় হল, নিয়মিত শিশু বিশেষজ্ঞ ও ডেন্টাল বিশেষজ্ঞের
কাছে ফলোআপ রাখতে হবে। দাঁতের বিকাশ ও গঠন পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনের সার্জারি
বা বিশেষ দন্ত চিকিৎসা নিতে হবে, এবং উপস্থিতি ঠিক রাখার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
জন্মগত রোগ বা সমস্যা থাকা মানে, শিশুর দাঁত ওঠা কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক হতে
পারে। তবে বর্তমানে আজকের আধুনিক চিকিৎসায় এই সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা
সম্ভব হচ্ছে। তাই শিশুর দাঁত ও মুখের গঠন স্বাভাবিক রাখা। তাই বাবা মায়ের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতন থাকা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
দাঁত উঠতে দেরি হলে কি কি লক্ষণ দেখা যায়
শিশুর দাঁত ওঠা একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে যদি দাঁত স্বাভাবিক সময় না উঠে
দেরি হয়, তা একাধিক লক্ষণ এর মাধ্যমে বোঝা যায়। বাবা মায়ের জন্য এই লক্ষণগুলো
চেনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক সময় চিকিৎসা নিলে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
বয়স অনুযায়ীর দাঁত না ওঠা; সাধারণত প্রথম দুধ দাঁত সাধারনত ৬ থেকে ৮ মাস
বয়সে ওঠে। তবে যদি শিশুর বয়স ১২ থেকে ১৫ মাস পার হয়ে গেলেও কোন দাঁত না ওঠে,
এবং প্রথম দুধ দাত ওঠার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় দেরি হয় তাহলে এটি দাঁত ওঠার
একটি প্রধান লক্ষণ। মাড়ি ফোলা বা শক্ত থাকা; স্বাভাবিকভাবে দাঁত ওঠার সময় হয়
ফুলে যায় এবং কোমল হয়। কিন্তু যদি মারে দীর্ঘ সময় নরম বা ফোলা না থাকে দাঁতের
গঠন ঠিকমতো হচ্ছে না এবং দাঁত মারির ভিতর আটকে রয়েছে। সাধারণভাবে এটিও দাঁত ওঠার
দেরি একটি লক্ষণ।
শিশুর বৃদ্ধি ও ওজন কমে যাওয়া, অনেক সময় দাঁত ওঠা দেরি সঙ্গে শিশু সামরিক
বৃদ্ধি ওজনের দীর্ঘতীয় যুক্ত থাকে। যদি দেখা যায় শিশুর উচ্চতা বয়স অনুযায়ী কম
হয়, ওজন বাড়ে ধীরে ধীরে এবং শিশুর খাবার খাওয়ার আগ্রহ কম থাকে। তাহলে এটি
পুষ্টির অভাব বা হরমোন জনিত কারণে দাঁত ওঠা দেরীর লক্ষণ হতে পারে। বারবার অসুস্থ
হওয়া বা দুর্বল থাকা দাঁত ওঠা দেরি প্রায় শরীরের সামগ্রিক দুর্বলতার সঙ্গে
সম্পর্কিত থাকে। লক্ষণগুলো হল বারবার সর্দি কাশি বা অন্য অসুস্থতা সম্মুখীন
হওয়া, খেলাধুলা ও চলাফেরা অনীহা এবং শক্তি কম থাকা ইত্যাদি। এ ধরনের শিশুদের
ক্ষেত্রে দাঁত ওঠার প্রতিক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। দাঁতের আকার বা অবস্থানের
অস্বাভাবিকতা অবস্থায় যদি দাঁত উঠতে শুরু করে তাহলে কিন্তু দাঁতের শাড়ি অসম বা
ভুল ভাবে ওঠে। দাঁতের আকার অস্বাভাবিক এবং কিছু দাঁত অর্ধেক ওঠা অবস্থায় আটকে
যাওয়াতে দাঁত দেরি করে ওঠার লক্ষণ বলা হয়।
শিশুর দাঁত ওঠার সময় কিছুটা অবস্তি হয়।
তবে যদি দীর্ঘ সময় দেখা যায়, যেমন খাবার খেতে সমস্যা, চিবাতে বা কামড়াতে দেরি এবং
মাঝে মাঝে কাঁদতে বা অস্বস্তি দেখানো ইত্যাদি। তাহলে দাঁত ওঠা দেরির লক্ষণ হিসেবে
দেখা যায়। আর সাধারণভাবে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
উত্তম।
দাঁত উঠতে দেরি হলে করণীয় কি কি
কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় ? শিশুর দাঁ ত উঠতে দেরি হলে অনেক
বাবা-মা ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, সব দেরি সব সময় ভয়ের
কারণ হয় না। কিছু শিশুর স্বাভাবিকভাবে একটু দেরিতে দাঁত ওঠে। তবে যদি দেরি
বেশি হয় তাহলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া
জরুরী। যেমন প্রথমে ভয় না পেয়ে শিশুর বয়স হিসাব করুন। যেমন সাধারণত
শিশুদের প্রথম দুধ দাঁত ৬ থেকে ৮ মাসে ওঠে। তবে ১০ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত দাঁত না
উঠলেও সব সময় সমস্যা না হতে পারে। অনেক শিশুর দাঁত এক বছর পার হওয়ার
পরও ওঠে। তাই একদম শুরুতে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুর বয়স শারীরিক বৃদ্ধি ও
ওজন একসঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
শিশুর খাবার ও পুষ্টির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া, যেমন দাঁত ওঠা দেরি সবচেয়ে বড়
কারণ হলো পুষ্টির অভাব। তাই করনীয় শিশুকে নিয়মিত দুধ ডিম শাকসবজি ও ফলমূল
খাওয়ানো। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন, দুধ দুই ছোট মাছ ইত্যাদি। ভিটামিন ডি
এর জন্য সকালে হালকা রোদে বসানো। মনে রাখতে হবে যে ভিটামিন ডি না থাকলে শরীরে
ক্যালসিয়াম ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেন।
অনেক বাবা-মা শিশুকে রোদে দিতে ভয় পান, কিন্তু সকালে ২৫ থেকে ২০ মিনিট হালকা
রোদে ও মুখ হাত পা খোলা রেখে বসানো, এতে শরীরের স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন ডি তৈরি
হয় যা দাঁত ও হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে। শিশুর ওজন ও উচ্চতা নিয়মিত
পর্যবেক্ষণ করা যদি দাঁত উঠতে দেরি হয় সঙ্গে সঙ্গে ওজন কম, উচ্চতা বাড়ছে
ধীরে, শরীর দুর্বল দেখায় ইত্যাদি। তাহলে বুঝতে হবে সমস্যা শুধু দাঁতের নয়
শরীরের সামগ্রিক বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত আছে। অনেক সময় দাঁত উঠতে দেরির
পিছনে বংশগত কারণ থাকে। যেমন বাবা-মায়ের দাঁত ও ছোটবেলায় দেরিতে উঠেছিল এবং
পরিবারের পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রে বা পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রেও একই
ঘটনা ঘটলে সাধারণত বড় কোন সমস্যা হয় না শুধু একটু দাঁত উঠতে দেরি হয়।
অন্যদিকে, অনেকে ভাবেন দাঁত না উঠলে মুখ পরিষ্কার করার দরকার নেই, এটা ভুল
ধারণা। সব সময় পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে মাড়ি মুছে দিন। এতে মাড়ি
সুস্থ থাকে ও দাঁত উঠতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। বাড়িতে সংক্রমণ থাকলে দাঁত
ওঠা আরো বেশি দেরি হতে পারে। তাই মারি সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
অবশ্যই শিশুর ১৫ থেকে ১৮ মাস পার হয়েও যদি দাঁত না ওঠে তবে ডাক্তারের পরামর্শ
নিন। শিশু বিশেষজ্ঞ ডেন্টাল ডাক্তার দেখানো উচিত। প্রয়োজনে ক্যালসিয়াম বা
ভিটামিন ডি পরীক্ষা করা ও হরমোন সংক্রান্ত পরীক্ষা এবং এক্সরে দাঁতের বীজ আছে
কিনা তা দেখা ইত্যাদি। এসব পরীক্ষা করলেই সাধারণত বোঝা যাবে যে শিশুর কোনটির
প্রয়োজন বা কি হয়েছে। আবার অনেক মা-বাবায় আছেন তারা নিজেরাই ক্যালসিয়াম সিরাপ
ভিটামিন সি ড্রপ দেওয়া শুরু করেন, যা শিশুর শরীরের ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ায়। অতিরিক্ত
ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি শিশু কিডনি ও শরীরের ক্ষতি করতে পারে তাই ডাক্তারের
পরামর্শ ছাড়া কিছুই দেওয়া ঠিক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন ও পুষ্টি দিলে
শিশুর দাঁত স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।
শিশুর খাবারের অভাবে দাঁত উঠতে দেরি হয় কেন
শিশুর দাঁত ওঠা তার শারীরিক বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু এই স্বাভাবিক
প্রতিক্রিয়া টি সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য শিশু শরীরে পর্যাপ্ত
সুষম খাবার পৌঁছানোর অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে
তাহলে দাঁত ওঠার দেরি হওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। শিশুর শরীর যখন
পর্যন্ত খাবার পায় না, তখন শরীর-প্রথমে বাঁচার জন্য জরুরী কাজগুলোতে শক্তি
ব্যবহার করে থাকে। যেমন হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, শ্বাস প্রশ্বাস ইত্যাদি। দাঁত ও হাড়
গঠনের মত বিষয়গুলো তখন শরীরের কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় এর ফলে দাঁত ওঠার
প্রতিক্রিয়া আসতে হয়ে যায়। দাঁত ওঠার জন্য শুধু ক্যালসিয়াম নয় প্রোটিন
ফসফরাস ম্যাগনেসিয়াম সহ আরো অনেক পুষ্টি উপাদান দরকার শিশুর খাবার যদি ডিম ডাল
মাছ বা শাকসবজি না থাকে তাহলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। দুর্বল শরীরে দাঁত ওঠার মত
স্বাভাবিক কাজগুলো ধীরগতিতে হয় এবং এ ধরনের শিশুরা সাধারণত চিকন কম ওজনের হয়
এবং তাদের তার উঠতে দেরি হয়।
সাধারণত শিশুর জন্মের পর থেকে ৬ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ পান করে। এ সময় অন্য
কোন কিছু শিশুকে খাওয়ানো একেবারেই উচিত নয়। তবে ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পর থেকে
শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার দেওয়া খুবই জরুরী। যদি শুধু বুকের
দুধের ওপর দীর্ঘদিন নির্ভর করা হয় এবং শক্ত বা আধা শক্ত খাবার দেওয়া না হয়,
তাহলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে ঘাটতি তৈরি হয়। শিশুর বয়স বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু
দাঁত উঠছে না। আর অপুষ্ট শিশুর না শরীর স্বাভাবিক গতিতে বেড়ে ওঠে না।
তাদের হার দাত ও বেশি সবকিছুই দুর্বল থাকে। তাই অপুষ্ট শিশুর দাঁত উঠতে অনেক
সময় লাগে। কখনো কখনো আঠারো মাস পার হওয়ার পরও একটিও দাঁত ওঠেনা। তাই বলা
যায়, এটি শুধু দাঁতের সমস্যা নয় বরং শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি সতর্ক
সংকেত।
লেখক এর শেষ কথাঃকোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়
কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় ? তা সম্পর্কে আমরা উপরে
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আপনি এই আর্টিকেল থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন,
কোনটির অভাবে বা কোন কোন কারণে শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং কিভাবে যত্ন নিতে
হবে কি খাবার খাওয়াতে হবে ইফতারের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। মনে রাখবেন
যত্ন করলে দাঁত তাড়াতাড়ি উঠতে সাহায্য করবে। আশা করি আপনি উপরের বিষয় থেকে
উপকৃত হয়েছেন। এবং আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন। আপনি যদি এই
আর্টিকেলটি সম্পন্ন মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে আপনার কাঙ্খিত উত্তরটি আপনি
আশা করি পেয়েছেন।
আপনি এই আর্টিকেল থেকে কোন বিষয়ে উপকৃত হলেন তার সম্পর্কে আপনার বন্ধুদের কাছে
শেয়ার করবেন। এবং আপনি যদি কোন বিষয়ে বুঝতে বা আরো জানতে চান তাহলে আমার
যোগাযোগ নম্বরে কল বা মেসেজ করুন। আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url