পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায় জানুন
পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায় জানুন, আপনি কিভাবে পড়াশোনায় ইসলামিক উপায়ে মনোযোগ দিবেন তা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আপনি এই আর্টিকেল থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায় সম্পর্কে জানতে পারবেন।
পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামে অনেক উপায় আছে।পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য প্রথমে নিয়তের প্রয়োজন। পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য ইসলামিক সকল উপায় সম্পর্কে জেনে নিন এই আর্টিকেল থেকে। সকল উপায় সম্পর্কে জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃপড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায় জানুন
- পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায়
- নিয়ত সহীহ করা
- পড়ার আগে ও পরের দোয়া করা
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া
- হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা
- পরিমিত ও হালাল খাবার গ্রহণ
- কোরআন তেলোয়াত করে পড়াশোনায় মনোযোগ
- ভালো সঙ্গ গ্রহণ করা ও গুণে থেকে তওবা করা
- পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায় আরো তিনটি উপায়
- লেখক এর শেষ কথা
পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায়
পড়াশোনায় মনোযোগ হওয়ার ইসলামিক উপায়, ইসলামের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার অনেক
উপায় রয়েছে। আজকের ছাত্র জীবনে পড়াশোনায় মনোযোগ না বসা একটি বড় সমস্যা
হয়ে উঠেছে। অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পড়তে বসলে মন অন্যদিকে চলে যায় বা
বিষয় মনে থাকে না কিংবা অল্প সময়েই বিরক্তি চলে আসে। এর মূল কারণ শুধু শারীরিক
বা মানসিক চাপ নয় বরং আর্থিক দুর্বলতা এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত থাকে। ইসলাম শুধু
ইবাদতের ধর্ম নয় বরং এটি মানুষের জীবনকে সুন্দর ওশৃংখল এবং সফল করার পূর্ণাঙ্গ
পথ নির্দেশনা দিয়ে থাকে। ইসলাম আমাদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল দোয়া ও জীবনচরণ
শিখিয়েছে, এবং পড়াশোনায় মনোযোগ, স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি এবং জ্ঞানের বরকত লাভের
জন্য ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজন স্মৃতিশক্তি। স্মৃতিশক্তি যদি ভাল হয় তবে অনেক ধরনের
সুবিধা ও কল্যাণ আসে এবং আল্লাহ তা'আলা মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য কিছু
কাজ ও বেশ জিকির এর প্রতি উৎসাহ করেছেন। ইসলামে এমন অনেক আমল ও দোয়া রয়েছে,
যেগুলো পড়লে আল্লাহ তা'আলা আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিবেন। বেশি বেশি দোয়া ও আমল
করলে আল্লাহতালা কল্যাণকর জ্ঞান ও ইলম দান করেন। তাই প্রত্যেক মুসলমানদের উচিত
বেশি বেশি আমল ও দোয়া করা। ইসলামের যে সকল আমল ও দোয়া রয়েছে এবং
কিছু কাজ দিকনির্দেশনা রয়েছে, চলুন এই সকল বিষয় সম্পর্কে নিচের আর্টিকেল থেকে
জেনে নিই।
নিয়ত সহীহ করা
প্রথমত ইসলামের নিয়ত হলো যে কোন কাজের প্রথম । কাজটি যতই বড় হোক না কেন যদি
নিয়ত শুদ্ধ না হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে তার মূল্য থাকেনা। আবার নিয়ত শুদ্ধ করে
যদি কোন একটি ছোট কাজে যদি আল্লাহর জন্য করা হয় তবে সেটি বড় ইবাদতে পরিণত হয়।
পড়াশোনাও ঠিক তেমনি একটি কাজ যার নিয়তের কারণে, ইবাদত বা শুধু দুনিয়া যারে কাজ
এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি হতে পারে। একজন ছাত্র যদি শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল বা
চাকরি ও মানুষের প্রশংসার জন্য পড়াশোনা করে তাহলে তার মন অল্পতেই ভেঙে যায়।
কারণ লক্ষ্যটা সীমিত হয়। কিন্তু যখন কেউ মনে করে যে আমি জ্ঞান অর্জন করছি
আল্লাহর আদেশ পালন করার জন্য, সমাজের উপকার করার জন্য তখন পড়াশোনার প্রতি
তার স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। আর তখন তার কাছে পড়াশোনা
বোঝা নয় বরং দায়িত্ব হয়ে ওঠে।
নিয়ত শুদ্ধ হলে আল্লাহ তায়ালা সেই পড়াশোনায় বরকত দান করেন। বরকত মানে শুধু
বেশি নম্বর নয় বরং অল্প করেও বিষয় বোঝা, পড়া মনে থাকা, সময়ের সঠিক ব্যবহার
এবং পরীক্ষার সময়ে নার্ভাস না হওয়া ইত্যাদি। অনেক সময় দেখা যায়, দুজন একই
পরিমাণ পরেছে কিন্তু একজন বেশি ফল পাচ্ছে, এবং অন্যজন কম ফল পাচ্ছে। এর পিছনে
অন্যতম কারণ হলো নিয়তের পার্থক্য। নিয়ত শুদ্ধ করার আরেকটি বড় উপকার হলো এটি
মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। যখন পড়াশোনা আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন মন
বারবার পড়াশুনা থেকে ছুটে গেলেও আবার ফিরে আসে। কারণ তখন হৃদয়ের ভিতর একটি শক্ত
উদ্দেশ্য কাজ করে। যা পড়তে বসলে অলসতাকে বিরক্তি ও হতাশা কমিয়ে দেয়।
নিয়ত সহীহ করার জন্য বড় কোন দোয়া বা জটিল নিয়ম এর দরকার নেই।
পড়তে বসার আগে মনে মনে বলায় যথেষ্ট যেমন; হে আল্লাহ আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য
জ্ঞান অর্জন করছি। তুমি আমার পড়া সহজ করে দাও এবং মনে রাখার তৌফিক দান করো আর এই
জ্ঞান দিয়ে আমাকে উপকার করার সুযোগ দাও। নিয়ত শুদ্ধ করলে পড়াশোনার প্রতিটি
মুহূর্ত ইবাদত হয়ে যায়। আর আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন, যে পড়ার আগে
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করবেন। বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে যে কোন কাজে সহজ হয়। আপনার
শুদ্ধ নিয়তে বই পড়া, নোট করা, মুখস্ত করা ইত্যাদি সবকিছুই সওয়াবের কাজে
পরিণত হয়। এবং এ কারণে ইসলামে ছাত্র জীবনকে এত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাই
বলা যায়, নিয়ত শুদ্ধ না হলে পড়াশোনায ক্লান্তিকর হয় এবং নিয়ত শুদ্ধ হলে
পড়াশোনা ইবাদত ও সহজ হয়ে যায়।
পড়ার আগে ও পরের দোয়া করা
ইসলামে জ্ঞান অর্জন শুধু বুদ্ধি কাজ
নয়, বরং এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের ফল। মানুষ চেষ্টা করে কিন্তু পড়াশোনা মনে
রাখা ও সঠিকভাবে প্রয়োগ করার ক্ষমতা আছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। এজন্য পড়াশোনা শুরু
করার আগে ও পরে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাহায্য কামনা করে
এবং নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে নেয়। যে ছাত্র নিয়মিত পড়ার আগে ও পরে
দোয়া করে তার পড়াশোনা একটি আন্তিক শক্তি কাজ করে। এবং সে অল্প পড়েও ভালোভাবে
বুঝতে পারে, সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারে এবং মানসিক চাপ কম অনুভব করে ইত্যাদি।
তাই বলা যায় যে, দোয়া পড়াশুনাকে শুধু দায়িত্ব নয় বরং পরিণত করে। পড়তে বসার
আগে দোয়া করলে মন আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ হয়। এতে মনোযোগ ছুটে যাওয়া কমে এবং
অন্তরে এক ধরনের স্থিরতা আসে। দোয়া মানুষকে অহংকার থেকে রক্ষা করে এবং মনে
করিয়ে দেয় সব জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।
পড়াশোনা শুরু করার জন্য প্রথমে এই দোয়াটি পাঠ করলে, আল্লাহ তা'আলা জ্ঞানের দরজা
খুলে দেন, এবং সকল বিষয় বুঝে নেওয়া সহজ করে দেন। দোয়াটি হলঃ
আরবি:
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
বাংলা উচ্চারণ:
রব্বি যিদনী ইলমা
অর্থ:
হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।
এবং আরেকটি দোয়া আছে এই দোয়া পড়লে পড়াশোনা শুধু মুখস্তের জন্য সীমাবদ্ধ থাকে
না বরং তা বাস্তব জীবনে কাজে আসে। দোয়াটি হলঃ
আরবি:
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মানফা‘নী বিমা ‘আল্লামতানী ওয়া ‘আল্লিমনী মা ইয়ানফা‘উনী
অর্থ:
হে আল্লাহ, তুমি আমাকে যা শিখিয়েছ তা দ্বারা আমাকে উপকৃত করো এবং আমাকে এমন
জ্ঞান দাও যা আমার উপকারে আসে।
অনেক সময় পড়তে পড়তে মন ক্লান্ত হয়ে যায় বা কিছুই বুঝতে ইচ্ছা করে না। এই
সময়ে ইস্তেগফার পড়া খুবই উপকারী। ইস্তেগফার পড়লে অন্তরে ভার হালকা হয়ে যায়
এবং মনোযোগ ফিরিয়ে আনে। এই গুনাহের কারণে যে অন্তরের পর্দা তৈরি হয় ইস্তেগফার
তা দূর করে। ইস্তেগফারটি হলঃ
আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ:
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
এবং পড়া শেষ করার পর দোয়া করা অনেকেই অবহেলা করে, কিন্তু দোয়া পড়া
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ কষ্ট করে পড়ে অনেক কিছু শিখলেও তা ভুলে যাওয়া
খুব সহজ। আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি জ্ঞানকে হৃদয়ে স্থায়ী করে দেন। তাই
আমাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য আগে ও পরের দোয়া গুলো
পড়তে হবে। প্রথমত নিচের এই দোয়া করলে কঠিন বিষয় সহজে মনে হয়ে যায়,
এবং ভবিষ্যতে আবার একই বিষয় পড়ার ভয় কমে যায়। প্রথম দোয়াটি হলোঃ
আরবি:
اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জা‘আলতাহু সাহলা
অর্থ:
হে আল্লাহ, তুমি যা সহজ করো তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়।
অন্যদিকে দ্বিতীয় দোয়াটি পাঠ করলে পড়া ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায় এবং
পরীক্ষার সময় আত্মবিশ্বাস বাড়ে। দোয়াটি হলোঃ
আরবি:
اللَّهُمَّ ثَبِّتْ مَا عَلَّمْتَنِي
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ছাব্বিত মা ‘আল্লামতানী
অর্থ:
হে আল্লাহ, তুমি আমাকে যা শিখিয়েছ তা আমার অন্তরে স্থির করে দাও।
তাই বলা যায় পড়ার আগে দোয়া পাঠ করলে মনোযোগ বাড়ায়, পড়ার মাঝে
ইস্তেগফার পাঠ করলে ক্লান্তি দূর করে এবং পড়া শেষে দোয়া করলে জ্ঞানকে
চিরস্থায়ী করে। পড়তে পড়তে হঠাৎ করে মনোযোগ হারিয়ে যাওয়ার মত হলে মাঝে মাঝে
পড়াটা একটু থামিয়ে দোয়া দরুদ শরীফ পাঠ করবেন। দোয়াটি হলোঃ
আরবি
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ
عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ
عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া ‘আলা আালি মুহাম্মাদ,
কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া ‘আলা আালি ইব্রাহীম,
ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া ‘আলা আালি মুহাম্মাদ,
কামা বারাক্তা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া ‘আলা আালি ইব্রাহীম,
ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
অর্থ
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ﷺ এবং মুহাম্মদ ﷺ–এর পরিবারবর্গের উপর রহমত নাযিল
করুন,
যেমন আপনি ইব্রাহীম (আ.) ও ইব্রাহীম (আ.)–এর পরিবারবর্গের উপর রহমত নাযিল
করেছিলেন।
নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ﷺ এবং মুহাম্মদ ﷺ–এর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল
করুন,
যেমন আপনি ইব্রাহীম (আ.) ও ইব্রাহীম (আ.)–এর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল
করেছিলেন।
নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।
পড়াশোনার জন্য উপকারী সূরা হলঃ
আরবি:
أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ
বাংলা উচ্চারণ:
আলাম নাশরাহ্ লাকা সদরাক
অর্থ:
আমি কি তোমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিইনি?
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ইসলামের মূল
ভিত্তিগুলোর মধ্যে একটি। এটি শুধু একটি ফরজ এবাদত নয় বরং মানুষের চিন্তা চেতনা,
চরিত্র ও জীবনযাপনকে শুদ্ধ করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। একজন ছাত্রের
পড়াশোনায় মনোযোগ ধৈর্য ও সরল শক্তির সাথে নামাজের সম্পর্ক খুব গভীর। নামাজ
মানুষকে দিনে ৫ বার আল্লাহর সামনে দাঁড় করায়। এতে অন্তরের অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা
ও অযথা চিন্তা ধীরে ধীরে কমে যায়। আর সাধারণভাবেই আমাদের যখন মন শান্ত হয় তখন
পড়াশোনায় মন বসে। নামাজের মাধ্যমে যে মানসিক প্রশান্তি তৈরি হয় তা কোন পার্থিব
উপায়ে সহজে পাওয়া যায় না। নামাজ মানুষকে আত্মসংগ্রাম শেখায় এবং পড়াশোনায়
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মন ছুটে যাওয়া। নিয়মিত নামাজ পড়লে মনকে
নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তৈরি হয় যা পড়ার সময়ও কাজে লাগে।
আরো পড়ুনঃফজরের নামাজের শেষ সময়সুচী রাজশাহী ২০২৬
বরকত করার জন্য আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেছেন, "নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ
কাজ থেকে বিরত রাখে" (সূরা আনকাবুত-৪৫)
যখন কোন ছাত্র গুনা থেকে বেঁচে থাকে এবং তার অন্তর পরিষ্কার থাকে, তখন পরিষ্কার
অন্তরে সহজেই জ্ঞান প্রবেশ করে। এজন্যই দেখা যায় নামাজী ছাত্রদের পড়াশুনা এক
ধরনের স্থিরতা ও বরকত থাকে।
বিশেষ করে ফজরের নামাজ দিনের সবচেয়ে বরকতময় সময়ে আদায় করা হয়। এই সময়ে
মস্তিষ্ক থাকে পরিবেশ শান্ত থাকে এবং মনোযোগ সবচেয়ে বেশি কাজ করে। তাই ফজরের
নামাজের পর অল্প সময় পড়াশোনা করলে তার সহজে মনে থাকে। অনেক আলেম গন ও জ্ঞানীরা
বলেছেন, যারা ফজরের নামাজের পর পড়াশোনা করে তারা অল্প সময়ে বেশি শিখতে পারে
কারণ এ সময় আল্লাহর রহমত বরকত বেশি নাজিল হয়।
নামাজ সময়ের গুরুত্ব শেখায়। একজন ছাত্র যখন নামাজের সময় সঠিক রাখতে শেখে
তখন সে নিজে পড়াশুনার সময়ও ঠিক রাখতে পারে। এই শৃঙ্খলায় সফল ছাত্র জীবনের মূল
চাবিকাঠি হয়ে থাকে। নামাজ মানুষকে অলসতা থেকে বের করে আনে এবং বিশেষ করে
ইশা ও ফজরের নামাজ একজন ছাত্রকে দায়িত্বশীল করে তোলে। নামাজ আল্লাহর সাথে সরাসরি
সম্পর্ক তৈরি করে। এই সম্পর্ক একজন ছাত্রকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে এবং
পরীক্ষার ভয়, ব্যর্থতার আশঙ্কা এসব নামাজের মাধ্যমে অনেকটাই কমে যায়। যে মানুষ
আল্লাহর সামনে মাথা নত করে আল্লাহ তার অন্তরকে দৃঢ় করে দেয়।
হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা
হারাম কাজ যেমন অশ্লীলতা দেখা মিথ্যা কথা বলা, অন্যের হক নষ্ট করা ইত্যাদিকে
বোঝায়। আর এসব হারাম কাজ অন্তরের আলোকে নিভিয়ে দেয়। ইসলামে জ্ঞান অর্জন শুধু
মস্তিষ্কের কাজ নয় বরং এটি অন্তর, আমল ও চরিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত
থাকে। হারাম অহংকার মানুষকে ধীরে ধীরে অন্ধকারে নিয়ে যায়। আর যখন অন্তর অন্ধকার
হয়ে যায় তখন জ্ঞান সেখানে স্থায়ী হতে পারেনা। কারণ জ্ঞান হলো নূর অর্থাৎ আলো।
আর আলো আর অন্ধকার কখনোই একসাথে থাকতে পারেনা। এই কারণে বহু ছাত্র চেষ্টা করেও
পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।
হারাম কাজ কিভাবে মনোযোগ কে নষ্ট করে, যেমন
অশ্লীল ভিডিও দেখা বা ছবি দেখা, অনর্থক গান-ভিডিওতে আসক্ত হওয়া, মিথ্যা বলা,
চুরি করা অন্যের অধিকার নষ্ট করা এসব কাজ প্রথমে ছোট মনে হল এরপর প্রভাব গভীর। আর
এগুলো মানুষের মনকে অস্থির করে তোলে এবং মনে এক অদৃশ্য ভার তৈরি করে। এমন
অস্থির মন করতে বসলে স্থির থাকতে পারে না। বই খুলে বসার পরও মন বাবা অন্যদিকে চলে
যায় এবং পড়া পড়লেও মনে থাকে না তার দ্রুত ভুলে যায় ইত্যাদি। মূলত হারাম কাজের
কারণে অন্তরের নূর কমে যাওয়ার ফল।
ইমাম সফেয়ী (রহ) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকীহ। তিনি
অসাধারণ সরল শক্তির অধিকারী ছিলেন। বলা হয় তিনি একবার যে বিষয়ে পড়তেন তা সহজেই
ভুলতেন না। কিন্তু একসময় তিনি অনুভব করলেন যে তার সরস্বতী আগের মতো
তীক্ষ্ণ নেই। তাই এ বিষয়টি তিনি তার শিক্ষক ইমাম ওয়াকী (রহ) এর কাছে
তুলে ধরেন। তখন তার শিক্ষক তাকে কোন ওষুধ, খাদ্য বা কৌশল শেখার নেই বরং তাকে
গুনাহ ছেড়ে দিতে উপদেশ দেন। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে জ্ঞান শুধু
মস্তিষ্কের বিষয় নয় এটি অন্তরের নূরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত থাকে।ইমাম
সফেয়ী (রহ) নিজে একটি বিখ্যাত কবিতা এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি
বলেন----
- "আমি আমার শিক্ষকের কাছে আমার স্মরণশক্তির দুর্বলতার অভিযোগ করলাম।
- আর তিনি আমাকে গুনাহ পরিত্যাগ করার উপদেশ দিলেন।
- আর বললেন জ্ঞান হলো আল্লাহর নূর।
- আর আল্লাহর গুনাগারের অন্তরে প্রবেশ করে না।"
এই কথার অর্থ হলো যখন মানুষ গুনাহে লিপ্ত হয় তখন তার অন্তর একটি অদৃশ্য অন্ধকার
তৈরি হয়. এই অন্ধকার ধীরে ধীরে মানুষের উপলব্ধি মনোযোগ ও স্মরণ শক্তিকে দুর্বল
করে তোলে। পড়াশোনায় মন বসে না, পড়া দ্রুত ভুলে যায় এবং জ্ঞান হৃদয়ে স্থায়ী
হয় না। আজকে ছাত্র জীবনে আমরা এই বাস্তবতায় স্পষ্টভাবে দেখতে পাই। অতিরিক্ত
মোবাইল ফোন ব্যবহার, অশ্লীল কনটেন্ট দেখা, মিথ্যা কথা বলা, বাবা-মায়ের অবাধ্যতা
এসব গুণাহ সরাসরি পড়াশুনার উপর প্রভাব ফেলে। যদিও আমরা তার চোখে দেখি না কিন্তু
ফলাফল হিসেবে মনোযোগের অভাব ও স্মরণশক্তি দুর্বলতা দেখা দেয়। এজন্যই ইমাম জ্ঞান
অর্জনের আগে আত্মশুদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে। অন্তর যত পরিষ্কার হবে জ্ঞান তত সহজে
প্রবেশ করবে। নিয়মিত তওবা ইস্তেগফার এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করলে
আল্লাহ তাআলা জ্ঞান বরকত দান করেন যা ইমাম সফেয়ী (রহ) এর জীবনের মাধ্যমে
আমরা বাস্তবে দেখতে পাই।
তাই বলা যায়, সকল হারাম কাজ পড়াশুনার সবচেয়ে বড় শত্রু। যত বেশি হারাম, তত বেশ
কম মনোযোগ। আর যত বেশি হারাম থেকে দূরে থাকা যায়, তত বেশি জ্ঞান স্মরণশক্তির
আল্লাহতালা দান করেন।
পরিমিত ও হালাল খাবার গ্রহণ
ইসলামে খাবার শুধু শরীরে প্রয়োজন মেটানোর বিষয় নয় বরং এটি মানুষের মন চরিত্র
চিন্তাশক্তির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। একজন ছাত্র কি খায় কতটুকু খায় এবং কিভাবে
খায় তার সাথে তার স্মরণশক্তি, মনোযোগ ও পড়াশোনা আগ্রহ গভীরভাবে জড়িত থাকে।
হালাল খাবার মানুষের বৈধ খাবার নয় বরং তা আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী উপার্জিত করে
প্রস্তুত খাবার। হালাল খাবার অন্তরকে পবিত্র রাখে এবং দোয়া কবুলের অন্যতম শর্ত
হিসেবে কাজ করে। যখন একজন ছাত্র হালাল খাবার গ্রহণ করে তখন তার শরীর ও মন
দুটোই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। আর অন্যদিকে হারাম খাবার বা সন্ধ্যের জন্য খাবার
অন্তরের অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এতে মনোযোগ কমে যায়, পড়তে বসলে মন বসে না
শিখা বিষয় দ্রুত ভুলে যায়।
সাধারণভাবে আমরা যখন অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলে তখন, শরীর আস্তে আস্তে ভারী হয়ে
যায় বা অলসতা আসে এবং ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয়। এ অবস্থায় পড়াশোনায় মনোযোগ রাখা
খুব কঠিন হয়ে পড়ে বিশেষ করে পরীক্ষার সময় বেশি খাওয়া স্মরণশক্তির জন্য
ক্ষতিকর হতে পারে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স) বলেছেন, মানুষের জন্য
সবচেয়ে খারাপ পাত্র হলো মানুষের পেট। তিনি আমাদের আরো শিখিয়েছেন পেটের
এক-তৃতীয় অংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং এক তৃতীয় অংশ শ্বাসের জন্য রাখা
উত্তম। এই শিক্ষা আমাদের ছাত্র জীবনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর প্রিয় নবী হযরত
মুহাম্মদ (স) এর এই শিক্ষা আমাদের ছাত্র জীবনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও
বাস্তবায়ন। আপনার হালাল ও সহজপাচ্য ও পরিমিত খাবার মস্তিষ্ককে
সতেজ রাখে। এতে পড়াশোনায় বসলে মাথা পরিষ্কার থাকে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ
হয় ও দীর্ঘ সময় পরলেও ক্লান্তি কম লাগে। হালাল ও পরিণত খাবারে বরকত থাকে।
তাই বলা যায় একজন ছাত্রের উচিত নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
দেরিতে বা অতিরিক্ত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা দরকার বিশেষ করে পড়া ঠিক আগে বেশি
খাবার না খাওয়ায় উত্তম। হালাল ও পরিণত খাবার একজন ছাত্রের পড়াশোনার নীরব
শক্তি। এটি শরীরকে সুস্থ রাখে এবং মনকে স্থির করে ও জ্ঞানে বরকত দান করে।
কোরআন তেলোয়াত করে পড়াশোনায় মনোযোগ
পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায়, পবিত্র কোরআন শরীফ শুধু তেলাওয়াতের
জন্য নাযিল হয়নি বরং এটি মানুষের হৃদয় ও চিন্তা এবং জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনার
জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক মহা অনুগ্রহ। পবিত্র কোরআন শরীফের
সুন্দরভাবে বর্ণিত আছে যে কিভাবে একজন মুসলিম তার জীবন পরিচালনা করবে এ সকল বিষয়
দেওয়া আছে। যা মহান আল্লাহতালা নিজেই লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন পবিত্র কোরআন
মাজিদে স্থিরতার সাথে কোরআন তেলোয়াতের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও
শক্তিশালী। কোরআন তেলোয়াত একটি নিয়মিত মানসিক ব্যায়ামের মত কাজ করে। যেমন আপনি
আরবী উচ্চারণ আয়াতের ধারাবাহিকতা ও অর্থ মনে রাখার চেষ্টা করেন এসব আপনার
অস্তিত্বকে সক্রিয় করে রাখে। যার ফলে মনোযোগ স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং
পড়াশোনার বিষয় সহজে মনে থাকে।
গুনাহ থেকে বাঁচা জন্য কোরআন তেলোয়াত অত্যন্ত জরুরী। নিয়মিত পবিত্র কুরআন
শরীর তেলাওয়াত করলে মানুষের অন্তরের গুনাহের প্রতি ঘেন্না তৈরি হয়। গুনহা কম
হলে অন্তরের নূর বৃদ্ধি পায়, আর এই নূর জ্ঞান অর্জনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
উপাদান। যে অন্তরে কোরআনের আলো থেকে সেখানে হারাম চিন্তা সহজে বাসা বাঁধতে পারে
না। ফলে মনোযোগ নষ্ট হওয়ায় অন্যতম কারণ গুনাহ জড়িত অশ্লীলতা ধীরে ধীরে দূরে
হয়ে যাচ্ছে। পড়াশোনার আগে কোরআন তেলোয়াতের বিশেষ উপকারিতা রয়েছে।
নিয়মিত পড়তে বসার আগে অল্প সময় কোরআন তেলাওয়াত করলে মন প্রস্তুত হয়ে যায়।
এটাই যেন মনের দরজা খুলে দেয়। বিশেষ করে সূরা ফাতিহা সূরা ইখলাস সূরা নাস পড়লে
মনোযোগ বিশ্বাস বাড়ে। অনেক ছাত্র অভিজ্ঞতা থেকে বলে কোরআন পড়ে পড়াশোনা
শুরু করলে পড়ার সহজ লাগে এবং দীর্ঘ সময় মন বসে থাকে।
কোরআন তেলোয়াত ও সময় বরকত ,যে ছাত্র কুরআনের জন্য সময় বের করে আল্লাহ তার সময়
বরকত দান করেন। অল্প সময় এসে বেশি কাজ শেষ করতে পারে যা পবিত্র কুরআন শরীফের এক
আশ্চর্য বরকত। ছাত্র জীবনে কোরআন তেলাওয়াতের বাস্তব পদ্ধতি হলো ছাত্রদের জন্য
প্রতিদিন ১ বা ২ পৃষ্টা কোরআন তেলাওয়াত করায় যথেষ্ট। বেশি পড়তে না পারলেও
নিয়মিত হওয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফজরের পরপর পড়াশোনার আগে এই সময়টা
সবচেয়ে উপযোগি। আপনি যদি তেলাওয়াতের সাথে সাথে অর্থ বোঝার চেষ্টা করেন তাহলে
কোরআনের সকল প্রভাব আরো গভীর হয়। এতে শুধু পড়াশোনায় নয় বরং জীবন পরিচালনার
জন্য উপকার আসে। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত একজন ছাত্রের পড়াশোনার আর্থিক শক্তি এটি
মূল শান্ত করে সংশক্তি বাড়ায় গুনাহ থেকে রক্ষা করে এবং জ্ঞান থেকে
বরকত দেয়।
পবিত্র কোরআন শরীফ অন্তরে সিপা ও প্রশান্তি এনে দেয়। আল্লাহতালা কুরআনে ঘোষণা
করেছেন---
আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করেছি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত (সূরা ইসরা
৮২)।
পড়াশোনা সবচেয়ে বড় বাধা হলো অস্থির মন ও দুশ্চিন্তা। কোরআন তেলোয়াত এই
অস্থিরতা দূর করে অন্তরের প্রশান্তি এনে দেয়। যখন মন শান্ত হয় তখন পড়াশোনায়
মনোযোগ আপনাকেই চলে আসে। তাই বলা যায়, নিয়মিত কোরআন পড়ে তাদের মধ্যে এক
ধরনের মানসিকতা দেখা যায়।
ভালো সঙ্গ গ্রহণ করা ও গুণে থেকে তওবা করা
ইসলামে মানুষের চরিত্র ও জীবনে গঠনের ক্ষেত্রে সঙ্গের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন
মানুষ প্রতিদিন যাদের সাথে কথা বলে সময় কাটায় মেশে, এমন পর্যায়ে সে যাদের সাথে
এরকম কথা বলে সময় কাটাই বা মিশে তাদের মত ধীরে ধীরে হয়ে যায়। বিশেষ করে ছাত্র
জীবনে ভালো বা খারাপ সঙ্গ পড়াশোনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। একইভাবে গুনাহ
থেকে তওবা করে, একজন ছাত্রের অন্তরকে পরিষ্কার করে এবং তাকে ভালো সংগ্রহ গ্রহণের
পথ এগিয়ে নিয়ে যায়। ভালো সংঘ কিভাবে পড়াশোনায় প্রভাব ফেলে ? ভালো
সংজ্ঞা বলতে এমন বন্ধুদের বোঝায় যারা আল্লাহ ভীরু এবং পড়াশোনা আগ্রহী ও জীবনে
কিছু ভালো করার মানসিকতা রাখে। এমন বন্ধুদের সাথে থাকলে পড়াশুনা স্বাভাবিকভাবেই
গুরুত্ব পায়। তারা একে অপরকে পড়তে উৎসাহিত করে এবং নষ্ট করতে বাধা দেয় এবং
অলসতা থেকে রক্ষা করে।
ভালো সঙ্গ মানুষের মনকে স্থির করে। যখন চারপাশের মানুষ গঠনমূলক কথাবার্তা বলে তখন
মন অযথা চিন্তায় ব্যস্ত হয় না। এতে পড়াশোনায় মন বসে এবং লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত
হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম হয়। অন্যদিকে খারাপ সংঘ মানুষকে ধীরে ধীরে গুনাহের
দিকে ঠেলে দেয়। অশ্লীল কথা সময় নষ্ট করা নামাজে অবহে,, পড়াশোনাকে গুরুত্ব না
দেওয়া এসব আচরণ সাধারন তো খারাপ সঙ্গ থেকেই আসে। প্রথমে এগুলো তেমন ক্ষতিকর
মনে না হলেও সময়ের সাথে সাথে এগুলো মানুষের মন ও চিন্তা শক্তিকে দুর্বল করে
তোলে। ভালো সঙ্গ তওবায় অটল থাকতে সাহায্য করে। একজন মানুষ তাওবা করলেও যদি
সে আগের খারাপ বন্ধুদের সাথে থাকে তাহলে আবার কোনায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কিন্তু ভালো বন্ধু থাকলে তারা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, সাহস যোগায় এবং সঠিক পথ
ধরে রাখে।
ভালো সঙ্গ একজন ছাত্রকে নিয়মিত নামাজ, পড়াশোনা ও ভালো কাজে ব্যস্ত রাখে। এতে
গুনাহ করার সুযোগ কমে যায় এবং তওবা সহজ হয়। তওবা অন্তরকে পরিষ্কার করে রাখে এবং
ভালো সঙ্গ সেই পরিষ্কার অন্তরকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে। এ দুটো একসাথে কাজ
করলে পড়াশোনায় মনোযোগ দ্রুত বাড়ে। তখন ছাত্র অল্প সময়ে বুঝতে পারে, পড়া মনে
থাকে এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থাকে। আল্লাহতালা এমন বান্দাকে সাহায্য
করেন যে নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করে এবং ভালো পরিবেশ তৈরি করে। ভালো সংগ্রহ গ্রহণ
করা ও গুনাহ থেকে তওবা করা এ দুটি বিষয় একে অপরের পরিপূরক তওবা ছাড়া ভালো
সঙ্গের পূর্ণ উপকার পাওয়া যায় না আবার ভালো সঙ্গ ছাড়া তওবাও থাকে না বা
থাকাটাও কঠিন হয়ে পড়ে।
পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায় আরো তিনটি উপায়
ইসলামের মানুষের সফলতার পিছনে শুধু মেধা বা পরিশ্রম নয় বরং কিছু আন্তরিক শক্তি
কাজ করে। বিশেষ করে ছাত্র জীবনে বাবা-মায়ের দোয়া এবং ধৈর্য ও অধ্যবসায় এবং
আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা এই তিনটি বিষয় একসাথে থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ, মানুষের
শান্তি ও সফলতা বহু গুনে বৃদ্ধি পায়। বাবা মায়ের দোয়া নেওয়া আল্লাহর রহমত
পাওয়ার সহজ পথ। বাবা মা সন্তানের জন্য আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। ইসলাম
বাবা-মায়ের দোয়াকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; যে বাবা-মায়ের দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে
দেন না। অর্থাৎ বাবা-মা সন্তুষ্ট থাকলে আল্লাহর রহমত সন্তানের জীবনে নেমে আসে।
একজন ছাত্র যদি বাবা-মায়ের সাথে ভালো আচরণ করে তাদের কথা মানে, সম্মান করে এবং
তাদের খেদমত করে তাহলে বাবা মার হৃদয় থেকে যে দোয়া বের হয় তা পড়াশোনায়
আশ্চর্য প্রভাব ফেলে।
অনেক সময় দেখা যায় যে ছাত্র খুব বেশি মেধাবী না হলেও ভালো
ফল করেছে, এর পেছনে সাধারণত বাবা-মায়ের দোয়া কাজ করে। বাবা-মায়ের অবাধ্যতা পড়াশুনার বরকত নষ্ট করে। এতে মনোযোগ কমে যায়, অকারনে
হতাশা আসে এবং পরিশ্রমের ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমাদের প্রত্যেকের
উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাবা-মায়ের সন্তুষ্টি অর্জন করা অত্যন্ত জরুরী। ধৈর্য ও
অধ্যবসায় সফলতার পথে অটল থাকার শক্তি। পড়াশোনার পথে সহজে সবকিছু পাওয়া যায়
না। অনেক সময় বিষয় কঠিন লাগে, ফলাফল আশারূপ হয় না, বারবার ব্যর্থতা আসে। এ
সময় যে গুণটি সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো ধৈর্য।
ইসলামে ধৈর্যক্রান্ত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতালা ধৈর্যশীলদের ভালবাসেন এবং
তাদের জন্য বিশেষ প্রতিদান রেখেছেন। তার জন্য পথ খুলে দিবেন। অধ্যবসায় হল, হাল
না ছাড়া। আর না বুঝলে কাল আবার চেষ্টা করা কম নম্বর পেলে হতাশ না হয় আরো
পরিশ্রম করা ইত্যাদি। সাধারণত এই অধ্যবসায় ধীরে ধীরে ছাত্রকে সফলতার কাছে
নিয়ে যাই।
আল্লাহর উপর ভরসা করা হল মানসিক শান্তির চাবিকাঠি। তাওয়াককুল মানে অলস
হয়ে বসে থাকা নয় বরং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফল আল্লাহর হাতে সঁপে
দেওয়াকে বোঝায়। একজন ছাত্র যখন তাওয়াককুল করে, তখন সে অতিরিক্ত
দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি থাকে। পরীক্ষার ভয় ভবিষ্যতে চিন্তা ফলাফল নিয়ে অস্থিরতা
এসব তাওয়াককুলের মাধ্যমে অনেকটাই কমে যায়। কারণ সে বিশ্বাস করে যে আমি চেষ্টা
করছি বাকিটা আল্লাহ তা'আলা দেখবেন। আল্লাহর উপর ভরসা থাকলে মন শক্ত হয়
আত্মবিশ্বাস বার এবং পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখার সহজ হয়। বাবা মায়ের
দোয়া আল্লাহর রহমতে আনে ধৈর্য ও অধ্যবসায় মানুষকে পথে ধরে রাখে আর
তাওয়াককুল মানসিক চাপ দূর করে।
এই তিনটি একসাথে থাকলে একজন ছাত্র আর্থিক ও
মানসিকভাবে শক্ত হয়ে উঠতে পারে। তখন পড়াশোনা আর বোঝা মনে হয় না বরং দায়িত্ব
ইবাদত মনে হয়। আল্লাহ তায়ালা এমন ছাত্রকে সাহায্য করেন যে চেষ্টা করে এবং ধৈর্য
ধরে ও মহান আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা রাখে। সময়ে সদ্য ব্যবহার করতে হবে। ইসলাম সময়ের গুরুত্ব শেখায়। নির্দিষ্ট সময়
পড়াশোনা করলে মনোযোগ বাড়ে অযথা সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকার জরুরী সময় ভাগ
করে পড়লে পড়া চাপ কমে যায়।
লেখক এর শেষ কথা
পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায়, সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি
যদি উপরের নিয়ম গুলো অনুসরণ করেন তাহলে আপনি পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সক্ষম হবেন।
পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন কিছু মনোযোগ দিয়ে
করলে সামনের দিনে সফলতা আসবেই আসবে।
আশা করি, এই আর্টিকেল থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন। আপনি এই আর্টিকেল থেকে কোন বিষয়ে
উপকৃত হলেন তা সম্পর্কে আপনার বন্ধুর নিকট শেয়ার করুন। এবং এ বিষয়ে আরো কিছু
জানার জন্য বা বোঝার জন্য আমাকে আমার যোগাযোগ পেজে কল বা মেসেজ করুন। এতক্ষণ
আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url