নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা
নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা, আপনি কি নফল রোজার নিয়ত ইফতারের দোয়া বাংলায় তার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ? তাহলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি নফল রোজা নিয়মিত ইফতারের দোয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন।
নফল রোজা সাধারণত অনেকে অনেক মানব করে নফল রোজা পালন করে থাকে। তবে সবার উদ্দেশ্যে এক, কারণ এটি মূলত আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্টি করার জন্যই এই নফল রোজা পালন করা হয়। আসুন নিচে আর্টিকেল থেকে সকল বিষয়ে সম্পর্কে জেনে নিই।
পোস্ট সূচিপত্রঃ নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা
নফল রোজা কি এবং এর গুরুত্ব
নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা, নফল রোজা হল এমন একটি রোজা যা ফরজ বা
ওয়াজিব নয়, বরং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় এই রোজা
পালন করা হয়। সাধারণত ইসলামে এবাদত দুই প্রকার ফরজ ও নফল। ফরজ ইবাদত পালন করা
সবার ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক, তবে নফল নামাজ ইবাদত হল অতিরিক্ত আমল যা বান্দাকে
আল্লাহর আরো নিকটবর্তী করে তোলে। তাই নফল রোজা একজন মুমিনের জন্য ঈমানী ভালোবাসা
ও আন্তরিকতা প্রকাশ করাকে বোঝায। নফল রোজার মানুষ তার আত্মশুদ্ধিকে পরিশুদ্ধ করে
থাকে। এটি শুধু খোদা ও তৃষ্ণা সহ্য করার জন্য নয় বরং নিজের নক্ষত্রকে নিয়ন্ত্রণ
করার কার্যক্রম মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। যখন কেউ স্বেচ্ছায় রোজা রাখে তখন সে
দুনিয়ার আরাম আজ থেকে সাময়িকভাবে বিরত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বিশেষ
এবাদত ও অগ্রাধিকার দেয়। এর ফলে আল্লাহর তাকওয়া সৃষ্টি হয় এবং মহান আল্লাহ
তায়ালার ভীতি বৃদ্ধি পায়।
হাদিসে কুদসিতে আরো আল্লাহ তায়ালা বলেন যে, বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার
নৈকট্য লাভ করতে থাকে এমনকি আমি তাকে ভালবাসতে শুরু করি। এই বক্তব্য নফল ইবাদতের
গুরুত্ব স্পষ্ট করে। নফল নামাজ বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জনে এক
বিশেষ উপায়। সাধারণত নফল রোজা বান্দার আমলনামায় অতিরিক্ত নেকি যোগ করে দেয় এবং
কিয়ামতের দিনে উপকার আসে।
নফল রোজার আরো একটি বড় গুরুত্ব হল এটি ফরজ এবাদতের ঘাটতি গুলো পূরণে সহায়ক।
আমাদের ফরজ রোজা বা নামাজে অনেক সময় ভুল ত্রুটি থেকে যায়। নফল ইবাদত সে ঘাটতি
গুলো পূরণ করে থাকে। যারা নিয়মিত নফল রোজা রাখে তাদের আমল পরিপূর্ণতা দেখে
এগিয়ে যায় এবং আখিরাতে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। সাধারণত নফল রোজা অনেকে
অনেক সময় করে থাকে বা যেকোনো সময় করলেও হয়। তবে বিশেষ করে সপ্তাহের সোমবার ও
বৃহস্পতিবার নফল রোজা রাখা সুন্নত হিসেবে পরিচিত। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল রোজা
রাখতেন। তাই কেউ যদি সপ্তাহের রোজা করে তাহলে সেটি নফল রোজা চেয়ে সুন্নত রোজায়
পরিণত হবে। তবে এটি কারো ক্ষেত্রে বাধ্যকতা নেই। এছাড়াও প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪
ও ১৫ আইয়ামে বীজ তারিখগুলো নিয়ে এর রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ। এই রোজাগুলো
একজন মুসলিমের আর্থিক উন্নতি সাধন করে এবং নিয়মিত ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলে। যা
আমাদের জীবনকে সুন্দর করে।
আরো পড়ুনঃ ফজরের নামাজের শেষ সময়সুচী রাজশাহী ২০২৬
নফল রোজা মানুষের চরিত্রের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ধৈর্য
সহনশীলতা ও আত্ম সংযম শেখায়। রোজা অবস্থায় মিথ্যা কথা, গীবত বা অন্যায় থেকে
দূরে থাকার চেষ্টা করে। ফলে সমাজের নৈতিকতা ও শুদ্ধতা বৃদ্ধি পায়। নফল রোজার
পালন এর জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। নফল রোজা হলো একজন
মুমিনের জন্য আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বড় সুযোগ। এটি ঈমানকে মজবুত করে
গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং আখিরাতের পথ হিসেবে কাজ করে। তাই সমর্থ্য অনুযায়ী নফল
রোজা নিয়মিত রাখা এবং আমাদের প্রত্যেকের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর হয় হবে।
আল্লাহতালা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি নফল ইবাদত করার তৌফিক দান করুন আমীন।
নফল রোজার নিয়ত
নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা, নফল রোজার নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা ও
সংকল্প নাম কে বোঝায়। ইসলামের নিয়ম নিয়ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কারণ
প্রত্যেক আমলের ফলাফল নির্ভর করে তার নিয়তের উপর। কেউ যদি আল্লাহতালার
সন্তুষ্টির জন্য নফল রোজা রাখার প্রিয় ইচ্ছা করে তাহলে সে ইচ্ছাটাই নিয়ত হিসেবে
গণ্য হয়। সহজ ভাষায় আমরা যখন কোন কিছু করার আগে মনে মনে ভাবি যে এই কাজটা বা এটি
করব, এমন ভাবাকেই বা মনে মনে বলায় নিয়ত। মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে
অনেকেই স্পষ্টতার জন্য পড়ে থাকেন। নফল রোজার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন বাধ্যতামূলক
আরবি বাক্য নেই। কারণ নিয়ত মূলত হৃদয়ের কাজ, যা হৃদয় থেকেই আসে। তবে
প্রচলিতভাবে অনেকেই নিচের নিয়ম পড়ে থাকেন যা সুন্দর ও অর্থবহ। যেমন;
আরবি নিয়ত:
نَوَيْتُ أَنْ أَصُوْمَ صَوْمَ النَّفْلِ لِلّٰهِ تَعَالَى
বাংলা উচ্চারণ:
নাওয়াইতু আন আসূমা সাওমান নাফলি লিল্লাহি তাআলা।
বাংলা অর্থ:
আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।
এই নিয়ত পড়ার মাধ্যমে একজন মুসলিম তার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে নেয়, যে সে
শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখছে। এখানে দুনিয়ার কোন স্বার্থ বা
লোক দেখানোর উদ্দেশ্য নেই। আমরা মুসলমানরা অনেকে জানি যে, স্বার্থ বা লোক দেখানো
উদ্দেশ্যে রোজা পালন করলে সে রোজা পরিপূর্ণ হয় না। এবং আল্লাহ তা'আলা তা কবুল
করেন না। তাই আমাদের সবসময় লক্ষ্য রেখে উদ্দেশ্য রাখতে হবে যে, আমরা আল্লাহতালার
সন্তুষ্টির জন্য রোজা পালন করবো। নিয়তের বিশুদ্ধতা ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার প্রধান
শর্ত। তাই নিয়ত যত খাঁটি হবে আমল তত মূল্যবান এবং বেশি হবে।
নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা, নফল রোজার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল
এর নিয়ত করার সময়সীমারেখা নেই। ফরজ রোজা ক্ষেত্রে সুবহে সাদিকের আগে নিয়োগ করা
আবশ্যক। কিন্তু নফল এর ক্ষেত্রে কিছুটা সহজতা রয়েছে। যদি কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠে
কিছু না খেয়ে থাকে তাহলে সে দুপুরে আজ পর্যন্ত নফল রোজার নিয়ত করতে পারে। এটি
ইসলামের সহজ বিধানের একটি সুন্দর উদাহরণ। নিয়ত শুধু মুখে কয়েকটি শব্দ বলা নয়
বরং এটি একটি আন্তরিক অঙ্গীকার। যখন কেউ মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই, আজ আমি আল্লাহর
সন্তুষ্টি লাভের জন্য রোজা রাখব, নফল রোজার নিয়ত তখনই সম্পন্ন হয়ে যায়। তাই
যারা আরবি পড়তে পারে না তারা বাংলায় বা নিজের ভাষায় মনে মনে ইচ্ছা করলেই
আল্লাহ তাআলার কাছে রোজার নিয়ত করে নিতে পারে। কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা সকল
বান্দাদের মনের বা অন্তরের কথা জানেন। তাই বলা যায়, নফল রোজার নিয়ত খুবই সহজ
কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইফতারের দোয়া
নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা, সাধারণত রোজা ভাঙ্গার সময় দোয়া কবুল
হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত। কারণ ইফতারের সময় বেশি বেশি দোয়া করলে তা তাড়াতাড়ি
কবুল হয়ে যায়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের ইফতারের সময় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় বেশি বেশি দোয়া করতেন।
এবং তিনি তার উম্মতদের অর্থাৎ আমাদের শিখিয়েছেন। নফল রোজার জন্য সাধারণত আলাদা
কোন ইফতারের দোয়া নেই। যেমন;
রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া
হয়
আরবি দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي لَكَ صُمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَعَلَى
رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি লাকা সুমতু ওয়া বিকা আমান্তু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু
ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি, তোমার প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার উপর
ভরসা করেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।
এগুলোর মধ্যে আরেকটি সংক্ষিপ্ত দোয়া রয়েছে।
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ
اللَّهُ
অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ সাওয়াব
স্থির হয়েছে।
নফল রোজার ফজিলত ও উপকারিতা
নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা, নফল রোজা মানুষের অন্তরকে নরম করে এবং
মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করে। এটি আত্মাকে পাপ থেকে দূরে রাখে এবং নেক
আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। নিয়মিত নফল রোজা রাখলে চরিত্রের উন্নতি হয়। হাদিসে
উল্লেখ রয়েছে যে, কেয়ামতের দিন রোজা পালনকারী বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। তাই
নফল রোজা আমাদের আখিরাতের পাথেয় হিসেবে কাজ করে। এটি জান্নাতের পথে এগিয়ে যায়।
নফল রোজা শারীরিক দিক থেকে উপকারী। এটি শরীরকে নিয়মিত ও সংযমী রাখে। অতিরিক্ত
খাবার গ্রহণ থেকে বিরত রাখে এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য সহযোগিতা বলেন করে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নফল রোজা আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনে একটি সহজ মাধ্যম। তাই
আমাদের উচিত সুযোগ পেলে নফল রোজা রাখা এবং আন্তরিকতার সাথে ইবাদত করা।
নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা, নফল রোজা হলো একজন মুমিনের অতিরিক্ত
ইবাদতের একটি সুন্দর উপায়। এটি আমাদের ঈমান মজবুত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের
সুযোগ দেয়। সঠিক নিয়ত ও ইফতারের দোয়া জেনে ও বুঝে পালন করলে রোজা সওয়াব
বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই আমরা যেন শুধু রোজা না রেখে ,বরং এর প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ
করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি নফল ইবাদত করার তৌফিক দান করুন এবং
আমাদের দোয়া কবুল করুন। আমিন।
রমজান মাসের পরিচয় ও তাৎপর্য
রমজানুল ইসলামের পবিত্রতম মাস, যা আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের বিশেষ সময়।, এই
মাসে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানের উপর রোজা ফরজ করেছেন যাতে তারা আত্ম সংযম ও
ধৈর্যের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে পারে। রমজান মাস কেবল একটি মাস নয়, বরং
একটি আত্মউন্নয়নের সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসে নাযিল হয়েছে পবিত্র কুরআন শরীফ। যা
মানবজাতির জন্য হেদায়েতের আলো এবং পথ নির্দেশক। তাই রমজান মাস কুরআনের মাস
হিসেবে পরিচিত। মুসলমানরা এই সময়ে বেশি বেশি কোরআন তেলোয়াত ও ইবাদতের মননিবেশ
করে। রমজান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দুনিয়ার ভোগ বিলাসিতায় চূড়ান্ত লক্ষ্য
নয়। বরং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনে জীবনের মূল উদ্দেশ্য। তাই এই মাসে
প্রত্যেক মুমিন নিজেকে গুনাহ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। এটি এমন একটি মাস
যেখানে রহমত মাগফিরাত ও নাজাত এর সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। তাই রমজানকে সঠিকভাবে কাজে
লাগানো প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
রোজার ফরজ হওয়ার বিধান
রমজান মাসের রোজা ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
ঈমানের পর নামাজ রোজা যাকাত ও হজ এই পাঁচটি ভিত্তি ও ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। রোজা কেবল
একটি ইবাদত নয়, বরং এটি মুসলমানদের জীবন গঠনের অন্যান্য প্রশিক্ষণ। মহান আল্লাহ
তাআলা নিজেই রমজান মাসে রোজা ফরজ করে বান্দাদের তাকওয়া অর্জনের নির্দেশ
দিয়েছেন। সাধারণত রোজা ফরজ হয় হিজরতের দ্বিতীয় বছরে, মদিনায় অবস্থানকালে। এর
আগে মুসলমানরা বিভিন্নভাবে নফল রোজা রাখতেন। যেমন; বিশেষ করে আশুরার রোজা। তবে
রমজানের পণ্য একমাস ফরজ রোজা হওয়ার মাধ্যমে একটি সংগঠিত ও নির্ধারিত বিধান
প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিধান মুসলিম উম্মাহকে একটি ঐক্যবদ্ধ ইবাদতের বন্ধনে আবদ্ধ
করে। পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহতালা বলেন যে, পূর্ববর্তী জাতিদের ওপর রোজা ফরজ
করা হয়েছিল, তেমনি মুসলমানদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তারা তাকওয়া অর্জন
করতে পারে।
এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, রোজা কেবল ইসলামের জন্য নয় বরং পূর্ববর্তী নবীদের
উম্মতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ছিল। তাই রোজা একটি সার্বজনীন ইবাদতের অংশ
বা ধারাবাহিকতা। রোজার বিধান অনুযায়ী সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত
পানাহার, পানীয, সহবাস এবং রোজা ভঙ্গকারী সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। শুধু
বাহিক বিষয় নয় বরং মিথ্যা বলা, গীবত করা, ঝগড়া বিবাদ করা থেকেও নিজেকে সংযত
রাখা অত্যন্ত জরুরী। অর্থাৎ রোজা কেবল শুধু শরীরের জন্য নয় বরং মন ও আত্মার
সংযমের নাম। এছাড়াও রোজা ফরজ করার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন;
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম মুসলমানদের উপর রোজা ফরজ। যারা অসুস্থ, গর্ভবত,
দুগ্ধ দানকারী মা বা দীর্ঘ সফরে থাকেন তাদের জন্য শরীয়তের ছাড় দেয়া হয়েছে।
তারা পরে কাজা আদায় করতে পারেন এতে ইসলামের সহজ ও দয়ালু বিধান প্রতিফলিত হয়।
এছাড়াও ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করলে কঠিন গুনা হয় এবং কাজা ও কাফফারা আদায়
করতে হয়। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে রোজা নষ্ট হয় না।
ইসলামের এই বিধানগুলো মানুষের সামর্থ্য ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে নির্ধারিত
হয়েছে। রোজা ফরজ হওয়ার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ একটি নির্দিষ্ট সময় একযোগে ইবাদতে
মশগুল হয়। এতে সমাজে একতা ও ভাদ্রত্ববোধ সৃষ্টি হয়। একই সাথে ক্ষুধা তৃষ্ণা
অনুভব করে ফলে, দরিদ্রদের কষ্ট উপলব্ধি করার সহজ হয়। তাই বলা যায় যে রোজার ফরজ
হওয়া কেবল একটি ধর্মীয় বিধান নয় বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার গঠনের
দিকনির্দেশনা। এটি আমাদের আত্মশুদ্ধি শৃঙ্খলা ও ধৈর্য আল্লাহর প্রতি ভীতি সৃষ্টি
শেখায়। তাই রোজার ইতিহাস ও বিধান জানা এবং তা যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেক
মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মহান আল্লাহতালা আমাদের সবাইকে
সঠিকভাবে রোজা পালনের তৌফিক দান করুন।
রমজান মাসের ফজিলত
রমজান মাসে জান্নাতে দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে রাখা
হয়। শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয় ফলে ইবাদতের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ মাসে
একটি নেক আমলের সব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এই মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর যা
হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই এক রাতে ইবাদত দীর্ঘ সময় ইবাদত সমান সওয়াব এনে
দেয়। তাই রমজানের শেষ দশকে বিশেষভাবে ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া উচিত। রমজান হলো রহমত
মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। প্রথম দশ দিন রহমতের দ্বিতীয় মাগফিরাতের এবং শেষ দশ দিন
জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য নির্ধারিত। এটি এমন এক সময় যখন আল্লাহতালা তার
বান্দাদের দোয়া কবুল করেন। তাই বেশি বেশি দোয়া তওবা ইস্তেগফার পাঠ করা
উচিত।
রমজান মাসে করণীয়
পবিত্র রমজান মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলোয়াত পাঠ করা উচিত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট
সময়ে কোরআন পড়া ও তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। এতে ঈমান দৃঢ় হয় এবং
হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে। নামাজ, তারাবি ও তাহাজ্জুদ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর
নৈকট্য লাভ করা যায়। নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়া এবং রাতের ইবাদতে অংশ নেওয়া
রমজানের বিশেষ আমল। দরিদ্র ও অসহায়দের সাহায্য করা এই মাসে অন্যতম শিক্ষা। যাকাত
ও সদকা প্রদান করে সমাজে সাম্য ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রমজানের শিক্ষা যেন সারা বছরের জীবনে প্রভাব ফেলে। কেবল
শুধুমাত্র এক মাস নয়। বরং সারা জীবন চলার অঙ্গীকার করা উচিত। রমজান মাস আমাদের
জীবন পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে। এটি আত্মশুদ্ধি ধৈর্য ও আল্লাহর ভালোবাসা
অর্জনের মাস। সঠিকভাবে রোজা পালন করলে দুনিয়া ও আখিয়াতে সফলতা লাভ করা যায়।
রমজান মাসে নিয়ত ও ইফতারের দোয়া
সাধারণত নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের আলাদা কোন দোয়া নেই। রমজান মাসে রোজার নিয়ত
এটি বাংলাতে করলে হয়। তবে অনেকেই জানতে চায় বা জানে তারা আরবীতেও পাঠ করে।
যেমন;
আরবি নিয়ত:
نَوَيْتُ أَنْ أَصُوْمَ صَوْمَ النَّفْلِ لِلّٰهِ تَعَالَى
বাংলা উচ্চারণ:
নাওয়াইতু আন আসূমা সাওমান নাফলি লিল্লাহি তাআলা।
বাংলা অর্থ:
আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।
এবং ইফতারের দোয়া যেমন;
আরবি দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي لَكَ صُمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ
وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি লাকা সুমতু ওয়া বিকা আমান্তু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু
ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি, তোমার প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার উপর
ভরসা করেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।
এগুলোর মধ্যে আরেকটি সংক্ষিপ্ত দোয়া রয়েছে।
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ
اللَّهُ
অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ সাওয়াব
স্থির হয়েছে।
শেষ কথা
নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা, নফল রোজা আল্লাহ সন্তুষ্টি লাভের জন্য
করা প্রয়োজন। এবং নিজের জীবনকে পরিবর্তন করার জন্য, নবী করীম সাঃ এর দেখানো পথ
অনুসরণ করে চলার জন্য নফল রোজা অত্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক। কারণ নফল রোজা আমাদের
সমস্ত পাপ বা খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে। এবং আরো ভালো কাজে ও আল্লাহ তাআলার
ইবাদতে মনোনিবেশ স্থাপন করে। আমাদের রোজার নিয়ত ও রোজ ইফতারের দোয়া সকল বিষয়
সম্পর্কে জেনে রোজা পালন করা উত্তম। আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহ তায়ালা সঠিকভাবে
রোজা পালন করার তৌফিক দান করুন আমিন।
আশা করি উপরের আর্টিকেল থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন। কোন বিষয়ে উপকৃত হলেন তা
সম্পর্কে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করুন। কোন বিষয়ে যদি বুঝতে না পারেন বা
আরো জানতে চান তাহলে আমার যোগাযোগ নাম্বারে যোগাযোগ করুন, বা আমার ওয়েবসাইটটি
ভিজিট করুন। এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে আর্টিকেলটি সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য
ধন্যবাদ।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url