সপ্তাহে কতদিন ব্যায়াম করা উচিত - জেনে নিন
সপ্তাহে কতদিন ব্যায়াম করা উচিত - জেনে নিন , বর্তমান সময়ে আমরা সবাই প্রযুক্তির উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। আমাদের শরীরে সেরকম পর্যাপ্ত ব্যায়াম করার সময় বা করা হয়ে থাকে না। আপনি কি সপ্তাহে কতদিন ব্যায়াম করা উচিত তা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ?
তাহলে এর আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আপনি এই আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন সপ্তাহে কোন দিন বা কতদিন করা উচিত। ব্যায়াম আপনার শরীরকে নিশ্চিতভাবে বাঁচতে শেখায়। আমাদের প্রত্যেকেরই ব্যায়াম করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আসুন সকল বিষয় নিচে আর্টিকেল থেকে জেনে নিন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ সপ্তাহে কতদিন ব্যায়াম করা উচিত - জেনে নিন
সপ্তাহে কতদিন ব্যায়াম করা উচিত
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাত্রা দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে প্রযুক্তির
উন্নতির কারণে কাজকর্ম সহজ হলেও আমাদের শরীরের শারীরিক পরিশ্রম অনেকটাই কমে গেছে।
যেমন; অফিসের কাজ , পড়াশোনা কিংবা ব্যবসার সব ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে
হয়। বাসা থেকে বের হওয়ার বদলে অনেক কাজ ঘরে বসেই অনলাইনে সম্পন্ন করা হয়। এর
ফলে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমে যাচ্ছে, যা ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ
হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন শরীর নড়াচড়া না করা বা একঘেয়েমি বসে থাকা, শরীরের
পর্যাপ্ত পরিশ্রম না করা হলে বিভিন্ন সমস্যা আমাদের শরীরে দেখা যায়। যেমন;
ডায়াবেটিস, উক্ত রক্তচাপ, হৃদরোগ, মানসিক চাপ ইত্যাদি, এসব সমস্যার জন্য আমাদের
অনিমত জীবন যাপন ও ব্যায়ামের অভাব বড় ভূমিকা রাখে। সাধারণত এই কারণগুলো নিয়ে
দেন শুধু শরীর চর্চা নয় বরং একটি সুস্থ সিঙ্গল জীবনের জন্য অপরিহার্য একটি অংশ।
নিয়মিত ব্যাং শরীরকে সক্রিয় রাখে, রক্ত সঞ্চালন করে, হরমোনের ভারসাম্য বজায়
রাখে এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়। কিন্তু অনেকেই জানেনা যে ঠিক কতদিন ব্যায়াম
করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। কেউ মনে করেন যে প্রতিদিন ব্যায়াম না করলে উপকার
হবে না, আবার অন্য কেউ মনে করেন যে সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন করাই যথেষ্ট। এই
দ্বিধা ও ভুল ধারণার কারণে অনেক সময় সঠিক রুটিন গড়ে ওঠে না।
কোন ব্যক্তির সপ্তাহে কয়দিন ব্যায়াম করা উচিত, এর ওপর নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স
শারীরিক ক্ষমতা জীবনধারা ও লক্ষ্য অনুযায়ী। ওজন কমানো বেশি বৃদ্ধি রোগ প্রতিরোধ
কিংবা শুধু সুস্থ থাকা প্রতিটি উদ্দেশ্যের জন্য ব্যাঙের দিন ও ধরণ ভিন্ন হতে
পারে। তাই সঠিক জ্ঞান ও পরিকল্পনা ছাড়া ব্রাঞ্চ শুরু করলে কাঙ্খিত ফল নাও পাওয়া
যেতে পারে, আবার অতিরিক্ত ব্যায়াম ক্ষতিরও কারণ হতে পারে। আমরা এই আর্টিকেলে
বিস্তারিতভাবে জানবো সপ্তাহে কত দিন প্রেম করা উচিত এবং কোন পরিস্থিতি কতদিন করা
উচিত ও কিভাবে নিজের প্রয়োজনীয় অনুযায়ী একটি সুষম ও কার্যকর ব্যায়াম রুটিন
তৈরি করা যায়, এই সকল বিষয় সম্পর্কে। সঠিক দিক নির্দেশনা মেনে নিয়মিত ব্যায়াম
করলে সুস্থ কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবন যাপন সম্ভব। আসুন নিচের আর্টিকেল থেকে সকল
বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
ব্যায়ামের গুরুত্ব
দেন আমাদের জীবনের এমন একটি অভ্যাস যা শুধু শরীর সুস্থ রাখে না বরং পুরো
জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। আমরা অনেক সময় ভাবি ব্যায়াম মানে শুধু ওজন কমানো বা
শরীর সুন্দর রাখা। কিন্তু বাস্তবে ব্যায়ামের গুরুত্ব এর চেয়ে অনেক বেশি গভীর।
- প্রথমতঃ ব্যায়াম আমাদের হৃদয় যন্ত্রকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত শরীর চর্চা করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। যখন আমরা হাটাহাটি, দৌড়ায় বা যে কোন শারীরিক কাজ করে তখন হিট যন্ত্র আরো কার্যকর ভাবে রক্ত পাম্প করে। এতে শরীরের প্রতিটি কোষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পায়।
- দ্বিতীয়তঃ ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে জমে গেলে চর্বির বৃদ্ধি হয় যা সৃথুলতার কারণ হয়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ক্যালোরি খরচ হয় এবং শরীরের জমে থাকা চর্বি ধীরে ধীরে কমে আসে। ফলে সবসময় শরীর ফিট ও সক্রিয় থাকে। সৃথুলতা কমলে ডায়াবেটিস, যুক্ত রক্তচাপ ও জয়েন্টের ব্যথার ঝুঁকি কমে যায়।
- তৃতীয়তঃ ব্যায়াম পেশী ও হাড়কের শক্তিশালী করে তোলে। আমাদের শরীরের পেশী যত বেশি ব্যবহার হবে ততই তা মজবুত থাকবে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় দুর্বল হতে শুরু করে, তাই নিয়মিত ব্যান হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে এবং অষ্টওপোরসিসের ঝুঁকি কমায়। ও সহজ হয় এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
- চতুর্থতঃ ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ব্যায়াম করার সময় শরীরে এন্ডরফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখে এবং স্ট্রেস কমায়। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তারা সাধারণত কম উদ্বিগ্ন হন এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বেশি থাকে। এমনকি হতাশা ও ডিপ্রেশন এর লক্ষণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- পঞ্চমতঃ ব্যায়াম ঘুমের মান উন্নত করে। অনিদ্রা বা অস্থির ঘুম অনেকের বড় সমস্যা হয়ে থাকে। নিয়মিত শরীর চর্চা করলে স্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত হয় এবং রাতে গভীর ও প্রশান্ত ঘুম আসে। ভালো ঘুম শরীর ও মনের পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরী।
- ষষ্ঠতঃ ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শরীর সচল থাকলে ইমিউনি সিস্টেম ভালোভাবে কাজ করে এবং সাধারণ সর্দি কাশি থেকে শুরু করে নানা সংক্রমনের বিরুদ্ধে শরীর শক্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে।
- সপ্তমতঃ ব্যায়াম আত্মশৃঙ্খলা ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলে। নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য সময় বের করা নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এসব অভ্যাস জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সাফল্য এনে দেয়। এটি আমাদের মানসিক দৃঢ়তা বাড়ায়।
ব্যায়াম আমাদের শরীরের কোন বিলাসিতা নয় বরং এটি একটি প্রয়োজনীয় জীবনধারা।
সুস্থ শরীর প্রশান্ত মন দীর্ঘায়ু জীবন এবং কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যায়ামের
কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন সামান্য সময় দিলে এর উপকার দীর্ঘ মেয়াদে অসাধারণ ফল
দেয় তাই সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য নিয়মিত ব্যায়ামকে অভ্যাসে পরিণত করায়
সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তাই বলা যায় আমাদের শরীরের জন্য ব্যায়াম এর
গুরুত্ব কোন বিকল্প নেই।
সপ্তাহে কতদিন ব্যায়াম করা উচিত
সপ্তাহে কয়দিন ব্যায়াম করা উচিত, এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া সম্ভব হয়
না কারণ এটি নির্ভর করে একজন মানুষের বয়স, তার শারীরিক অবস্থা, কাজের ধরন,
লক্ষ্য ও জীবনযাত্রার উপর। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাথে অন্তত পক্ষে ৪-
৫ দিন ব্যায়াম করা উচিত। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সপ্তাহে মোট ১৫০ থেকে ৩০০
মিনিট মাত্রার ব্যায়াম করা উচিত। মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বলতে বোঝায় এমন কাজ
যা করলে শ্বাস প্রশ্বাস কিছুটা দ্রুত হবে শরীর গরম হবে কিন্তু কথা বলা সম্ভব
থাকবে এমন। যেমন;
- দ্রুত হাঁটা
- হালকা দৌড়ানো
- সাইকেল চালানো
- ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ ইত্যাদি।
- শরীর নিয়মিত ভাবে সংক্রিয় থাকে
- পেশী ও হৃদযন্ত্র ধারাবাহিকভাবে কাজ করে
- অতিরিক্ত শরীরে চাপ পড়ে না
- ইনজুরির ঝুঁকি কম থাকে
যেমন আপনি সপ্তাহে মাত্র একদিন দুই ঘণ্টা ব্যায়াম করলেন, এতে আপনার শরীর হঠাৎ
অতিরিক্ত চাপ নেবে এতে আপনার শরীরে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। তাই বাকি ছয় দিন
নিষ্ক্রিয় থাকলে সেই উপকার দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই নিয়মিততা তীব্রতার চেয়ে
বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন ব্যায়াম করা কি ঠিক
অনেকেই ভাবেন প্রতিদিন ব্যায়াম করলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। আসলে প্রতিদিন করা
যায় তবে একই ধরনের ভারী ব্যান্ড নয় যদি প্রতিদিন করেন তাহলে,
- তিন থেকে চারদিন মাঝারি বা ভারী ব্যায়াম
- ১ থেকে ২ দিন হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম
- অন্তত একদিন সম্পন্ন বিশ্রাম
বিশ্রাম পেশী পূর্ণ গঠনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বিশ্রাম ছাড়া শরীর
দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আপনি যদি সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটেন,
তবুও উপকার পাবেন। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে চাইলে সাধারণত চার থেকে পাঁচ দিন
উন্নতি করা ভালো। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করার চেয়ে অল্প অল্প করে শুরু করায়
শরীরের পক্ষে ভালো পদক্ষেপ হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে শরীরের উপর অতিরিক্ত
চাপ পড়ে। অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে । এতে
- পেশি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে
- হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে
- অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অনিদ্রা দেখা দিতে পারে
- ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ে
নতুনদের জন্য সপ্তাহে কয়দিন ব্যায়াম করা উচিত
যারা একদম নতুনভাবে ব্যায়াম শুরু করছেন, তাদের জন্য সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন
ব্যায়াম করায় সবচেয়ে উপযুক্ত হবে। কারণ শরীর অনেক দিন নিষ্ক্রিয় থাকলে হঠাৎ
করে প্রতিদিন ব্যায়াম শুরু করলে পেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং বেশি ব্যথা হয় ও
অনেক সময় শরীরে ইনজুরিরাও ঝুঁকি তৈরি হয়। শুরুর দিকে লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরের
দ্রুত ফল পাওয়া নয় বরং শরীরকে অভ্যস্ত করা। সপ্তাহে দুই থেকে চার দিন যেমন;
- ২০ - ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা
- হালকা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা
- সহজ স্ট্রেচিং করা ইত্যাদি
সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য সপ্তাহে কয়দিন ব্যায়াম করা উচিত
যারা শারীরিকভাবে সুস্থ এবং নিয়মিত ভাবে জীবন যাপন করছে, তাদের জন্য সপ্তাহে ৪
থেকে ৫ দিন ব্যায়াম করা ঠিক। এই সময়সূচি আপনার শরীরকে সবসময় সক্রিয় রাখে এবং
দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে। একজন সাধারণ সুস্থ
মানুষের জন্য প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট মাঝহারী মাত্রার ব্যায়ম করায় যথেষ্ট ।
সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন যেসব ব্যায়ম করা উচিত সেগুলো হলঃ
- দ্রুত হাটা বা হালকা দৌড়ানো
- সাইকেল চালানো
- যোগব্যায়াম
- ফ্রি হ্যান্ড বা হালকা ওজন তোলা ইত্যাদি
ওজন কমাতে চাইলে সপ্তাহে কতদিন ব্যায়াম করা উচিত
সাধারনত বর্তমানে অনেকেই নিজের ওজন কমানোর জন্য বা ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত
ব্যায়াম করছেন। আবার অনেকেই ওজন কমানোর জন্য ব্যায়ম করতে চান, তাই যাদের লক্ষই
ওজন কমানো তাদের জন্য সপ্তাহে ৫ -৬ দিন ব্যায়াম করা বেশি কার্যকর হবে। সাধারণত
মানুষ বিভিন্ন কারণে প্রতিদিন ব্যায়াম করে থাকে। যেমন, ডায়াবেটিস, পেটে
অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়া, স্বাভাবিকের তুলনায় ওজন বেশি হওয়া ইত্যাদির কারণে
মানুষ এখন নিয়মিত করে থাকে। শরীরের ওজন কমাতে হলে শরীরের জমে থাকা অতিরিক্ত
ক্যালরি পোড়াতে হয়, যা নিয়মিত ও তুলনামূলক ভাবে বেশি সময় ব্যায়ামের
মাধ্যমে সম্ভব হয়ে থাকে। ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৪০-৬০
মিনিট ব্যায়ম করা উচিত। সপ্তাহে ব্যায়াম করার জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ম
সূচি তৈরি করে নিবেন। যেমন;
- প্রথম তিনদিন বেশি পরিমাণ হার্ড ওয়র্কিং করতে হবে। যেমন; দ্রুত হাটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো ইত্যাদি। সহজ ভাষায় যেগুলোতে শরীর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালরি বা ঘাম বের হবে, সেই ব্যায়ামগুলোয় করতে হবে।
-
তারপর দুইদিন স্ট্রেংথ ট্রেনিং। যেমন; স্কয়াট, পুষ আপ ইত্যাদি।
- একদিন হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম ইত্যাদি।
যারা খুব ব্যস্ত বা প্রতিদিন ব্যায়াম করার সময় পান না, তাদের জন্য অন্ততপক্ষে
সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যান করা একটি ন্যূনতম স্বাস্থ্য লক্ষ্য
হিসেবে ধরা হয়। যারা অনেক ব্যস্ত বা ব্যায়াম করার সময় পান না, তারা চাইলে
প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মিনিট করে ব্যায়াম করতে পারেন। এতে সময়ও কম লাগে এবং
প্রতিদিনের তা প্রতিদিনই হয়ে যায়। প্রতিদিন না করে একদিনে আপনার স্ট্রেস বেশি
হয়ে যাবে এতে আপনার শরীর খারাপ বা ব্যথা অনুভব করতে পারে। সপ্তাহে অন্ততপক্ষে
১৫০ মিনিট ব্যাংক হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও সৃথুলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি
একটি বেসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা মান দন্ড। এর বেশি করলে উপকার আরো বাড়বে তবে এর
কম হলে উপকার সীমিত হতে পারে। সপ্তাহে কতদিন ব্যায়াম করবেন তা নির্ভর করে
আপনার অভিজ্ঞতা, লক্ষ্য ও শারীরিক অবস্থার উপর।
শেষ কথা
সপ্তাহে কয়দিন ব্যায়াম করা উচিত এই সম্পর্কে একক কোন নির্দিষ্ট উত্তর নেই।
কারণ প্রত্যেক আলাদা আলাদা মানুষের শরীর জীবন যাপন ও লক্ষ্য ভিন্ন হয়। তবে
উপরোক্ত সকল আলোচনার ভিত্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা যায়, ও সক্রিয় জীবন বজায়
রাখতে নিয়মিততা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বলা যায়, যারা নতুন অবস্থায়
ব্যায়াম করতে চান বা চায় তাদের জন্য সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন দিয়ে
ব্যায়াম শুরু করাই ভালো। এবং একজন সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য সপ্তাহে ৪ থেকে ৫
দিন ব্যায়াম করায় যথেষ্ট। অন্যদিকে ওজন কমানো যাদের লক্ষ্য তারা চাইলে ৫ থেকে
৬ দিন ব্যান করে উপকার পেতে পারেন। অন্ততপক্ষে সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি মাথার
ব্যায়াম নিশ্চিত করার চেষ্টা সবার করা উচিত। আমাদের মনে রাখতে হবে যে অতিরিক্ত
ব্যায়াম যেমন ক্ষতিকর তেমনি একদম না করাও শরীরের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।
শরীরকে সময় দিন ধীরে ধীরে শুরু করুন এবং ধারাবাহিক থাকুন ও প্রয়োজনে বিশ্রাম
নিন। ব্যায়াম শুধু ওজন কমানোর উপায় নয় বরং এটি একটি সুস্থ হৃদয়, শক্তিশালী
পেশী, ভালো ঘুম,মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘায়ু জীবনের জন্য প্রয়োজন। নিয়মিত
ব্যায়াম অভ্যাসে পরিণত করুন, আর নিজের সুস্থ ও প্রাণবন্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন।
আশা করি উপরে আর্টিকেল থেকে আপনি আপনার কাঙ্খিত উত্তরটি পেয়ে উপকৃত হয়েছেন।
আপনি উপর আর্টিকেল থেকে কোন বিষয়ে উপকৃত হলেন তা সম্পর্কে আপনার বন্ধুর কাছে
শেয়ার করুন। কোন কিছু বুঝতে না পারলে বা আরো জানার জন্য আমার যোগাযোগ নম্বরে
যোগাযোগ করুন বা আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url