ডায়াবেটিস কমানোর ১২টি কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি

ডায়াবেটিস কমানোর ১২টি কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি, বর্তমানে ডায়াবেটিস মানুষের শরীরে আক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই অনেকেই কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তা সম্পর্কে জানতে চাই। আপনি কি এমন ১২টি কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ?

ডায়াবেটিস-কমানোর-১২টি-কার্যকরী-ঘরোয়া-পদ্ধতি

বর্তমানে ডায়াবেটিস শুধুমাত্র বয়স্ক বা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই রোগ দেখা যাচ্ছে না, বরং ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড় বাচ্চা পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে এর ঝুঁকিপূর্ণতা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন উপায়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা কমানো যায় । এমন কিছু কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে ডায়াবেটিস কমানোর কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ডায়াবেটিস কমানোর ১২ টি কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি

ডায়াবেটিস কমানোর ১২টি কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি

ডায়াবেটিস কমানোর ১২টি কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি, বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং দ্রুত বিস্তার করা একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে প্রতিনিয়ত ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যভাস, অল্প শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ওজন এবং বংশগত কারণ এসব মিলিয়ে আজ ডায়াবেটিস যেন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। অনেকেই শুরুতে এই রোগের লক্ষণ বুঝতে পারেনা, ফলে এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুলোকে ধীরে ধীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। যেমন; হৃদপিণ্ড, কিডন, চোখ ও স্নায়ু। ডায়াবেটিস মূলত এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। আমাদের শরীরে ইনসুলিন নামক একটি হরমোন রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু ইনসুলেনের ঘাটতি বা কার্যকারিতার সমস্যার কারণে গ্লুকোজ রক্তে জমে যায় এবং বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করে। এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব না হলেও, সঠিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়।
সাধারণভাবে অনেকেই মনে করে যে ডায়াবেটিস মানেই শুধু ওষুধ বা ইনসুলিনের উপর নির্ভর করে থাকা। তবে বাস্তবে ঔষধ বা ইনসুলিনের ছাড়াও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, যেমন; নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন, সঠিক খাদ্য নির্বাচন ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার এবং কিছু কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে ডায়াবেটিস অধিকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সাধারণভাবে ডায়াবেটিস দুই প্রকার, প্রথমত ডায়াবেটিস টাইপ -১, দ্বিতীয়তঃ ডায়াবেটিস টাইপ -২ এই ডাইবেটিস দুটোই গুরুতর, তবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ যোগ্য রোগ। টাইপ -১ এ এর জন্য ইনসুলিন অপরিহার্য, টাইপ -২ অনেক ক্ষেত্রে সঠিক জীবনযাপন ও সচেতনতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে টাইপ -২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে জীবন যাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমনকি অনেক সময় নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্য মাধ্যমে ওষুধের মাত্রা কমে আনা সম্ভব হয় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।

ডায়াবেটিস টাইপ -১ কি

ডায়াবেটিস টাইপ -১ হল একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্নাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোর ওপর আক্রমণ করে এবং সেগুলো ধ্বংস করে ফেলে। ফলে শরীরের ইনসুলিন উৎপাদন একেবারেই কমে যায় বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের শরীরে ইনসুলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন। সাধারণত খাবার থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়। এবং যখন আমরা খাবার খায়, তখন সেই খাবার থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়, এবং তা রক্তে প্রবেশ করে। ইনসুলিনের কাজ হল এই গ্লুকোজ কে রক্ত থেকে কোষে পৌঁছে দেওয়া, যাতে কোষ তার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে ডায়াবেটিস টাইপ -১ ইন্সুলেন্ট না থাকায় গ্লুকোজ রক্তের জমে থাকে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিস টাইপ -১ সাধারণত শিশু, কিশোর বা তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তা একে অনেক সময় জুভেনাইল ডায়াবেটিস ও বলা হয়। তবে যে কোন বয়সে এটি হতে পারে। ডায়াবেটিস টাইপ -১ হঠাৎ করে প্রকাশ হতে পারে এবং লক্ষণগুলো দ্রুত ও তীব্র আকার ধারণ করে।

ডায়াবেটিস টাইপ -১ এর গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য হলোঃ এইরূপ সম্পূর্ণভাবে ইনসুলিন এর ওপর নির্ভর। অর্থাৎ একজন টাইপ -১ রোগীকে প্রতিদিন ইনসুলিন ইনজেকশন বা ইনসুলিন পাম্প এর মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। কারণ শরীর নিজে থেকে পর্যাপ্ত ইন্সুলেন্ট তৈরি করতে পারে না। ইন্সুরেন্স ছাড়া এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব হয় না। তাই ডায়াবেটিস টাইপ -১ এর জন্য ইনসুলিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং অপরিহার্য। এছাড়া ডায়াবেটিস টাইপ -১ কোন খাদ্যবাস বা জীবন যাপনে ভুলের কারণে সরাসরি হয় না। এটি মূলত জেনেটিক ও অটোইমিউন সমস্যার ফল। কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস সংক্রমণ বা পরিবেশগত কারণ এই রোগের সূচনা ঘটাতে পারে তবে সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি ভাবে নিশ্চিত হয়ে জানা যায়নি। ডায়াবেটিস টাইপ -১ যদি সময় মত শনাক্ত না হয় এবং ইনসুলিন শুরু না করা হয় তাহলে শরীরে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন ডায়াবেটিস কিটোঅ্যাসিডোসিস। এটি একটি জরুরি অবস্থা যেখানে শরীর শক্তির চর্বি ভাঙতে শুরু করে এবং রক্তে কিটোন জমে যায় যা জীবনহানের কারণ হতে পারে। ডায়াবেটিস টাইপ -১ এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীর নিজেই নিজের ইনসুলিন তৈরির ক্ষমতা ধ্বংস করে ফেলে। সাধারণত তাই নিয়মিত ইনসুলিন গ্রহণ স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও সচেতনতা পর্যবেক্ষণ এই রোগ নিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রধান উপায়।

ডায়াবেটিস টাইপ -২ কি

ডায়াবেটিস টাইপ -২ হল একটু দীর্ঘমেয়াদি বিপদজনক রোগ। যেখানে শরীর পর্যাপ্ত ইন্সুরেন্স তৈরি করলেও তা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। অথবা সময়ের সাথে সাথে ইন্সুলেন উৎপাদন কমে যায়।। এ অবস্থায় বলা হয় ইন্সুলিন রেজিস্ট্যান্স। অর্থাৎ শরীরের কোষগুলো ইন্সুলেনের প্রতি সাড়া দেয় না ফলে রক্তে থাকা গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে পারে না এবং তাই রক্তের শর্করা মাত্রা বেড়ে যায়। আমরা যখন খাবার গ্রহণ করি তখন সেই খাবার হজম হয়ে গ্লুকোজের পরিণত হয় এবং রক্তে মিশে যায়। অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়ে এই গ্লুকোজ কে কষে নিয়ে যায় যাতে শরীর শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে ডায়াবেটিস টাইপ টু কোষগুলো ইনসুলিন কে কার্যকর ভাবে গ্রহণ করতে পারে না, ফলে শরীর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করার চেষ্টা করে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে অগ্নাশয় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ইনসুলিন উৎপাদন কমে যায়। তখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস টাইপ -২ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে। যেমন বিশেষ করে ৪০ বছরের পর থেকে দেখা যায়। তবে বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন, ফাস্টফুডের প্রতি আসক্তি, সৃথুলতা, এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে তরুণদের মধ্যেও এই রোগ দ্রুত দেখা যাচ্ছে বা বাড়ছে। এটি সাধারণত ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে, অনেকেই প্রথম দিকে বুঝতে পারে না যে তারা ডাইবেটিসে আক্রান্ত। ডায়াবেটিস টাইপ -২ লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং অনেক সময় দীর্ঘদিন অবহেলিত হয়ে থাকে। সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন;
  • অতিরিক্ত পিপাসা লাগা
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  • সব সময় ক্লান্তি বা অবসাদ
  • চোখে ঝাপসা দেখা
  • ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগা
  • ত্বকে চুলকানি বা সংক্রমণ
  • হাতে পায়ে ঝিনঝিন ভাব বা অবশ্যই হয়ে আছে এমন অনুভূতি
  • অস্বাভাবিকভাবে খুদা বৃদ্ধি ইত্যাদি

আরো পড়ুনঃনিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার


অনেক ক্ষেত্রে কোন স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস টাইপ -২ ধরা পড়ে।
ডায়াবেটিস কমানোর ১২টি কার্যকারী ঘরোয়া পদ্ধতি নিচে দেওয়া হয়েছে।

সকালে খালি পেটে নিয়মিত কুসুম গরম পানি পান

ডায়াবেটিস কমানোর ১২টি কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি গুলোর মধ্যে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করা শরীরের অত্যন্ত উপকারী অভ্যাস। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রাতে ঘুমের সময় আমাদের শরীর বিশ্রামে থাকে কিন্তু ভেতরে ভেতরে বিভিন্ন বিকাপিয়া প্রতিক্রিয়া চলতে থাকে। প্রতিদিন সকালে উঠেই প্রথমে হালকা কুসুম গরম পানি পান করলে শরীরে সেই প্রতিক্রিয়া গুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরিপাকতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ শুরু করে। কুসুম গরম পানি শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাতে সাহায্য করে। এটি রক্তনালী গুলোকে শিথিল করে এবং রক্ত প্রবাহকে সহজ করে তোলে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ জমে থাকার কারণে রক্ত ঘন হয়ে যায়। প্রতিদিন সকালে গরম পানি পান করলে শরীর হাইড্রেট থাকে ফলে কিডনি অতিরিক্ত শর্করা প্রসবের মাধ্যমে বের করতে সুবিধা পায়। এতে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া খালি পেটে গরম পানি পান করলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় ডায়াবেটিস রোগীদের হজম সমস্যা, কষ্ট কাঠিন্য বা পেট ফাঁপা দেখা যায়। কুসুম গরম পানি অন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং মলত্যাগ সহজ করে।

শরীরে ভিতরে জমে থাকা টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে যেতে সাহায্য করে যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির ভূমিকা রাখে। সকালে প্রতিদিন নিয়মিত খালি পেটে কুসুম গরম পানি পান করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো; সকালে পানি পান করার অভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। ওজন বেশি হলে ডায়াবেটিস টাইপ -২ ঝুঁকি বাড়ে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট বৃদ্ধি পায়। কুসুম গরম পানি সামান্য বাড়াতে সাহায্য করে ফলে ক্যালরি বার্নের হার কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। সুস্থ রাখার একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কাজ করে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে শুধু গরম পানি পান করলেই ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ সেরে যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি অনুসরণ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি দিয়ে শুরু করায় যথেষ্ট। নিয়মিত সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানি পান করলে নিরাপদ এবং উপকার অভ্যাস যা ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণ সামগ্রিক সুস্থতা জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

আমলকির রস বা তেঁতুল নিয়মিত গ্রহণ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার বহুদিন ধরেই প্রচলিত হয়ে আসছে। এবং অনেকেই ব্যবহার করছে নিয়মিত, আবার এর মধ্যে অনেকেই এসব প্রাকৃতিক উপাদান সম্পর্কে তেমন জানা নেই। আমলকি বা তেতুল এ দুটি ফলোই আমাদের দেশের সহজলভ্য এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। বিশেষ করে আমলকি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকার বলে বিবেচনা করা হয়। নিয়মিত সঠিক পরিমাণে তেঁতুল বা আমলকির রস গ্রহণ করলে শরীরের শতকরা মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। আমলকি ভিটামিন সি এন্টিঅক্সিডেন্ট ফাইবার এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। এতে থাকা শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং ইনসুলিন উৎপাদন প্রতিক্রিয়াকে সহায়তা করে। আমলকি লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করে, যার রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিভার শরীরের গ্লুকোজ সংরক্ষণ ও মুক্ত করার কাজ করে। লিভার সুস্থ থাকলে রক্তের শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।

এছাড়া আমলকিতে থাকা ফাইবার খাবার হজম ধীরে করে, ফলে খাবারের পর হঠাৎ করে ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে। সাধারণত আমলকির রস বিশেষ করে ডাইবেটিস টাইপ -২ রোগীদের জন্য উপকারী। প্রতিদিন সকালে এক থেকে দুই চা চামচ তাজা আমলকি রস করে এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করা করুন। চাইলে আমলকি গুড়া করে রেখে প্রতিদিন হালকা গরম পানির সাথে মিশেও খাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবেনা, শরীরের পক্ষে উচিত হবে না। পরিমিত মাত্রায় নেওয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর হবে।

তেতুল সাধারণত টক স্বাদের হলেও এটিতে প্রাকৃতিক এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার রয়েছে। তেতুল শরীরে কার্বোহাইড্রেট ভাঙ্গার প্রতিক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য সহযোগিতা করে। ফলে খাবারের পর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না বরং ধীর করে। হজম শক্তি উন্নত করতেও সাহায্য করে, এবং কষ্ট কাঠিন্য কমায়। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে অনেক সময় হজম শক্তিজনিত সমস্যা দেখা যায় তাই সেখানে তেঁতুলের পানি উপকারী হতে পারে। এছাড়া তিতুর শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে, যা ডাইবেটিস রোগীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। তেতুল অল্প পরিমাণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে ছেকে হালকা তেতুলের পানি তৈরি করে গ্রহণ করতে হবে। এবং এতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা যাবে না। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পরিমিত পরিমানে গ্রহণ করায় ভালো। তেঁতুল ও আমলকির রস নিয়মিত ও পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা বাড়ে এবং হজম শক্তি উন্নত হয় ও রক্তের শর্করা উঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাতে সহায়তা করে। তবে এটি কোন চিকিৎসার বিকল্প নয় বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যবাস নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি একটি প্রাকৃতিক সহায়ক উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তুলসী পাতা ও শিমুলের ফল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আমাদের চারপাশের অনেক প্রাকৃতিক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তুলসী পাতা যেমন বহুল পরিচিত একটি উপাদান তেমনি শিমুল ফল ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন গ্রামীন চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে। সঠিকভাবে ও পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করলে এই দুইটি উপাদান রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তুলসীর উপকারিতা অনেক। যেমন
ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিঃ তুলসীপাতা শরীরের কোষগুলোকে ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করতে সাহায্য করে। ফলে রক্তে থাকা গ্লুকোজ সহজে কোষে প্রবেশ করতে পারে এবং ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য সহযোগিতা করে।
  • ক্লাস টেন ব্লাড সুগার কমাতে সহায়কঃ নিয়মিত সকালে খালি পেটে ৪ থেকে ৫টি তাজা তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে উপবাস অবস্থায় রক্তের শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
  • মানসিক চাপ কমানোঃ তুলসী একটি প্রাকৃতিক এডাপ্টোজেন। এটির শরীরের স্টেস হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ব্লাড সুগার বাড়াতে পারে তাই তুলসী পাতা পরোক্ষভাবেও উপকার করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তুলসীর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও এন্টিভাইরাল গুণ শরীরকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন সকালে চার থেকে পাঁচটি তাজা তুলসীপাতা চিবিয়ে খেতে হবে। অথবা তুলসী পাতা ফুটিয়ে হালকা তুলসি চা করে পান করা যায় চিনি ছাড়া।

শিমুল গাছ আমাদের গ্রামীণ এলাকায় পরিচিত একটি বৃক্ষ। এর ফল বীজ ওছাল নানা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শিমুলের ফল ও বীজে কিছু প্রকৃতি যোগ ও ফাইবার রয়েছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। শিমুলের ফলে অনেক উপকারিতা রয়েছে,। যেমন;
  • রক্তে গ্লুকোজ শোষণ ধীর করেঃ শিমুলের ফলে থাকা আজ অর্থাৎ ফাইবার খাবারের পর গ্লুকোজ দ্রুত রক্তে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে হঠাৎ করে ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণঃ শিমুলের ফলে এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে, যা শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং ডায়াবেটিস জনিত জটিল সমস্যা কে কমাতে সহায়তা করে।
  • প্রদাহ কমানোঃ ডায়াবেটিসের কারণে শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি হয় বা হতে পারে। শিমুলের কিছু প্রাকৃতিক উপাদান প্রদাহ কমাতে সহায়তা বলে চিকিৎসায় বিশ্বাস করা হয়।
শিমুলের ফল হালকা জোলাপ জাতীয় প্রভাব রাখে যা কষ্টকাঠিন্য কমায় এবং হজমে সহায়তা করে। ভালো হজম পতিক্রিয়া রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তুলসী পাতা ও শিমুলের ফল দুটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ও পরিমিত মাত্রায় সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এগুলো ইনসুলেন্ট সংবেদনশীলতা বাড়াতে রক্তের শর্করার ওঠানামা কমাতে এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে সচেতনতা, সুষম খাদ্যভাস নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি।

সুষম অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যবাস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ বা ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে সঠিক খাদ্য ভাস। কারণ আমরা যা খায় সেটি শরীরে সরাসরি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা প্রবাহিত করে। অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, আবার সুষম ও পরিকল্পিত খাদ্যবাস ব্লাড সুগার স্বাভাবিক লাগবে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ বই হল সুষম ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যভাস নির্বাচন। সুষম খাদ্য ফাঁস মানে এমন খাবার গ্রহণ করা যেখানে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি ভিটামিন মিনারেল ও আঁশ অর্থাৎ ফাইবার সঠিক অনুপাতে থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শুধু কম খাওয়ায় যথেষ্ট নয় বরং কি খাচ্ছে এবং কতটা খাচ্ছে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন ডায়াবেটিস রোগীর খাবার সাধারণত যেমন হওয়া উচিত। যেসব খাবারে রক্তের শর্করা ধীরে ধীরে বাড়ে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে ও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ হলো সেই উপাদান জা দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হয়। এবং ডায়াবেটিস রোগীদের কার্বোহাইড্রেট পরিমাণ ওধরণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।

কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণে যেসব এড়িয়ে চলবেন যেমন; সাদা ভাত অতিরিক্ত পরিমাণে, ময়দার তৈরি রুটি পাউরুটি, মিষ্টি, কেক বা বিস্কুট কোমল পানি ও চিনি ইত্যাদি। কার্বোহাইড্রোনেট নিয়ন্ত্রণে যেসব খাওয়া প্রয়োজন যেমন; লাল চাল বা ব্রাউন রাইস আটার রুটি অটোস ডাল ও শাকসবজি। সাধারণত এগুলোতে ফাইবার বেশি থাকে ফলে রক্তের শর্করা ধীরে বৃদ্ধি পায়। আস যুক্ত খাবার এর গুরুত্ব অনেক। ফাইবার ও আজ ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদ্ধতি। আজ খাবার হজম এর গতি কমা এবং গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবাহ করতে সাহায্য করে। আর্সের ভালো উৎস হল শাকসবজি যেমন পালন লাউ করলা ঝিঙ্গা ইত্যাদি। ফল যেমন আপেল পেয়ারা কমলা ইত্যাদি। ডাল ও ছোলা এবং চিয়া সিড ও তৃসি বীজ ইত্যাদি। নিয়মিত আজ যুক্ত খাবার খেলে কষ্ট কাঠিন্য কমে এবং ব্লাড সুগার এর ওঠানামা কম হয়। প্রোটিন শরীরের কোষ গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া খুবই প্রয়োজন। যেমন; মাছ, ডিম মুরগির মাংস, ডাল ও বাদাম ইত্যাদি। প্রোটিন রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায় না তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। স্বাস্থ্যকর চর্বি আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। কারণ সব চর্বি ক্ষতিকর নয়। যেমন অলিভ অয়েল, সরিষার তেল, বাদাম, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ট্রান্সফার যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। অনেক সময় আমরা স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও, খাওয়ার পরিমাণ বেশি হলে সমস্যা হয়। তাই একেবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে ৪ থেকে ৫ বার খাওয়া ভালো। প্লেটের অর্ধেক শাক সবজি রাখা উচিত এবং ভাত বা রুটি সীমিত রাখা উচিত। এই নিয়ম ব্লাড সুগারের হঠাৎ বৃদ্ধি কমায়। অন্যদিকে ডায়াবেটিস রোগীরা ফল খেতে পারবেন তবে পরিমিত ও সঠিক সময়ে খেতে হবে। একসাথে বেশি ফল খাওয়া যাবে না বা ফলের জুস খাবা যাবেনা, সম্পূর্ণ ফল খাবেন অতিরিক্ত মিষ্টি ফল সীমিত খাবেন। ফল ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি সরাসরি চিনি খাওয়ার চেয়ে ভালো।

নিয়মিত সময়ের খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে হঠাৎ বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় যা ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দেয়। নির্দিষ্ট সময় নাস্তা দুপুর ও রাতের খাবার সঠিক সময়ে এবং প্রয়োজনে হালকা স্বাস্থ্যকর স্নাক্স খাওয়া যেতে পারে। এবং পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা ভালো। ডায়াবেটিস টাইপ -২ মূলত জীবন যাত্রার সাথে সম্পর্কিত। সঠিক খাদ্যভাস অনুসরণ করলে ওজন কমে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট কমে এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে ও হৃদরোগের ঝুকি কম থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওষুধের প্রয়োজনীয়তা কমানোর সম্ভব তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যবাস শুধু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য নয় বরং জীবনের জন্য অপরিহার্য। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি কোন অস্থায়ী ডায়েট নয় বরং একটি স্থায়ী জীবন যাপনের অংশ। সচেতন ভাবে খাবার নির্বাচন পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

করলা অর্থাৎ উচ্ছে ও নিম পাতা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক ও ভেজোক উপাদানের মধ্যে ব্যবহার বহু প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত। আমাদের আশেপাশে সহজলভ্য এবং দুটি শক্তিশালী ভেজা উপাদান হল করলা এবং নিম পাতার কচি পাতা। এ দুটি উপাদানের রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সহায়ক বলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার ব্যবহার হয়ে আসছে। সঠিকভাবে ও পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করলে এগুলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কোন লাভ বা উচ্ছে সাদা তিতা হল এর ভেতরে রয়েছে অশোদের ঔষধি গুন। এতে উপস্থিত কিছু বিশেষ উপাদান যেমন চারান্তিন, পলিপেপটাইড - পি এবং ভিসিন যেগুলো প্রাকৃতিকভাবে ইনসুলেন্সের মতো কাজ করতে পারে। করলার বেশ উপকারিতা রয়েছে। যেমন;
  • প্রাকৃতিক ইনসুলেনের এর মত কাজ করেঃ করেলায় থাকা পলিপেপটাইড- পি শরীরের ইন্সুলেনের কার্যকারিতা অনুসরণ করতে পারে ফলের রক্তে জমে থাকা অতিরিক্ত গ্লুকোজ কোষে করতে সাহায্য করে।
  • ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিঃ ডায়াবেটিস টাইপ-২ এর ক্ষেত্রে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বড় সমস্যা। করলা কোষকে ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করতে সাহায্য করে।
  • খাবারের পর ব্লাড সুগার কমাতে সহায়কঃ নিয়মিত করলার রস বা তরকারি খেলে খাবারের পর রক্তের শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কম হতে পারে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়কঃ করলা কম ক্যালরিযুক্ত আজ সমৃদ্ধ যা ওজন নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে। ওজন কমলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
প্রতিদিন খালি পেটে অল্প পরিমাণ করলার রস খেতে হবে, সপ্তাহে দুই থেকে চার দিন করলার তরকারি ও অতিরিক্ত নয় বরং পরিমিত মাত্রায় খেতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগে নিম পাতার উপকারিতা অনেক। সাধারণত নিম গাছকে প্রাকৃতিক ওষুধের ভান্ডার বলা হয়। নিম পাতার কচি পাতা বিশেষভাবে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্টি-ইন ফরমেটরি ও রক্ত পরিষদ গুন। নিম পাতার কচি পাতা খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। যেমন; রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে সহায়কঃ নিম পাতায় থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান শরীরের গ্লুকোজ ব্যবহারের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়ক বলে ধারণা করা হয়। অগ্ন্যাশয় এর কার্যক্ষমতা উন্নত করাঃ নিম পাতা অগ্ন্যাশয় এর বিটা কস্কে সুরক্ষা দিতে পারে ফলে ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়া কিছুটা উন্নত হতে পারে। রক্ত পরিশোধনঃ নিম পাতা প্রাকৃতিকভাবে রক্ত পরিষদ হিসেবে কাজ করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ত্বকের সংক্রমণ বা ঘা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ নিম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে যা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এবং নিম পাতার কচি পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক সহায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ও পরিণত এবং সচেতন ব্যবহারে এগুলো রক্তে শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে এবং শরীরের সামগ্রীক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত হাটা ও হালকা ব্যায়াম

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নিয়মিত হাটা ও হালকা ব্যায়াম সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ এবং কার্যকর পদ্ধতি গুলোর মধ্যে একটি। অনেকেই মনে করে ডায়াবেটিস মানেই শুধু ওষুধ বা ইনসুলের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়। তবে বাস্তবে দেখা যায় নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস টাইপ টু এর ক্ষেত্রে। আমাদের শরীর যখন নড়াচড়া করে বা ব্যায়াম করে তখন পেশিগুলি শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে। ফলে রক্তে জমে থাকা অতিরিক্ত শর্করা ধীরে ধীরে কমে যায়। নিয়মিত হাটা ও হালকা ব্যান্ড শরীরের ব্লাড সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত হাটা ব্যায়া নানাভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেমন;
  • ইনসুলিন সংবিধান ছিল তার বৃদ্ধি করেঃ নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিন এর প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। অর্থাৎ ইনসুলিন কম থাকলে শরীর গ্লুকোজ কে কার্যকর ভাবে ব্যবহার করতে পারে। এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট কমাতে সাহায্য করে যা ডায়াবেটিস টাইপ -২ এর প্রধান সমস্যা।
  • রক্তের শর্করা দ্রুত কমাতে সাহায্য করেঃনিয়মিত হাঁটা ও হালকা ব্যায়ামের সময় বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করে শক্তি তৈরি করে। ফলে খাবারের পর ব্লাড সুগার বেশি বেড়ে গেলে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাটাহাটি করলে ব্লাড সুগার কমাতে এটি সহায়তা করে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়কঃ অতিরিক্ত ওজন বিশেষ করে পেটের মেদ ডায়াবেটিসের জন্য বড় একটি ঝুঁকি। নিয়মিত হাতা ও হালকা ব্যায়াম শরীরে অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। ওজন কমলে ইনসুলিন আরো কার্যকর ভাবে কাজ করতে পারে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করে।
  • মানসিক চাপ কমায়ঃ স্ট্রেস বা মানসিক চাপ ব্লাড সুগার বাড়াতে পারে। হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম শরীরে এন্ডোফিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে যেমন ভালো রাখে এবং স্টেস কমায়।
প্রতিদিন নিয়মিত অন্তত ৩০ থেকে ৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটবেন। এমনভাবে হাঁটবেন যেন আপনার শরীর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘাম বের হয়। ধীরে ধীরে হাটা যাবেনা। দ্রুত হাঁটতে হবে। প্রতিদিনই হাঁটা উত্তম, তবে অনেকের সমস্যা কারণে সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিনহাটা ভালো। তবে চেষ্টা করতে হবে একটানা হাটার, যদি একটানা না পারেন তাহলে কমপক্ষে ৫ থেকে ২০ মিনিট করে তিনবার হাটাহাটি করতে পারেন। খাওয়ার ৩০ মিনিট পর হাটা বিশেষ উপকারী। এবং হাটার পাশাপাশি আপনি হালকা করে ব্যায়াম করবেন যা আপনার শরীরের জন্য উপকারী। যেমন;
  • প্রতিদিন দ্রুত হাঁটা
  • সাইক্লিং
  • হালকা যোগব্যায়াম
  • স্ট্রেচিং
  • হালকা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ
  • ওঠানামা ইত্যাদি।
তবে আপনার বয়স অনুযায়ী শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ব্যায়াম নির্বাচন করা উচিত। নিয়মিত হাটা ও হালকা ব্যান্ড শুধু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নয় বরং শরীরকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত কার্যকর উপায়। এটি রক্তের শর্করা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করে ও হৃদরোগের ঝুকি কমায় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম পরিশ্রমকে জীবন যাপনের অংশ করে নেওয়ায় সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনার ডায়াবেটিস ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং শরীর ও শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রসুন এর কার্যকারিতা

ডায়াবেটিস কমানোর ১২টি কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি, এর মধ্যে অন্যতম পদ্ধতি হলো রসুন। রসুন প্রাচীনকাল থেকে একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস টাইপ -২ নিয়ন্ত্রণে রসুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রসুনের মধ্যে থাকা এ্যালিসিন, সালফার যৌগ, আন্টিঅক্সিডেন্ট ও আন্টি- ইনফ্লামেটরি উপাদান রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। রসুন ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস টাইপ -২ এর শরীর ঠিকভাবে ইনসুলেন্ট ব্যবহার করতে পারেনা। রসুন এই ইনসুলেন্ট সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ কমাতে সহায়তা ভূমিকা রাখতে পারে। এবং নিয়মিত পরিমাণের রসুন খেলে প্লাস্টিং ব্লাড সুগার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। আমরা অনেকেই জানি বা জেনেছি ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। রসুন খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগ যন্ত্র সুস্থ থাকে এবং ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।

ডায়াবেটিসের সাথে উক্ত রক্তচাপ থাকলে ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। রসুন রক্তনালি প্রসারিত করতে সাহায্য করে ফলে রক্তচাপ কিছুটা কমে। এতে হার্ট ও কিডনির ওপর অনেকটাই চাপ কমে। রসূলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষ কে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। দেখা যায় যা বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করে। এই প্রদাহ কমাতেও সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক থেকে দুটি কোয়া রসুন চিবিয়ে খেতে হবে। কুসুম গরম পানির সাথে মিশিয়েও খাওয়া যায়। রান্নায় নিয়ত রসুন ব্যবহার করা যেতে পারে, কেউ চাইলে রসুনের রস সামান্য মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন যদি শর্করা শরীরে নিয়ন্ত্রণে থাকে। রসুন একটি সহজলভ্য ও প্রাকৃতিক উপাদান যা সঠিক খাদ্যভাস নিয়মিত ব্যায়াম ও চিকিৎসকের পরামর্শের সাথে মিলিয়ে গ্রহণ করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সহায়ক হতে পারে। তবে যে কোন ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণের আগে অবশ্যই নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেথি দানা

মেথি দানা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বহুল ব্যবহারিত একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এতে রয়েছে দ্রবণীয় আজ যা রক্তের শর্করার শোষণ করে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। মেথি অনেক ভাবে আমাদের শরীরে কাজ করে । যেমন;অন্তরের গ্লুকোজ শোষণ কমায়, ইনসুলিন এর প্রতি শরীর সংবেদনশীলতা বাড়ায়, ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও খাবারের পরে সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। প্রতিদিন রাতে এক চামচ মেথি দানা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি সহ খালি পেটে খেতে হবে। আবার মেথি গুড়া করে কুসুম গরম পানির সাথেও খাওয়া যায়। নিয়মিত এক থেকে দুই মাস ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে উপকার বোঝা যায়। মেথি সহজলভ্য ও প্রাকৃতিক উপাদান যা সঠিক খাদ্যবাস নিয়মিত ব্যায়াম এবং ডাক্তারের চিকিৎসার পাশাপাশি গ্রহণ করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলো কখনোই মূল চিকিৎসার বিকল্প নয় বরং সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

ডায়াবেটিসের জন্য বেশ কিছু বর্জনীয়

ডায়াবেটিসের জন্য বেশ কিছু বর্জনীয় রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরে খাওয়া একেবারে ঠিক নয় এবং ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও এটি ঝুঁকি হতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রট তৈলাক্ত খাবার ও অনিয়ন্ত্রণ জীবন যাপন বর্জন করা জরুরী। স্বাস্থ্যকর খাদ্যভাস ও নিয়মিত ব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যেগুলো বর্জনীয় সাধারণত,
  • অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি খাবার, যেমন মিষ্টি চকলেট কেক পেস্টি মিষ্টি পানীয় রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায়।
  • সাদা চাল ও পরিশোধ কার্বোহাইড্রেট; সাদা ভাত ময়লা রুটি নুডুলস পাউরুটি দ্রুত গ্লুকোজ বাড়াতে পারে।
  • ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড; সমুচা পুরি বার্গার ফ্রাই ইত্যাদি ওজন ও কোলেস্টেরল বাড়ায় যা ডায়বেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার; গরু খাসির চর্বি প্রসেসড মাংস হৃদরোগে ঝুকি বাড়ে।
  • অতিরিক্ত লবণ; উক্ত রক্তচাপ পাড়ায় যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর।
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল; রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়।
  • অলস জীবন যাপন; ব্যায়াম না করে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট বাড়ায়।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ; স্টেস হরমোন রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।
  • তাই এগুলো আমাদের জন্য পরিত্যাগ বা বর্জনীয় করতে হবে।

লেখক এর শেষ কথা

ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব। সঠিক খাদ্য ভাস নিয়মিত ব্যায়াম ওজন নিয়ন্ত্রণ মানসিক চাপ কমানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই হল এর মূল চাবিকাঠি। ঘরোয়া কিছু উপায়ে সহায়ক হতে পারে তবে কখনোই মূল চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়। সচেতনতা, নিয়মিত, রক্তের শর্করা পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখলে ডায়াবেটিস জনিত সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়। তাই অবহেলা নয় বরং নিয়ম নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতাই হোক সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার।

আশা করি উপরের বিষয়গুলো থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন। উপরের আর্টিকেল থেকে কোন কোন বিষয়ের আপনি উপকৃত হলেন তা সম্পর্কে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করুন। এবং আরো কোন তথ্য জানার জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করুন বা ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। এতক্ষণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst. Rubi Khatun
Mst. Rubi Khatun
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট গেনের বারি ওয়েবসাইটের এডমিন । তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।