তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়

তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়, সম্পর্কে অনেকেই জানতে চাই। আপনিও কি কিভাবে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ? তাহলে এআর্টিকেলটি আপনার জন্য, তাহলে নিচের আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে সম্পন্ন পড়ুন ।

তৈলাক্ত-ত্বকের-ব্রণ-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়

সাধারণভাবেই ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করে ব্রণ। বর্তমানে ব্রণের প্রকোপ ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে বেড়েই চলছে। ব্রণ মানুষের ত্বকে উঠার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। নিচের আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন কিভাবে তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ দূর করা যায় ঘরে বসে ঘরোয়া পদ্ধতিতে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়

তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়

তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়, বর্তমানে বাস্তবে দেখা যায় তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ আজকাল কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকেরই কাছে এটি একটি সাধারণ দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ, ধুলাবালি, দূষণ হরমোনের পরিবর্তন এবং অনিয়মিত জীবন যাপনের কারণে এই সমস্যা আরো বেড়ে যায়। বিশেষ করে আমাদের দেশের গরম ও আর্দ্রতা ব্যবহার তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়। নষ্ট করে না, অনেক সময় আত্মবিশ্বাস ও কমিয়ে দেয়। প্রায় এর সঠিক ও নিরাপদ সমস্যা সমাধান জানা অত্যন্ত জরুরী। অনেকের দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য ব্যবহার করেন, যা সাময়িকভাবে উপকার দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তাকে ক্ষতি করতে পারে। সে ক্ষেত্রেও ঘরোয়া উপায় হতে পারে একটি নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান। প্রাকৃতিক উপাদানে তেমন কোন ইফেক্ট নেই। সাধারণত এটি আমাদের বাসার আশপাশ থেকেই পাওয়া যায়।

তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী । আমাদের বাসায় আশপাশেই এমন অনেক উপাদান রয়েছে যেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ব্রণ ধীরে ধীরে কমে আসে। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই, ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে আপনার হবে উজ্জ্বল ও সৌন্দর্যতা ফিরে আসবে। আমরা এই আর্টিকেল থেকে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় ও সেগুলির ব্যবহার বিধি ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। যাতে নিয়ম মেনে যত্ন নিয়ে সুস্থ ও পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া যায়।

তৈলাক্ত ত্বক ও ব্রণ হওয়া কারণ

তৈলাক্ত ত্বকে সেবাম বা প্রাকৃতিক তেল অতিরিক্ত পরিমাণে উৎপন্ন হয়, যার ফলে রোম কুপ বন্ধ হয়ে যায়। এবং সেখানে জমে থাকা ময়লা ধুলাবালি ও ব্যাকটেরিয়া থেকে ব্রণের সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশের আবহাওয়া আদ্রতা হওয়ায় ত্বক আরো দ্রুত তেলতেলে হয়ে পড়ে ফলের সমস্যা আরো বাড়ে। ব্রণ দূর করতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে যে ত্বকের অতিরিক্ত তেল মূল কারণ। সঠিক পরিচর্যা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকের তেলের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ঘরোয়া উপায় গুলো সাধারণত ত্বকে গভীর থেকে পরিষ্কার করে রং কুপ সংকুচিত করে এবং ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করে। নিয়ম মেনে যত্ন নিলে ধীরে ধীরে ব্রণ কমে এবংএবং নতুন ব্রণ ওঠাও নিয়ন্ত্রণে আসে। তৈলাক্ত ত্বক ও ব্রণ হয় সাধারণত বিভিন্ন কারণ থেকে। যেমন; হরমোন পরিবর্তনঃ কিশোর বয়সে, গর্ভাবস্থায় বা হরমোন জনিত সমস্যার কারণে শরীরে এন্ড্রোজেন হরমোন বেড়ে যায়। এতে তেল গ্রন্থী বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সে ক্ষেত্রে ব্রণ দেখা যায়।

অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকঃ যাদের ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তেল উৎপন্ন করে তাদের রুমকূপ সহজে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অপরিষ্কার ত্বক ও দূষণঃ ধুলাবালি ঘাম ও ময়লা ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে তা ত্বকে জমে রোমকূপ বন্ধ করে দেয়। বিশেষ করে গরম ও আদ্র আবহাওয়ায় এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।
অনিয়মিত খাদ্যভাসঃ অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার ফাস্টফুড কোমল পানীয় ও চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে শরীরের তেলের ভারসাম্য নষ্ট হয় যা ব্রণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
মানসিক চাপঃ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলেও হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এর ফলে তোকে তেল বৃদ্ধি পায় এবং ব্রণ দেখা দিতে পারে।
ভুল কসমেটিক্স ব্যবহারঃ অতিরিক্ত মেকআপ বা ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য ব্যবহার না করলে রোম কূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং এতে ব্রণ হতে পারে।
বংশগত কারণঃ পরিবারে যদি কারো ব্রণের সমস্যা থাকে তাহলে অন্য সদস্য একের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
সব মিলিয়ে বলা যায় ব্রণ হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ কাজ করে। প্রতিরোধ করতে হলে শুধু বাহিক যত্ন নয় বরং ভেতরে যত্ন ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিচে আর্টিকেল থেকে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার সকল ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো সম্পর্কে জেনে নিই।

নিম পাতা ও নিমের পেস্ট ব্যবহার

তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়, হিসেবে নিম পাতা প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করতে নিম পাতা অত্যন্ত কার্যকরী একটি ঘরোয়া উপাদান। নিমের মধ্যে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল অ্যান্টিফাঙ্গাল ও ইনফ্লামেটরি উপাদান রয়েছে যা ব্রণের জীবন ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের প্রদাহ কমায়। ব্রণ সাধারণত রোমকূপে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। আর এই নিম পাতা তিনটি সমস্যার বিরুদ্ধেই কাজ করে থাকে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে রোমকো পরিষ্কার রাখে এবং নতুন ব্রণ ওঠার প্রবণতা কমায়। নিমপাতা পেস্ট তৈরি করার জন্য প্রথমে ০৮ - ১০ টি তাজা নিমপাতা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর সামান্য পানি দিয়ে পিষে ঘন করে পেস্ট বানাতে হবে। এই পেজ সরাসরি ব্রণের ওপর বা পুরো মুখে লাগানো যায়। এরপর ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত রেখে এবং তা শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত সপ্তাহে তিন থেকে চারবার ব্যবহার করলেন ব্রনের লালচে ভাব কমে, ফলা ভাব হ্রাস পায় এবং ধীরে ধীরে ব্রণ শুকিয়ে যায়।

এছাড়া নিম পাতা সেদ্ধ পানি দিয়েও মুখ ধোয়া যায়। এক মুঠো নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বক জীবাণুমুক্ত থাকে এবং ব্রণ কমতে সাহায্য করে। তারা নিমের সাথে হলুদ মিশে পেস্ট করতে পারেন। এতে উপকার আরো বেশি বৃদ্ধি পায় কারণ হলুদ ও জীবাণুনাশক গুণসম্পন্ন উপাদান। নিম ত্বকের ভেতরে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে এবং ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার রাখে। এটি শুধু ব্রণ কমে না বরং ব্রণের দাগ হালকা করতেও সাহায্য করে। নিয়মিত ও ধৈর্য ধরে ব্যবহার করলে তক ধীরে ধীরে মসৃণ পরিষ্কার ও সতেজ হয়ে ওঠে। তবে যাদের ত্বক খুব বেশি সংবেদনশীল, তারা ব্যবহারের আগে সামান্য পরিমাণ হাতে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিতে পারেন। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে নিমপাতা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি নিরাপদ সহজলভ্য ও কার্যকর ঘরোয়া সমাধান হিসেবে দুর্দান্ত কাজ করে।

টমেটো ও শসার রস

তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়, হিসেবে টমেটো ও শসার রস তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ও সহজলভ্য একটি ঘরোয়া উপায়। কারণ এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ রোমকূপ পরিষ্কার এবং তথ্যের সতেজ রাখার ক্ষেত্রে একসাথে চমৎকার ভাবে কাজ করে। টমেটোতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি যা ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পূর্ণ গঠনের সাহায্য করে, এবং ব্রণের জীবাণু বদ্ধি কে কমায় ও ব্রণের দাগ ধীরে ধীরে হালকা করতে সাহায্য সহযোগিতা করে। পাশাপাশি এর হালকা অ্যাসিডিক উপাদান ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং রোমকূপ সংকুচিত করে। অন্যদিকে শসা ত্বকে ঠান্ডা ও প্রশান্ত রাখে প্রদাহ কমায় এবং অতিরিক্ত তেল শোষণ করে ত্বকের মিশ্রণ ও সতেজ করে তোলে। বিশেষ করে যাদের ত খুব দ্রুত তেলতেলে হয়ে যায় তাদের জন্য এটি খুবই উপকারী একটি ঘরোয়া উপাদান ।

ব্যবহারের জন্য একটি পাকা টমেটো নিয়ে ভালোভাবে রস বের করে নিতে হবে, এবং তার সাথে একটি শসা নিয়ে সমপরিমাণ শসার রস মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে পুরো মুখে লাগাতে পারেন। এবং ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে নিয়মিত সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ বার ব্যবহার করলে ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণে আসে ও ব্রনের লালচে ভাব কমে এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখায়। এই মিশ্রণটি প্রাকৃতিক টোনার হিসেবেও কাজ করে যা ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করে এবং নতুন ব্রণ উঠার ঝুঁকি কমায়। ফলে ধীরে ধীরে ত্বক হয়ে ওঠে পরিষ্কার ও কোমল এবং প্রাণবন্ত। সাধারণভাবে এগুলোর কোন খারাপ ইফেক্ট নেই।

হলুদ ও চন্দন

হলুদ ও চন্দনের প্যাক তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর ও প্রাচীন এবং পরিক্ষিত একটি ঘরোয়া উপায়। যা দীর্ঘদিন ধরে উপমহাদেশের মানুষ ত্বকের যত্নে ব্যবহার করে আসছে। হলুদের রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিসেপ্তিক ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান, যা ব্রণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াল ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের ভেতরের প্রদাহ কমায়, ফলে ব্রণের ফোলা ভাব ও লালচে ভাব দ্রুত হ্রাস পায়। অন্যদিকে চন্দন তর্কের শীতল ও শান্ত রাখে, অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং লোমকূপ সংকুচিত করতে সহায়তা করে। যার ফলে ত্বক কম তেলতেলে হয় এবং নতুন ব্রণ ওঠার সম্ভাবনাও কমে যায়। এই দুই উপাদান একসাথে ব্যবহার করলে তক গভীরভাবে পরিষ্কার হয় এবং ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম শোষিত হয় এবং ত্বকের টেক্সচার ধীরে ধীরে উন্নত হয়। পেস্ট তৈরি করার জন্য খাটি হলুদ অর্থাৎ কাঁচা খাঁটি হলুদটি বেশি কার্যকর বলে মনে করা হয়।

তাই কাঁচা হলুদ বা খাঁটি হলুদের গুড়ার সাথে এক চা চামচ চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে এবং তাতে পরিমাণ মতো গোলাপজল বা পরিষ্কার পানি দিয়ে ঘন পেস্ট বানাতে হবে। আপনি চাইলে কয়েক ফোটা লেবুর রস যোগ করতে পারেন, তবে আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় তাহলে ত্বকে লেবু ব্যবহার না করায় ভাল। পেস্ট পরিষ্কার মুখে সমানভাবে লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, যখন এটি হালকা হয়ে শুকিয়ে আসবে, এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি নিয়মিত সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ব্রণের প্রকোপ কমে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ব্রণের দাগ ধীরে ধীরে হালকা হয়। যেমন; হলুদ ত্বকের ভেতরের টক্সিন কমাতে এবং চন্দন ত্বকে এক ধরনের প্রাকৃতিক ঠান্ডা অনুভূতি দেয় যা গরম ও আর্দ্রতায় ত্বকের জন্য ব্যবহার বিশেষ উপকারী। এই প্যাক শুধু ব্রণ কমায় না বরং ত্বককে কোমল মসৃণ ও প্রাণবন্ত করে তোলে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে অতিরিক্ত হলুদ ব্যবহার না করা হয়, কারণ এতে ত্বকের সাময়িক হলুদ আভাস দেখা দিতে পারে। নিয়ম মেনে ও ধৈর্য ধরে ব্যবহার করলে হলুদ ও চন্দনের প্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি নিরাপদ সহজলভ্য এবং কার্যকর প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে কাজ করে।

মধু ও লেবুর রস

 মধু ও লেবু সাধারণত এটি প্রায় মানুষের ঘরে ঘরেই থেকে থাকে। মধু ও লেবুর রস মিশ্রণ তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার জন্য একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর ও সহজলভ্য ঘরোয়া উপায়। যা একই সঙ্গে ত্বক পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত এবং উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য সহযোগিতা করে। মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিসেপ্টিক গুণসম্পন্ন যা ব্রণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াল ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের প্রদাহ কমায়। সাধারণত যখন লোমকূপের তেল ময়লা ও জীবাণু জমে যায় তখন সৃষ্টি হয়। আর মধু সে জমে থাকা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে ব্রণের ফোলা ভাব ও লালচে ভাব ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। এছাড়া মধু একটি প্রাকৃতিক মশ্চারাইজার যা ত্বকের শুষ্ক না করে বরং আদ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখে ফলে ত্বক অতিরিক্ত তেল উৎপাদন থেকে বিরত থাকে। অন্যদিকে লেবুর রস রয়েছে ভিটামিন সি ও প্রাকৃতিক সাইট্রিক অ্যাসিড, যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে এবং রোমকূপ গভীর থেকে পরিষ্কার করে। লেবুর হালকা অ্যাসিডক উপাদান ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে ফলে রোমকূপ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং নতুন ব্রণ উঠা প্রতিরোধ হয়। পাশাপাশি লেবুর ত্বকের কালচে দাগ ও ব্রণের দাগ হালকা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যার ফলে ত্বক ধীরে ধীরে উজ্জ্বল ও সমান রঙের হয়ে ওঠে।

ব্যবহারের জন্য এক চা চামচ খাঁটি মধুর সাথে ৫-৬ ফোঁটা তাজা লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। পরিস্কার মুখে এই মিশ্রণটি হালকাভাবে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে, এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তবে যাদের ত্বক সংবেদনশীল তারা লেবুর পরিমাণ কম ব্যবহার করবেন, বা আগে হাতে সামান্য লাগে পরীক্ষা করে নেবেন। কারণ লেবুর অ্যাসিডিটিক গুণ কখনো কখনো জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মধু ও লেবুর রসের এ প্রাকৃতিক মিশ্রণ ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং জীবাণু ধ্বংস করে ত্বকের দাগ হালকা করে ও ত্বকের সতেজ কোমল ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল করে তোলে। ধৈর্য্য ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর ঘরোয়া সমাধান হিসেবে কাজ করে।

বেসন ও দই এর প্যাক

বেসন ও দই এর প্যাক তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রাকৃতিক ও নিরাপদ একটি ঘরোয়া উপায়। যা বহু বছর ধরে ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তৈলাকের সাধারণত অতিরিক্ত সেবাম বা তেল উৎপন্ন হয়, যার ফলে রোমকোপে ময়লা ধুলাবালি ও মৃত কোষ জমে গিয়ে ব্রণের সৃষ্টি হয়। বেসন এই অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং ত্বকের উপরিভাগ জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের গভীরে গিয়ে রোমকূপ পরিষ্কার রাখে এবং ব্ল্যাকহেডস স ও হোয়াইটহেডস কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক কম তেলতেলে হয় এবং ব্রণ ওঠার প্রবণতাও ধীরে ধীরে কমে যায়। অন্যদিকে দইয়ে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা একটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে কাজ করে, এবং ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। মৃত কোষ জমে থাকলে রোমকুপ সহজেই বন্ধ হয়ে যায়, এবং ব্রণ সৃষ্টি হয় তাই দই ত্বকের উপরিভাগ মসৃণ করে ও নতুন কোষ গঠনের সহায়তা করে। এছাড়া দই তোকে হালকা ময়েশ্চারাইজিং প্রভাব দেয়, ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে না এবং তেলের ভারসাম্য বজায় থাকে। দইয়ের শীতল প্রভাব ব্রণের লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে যা তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী।

এই প্যাক তৈরি করার জন্য ২ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ টক দই মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এখানে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস বা এক চিমটি হল যোগ করা যেতে পারে তবে সংবেদনশীল লেবু এড়িয়ে চলাই ভালো। পরিষ্কার মুখে প্যাকটিস সমানভাবে লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে হালকা কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং ধোঁয়ার সময় হালকা মেসেজ করলে অতিরিক্ত মৃত কোষ দূর হয়। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে ব্রনের প্রকোপ হ্রাস পায়। এবং ত্বক ধীরে ধীরে উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যবহারে বেসন ও দইয়ের এই প্যাক ত্বকের টেক্সচার উন্নত করে ব্রণের দাগ হালকা করতে সহায়তা করে এবং ত্বকে একটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এনে দেয়। এটি রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ তবে যাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল তারা আগে হাতে বা কানের পেছনে সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিতে পারেন। এবং নিয়মিত ধৈর্য ও যত্নের মাধ্যমে এই সহজ ঘরোয়া উপায় তৈলাক্ত ত্বকে পরিষ্কার সতেজ ও ব্রণ মুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগার তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ দূর করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর ঘরোয়া উপায়। কারণ এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে জীবাণু ধ্বংস এবং ত্বকের পি এইচ ভারসাম্য ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত ব্রণ কখনই বেশি হয় যখন ত্বকের রমকুপে তেল মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়া জমে গিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে। আপেল সিডার ভিনেগার থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিটিক অ্যাসিড ও এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান সেই ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে এবং ব্রণ দ্রুত শুকাতে সহায়তা করে। এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে ফলে রোমকূপ বন্ধ হওয়ার প্রবণতা কমে যায় এবং নতুন ব্রণ ঝুঁকি হ্রাস পায়। আপেল সিডার ভিনেগার ত্বকের পি এইচ লেভেল ঠিক রাখতে সহায়ক যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে তেল উৎপাদন বেড়ে যায় এবং ত্বক সহজে সংক্রমনের শিকার হয়। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে যার রোমকূপ সংকুচিত করে এবং ত্বককে টানটান অনুভূতি দেয়। নিয়মিত সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল ত ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তখন তেলতেলে হয় বা দেখায়। হালকা করতে সহায়তা করতে পারে কারণ এর হালকা অ্যাসিডক গুণ ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে।

তবে আপেল সিডার ভিনেগার কখনোই সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ এটি বেশ শক্তিশালী এবং ত্বকে জ্বালাপোড়া বা শুষ্কতা সৃষ্টি তৈরি করতে পারে। ব্যবহারের জন্য এক ভাগ আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে দুই থেকে তিন ভাগ পরিষ্কার পানি মিশিয়ে নিতে হবে। ব্রণের ওপর বা পুরো মুখে লাগাতে হবে। লাগানোর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করায় যথেষ্ট। অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত সতর্কভাবে ব্যবহার করলে আপেল লিডার ভিনেগার ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমায় ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করে রুমকূপ পরিষ্কার রাখে এবং উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে। তবে যাদে ত্বক সংবেদনশীল বা শুষ্ক প্রকৃতির তারা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই টেস্ট করে নিবেন। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি একটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি কার্যকর সহজলভ্য ও প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে।

অ্যালোভেরা জেল ও মধু

অ্যালোভেরা জেলের সাথে মধু মিশিয়ে ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করতে এর কার্যকারিতা আরো বেড়ে যায়। কারণ এই দুইটি প্রাকৃতিক উপাদান একসাথে ত্বকের ভেতর ও বাহির দু দিক থেকে কাজ করে। অ্যালোভেরা মূলত প্রদাহ নাশক শীতলকারী ও জীবাণুনাশক গুণ সম্পন্ন উপাদান। যা ব্রনের লালচে ভাব, খোলা ভাব ও জ্বালাপোড়া দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে মধু শক্তিশালী অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের সমৃদ্ধ যা ব্রণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং ত্বকের সংক্রমণ কমায়। এই দুই উপাদান একত্রে ব্যবহার করলে তা গভীরভাবে পরিষ্কার হয় এবং ব্রণ দ্রুত শুকাতে সহায়তা হয়। তৈলাক্ত ত্বকে অনেক সময় ব্রণ কমানোর উপায় গুলো ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে তোলে, ফলে ত্বক প্রতিক্রিয়ায় আরো বেশি তেল উৎপাদন শুরু করে এবং ব্রণ দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু অ্যালোভেরা ও মধুর মিশ্রণ ত্বকের আর্দ্রতা ভারসাম্য বজায় রাখে, অর্থাৎ তত্ত্বের শুষ্ক না করে কমল ও নরম রাখে। অ্যালোভেরা ত্বকের অতিরিক্ত তেল হালকা ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, আর মধু ত্বকে প্রাকৃতিক মশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে, ফলে ত্বক থাকে সুষম ও স্বাস্থ্যকর।

এছাড়া এই মিশ্রণ ত্বকের ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। অনেক সময় ব্রণ ফেটে গেলে দাগ পড়ে যায় বা ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মধুর পূর্ণ গঠনকারী গুন এবং অ্যালোভেরা জেল রিপেয়ার ক্ষমতা মিলিতভাবে সে কত দ্রুত শুকাতে ও দাগ হালকা করতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের টেকচার উন্নত হয়, রোমকূপ পরিষ্কার থাকে এবং নতুন ব্রণ ওঠার প্রবণতা কমে যায়। ব্যবহারের জন্য এক চা চামচ তাজা এলোভেরাজেলের সাথে আধা থেকে এক চা চামচ খাঁটি মধু ভালোভাবে মিশিয়ে পরিষ্কার মুখে লাগাতে হবে। লাগানোর পর ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে তিন থেকে চার বার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রেও এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, তবে প্রথমবার কোন কিছু ব্যবহারের আগে টেস্ট করে নেওয়ায় ভালো। ধৈর্য ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে অ্যালোভেরা ও মধুরে প্রাকৃতিক মিশ্রণ তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ কমাতে ও ত্বকের শান্ত রাখতে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক এ গোলাপ জলের ব্যবহার

মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি প্রাকৃতিক সমাধান। এর সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা আরো দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সুলতানি মাটি মূলত ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং রুমকূপ গভীর থেকে পরিষ্কার করে এবং জমে থাকা ময়লা ও বিষাক্ত উপাদান বের করে আনতে সাহায্য করে। শুধু মাত্র পানি দিয়ে মিশালে অনেক সময় এটি তত্ত্বকে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলতে পারে, যেখানে গোলাপজল একটি ভারসাম্যপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। যা ত্বককে সতেজ ও স্নিগ্ধ রাখে। গোলাপ জলে প্রাকৃতিক ট্রেনিং গুণ রয়েছে যা রোম কূপে সংকুচিত করতে সাহায্য করে এবং ত্বকে টানটান অনুভূতি দেয়। এটি হালকা অ্যান্টিসেপটিক হওয়ায় ব্রণের জীবাণু বৃদ্ধিও কমাতে সাহায্য করে। তৈলাক্ত ত্বকের সাধারণত রোমকূপ বড় হয়ে যায় ফলে সহজে ধুলাবালু জমে ব্রণ সৃষ্টি হয়, গোলাপজল সেই রোমকূপ পরিষ্কার ও সংকুচিত রাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বকে লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া কমিয়ে শীতল অনুভূতি দেয় যা ব্রণ যুক্ত ত্বকের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হিসেবে কাজ করে।

মুলতানি মাটি ও গোলাপজল একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগালে ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম শোষিত হয়। ত্বক ম্যাট ফিনিশ পায় এবং তেলতেলে ভাব অনেকটাই কমে যায়। নিয়মিত সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়ে ওঠে। এছাড়া এই প্যাক ত্বকের মৃত কোষ দূর করে যার ফলে ত্বকের টেক্সটার উন্নত হয় এবং ব্রনের দাগ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যায়। ব্যবহারের জন্য ২ চা চামচ মুলতানি মাটির সাথে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পেস্টটি পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে নিন, লাগানোর ২৫ থেকে ৩০ মিনিট পর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে তিন থেকে চারবার ব্যবহার করুন। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মুলতানি মাটি ও গোলাপজলের এই সমন্বয় তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ কমাতে ত্বক ঠান্ডা রাখতে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অবশ্যই ব্যবহারের সময় ধৈর্য ধরে ব্যবহার করতে হবে। কারণ এমন কোন ঘরোয়া পদ্ধতি নেই, যা কারেন্ট আপনার ব্রণের দাগ দূর করবে বা ব্রণ দূর করবে। তাই এগুলোর জন্য ধৈর্য ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করায় আপনার জন্য ভালো ফলাফল এনে দিত পারে।

খাবার, পানি, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক রুটিন

ব্রণ কমাতে শুধু ব্রাহিক যত্ন নয়, বরং ভেতরের যত্ন করাও জরুরী। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এটি শরীরের পক্ষেও যেমন ক্ষতিকর তেমনি ত্বকের ক্ষেত্রেও ক্ষতিকর। শাক সবজি ফলমূল খাওয়া ত্বকের জন্য ভালো। অন্যদিকে পানি; প্রতিদিন পর্যন্ত পানি পান করলে শরীর বের হয়ে যায়। এবং ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার ত্বকে সুস্থ রাখে। আমাদের খাবার খাবার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে আমরা কোন খাবারটা খাচ্ছি। আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য করে ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। সঠিক খাদ্যবাস ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত প্রতিদিন দুইবার মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি। মেকআপ ব্যবহার করলে তা ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। আমরা বর্তমান সময়ে প্রায় অনেকেই মেকআপ ব্যবহার করে থাকি প্রতিনিয়ত। মেকআপ দুইবার সময় আমাদের ফেসে থাকে থেকে গেলে ক্ষতি হয়। তাই মেকআপ করার পর আমাদের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু সময় শেষ হলে সাথে সাথে মেকআপ তুলে নেয় ত্বকের পক্ষে ভালো।

পরিষ্কার তোয়ালে ও বালিশের কভার ব্যবহার করলে ব্রণের জীবাণু ছড়ায় না। নিয়মিত রুটিন মেনে চললে তক ধীরে ধীরে সুস্থ হয়। অতিরিক্ত কসমেটিক্স ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো। সঠিক যত্নয় তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার মূল চাবিকাঠি। সঠিকভাবে যত্ন এবং নিয়মিত রুটিন মেনে চললে ব্রণ থেকে আমাদের ত্বককে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

লেখকের শেষ কথা

তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়, তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ একটি সাধারণ সমস্যা হলেও সঠিক যত্ন নিয়মিত পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে এটি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। নিম, হলুদ, চন্দন, মধু, এলোভেরা, মুলতানি মাটি, গোলাপজল বেসন, টক দই, টমেটো, শসা কিংবা আপেল সিডার ভিনেগারের মত সহজলভ্য উপাদান গুলো ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরিষ্কার রাখে ও জীবাণু ধ্বংস করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে মনে রাখতে হবে,যে কোন উপায় রাতারাতি ফল দেয় না বরং ধৈর্য এবং নিয়মিত ব্যবহার ও সঠিক জীবন যাপনায় ভালো ফল এনে দিতে পারে। বাহিক যত্নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যভাস পর্যাপ্ত পানি পান মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম ত্বক সুস্থ রাখতে সমান ভাবে কাজ করে। তাকে ধরন বুঝে উপযুক্ত উপাদান বেছে নেওয়া এবং সংবেদনশীল তোকে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা উচিত। নিয়মিতভাবে ত্বকের যত্ন নিলে ত্বক ধীরে ধীরে পরিষ্কার, সতেজ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তাই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়মিতভাবে ত্বকের যত্ন নিন। এবং সুস্থ ও ব্রণ মুক্ত ত্বক আপনার হাতের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

আশা করি উপরের বিষয় থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন। কোন বিষয়ে উপকৃত হলেন তার সম্পর্কে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করুন। আরো অন্য কোন বিষয়ে জানার জন্য আমার যোগাযোগ নম্বরে যোগাযোগ করুন অথবা আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। এতক্ষণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst. Rubi Khatun
Mst. Rubi Khatun
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট গেনের বারি ওয়েবসাইটের এডমিন । তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।