একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়
একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়, আপনার কি হাত একদম শুষ্ক দেখাচ্ছে, এজন্য আপনি এর প্রতিকার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এই আর্টিকেল থেকে আপনি জানতে পারবেন শুষ্ক হাত থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায়।
আমরা এই আর্টিকেল থেকে বিস্তারিতভাবে জানতে পারবো, যে একদম শুষ্ক হাত হলে রাতে কোন ধরনের লোশন ব্যবহার করা উচিত। কি উপাদান থাকা দরকার, কিভাবে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে, এবং কি কি বিষয় এড়িয়ে চললে শুষ্ক হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। সকল বিষয়ে জানার জন্য আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃএকদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়
একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়
একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়, একদম শুষ্ক হাত অনেকের জন্য খুবই
অসুস্থ কর একটি সমস্যা। বিশেষ করে শীতকালে অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করলে বারবার
হাত ধুলে বা ডিটারজেন্ট এর কাজ করলে হাতের ত্বক ফেটে যায়, চুলকায় এবং জ্বালা
করে এমনকি কখনো কখনো রক্ত বের হতে থাকে। দিনে যতই যত্ন নিন না কেন, রাতে সঠিকভাবে
লোশন ব্যবহার না করলে শুষ্কতা পুরোপুরি কমে না। আমরা দিনের বেলায় অনেকেই সময়
পায়না বা সময় পেলেও সেই রকম যত্ন নেওয়া হয় না নানা কাজে ফাঁকে। এরপরও দিনের
বেলা যত্ন নিলাম রাতে যত্ন বেশি উপকারী। আমাদের শুষ্ক হাতের জন্য প্রয়োজন সঠিক
যত্ন। আর এই শুষ্ক হাতের জন্যই আমাদের বেছে নিতে হবে লোশন। আমরা জানি সাধারণভাবেই
ভারী প্রাকৃতিক লোশন গুলোই আমাদের বেশি কাজে বা উপকারে আসে।
রাতে ঘুমের সময় ত্বক সবচেয়ে বেশি রিকভারি করে। তাই এই সময় ঘন ও পুষ্টিকর
মশ্চারাইজার ব্যবহার করলে তা ভালোভাবে শোষিত হয়। দিনে বারবার হাত ধোয়ার কারণে
ময়েশ্চারাইজার টিকে থাকে না। রাতের জন্য এমন কোন বেছে নিতে হবে যা গভীর আদ্রতা
ধরে রাখতে সহায়তা করে। সাধারণত ঘন, ক্রিমি বা বাটার টাইপের
ময়েশ্চারাইজার সবচেয়ে বেশি ভালো কাজ করে। রাতে ব্যবহার করলে 6 থেকে 8 ঘন্টা তো
কাজ করার সুযোগ পায় না এতে ফাটা ও রুক্ষ হাত দ্রুত নরম হয়। নিয়মিত সাত থেকে আট
দিন ব্যবহার করলে হাতের টেক্সচার অনেক মসৃণ হয়ে যায়। বর্তমান বাজারে বিভিন্ন
ধরনের লোশন পাওয়া যায়, তবে আমাদের সতর্কতার সাথে লোশন কিনে ব্যবহার করতে হবে।
অনেক লোশন আছে যেগুলো একদম পাতলা সেসব লোশন এড়িয়ে চলাই ভালো, এতে এমন কোন ভালো
ফলাফল পাওয়া যায় না।
শুষ্ক হাত কেন হয়
শুষ্ক হাত হওয়া একটি খুব সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনে একাধিক কারণ থাকে। অনেক
সময় হাত শুষ্ক দেখালে আমরা শুধু আবহাওয়াকে দায়ী করি। তবে বাস্তব জীবন যাপন
অভ্যাস পরিবেশ এবং শরীরের ভেতরের অবস্থা এর সাথে জড়িয়ে থাকে। যেমন আমাদের
ত্বকের উপরিভাগে একটি প্রাকৃতিক তেলের স্তর থাকে, যাকে সুরক্ষা স্থর বলা হয়। এই
স্তর ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং বাইরের ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা
করে। যখন আমরা বারবার সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করি তখন আমাদের ত্বকের এ
প্রাকৃতিক তেল ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে শক্তিশালী ক্লিনজার বা
অ্যান্টিব্যাকেরিয়াল সাবান তকে তেল দ্রুত সরিয়ে ফেলে। ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক
আদ্রতা ধরে রাখতে পারেনা এবং ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে পড়ে। আর এ অবস্থায় আপনি যদি
নিয়মিত মশ্চারাইজার ব্যবহার না করেন তাহলে হাত একদম রুক্ষ ও ফাটা হয়ে যেতে
পারে, এবং আপনি অস্বস্তিতে পড়তে পারেন।
অতিরিক্ত হাত ধোয়া এবং ব্যবহার করা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমান সময়ে
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি তুলনায় হাত ধুয়ে থাকি।
যদিও এটি স্বাস্থ্যসম্মত তবে অতিরিক্ত হাত ধোয়া ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিবার
হাত ধোয়ার সময় ত্বকের উপরে সুরক্ষা স্তর কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশেষ করে
স্যানিটাইজার ত্বক দ্রুত শুষ্ক করে দেয়। বর্তমান সময়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার
জন্য আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি আর ধরে থাকি। যদিও এটি মানসম্মত তবে অতিরিক্ত হাত
ধোয়া ত্বকের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার
দ্রুততম সুখে দেয়। যদি এর হাত ধোয়ার পর মশ্চারাইজার ব্যবহার না করা হয় তাহলে
শুষ্কতা দ্রুত বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন হাত ধোয়ার অভ্যাস চলতে থাকলে হাত একদম
খসখসে হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা চেষ্টা করতে হবে হাত কম ধোয়ার। তবে অবশ্যই
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখে।
আরো পড়ুনঃমেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়
আবার শীতকাল হলে ঠান্ডা আবহাওয়া বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকে। এই কম আদ্রতা
ত্বক থেকে পানি টেনেনেয়। ফলে হাতের ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং ফেটে যায়।
আবার এমন অনেকেই রয়েছে যারা শীতকালে গরম পানি ব্যবহার করে থাকে, এতে আরো ত্বকের
তেল শুষে নেয়। ফলে ফলে এই দুটো কারণ একসাথে কাজ করলে শীতকালে ত্বক বেশি শুষ্ক
দেখায়। ত্বক শুষ্ক হওয়ার পেছনে আরো এমন বিভিন্ন কারণ রয়েছে। শুষ্ক হাত হওয়া
পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে থাকে যেমন; অতিরিক্ত হাত ধোঁয়া, শীতের আবহাওয়া,
কেমিক্যাল এর ব্যবহার, পানিসূন্যতা, পুষ্টির ঘাটতি এবং বয়সের প্রভাব ইত্যাদি।
সাধারণভাবে এ কারণগুলো বুঝতে পারলে সমস্যার সমাধান করা সহজ হবে। শুধু লোশন
ব্যবহার করলেই হবে না বরং কারণগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
শুষ্ক হাতের জন্য কোন ধরনের লোশন ব্যবহার করতে হবে
একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়, শুষ্ক হাত শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, বরং এটি ত্বকের স্বাস্থ্যের একটি
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাত বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে তা খসখসে লাগে, টানটান হয় অনেক
সময় চামড়া উঠে যায় বা ফেটে যায়। শুষ্ক হাতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়। সব লোশন এক রকম নয়, বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের লোশন পাওয়া যায় তবে
সবগুলো নেই শুষ্ক ত্বকের জন্য কার্যকরী হয় না। শুষ্ক হাতের জন্য কেমন ধরনের লোশন
ব্যবহার করা উচিত তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো;
ঘন ও ডিপ মশ্চারাইজিং লোশন; যথেষ্ট নয় শুষ্ক হাতের জন্য সবসময় হালকা
লোশন যথেষ্ট নয়। এমন নতুন দরকার যা গভীরভাবে ত্বকের ভেতরে গিয়ে আদ্রতা ধরে
রাখতে পারে। ডিপ মশ্চার, ইনটেনসিভ কেয়ার, বা রিচ ফর্মুলা ধরনের লোশন শুষ্ক
ত্বকের জন্য ভালো কাজ করে। এই ধরনের লোশন তুলনামূলকভাবে অন্য লোশন এর তুলনায়
অনেক ঘন হয়ে থাকে। এটি ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে যা পানি বের হয়ে
যেতে বাধা দেয়। ফলে আপনার ত্বক দীর্ঘমেয়াদি নরম ও সতেজ থাকে। বিশেষ করে রাতের
বেলা ব্যবহার করলে এই ধরনের লোশনের বেশি ফল পাওয়া যায়। কারণ ঘুমের সময় ত্বক
নিজে নিজে রিপেয়ার হয় এবং লোশন ভালোভাবে কাজ করতে পারে। যাদের হাত খুব বেশি
রুক্ষ ও ফাটা তাদের জন্য লোশন যেগুলো পাতলা ধরনের হয়ে থাকে সেগুলো কার্যকরী হয়
না বা কোন ফল পাওয়া যায় না। তাদের জন্য ঘন টেক্সচারের পণ্য বেছে নেওয়ায় উচিত।
এতে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের লোশন ব্যবহার করে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। যেমন;
গ্লিসারিন যুক্ত লোশন, সিয়া বাটার বা কোকো বাটারযুক্ত লোশন, সেরামাইন্ড যুক্ত
রিপেয়ারিং লোশন, পেট্রোলাতাম বা সিলিং উপাদান যুক্ত লোশন ইত্যাদি। যেমন
গ্লিসারিন একটি শক্তিশালী হিউম্যাকট্যান্ট অর্থাৎ এটি বাতাসের সাথে আদ্রতা টেনে
এনে ত্বক ধরে রাখে। সুস্থ হাতের জন্য এটি খুব উপযোগী উপাদান। যুক্ত লোশন
তোকে ভেতর থেকে আদ্র করে এবং টানটান ভাব কমায়। এবং এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে
হাতের শুষ্কতা ও খস খসে ভাব কমে যায়। আর এটি বিশেষ করে যারা বারবার হাত ধোয় এবং
স্যানিটাইজার ব্যবহার করে তাদের জন্য গ্লিসারিন খুব প্রয়োজনীয় উপাদান। কারণ এটি
ত্বকের হারানো আদ্রতা ফিরিয়ে আনে। তবে ব্যবহারের আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিতে
হবে যে গ্লিসারিন আপনার ত্বকের সাথে খাপ খাবে কিনা। কারণ এমন অনেকেই রয়েছে যাদের
ত্বক খুব সংবেদনশীল। রাতে ঘুমানোর আগে গ্লিসারিন যুক্ত লোশন লাগালে সকালে হাত
অনেক নরম থাকে এবং ত্বক সতেজ দেখায়।
অন্যদিকে শিয়া বাটার ও কোকো বাটার ত্বকের গভীরে পুষ্টি যোগায়। তাই বলা
যায় শিয়া বাটার বা কোকো বাটার যুক্ত লোশন শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো ফলাফল এনে
দেয়। নিয়মিত ব্যবহারে হাত ধীরে ধীরে মসৃণ হয় এবং ফাটার সমস্যা কমে যায়।
সেরামাইড যুক্ত রিপেয়ারিং লোশন যখন হাত খুব সুস্থ হয়ে যায় তখন ত্বকের
প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে, ত এবং এই সেরানমাইন্ড স্তরকে শক্ত করে
তোলে। সেরামাই্ড যুক্ত লোশন ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে রিপেয়ার করতে সাহায্য করে এবং এতে
শুষ্কতা কমে যায় ও ত্বক সুস্থ হয়ে ওঠে। পেট্রোলাতাম বা সিলিং উপাদান যুক্ত
লোশন খুব বেশি শুষ্ক হাতের ক্ষেত্রে দরকার যা ত্বকের ওপর একটি সিল তৈরি
করে। সাধারণত এটি আদ্রতাকে ত্বক থেকে বাইরে যেতে দেয় না। এ ধরনের কোন
স্বাধীনতা ঘন হয় এবং রাতে ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি ফলাফল পাওয়া যায়। সাধারণত
এটি ব্যবহারের পর অর্থাৎ লোশন লাগানোর পর তুলার গ্লাভস পড়লে ফল আরো দ্রুত
পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, শুষ্ক হাতের জন্য সঠিক লোশন বেছে নেওয়া
গুরুত্বপূর্ণ। ঘন ডিপ মশ্চারাইজিং গ্লিসারিন শিয়া বাটার সেরামাইড বা সুরক্ষা
স্তর তৈরি করে এমন উপাদান যুক্ত লোচনে বেশি কার্যকর। তবে অ্যালকোহল যুক্ত বা
অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত লোশন এড়িয়ে চলায় আপনার ত্বকের জন্য ভালো।
রাতে লোশন লাগানোর উপকারিতা
রাতে লোশন লাগানো ত্বকের যত্নটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বিশেষ করে যাদের ত্বক শুষ্ক
রুখ্য বা সহজে ফেটে যায় তাদের জন্য এটি আরো বেশি জরুরী। অনেকেই এমন আছে যাদের
হাত হাত ও ত্বক ধুলাবালি রোদ পানি সাবান ও বিভিন্ন কেমিক্যাল এর স্পর্শ থাকে। যার
ফলে ত্বকের তেল নষ্ট হয়ে যায় এবং আদ্রতা কমে যায়। এই ক্ষতিপূরণ করা সবচেয়ে
উপযুক্ত সময় হল রাত কারণ রাতের সময় শরীরে কোষ পূর্ণ গঠন প্রতিক্রিয়া সক্রিয়
থাকে এবং ত্বক নিজেকে সারিয়ে তোলার কাজ করে। ঘুমানোর আগে লোশন ব্যবহার করলে
তাদের অবস্থান করে এবং গভীরভাবে শোষিত হয় ফলে তবে ভেতর থেকে আদ্রতা পায় ও দ্রুত
মেরামত হয়। দিনের বেলায় লোশন লাগালে তা বারবার হাত ধোয়া বা কাজের কারণে উঠে
যায়, কিন্তু রাতে লোশন লাগালে একটানা ০৬ থেকে ০৮ ঘন্টা তকে থাকার সুযোগ পায়। এ
দীর্ঘ সময় লোশন ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং শুষ্কতা কমায় ও একটি সুরক্ষা স্তর
তৈরি করে, যা ভেতরের আদ্রতা বের হতে দেয় না। বিশেষ করে খুব শুষ্ক বা ফাটা ত্বকের
ক্ষেত্রে ঘন ও পুষ্টিকর লোশন ব্যবহার করলে কয়েকদিনের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন
লক্ষ্য করা যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে ত্বক তুলনামূলকভাবে নরম মসৃণ ও সতেজ অনুভব
করা হয়।
রাতে লোশন লাগানো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো এটি ফাটা ও রুক্ষ ত্বক দ্রুত
ঠিক করতে সাহায্য করে। যখন তখন অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, তখন ত্বক টানটান
লাগে, চামড়া উঠে যায় বা ফেটে যেতে পারে। এছাড়া লোশন ত্বকের উপর একটি
প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা ত্বকে বাইরের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে
এবং একই সঙ্গে ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের খসখসে ভাব কমে
যায় এবং ধীরে ধীরে ত্বকের স্বাভাবিক কোমলতা ফিরে আসে। শীতকালে উপকারিতা আরও বেশি
অনুভব হয় কারণ ঠান্ডা আবহাওয়া ত্বক দ্রুত আদ্রতা হারায়। রাতে লোশন লাগানো একটি
ছোট অভ্যাস হলেও এর উপকারিতা অনেক বড়। এডিটকের আদ্রতা ধরে রাখে ফাটা ও রক্ষতা
কমায় ত্বককে নরম ও মসৃণ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের সুরক্ষা স্তরকে শক্তিশালী
করে তোলে। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে নিয়মিত লোশন ব্যবহার করলে তা থাকবে সুস্থ
কোমল ও উজ্জ্বল।
রাতে লোশন ব্যবহার করা নিয়ম
একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়, রাতে লোশন ব্যবহার করা দিনের তুলনায় বেশি উপকারী, কারণ ঘুমের সময় ত্বক নিজেকে
মেরামত করে এবং নতুন কোষ তৈরি করে। যদি সঠিক নিয়মের রাতে লশন ব্যবহার করা যায়,
তাহলে শুষ্কতা দ্রুত কমে এবং ত্বক নরম ও মুসলিম হয়। প্রথমে, লোশন ব্যবহারের আগে
হাত বা শরীর পরিষ্কার করতে হবে। ঘুমানোর আগে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে হাত বা
শরীর ধুয়ে নিন, এবং খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না কারণ এটি ত্বকের প্রাকৃতিক টা
নষ্ট কর, তাই হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করে নিন। এরপর পরিষ্কার
ত্বকের লোশন ভালোভাবে মেসেজ করে নিন। কারণ পরিষ্কার ত্বকে লোশন বেশি ভালো হবে কাজ
করে। ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগে অর্থাৎ সামান্য ভেজা অবস্থায় লোশন
লাগানো সবচেয়ে ভালো। এতে আদ্রতা আটকে থাকে, হালকা করে তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন
এরপর হালকা হালকা ভেজা অবস্থায় লোশন হাতে বা শরীরে লাগিয়ে দিন।
লোশন লাগানোর সময় ধীরে ধীরে মেসেজ করুন। গোল গোল ঘুরিয়ে বা নিচ থেকে উপরের
দিকে আলতোভাবে মালিশ করলে লোশন দ্রুত শোষিত হয়। হাতের তালু আঙুলে ফাঁক,
নকের চারপাশ এবং হাতের পেছনের অংশ বিশেষভাবে লাগান কারণ এগুলো তো বেশি সুস্থ
দেখায়। যদি ত্বক বেশি শুষ্ক বা ফাটা থাকে, তাহলে একটু ঘন ঘন করে লাগাতে পারেন।
বিশেষ করে হাত পা পায়ের ক্ষেত্রে লোশন লাগানোর পর তুলার গ্লাভস বা মজা করে
ঘুমালে ভালো ফল পাওয়া যায়। এতে লোশন সারারাত তোকে কাজ করতে পারে। রাতে
ব্যবহারের জন্য সাধারণত একটু ঘন বা দ্বীপ মশ্চারাইজিং লোশন ভালো কাজ করে।
কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকে থাকে এবং গভীরভাবে আদ্রতা দেয়। বিনা হালকা
ব্যবহার করলেও রাতে একটু পুষ্টিকর ব্যবহার করলে দ্রুত উন্নতি দেখা যায়। তবে মনে
রাখতে হবে একদিন ব্যবহার করলে বড় করব তা আসবে না, নিয়মিত সঠিকভাবে ব্যবহার করলে
৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ত্বক মসৃণ নরম ও স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে।
ঘরোয়া উপায়ে হাতের শুষ্কতা দূর করার উপায়
একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়, এর পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া
উপায় রয়েছে।ত্বকের শুষ্কতা সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে শীতকাল অতিরিক্ত রোদ
ধুলাবালি বা বারবার সাবান ব্যবহারের কারণে ত্বক রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যায়। অনেকে
নতুন বা কেমিক্যাল যুক্ত পণ্য ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায় ত্বকের যত্ন নিতে
চান। অনুসরণ করলে ত্বক স্বাভাবিকভাবে মসৃণ কোমল ও আর্দ্র রাখা সম্ভব হয়। প্রথমে
বলা যায়, নারকেল তেল ত্বকের শুষ্কতা কমানোর অন্যতম সহজ ও কার্যকরী উপায়। নারকেল
তেলে প্রাকৃতিক খ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা ত্বকের গভীরে পুষ্টি যোগায় এবং আদ্রতা
ধরে রাখতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য কুসুম গরম নারকেল তেল হাত পা বা
শরীরে ম্যাসাজ করলে ত্বক ধীরে ধীরে নরম হয়ে যায়। নিয়মিত ব্যবহারে রুক্ষতা
কমে এবং ত্বক মসৃণ অনুভব হয়। আরো বিভিন্ন উপায় রয়েছে যেমন; অলিভ অয়েল ত্বকের
জন্য খুব উপকারী। এতে ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বককে
পুষ্টি দেয় এবং শুষ্কতা কমায়। প্রতিদিন গোসলের আগে বা রাতে শোয়ার আগে হালকা
গরম অলিভ অয়েল ত্বকে লাগিয়ে মেসেজ করলে তোকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বক
স্বাস্থ্যকর দেখায়। বিশেষ করে খুব শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী
উপায়।
মধু একটি প্রাকৃতিক হিউম্যান টেন অর্থাৎ এটি বাতাস থেকে আদ্রতা টেনে এনে
আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন পরিস্কার ত্বকে পাতলা করে
মধু লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিয়ে ফেললে তখন নরম ও উজ্জ্বল হয়। মধু ত্বকে
রুক্ষতা কমায় এবং প্রাকৃতিকভাবে মসৃণিত বাড়ায়। অন্যদিকে এলোভেরা জেল
ত্বকের জন্য অত্যন্ত শান্তিদায়ক উপাদান। যদি ত্বক শুষ্কতার কারণে জ্বালা করে বা
চুলকায় তাহলে তাজা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বকের
জ্বালাপোড়া ও চুলকানো কমিয়ে দেয় এবং ত্বকে ঠান্ডা অনুভূতি দেয় ও ত্বকের
আদ্রতা যোগায়। এমন আরো অনেক ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেমন; কাঁচা দুধ অটোস ও
দই ইত্যাদি। এগুলো শুষ্ক হাত দূর করার জন্য ঘরোয়া উপায় হিসেবে অত্যন্ত
কার্যকরী উপায়।নিয়মিত সঠিক ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে ত্বকের শুষ্কতা অনেকটাই
নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু অ্যালোভেরা, দুধ, ওটস
ইত্যাদি। এসব সহজ উপাদান তত্ত্বে পুষ্টি দেয় এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে ও ত্বকের
মসৃণতা বাড়ায়। ধৈর্য ধরে নিয়মিত যত্ন নিলে প্রাকৃতিকভাবে ত্বক থাকবে কমল সতেজ
ও সুস্থ। আমাদের মনে রাখতে হবে কোন জিনিস এর প্রতিকার সাথে সাথে অনুভব করা যায়
না, আর কিছু সময় ধৈর্য ধরে ব্যবহার করলে এর প্রতিকার অনুভব করা যায়।
ত্বকে লোশন শোষণ না হওয়ার কারণ জানুন
অনেক সময় দেখা যায় লোশন ত্বকে লাগানোর পর ত্বকের সাদা সাদা হয়ে থাকে, চটচটে
লাগে বা ঠিকমত শোষিত হয় না। তখন মনে হয় লোশন কাজ করছে না। কিছু লক্ষ্য করলে
বোঝা যায় এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। সঠিক কারণ বুঝতে পারলে সহজে
সমাধান করা যায় যেমন ত্বক যদি খুব বেশি শুকনো বাম মৃত কোষে ভরা থাকে, তাহলে লোশন
ঠিকমতো শোষিত হয় না। ত্বকের ওপরে জমে থাকা মৃত কোষ একটি বাধা তৈরি করে যার ফলে
মশ্চারাইজার ভেতরে ঢুকতে পারে না। তাই মাঝে মাঝে হালকা স্ক্রাব করা দরকার। এবং
লোশন সহজে শুষিত হয়। অন্যদিকে ত্বক পুরোপুরি শুকনো অবস্থায় লোশন লাগালে
অনেক সময় তা ঠিকভাবে মেশে না, হালকা ভেজা বা স্যাঁত ছেঁতে ত্বকে লোশন লাগালে
ভালো কাজ করে। কারণ ভেজা ত্বক আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং লোশন সহজে ভেতরে
প্রবেশ করে। একসাথে অতিরিক্ত পরিমাণ লোশন ব্যবহার করলে তার শোষিত হতে সময় লাগে
বা ওপরের স্তরে থেকে যায়।
অনেকে মনে করেন বেশি লাগালে বেশি কাজ করবে। কিন্তু আসলে ত্বক একেবারে সীমিত
পরিমান শোষণ করতে পারে, তাই অল্প অল্প করে লোশন দিয়ে ম্যাসাজ করে লাগানো উচিত।
লোশন এর ধরন ত্বকের সাথে মানানসই না হলে শোষণ হতে সমস্যা হয়। খুব ভারী বা ঘন
লোশন যদি তৈলাক্ত তাকে ব্যবহার করা হয় তাহলে তা উপরে জমে থাকতে পারে, আবার খুব
হালকা লোশন শুষ্ক ত্বকের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই আপনার ত্বকের অবস্থা
দেখে লোশন নির্বাচন করুন। ত্বক যদি ঠান্ডা বা শুষ্ক, আবহাওয়ায় শক্ত হয়ে
যায় তাহলে লোশন ধীর হতে পারে। এক্ষেত্রে লোশন লাগানোর আগে হালকা গরম পানিতে হাত
ধুয়ে নিলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং শোষণ ভালো হয়। লোশন তাড়াতাড়ি
হালকাভাবে লাগিয়ে দিলে শোষণ কম হয়। তাই লোশন লাগানোর সময় কমপক্ষে ১-২ মিনিট
হালকা ম্যাসাজ করলে তা ভালোভাবে তোকে মিশে যায়।
ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়া এবং লোশন দ্রুত শোষিত হয়। ত্বকে লোশন সূচিত
না হওয়ার মূল কারণ হলো মৃত কোষ অতিরিক্ত ব্যবহার ভুল সময় ব্যবহার বা ত্বকের
সাথে রসুনের অসামঞ্জস্য। সঠিক নিয়মে পরিষ্কার তাকে অল্প পরিমাণে এবং
ম্যাসাজ করে লাগালে লোশন শোষিত হয়।
লেখকের শেষ কথা
একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়, শুষ্ক ত্বক বা শুষ্ক হাত কোন সমস্যাই ছোট নয়, এটি আমাদের জীবনের দৈনন্দিন
অভ্যাস, আবহাওয়া যত্নের ধরন এবং সঠিক পণ্য ব্যবহারের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
ওপরের সব আলোচনায় আমরা দেখেছি শুধু লোশন লাগালে হবে না সঠিক ধরনের লোশন নির্বাচন
ঠিক সময়ে ব্যবহার সঠিক পরিমাণ এবং নিয়মিত যত্ন সবকিছু একসাথে করলে কাঙ্ক্ষিত
ফলাফল পাওয়া যাবে। রাতে লসুন ব্যবহার করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কারণ এই সময় তো
আপনি নিজেকে পূর্ণ গঠন করে। আমাদের শরীরের একটি সংবেদনশীল অঙ্গ। তাই
অতিরিক্ত কেমিক্যাল বা গরম পানি এবং অবহেলা থেকে দূরে থাকতে হবে।
আশা করি উপরের আর্টিকেল পড়ে আপনি সকল বিষয় বুঝতে পেরেছেন। এখানে কোন বিষয় যদি
বুঝতে না পারেন বা আরো অন্য বিষয় জানতে চান, তাহলে আমার যোগাযোগ পেজে যোগাযোগ
করুন অথবা আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। এতক্ষণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার
জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url