শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন

শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন, হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমিত রোগ। আমরা আর্টিকেল থেকে জানবো শিশুদের হামলে কি করনীয় এবং কেন হয়। সকল বিষয়ে জানার জন্য আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
শিশুদের-হাম-হলে-কি-করনীয়-এবং-সহজ-গাইডলাইন
হাম আমাদের প্রায় অনেকেরই চেনা একটি রোগ। বর্তমান সময়ে হাম প্রায় সবার শরীরেই দেখা দিয়ে থাকে, তবে বিশেষ করে শিশুদের শরীরে বেশি দেখা যায়। হাম রোগটি হলো ছোঁয়াচে রোগ। এটি মানুষের সংস্পর্শেই হয়ে থাকে। আসুন এই আর্টিকেল থেকে সকল বিষয় বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

পোস্ট সূচীপত্রঃ শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন

শিশুদের হাম হলে কি করনীয়

শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন, হাম রোগটি অনেক সময় গুরুতর অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। কারণ হাম থেকে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ সহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা গুলো কিছু ক্ষেত্রে জীবন ঝুঁকি ও তৈরি করতে পারে, তাই আমাদের শুরু থেকে সচেতন থাকা খুব জরুরী। হারাম থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল সময়মতো টিকা নেওয়া। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ওপর জোর দেয় কারণ এতে এই রোগের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। ছোটতে শিশুদের টিকা নেওয়া থাকলে হাম হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায় এবং হলেও তার সাধারণত কম গুরুতর হয়। টিকা নেওয়া থাকলে এটি মারাত্মক ঝুঁকির কবল থেকে রক্ষা করে। বর্তমানে টিকাদানের কারণে আগের তুলনায় হাম অনেকটাই কমছে। আগের মানুষ টিকাদানের ওপর খুব একটা গুরুত্ব না দেওয়ার হামের পরিমাণ খুব বেশি হত।

আর বর্তমান সময়ে সবাই স্বাস্থ্য টীকা গুলোর উপর খুব গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের টিকাগুলো দেওয়া সম্পূর্ণ করে থাকে। এর টিকা গুলোর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তবে যেসব শিশু এখনো টিকা নেয়নি তারা এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী সব টিকার সময়মতো সম্পন্ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শিশুর হাম হলে আমাদের করণীয় হলো; অসুস্থ শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখলে সংক্রমণ ছড়ানো কম হয়। কারণ আমরা জানি হারাম হলো সংক্রমণজনিত রোগ। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আবার কোন সংস্পর্শে এই রোগটি অন্যদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই আমাদের সবসময় চেষ্টা করতে হবে শিশুদের হাম হলে তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখার। তবে অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে শিশুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে।

তাই আমাদের অবশ্যই অসুস্থ শিশুকে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিবেশে রাখার। শিশু প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত। হাম আক্রমণ শিশুকে ভিটামিন এ জাতীয় পুষ্টিকর খাবার দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবারগুলো হল; খিচুড়ি, স্যুপ, ডিম, ফল ইত্যাদি। অসুস্থ শিশুকে বেশি করে পানি ও তরল খাবার দেওয়া উচিত। শরীর ডিহাইড্রেশন এতে পানি, স্যুপ, ডাবের পানি বা ফলের জুস বেশি করে খাওয়াতে হবে। এতে শরীর খুব দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। শিশুর হাম হলে চোখে যত্ন নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। হামের সময় শিশুর চোখ লালচে বা সংবেদনশীল হয়ে যায়। তাই ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে এবং পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে নিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়

অসুস্থ শিশু অনেক সময় নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের সব সমস্যা গুলো বাসায় সুস্থ করা কঠিন হয়ে যায়। তাই আমাদের সবসময় খেয়াল রাখতে হবে শিশুর শ্বাসকষ্ট খাওয়ার সমস্যা এবং অতিরিক্ত জ্বর ও খিচুনি দেখা দিচ্ছে কিনা। আপনার শিশু যদি এইসব লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই সাথে সাথে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। আবার শিশুর অনেক সময় জ্বর ও অস্বস্তি হয়ে থাকে। হাম হলে শিশুর শরীরে খুব বেশি জ্বর থাকে। এজন্য হালকা কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দিতে হবে। সংক্রমণ রোগ যা সাধারণত জ্বর, কাশি, লাল ফুসকুড়ি, হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সময়মতো সঠিক যত্ন না নিলে জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাই শুরু থেকেই সচেতন হওয়া খুবই জরুরী।

হামের লক্ষণ কি কি

হাম একটি ভাইরাস জনিত রোগ, হাম রোগের বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ করে থাকে। হাম ভাইরাস হলে ঢোকার পর সাথে সাথে লক্ষণ দেখা যায় না। এটাকে বলা হয় ইনকিউভেশন পিরিয়ড। সাধারণত হাম শরীরের প্রবেশ করার 7 থেকে 14 দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। তবে প্রথমের সাত দিন কোন লক্ষণ দেখা দেয় না। তবে অনেক ক্ষেত্রেই 10 থেকে 12 দিনের মধ্যেও কিছু লক্ষণ দেখা যায় যেমন জ্বর শুরু হয়ে থাকে। এরপর থেকে আরো বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। যেমন;
  • হঠাৎ জ্বর, সর্দি কাশি
  • এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া
  • ও শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা যাওয়া
  • চোখ মুখ ফুলে যাওয়া
  • সারাদিন শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা ইত্যাদি।
বিশেষ করে এ সময় শিশুরা কিছুই খেতে পারে না। এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। আমরা অনেকেই জানি আবার এমন অনেকেই রয়েছে যারা জানিনা যে, সাধারণত হাম ওঠা মাথার উপর থেকে শুরু করে। এরপর আস্তে আস্তে শরীরে দেখা দেয়। তবে আমাদের সবসময় ১০ থেকে ১২ দিনের তবে ভাইরাল ঢুকার ১০-১৪ দিন এর মধ্যে বোঝা যায়। বিশেষ করে এটি শরীরে দুই থেকে চার দিন বেশি আক্রমণ দেখা যায়।

হামের কারণ কি

শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন, হাম হলো একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ রোগ। যা মূলত প্যারামিক্স ভাইরাস পরিবারের একটি নির্দিষ্ট ভাইরাসের কারণ থেকেই হয়ে থাকে। এই ভাইরাসটি খুবই ক্ষুদ্র এবং এটি নিজে নিজে বাঁচতে পারে না। এটি শরীরের মাঝে ঢুকে শরীরের কোষগুলোকে ব্যবহার করে বংশবিস্তার করে থাকে। আম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস জনিত রোগ। যা মূলত মিজলস ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে। এটি শ্বাসযন্ত্রকে প্রবাহিত করে এবং দ্রুত একজনের থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস টি শরীরে প্রবেশ করে সাধারণত নাক বা গলার ভেতরে নরম স্তর দিয়ে ঢুকে পড়ে। এরপর এটি দ্রুত বংশ বিস্তার করে এবং ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে জ্বর কাশি এবং পরে ফুসকুড়ির বা রেশ এর মত লক্ষণগুলো শরীরে দেখা দেয়।

হাম বিভিন্ন ধরনের মাধ্যম দিয়ে ছড়ায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো বায়ুর মাধ্যমে। যখন আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি হাচি বা কথা বলে তখন তার মুখ থেকে ক্ষুদ্র ভাইরাস যুক্ত কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এবং আশেপাশে থাকা কোন ব্যক্তি সেই বাতাস যদি শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করে তাহলে খুব সহজেই সে সংক্রমিত হতে পারে। অন্যদিকে পৃষ্ঠের সংক্রমণাও হামে সংক্রমণ বাড়ে। এই ভাইরাস যুক্ত কণাগুলো বিভিন্ন জিনিসের বসে থাকতে পারে। যেমন দরজার হাতল, টেবিল খেলনা ইত্যাদি। এই ভাইরাস কিছু সময় পর্যন্ত থেকে থাকে। কেউ যদি এসব স্পর্শ করে হাত মুখে, বা নাক বা চোখে হাত দেয় তাহলে তার শশীরেও হামের সংক্রমণ হতে পারে। তাছাড়া হাম কত সহজেই ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন কারণ থেকে। এটি সবচেয়ে সংক্রান্ত রোগ। এমন কি যদি আপনার টিকা না দেওয়া হয় তবে সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে সংক্ষিপ্ত যোগাযোগের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে।

শিশুর শরীরে হাম কিভাবে ছড়ায়

হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামিত ভাইরাস জনিত রোগ গুলোর মধ্যে একটি। এই ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির নাম ও গলার ভেতরে অবস্থান করে এবং খুব সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যখন কোন আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি কাশি বা কথা বলে তখন তার মুখ থেকে ক্ষুদ্র ভাইরাস যুক্ত কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে যায়। এবং আশেপাশে থাকা কেউ যদি সেই বাতাস সাথে সাথে গ্রহণ করে তাহলে সে সংক্রামিত হতে পারে। কিছু সময় ভেসে থাকে এবং বিভিন্ন জিনিসের ওপরও বসে থাকতেও পারে। বাতাসে বা পৃষ্ঠায় প্রায় 2 ঘন্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।। কেউ যদি সে জায়গায় স্পর্শ করে চোখ নাক বা মুখে হাত দেয় তাহলে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই থেকে থাকে। হাম সাধারণত ছড়ানোর কয়েকটি কারন রয়েছে। যেমন;
  • আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা বা সরাসরি স্পর্শে আসা
  • হাতির মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাস আছে সাথে নেওয়া
  • দরজার হাতল টেবিল বা খেলনার মতো দূষিত জিনিস স্পর্শ করা এবং চোখ নাক বা মুখে স্পর্শ করে দেওয়া
অনেক সময় হামের লক্ষণ কেমন দেখা দেয় না। তবে লক্ষণ প্রকাশের আগে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। সাধারণত ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে চার দিন পর পর্যন্ত এটি সংক্রামক থাকে। সাধারণত সংক্রমনের নয় থেকে ১১ দিনের মধ্যে লক্ষণ গুলো ঠিকমতো দেখা দেয়। যদি কোন বাসায় একজনের হাম হয়ে থাকে তাহলে অন্যদের যদি টিকা না দেওয়া থাকে তাহলে প্রায় 90% মানুষই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাম খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিশেষ করে যেখানে টিকা দানের হার কম থাকে সেখানে হাম খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। এবং এটি খুব বিপদজনক হয়ে ওঠে। তাই সময় মত টিকা নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এই দুইটি বিষয়ে আমের বিস্তার রোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হাম কি

শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন, হাম যা রুবেওলা নামেও পরিচিত। একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল সংক্রমণ যা মূলত শ্বাসযন্ত্র কে প্রভাবিত করে। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাতির সময় নির্গত ফোটার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাসটি বাতাসে বা পৃষ্ঠতলে কয়েক ঘন্টা ধরে সংক্রিয় থাকতে পারে। কেবল বাসনপত্র, পানীয় ভাগ করে নেওয়া অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে একর ঘরে থাকার ফলে সংক্রমণ হতে পারে। রুবেওলা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট হাম ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চার দিন আগে থেকে এবং চারদিন পর থেকে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষভাবে বিপদজনক এবং বিশ্বের অনেক জায়গায় এটি প্রতিরোধ যোগ্য মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। ভাইরাসটি প্রথমে নাক এবং গলার নরম স্তর দিয়ে সংক্রমিত করে এবং সাধারণত সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ১৪ দিন পরে লক্ষণ গুলি দেখা দেয়। এটি জর, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং কাশির মতো সাধারণ লক্ষণগুলির সাথে শুরু হতে পারে। তারপরে হামের ফুসকুড়ি দেখা দেয় যা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও টিকাদান বিশ্বব্যাপী আমের সংখা অধিকাংশই হ্রাস পেয়েছে তবুও কম টিকাদানের হার যুক্ত অঞ্চলে এখনো হাম বেশি দেখা যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী হামের কারনেই অনেক মানুষেরই মৃত্যু হয়েছিল যার বেশিরভাগই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

যদি আপনার এক্সপোজার সন্দেহ হয় তাহলে, যদি আপনি মনে করেন যে আপনি সংক্রমিত হয়েছেন এবং টিকা গ্রহণ করেননি, তাহলে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করার জন্য সংস্পর্শে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামের টিকা নিন। বিকল্পভাবে রোগে তীব্রতা কমাতে সংস্পর্শে আসা ছয়দিনের মধ্যে ইমিউন, গ্লবুলিন দেওয়া যেতে পারে। প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা সেবা উল্লেখযোগ্য ভাবে ফলাফল উন্নতি করে এবং জটিলতা ঝুঁকি হ্রাস পায়।

হামের কি কি জটিলতা

হাম অনেক সময় সাধারণত জ্বর ও ফুসকুড়ি মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশু অপুষ্ট শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। যেমন;
  • নিউমোনিয়া; হামের সবচেয়ে সাধারণ বিপদজনক জটিলতা হল নিউমোনিয়া। এতে ফুসফুস সংক্রমিত হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় দ্রুত শ্বাস বা কাশি বেড়ে যায় ইত্যাদি। এই জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে জীবন ঝুঁকিরও কারণ হতে পারে।
  • কানের সংক্রমণ; কানে ব্যথা হয়, জ্বর বাড়াতে পারে, কখনো শুনতে সমস্যা হতে পারে ইত্যাদি। এটি ছোট শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা দেয়।
  • ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা; হাম হলে পাতলা পায়খানা হতে পারে, শরীর থেকে পানি কমে যায় ঠিকমতো পানি না দিলে শিশুর শরীরের অবস্থা অনেক খারাপ হতে পারে।
  • মস্তিষ্কের প্রদাহ; এটি একটি গুরুতর জটিলতা। এক্ষেত্রে খিচুনি হতে পারে, অচেতন হয়ে যেতে পারে আচরণ পরিবর্তন হতে পারে ইত্যাদি। এটি জীবন ঘাটতি হতে পারে বা স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে।
  • চোখের সমস্যা; চোখ লাল ও সংবেদনশীল হয়ে যায় গুরুতর হলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া; হারাম হওয়ার পর শিশুর ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অন্য রোগ সহজে আক্রমণ করতে পারে। বারবার ঠান্ডা কাশি বা সংক্রমণ হতে পারে ইত্যাদি।
সবথেকে বেশি সম্ভবত জটিলতা হলো শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি বাড়তে পারে এবং বিরল ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তবে আমের সবচাইতে প্রধান জটিলতা হলো নিউমোনিয়া এন্ডসেফ্যালাইটিস, ডায়রিয়া এবং কানের সংক্রমণ।

হাম প্রতিরোধ কিভাবে করবেন

শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন, হাম খুব সহজেই ছড়ায়, তাই প্রতিরোধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই রোগ থেকে শিশুদের নিরাপদে রাখা সম্ভব। আমাদের সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে কোন কোন বিষয়গুলো পরিলক্ষিত করলে শিশুদের হাম থেকে নিরাপদে রাখা যাবে। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
  • টিকা দেওয়া; সময়মতো টিকা দেওয়া হামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাম্প প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল টিকা। শিশুকে নির্ধারিত বয়সে হাম্বা এম এম আর টিকা দিতে হবে। অনেকটাই কমে যায় এবং আক্রান্ত হলেও রোগ সাধারণত কম গুরুত্ব হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিকভাবে কাজ করে।
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা; যেমন নিয়মিত সাবান দিয়ে শিশুর খেলনা ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা এবং নোংরা পরিবেশ এড়িয়ে চলা ইত্যাদি। এগুলো ভাইরাস ছড়ানো কমাতে সাহায্য করে থাকে।
  • সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে শিশুকে দূরে রাখা; আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং অসুস্থ শিশু অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন এতে এক সংক্রমণ ছড়ানো কম হয়।
  • ভিড় এড়িয়ে চলা; যেখানে মানুষ বেশি একসাথে থাকে সেখানে ভাইরাস দ্রুত ছড়ায় তাই ছোট শিশুদের ভিড় থেকে দূরে রাখায় ভালো। এতে ভাইরাস অনেকটাই হ্রাস পায়।
  • হাম রোগীর জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ যাদের শরীরে হাম হয় তাদের সাধারণত শরীরটা একদম দুর্বল হয়ে পড়ে। সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ধীর হয়ে যায়। তাই পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরী। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার দিন, যেমন; ফল, সবজি দুধ ডিম ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়ান।
  • ভিটামিন এ হামের ঝুকি কমাতে ও জটিলতা কমাতে সহায়ক। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।
  • হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। যেমন জ্বর কাশি বা লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক অবলম্বন করতে হবে। এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।
মনে রাখবেন, প্রতিরোধ সব সময় চিকিৎসার চেয়ে ভালো সময় মতো টিকা ও সচেতন থাকলে হাম থেকে সহজে বাচ্চা সম্ভব। তাই আমাদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে। আর শিশুকে সময়মতো টিকা প্রদান করতে হবে। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই আমাদের বিশেষ করে টিকার প্রতি বেশি সচেতন থাকতে হবে।

শিশুদের শরীরে হাম কেন হয়

শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা খুব সহজে একজন শিশু থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়। বিভিন্ন কারণ থেকে শিশুদের শরীরে হাম হয় যেমন;
  • মিজলস ভাইরাসের সংক্রমণ; হামের মূল কারণ হলো মিজলস ভাইরাস। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশিহাজি বা কথা বললে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস কিছু সময় বাতাসের সক্রিয় থাকে প্রায় দুই ঘন্টা সময়। শিশু যদি সেই বাতাস শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে বা আক্রান্ত ব্যক্তি কাছাকাছি আসে তাহলে সহজে সংক্রমিত হয়।
  • টিকা না নেওয়া; হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। যদি কোনো শিশু টিকা না নেয়, তাহলে তার শরীরে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না। ফলে সে খুব সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেখানে হাম বেশি ছড়ায়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা;রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা হাম সংক্রান্ত বেশি হয়। অপুষ্টি বা দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে অনেক শিশুর ইমিউন সিস্টেম কম থাকে। এসব শিশু সহজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। আগে কখনো হাম না হওয়া বা টিকা না নেওয়া শিশুরাও বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
আরো বিভিন্ন কারণ থেকে শিশুদের শরীরে হাম হয়ে থাকে। যেমন; ভিড় পরিবেশ, স্কুল ডেকে আর বা যেখানে অনেক শিশু একসাথে থাকে এবং একজন আক্রান্ত হলে দ্রুত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এসব স্থানে হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। ভ্রমণের মাধ্যমেও হাম ছড়ায়। যেসব দেশে বা এলাকায় হাম বেশি দেখা যায় সেখানে ভ্রমণ করলে ঝুঁকি বাড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য এলাকায় গিয়ে সহজে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতি, কোথাও যদি টিকাদান ঠিকমতো না হয় বা মানুষ ঠিকানা নিতে অনিয়া দেখায় তাহলে সেই এলাকায় ঘামের পাদুর্ভাব বাড়তে পারে। তবে শিশুদের হাম হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রধান কারণ হলো টিকা না নেওয়া, দুর্বল ইমিউনিটি ভীর ইত্যাদি। সঠিক সময়ের টিকা ও সচেতন থাকলে হাম থেকে শিশুদের অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

শিশুদের হাম হলে তার চিকিৎসা

শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন, শিশুদের হামের চিকিৎসা মূলত লক্ষণ কমানো এবং জটিলতা প্রতিরোধের ওপর নির্ভর করে। কারণ এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ তাই এমন কোন নির্দিষ্ট ওষুধ নেই যা সরাসরি ভাইরাস ধ্বংস করে। তবে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসা নিলে শিশু ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। যেমন
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম; হাম হলে শিশু শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে তাই শিশুর শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে। এবং শান্ত আরামদায়ক পরিবেশে রাখতে হবে।
  • জ্বর অসুস্থতার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি হতে পারে তাই শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে। নিয়মিত পানি পান করাতে হবে এবং ফলের জুস সহ সুপ ডাবের পানি ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। এগুলো শরীরকে হাইড্রেট রাখি এবং দুর্বলতা কমায়।
  • জ্বর কমানোর ব্যবস্থা শিশুর জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল বা আইবোপ্রবাল দেওয়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই দেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে প্যারাসিটামল বা অন্য ওষুধ দিতে হবে। তবে শিশুদের কখনোই অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয়, এতে গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
  • শিশুর হাম হলে তাকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া খুবই জরুরী। কারণ হাম হলে শিশুর খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় তাই শিশুকে পুষ্টিকর খাবার যেমন খিচুড়ি সুপ ডিম ফল ইত্যাদি খাওয়াতে পারেন। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • হাম হলে চোখের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হাম হওয়ার সময় চোখ লাল ও সংবেদনশীল হয়ে যায়। অনেক সময় চোখ দিয়ে পানি ঝরে, তাই চোখকে ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে এবং পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতো ভাবে চোখ মুছতে হবে।
তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, যে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, খিচুনি হলে ও শিশুর কিছু খেতে না চাইলে এবং জ্বর খুব বেশি হলে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

উপসংহারঃ শিশুদের হাম হলে কি করনীয়

শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এবং সহজ গাইডলাইন, সম্পর্কে উপরে সকল বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। হাম রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় সঠিক যত্ন এবং টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপযুক্ত যত্নের মাধ্যমে বেশিরভাগ মানুষ এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে। আক্রান্ত শিশুকে সঠিক যত্ন এবং পুষ্টিকর খাবার দিয়ে ও টিকার ডোজ সম্পন্ন করে খুব দ্রুত সুস্থ করা সম্ভব। উপরে আর্টিকে সকল বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
শিশুদের-হাম-হলে-কি-করনীয়-এবং-সহজ-গাইডলাইন
আশা করি উপরের আর্টিকেল থেকে আপনি উপকৃত হবেন। কোন কোন বিষয়ে উপকৃত হলেন তা সম্পর্কে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করবেন। কোন বিষয় বুঝতে না পারলে, অথবা আরো জানতে চাইলে আমার যোগাযোগ পেজে যোগাযোগ করুন অথবা আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। এতক্ষণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst. Rubi Khatun
Mst. Rubi Khatun
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট গেনের বারি ওয়েবসাইটের এডমিন । তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।