ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলকানি দূর করার উপায় ।

 

চুলকানি এমন একটা রোগ যা প্রায় সংখ্যক লোকেরই হয়ে থাকে। যা শরীরকে আছড়ে দিতে মন চায় । সবার মনোভাব ও সংবেদনশীলতা এক নয়। যার কারণে অনেকেই অল্প সমস্যায় বেশি চুলকানি অনুভব করে থাকে। এই চুলকানি সাধারণত গরম ও আদ্রতাই এর প্রকোপ বাড়ে। যদি সমস্যা বেশি গুরুত্ব না হয়, তাহলে নিচে পরীক্ষা কিছু নিরাপদ পদ্ধতি উপস্থাপন করা হল।

পেজ সূচিপত্রঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলকানি দূর করার উপায়


সাধারণত চুলকানি হওয়ার কারণ

  • শরীরে বিভিন্ন কারণের ক্ষেত্রে চুলকানি হতে পারে। বিশ্বব্যাপী তাই সংখ্যক লোকেরই এটি হয়ে থাকে। যা নিয়ে অনেকেই ভুগছে।, সমস্যা কোন ক্ষেত্রে হচ্ছে এটা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে, প্রতিকার পাওয়া সুবিধাজনক হয়। নিচে কিছু বিরক্তিকর বিষয় উপস্থাপন করা হলো;
  • এলার্জিঃ এলার্জি সাধারণত বিভিন্ন জনের বিভিন্ন কারণ থেকে হয়ে থাকে। যেমন; খাবার, সাবান, ময়লা কাপড়, ধুলাবালি ইত্যাদি থেকে চুলকানি হয়ে থাকে।
  • ঘাম জমে থাকাঃ অতিরিক্ত গরমে শরীরে প্রচুর পরিমাণে ঘাম হয়। শরীরে ঘাম শুকাতে না দিলে এতে চুলকানি বা ঘামাচি হয়ে থাকে।
  • ত্বকের রোগঃ চুলকানির ত্বকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমেই, শুষ্ক ত্বক, এটা সাধারণত প্রথম শীর্ষেই রয়েছে। এছাড়া ত্বকে চুলকানির কারনগুলি যেমন; একজিমা, স্কাবিস ইত্যাদি থেকে হয়ে থাকে। পরজীবী, পোকামাকড়ের কামড়েও চুলকানি অবদান রাখে।
  • জলাশয়ঃ সাধারণত জলাশয় থেকেও চুলকানি হয়ে থাকে। পানিতে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক জীবন ও চুলকানির কারণ হতে পারে। সাঁতারদের চুলকানি জলাশয়ের সাথে মিশ্রিত হয়ে থাকে, এ থেকে চুলকানি দেখা দেয়।                                                                                             
  • এই বিভিন্ন কারণগুলি বোঝার মাধ্যমে ব্যক্তিরা তাদের মূল কারণটি শনাক্ত করতে পারবে। এতে তাদের ঘরোয়া পদ্ধতি নিতে সহজ হবে।

চুলকানি ত্বকের জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় দেয়া হলো

  • কাঁচা হলুদঃকাঁচা হলুদে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ। ব্যবহার; কাঁচা হলুদের সাথে নিম পাতা এবং নারকেল তেল অথবা পানি পেস্ট করে লাগাতে পারেন লাগানোর 30 মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি সাধারণত দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করুন। এতে চুলকানি অনেকটাই কমে যাবে।
  • নারকেল তেল ও ফিটকারিঃ ১ চা চামচ নারকেল তেলের সাথে এক চা চামচ ফিটকারি পাউডার পেস্ট করে নিন। সারাদিনে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলকানি কমতে সাহায্য করে।
  • তুলসী পাতাঃ কিছু পরিমাণ তুলসী পাতা বেটে রস করে আক্রান্ত স্থানে লাগান। দিনে দুই থেকে তিন বার ব্যবহার করতে পারেন।
  • ঠান্ডা সেকঃ আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা পানিতে ভেজানোর টিস্যু বা কাপড় চেপে ধরলে চুলকানি দ্রুত কমে যায়। বা আইস ব্যাগ চেপে ধরতে পারেন, এতেও দ্রুত চুলকানি কমে যায়।
  • অ্যালোভেরা জেলঃ এলোভেরা জেল এর সাথে কাঁচা হলুদ এবং নারকেল তেল পেস্ট করে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন। লাগানোর ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি দুই থেকে তিনদিন ব্যবহার করলে চুলকানি অনেকটাই কমে যায়।
  • সিমের পাতাঃ সিমের পাতা ৮ থেকে ১০ টি নিয়ে ভালোভাবে বেটে পেস্ট করে নিতে হবে এরপর আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন এক থেকে দুইবার লাগান। এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করুন।
  • বড়ই পাতাঃ এক থেকে দুই মুঠো বড়ই পাতা নিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে বেটে নিন। এরপর আধা কাপ রস ছেকে নিন। এক চামচ লবণ চার ভাগের এক ভাগ, আধা কাপ রসের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন খালি পেটে পান করুন।
  • ব্রেকিং সোডাঃ এটি ত্বকের পি এইচ ব্যালেন্স করে এবং চুলকানি কমায়। এক চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। আক্রান্ত স্থানে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
  • লেবুর রসঃ লেবুর রস সরাসরি ব্যবহার না করে হালকা পরিমাণ পানি দিয়ে পেস্ট করে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন। এতে চুলকানি সাথে সাথে কমতে সাহায্য করে।

চুলকানি প্রতিরোধ করার জন্য

  • চুলকানি প্রতিরোধ করার জন্য কিছু দিকনির্দেশনা মেনে চলতে হবে। যেমন;
  • বেশি গরম পানিতে গোসল না করা এতে চুলকানি বাড়ে।
  • বেশি টাইট ফিটিং জামা কাপড় না পরা।
  • আক্রান্ত স্থান অপরিষ্কার এবং ভেজা না রাখা(সব সময় পরিষ্কার এবং শুকনো রাখা)।
  • আক্রান্ত স্থানে নখ দিয়ে না আচড়ানো।
  • বাড়িতে সব সময় শীতল পরিবেশ আদ্রতা বজায় রাখা ইত্যাদি।
উপযুক্ত বিষয়গুলো থেকে চুলকানি প্রতিরোধ করা যায়।যদি সমস্যা বেশি গুরুতর হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলকানি দূর করার উপায়-শেষ কথা

উপযুক্ত যেসব ঘরোয়া পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে তা প্রমাণিত। অনেকেই এই ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো ব্যবহার করে অনেক উপকার পেয়েছেন। যা চুলকানি কমাতে অনেক সাহায্য করেছে। তাই বলা যায় যে, উপযুক্ত পদ্ধতিগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।
আমি নিজেও এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে ভালো ফলাফল করতে পেরেছি। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে ফলাফল পাওয়া যাবে। তাই বলা যেতে পারে, ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলকানি দূর করার জন্য এগুলাই  যথাযথ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url